ঢাকা ০১:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাংলাদেশের প্রতিটি বিভাগে ভারতীয় দূতাবাস কেন? প্রশ্ন তুললেন মেজর (অব.) দেলোয়ার হোসেন জুলাইয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড ব্যবসার কথা বলে ৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জেলা বিএনপিতে লিখিত আবেদন ভাঙ্গুড়া উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা ও সমন্বয় মাসিক সভা অনুষ্ঠিত ফরিদপুর সদর উপজেলায় আঃ কাদের জিলানী মাইনদ্দিন চিশতী (রহ:) ওয়াক্ফ এষ্টেটের সম্পদ লুটপাটের অভিযোগ সাতক্ষীরায় মাদক জব্দ-ধ্বংস মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে জাতীয় সংসদে অর্থ বিল পাস, করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ল প্রবীণ সাংবাদিকদের জন্য মাসিক ২০ হাজার টাকা সম্মানীভাতার দাবি নওগাঁর বদলগাছীতে রাত জেগে কবর পাহারায় স্বজনরা, মৃত্যুর পরও নেই স্বস্তি সাতক্ষীরায় ৭৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকার মাদকদ্রব্য ধ্বংস করল বিজিবি

৪৩১ কোটি টাকার খাদ্য গুদাম সংস্কার প্রকল্প ঘিরে প্রশ্ন: ব্যয়, বাস্তবায়ন ও স্বচ্ছতা নিয়ে সমালোচনা

দেশের খাদ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থাকে আধুনিক ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে খাদ্য গুদাম সংস্কার ও উন্নয়ন প্রকল্পে ৪৩১ কোটি টাকার বরাদ্দ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন উঠেছে—বড় অঙ্কের এই অর্থ ব্যয়ের মাধ্যমে দেশের খাদ্য সংরক্ষণ সক্ষমতা কতটা বাড়বে, প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা কতটা নিশ্চিত করা হচ্ছে এবং বরাদ্দের অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার হচ্ছে কি না।
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার দীর্ঘদিন ধরে গুদাম ব্যবস্থার উন্নয়ন, পুরোনো স্থাপনা সংস্কার, সংরক্ষণ প্রযুক্তি আধুনিকীকরণ এবং খাদ্যশস্য নষ্ট হওয়া কমানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে। এর অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের খাদ্য গুদাম সংস্কার ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে ৪৩১ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
তবে প্রকল্পটির ব্যয় নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে পুরোনো গুদাম সংস্কার, মেরামত, সরঞ্জাম স্থাপন ও অন্যান্য কাজের জন্য বরাদ্দ অর্থের যৌক্তিকতা নিয়ে আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বড় প্রকল্পে শুধু বরাদ্দ বাড়লেই হবে না, কাজের মান, বাস্তব অগ্রগতি এবং দীর্ঘমেয়াদি সুফল নিশ্চিত করতে হবে।
অভিযোগ উঠছে, অতীতে খাদ্য বিভাগের বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্পে নিম্নমানের কাজ, অতিরিক্ত ব্যয় দেখানো এবং তদারকির ঘাটতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে নতুন এই প্রকল্প নিয়েও শুরু থেকেই কঠোর নজরদারি দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, গুদাম সংস্কারের নামে যেন শুধু কাগজে-কলমে উন্নয়ন না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাদ্য গুদাম একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অবকাঠামো। কারণ দুর্যোগ, বাজার অস্থিরতা কিংবা সংকটকালীন সময়ে সরকারের খাদ্য মজুত ব্যবস্থাই সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার বড় ভরসা। তাই গুদাম সংস্কারের ক্ষেত্রে শুধু ভবন মেরামত নয়, আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা, আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি।
তাদের মতে, ৪৩১ কোটি টাকার প্রকল্প থেকে জনগণের অর্থের সর্বোচ্চ সুফল পেতে হলে প্রকল্পের প্রতিটি ধাপে জবাবদিহিতা থাকতে হবে। দরপত্র প্রক্রিয়া, ঠিকাদার নির্বাচন, কাজের মান যাচাই এবং প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়মিত প্রকাশ করা প্রয়োজন।
খাদ্য খাতে দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়ে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে খাদ্যশস্য সংরক্ষণ, পরিবহন ও গুদাম ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার ঘাটতির অভিযোগ থাকায় নতুন প্রকল্পগুলোতে নজরদারি আরও বাড়ানোর দাবি উঠছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জনগণের অর্থে পরিচালিত এই প্রকল্পে কোনো ধরনের অনিয়ম হলে তা শুধু আর্থিক ক্ষতি নয়, দেশের খাদ্য নিরাপত্তার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, খাদ্য গুদাম ব্যবস্থাকে আধুনিক করতে পরিকল্পিতভাবেই এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। উন্নত সংরক্ষণ সুবিধা তৈরি হলে খাদ্যশস্যের অপচয় কমবে এবং সংকটকালে দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
তবে সচেতন মহলের দাবি, প্রকল্পের সফলতা নির্ভর করবে বাস্তবায়নের মানের ওপর। ৪৩১ কোটি টাকার এই প্রকল্প যেন কোনোভাবেই অপ্রয়োজনীয় ব্যয় বা অনিয়মের কারণে প্রশ্নবিদ্ধ না হয়, সে জন্য শুরু থেকেই শক্তিশালী মনিটরিং, নিয়মিত অডিট এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
খাদ্য গুদাম সংস্কারের এই বড় প্রকল্প এখন তাই শুধু উন্নয়ন কার্যক্রম নয়, বরং সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাও হয়ে।

ট্যাগস :

বাংলাদেশের প্রতিটি বিভাগে ভারতীয় দূতাবাস কেন? প্রশ্ন তুললেন মেজর (অব.) দেলোয়ার হোসেন

৪৩১ কোটি টাকার খাদ্য গুদাম সংস্কার প্রকল্প ঘিরে প্রশ্ন: ব্যয়, বাস্তবায়ন ও স্বচ্ছতা নিয়ে সমালোচনা

আপডেট সময় ০৯:১৯:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

দেশের খাদ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থাকে আধুনিক ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে খাদ্য গুদাম সংস্কার ও উন্নয়ন প্রকল্পে ৪৩১ কোটি টাকার বরাদ্দ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন উঠেছে—বড় অঙ্কের এই অর্থ ব্যয়ের মাধ্যমে দেশের খাদ্য সংরক্ষণ সক্ষমতা কতটা বাড়বে, প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা কতটা নিশ্চিত করা হচ্ছে এবং বরাদ্দের অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার হচ্ছে কি না।
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার দীর্ঘদিন ধরে গুদাম ব্যবস্থার উন্নয়ন, পুরোনো স্থাপনা সংস্কার, সংরক্ষণ প্রযুক্তি আধুনিকীকরণ এবং খাদ্যশস্য নষ্ট হওয়া কমানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে। এর অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের খাদ্য গুদাম সংস্কার ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে ৪৩১ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
তবে প্রকল্পটির ব্যয় নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে পুরোনো গুদাম সংস্কার, মেরামত, সরঞ্জাম স্থাপন ও অন্যান্য কাজের জন্য বরাদ্দ অর্থের যৌক্তিকতা নিয়ে আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বড় প্রকল্পে শুধু বরাদ্দ বাড়লেই হবে না, কাজের মান, বাস্তব অগ্রগতি এবং দীর্ঘমেয়াদি সুফল নিশ্চিত করতে হবে।
অভিযোগ উঠছে, অতীতে খাদ্য বিভাগের বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্পে নিম্নমানের কাজ, অতিরিক্ত ব্যয় দেখানো এবং তদারকির ঘাটতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে নতুন এই প্রকল্প নিয়েও শুরু থেকেই কঠোর নজরদারি দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, গুদাম সংস্কারের নামে যেন শুধু কাগজে-কলমে উন্নয়ন না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাদ্য গুদাম একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অবকাঠামো। কারণ দুর্যোগ, বাজার অস্থিরতা কিংবা সংকটকালীন সময়ে সরকারের খাদ্য মজুত ব্যবস্থাই সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার বড় ভরসা। তাই গুদাম সংস্কারের ক্ষেত্রে শুধু ভবন মেরামত নয়, আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা, আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি।
তাদের মতে, ৪৩১ কোটি টাকার প্রকল্প থেকে জনগণের অর্থের সর্বোচ্চ সুফল পেতে হলে প্রকল্পের প্রতিটি ধাপে জবাবদিহিতা থাকতে হবে। দরপত্র প্রক্রিয়া, ঠিকাদার নির্বাচন, কাজের মান যাচাই এবং প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়মিত প্রকাশ করা প্রয়োজন।
খাদ্য খাতে দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়ে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে খাদ্যশস্য সংরক্ষণ, পরিবহন ও গুদাম ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার ঘাটতির অভিযোগ থাকায় নতুন প্রকল্পগুলোতে নজরদারি আরও বাড়ানোর দাবি উঠছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জনগণের অর্থে পরিচালিত এই প্রকল্পে কোনো ধরনের অনিয়ম হলে তা শুধু আর্থিক ক্ষতি নয়, দেশের খাদ্য নিরাপত্তার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, খাদ্য গুদাম ব্যবস্থাকে আধুনিক করতে পরিকল্পিতভাবেই এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। উন্নত সংরক্ষণ সুবিধা তৈরি হলে খাদ্যশস্যের অপচয় কমবে এবং সংকটকালে দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
তবে সচেতন মহলের দাবি, প্রকল্পের সফলতা নির্ভর করবে বাস্তবায়নের মানের ওপর। ৪৩১ কোটি টাকার এই প্রকল্প যেন কোনোভাবেই অপ্রয়োজনীয় ব্যয় বা অনিয়মের কারণে প্রশ্নবিদ্ধ না হয়, সে জন্য শুরু থেকেই শক্তিশালী মনিটরিং, নিয়মিত অডিট এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
খাদ্য গুদাম সংস্কারের এই বড় প্রকল্প এখন তাই শুধু উন্নয়ন কার্যক্রম নয়, বরং সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাও হয়ে।