কৈখালী ইউনিয়নটি সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার সর্বদক্ষিনে বিশ্ববিখ্যাত ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন এলাকায় অবস্থিত। কৈখালী ইউনিয়নের সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা জয়াখালি হতে কৈখালী ফরেস্ট অফিস পর্যন্ত।এই রাস্তাটির গুরুত্ব সহজেই অনুমেয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে , কাঁচা রাস্তাটি দিয়ে চলাচলকারী মানুষ সীমাহীন ভোগান্তি পোহাচ্ছে। দেখে বোঝার উপায় নেই, এটি কাঁচা রাস্তা না হালচাষ করা কৃষি জমি। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতে হাঁটু সমান কাদা জমে। মনে হবে ধান চাষের জন্য কোনো কৃষক জমি হালচাষ করে রেখেছে।
বর্ষায় রাস্তাটি নরম হয়ে বিরাট গর্তে সৃষ্টি হয়ে চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ভ্যান, বাই সাইকেল,মটর সাইকেল চলতে পারছেনা। গ্রামের মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
বর্ষা মৌসুমে রাস্তা কাদায় একাকার হয়ে যায়। কাদা-পানির কারণে কোনো যানবাহন তো দূরের কথা, জুতা পায়ে হাঁটাও অসম্ভব। বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় হাঁটু সমান কাদা মাড়িয়ে চলাচল করতে হয় গ্রামের হাজারো মানুষের। দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসী একটি রাস্তার জন্য বিভিন্ন মহলের কাছে দাবি করলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি ইটের রাস্তা নির্মাণ না হওয়ায়, বর্ষা মৌসুমে গ্রামের বাসিন্দাদের নানা দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। বিশেষ করে স্কুলগামী কোমলমতি ছেলে-মেয়েরা কর্দমাক্ত রাস্তায় চলতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে বই, খাতা ও জামা-কাপড় নষ্ট হওয়ার কারণে নিয়মিত স্কুলে উপস্থিত হতে পারছে না। এ কারণেই বর্ষা মৌসুমে স্কুলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কিছুটা কম হচ্ছে বলে জানান, স্থানীয় একজন শিক্ষক।
অসুস্থ ও গর্ভবতী মায়েদের কষ্টের কোনো শেষ নেই। এত ঝুঁকি নিয়ে চলতে গিয়ে অহরহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। দূরদূরান্ত থেকে কৃষিপণ্য ও মালামাল মাথায় করে এলাকাবাসীকে হাটে যেতে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য মতে, বর্ষা মৌসুমে বেড়িবাঁধ রাস্তায় জমে থাকা হাঁটু কাদায় হেঁটে পথ এগোনো দায়। আমাদের এ কষ্ট কেউই বুঝলো না। এখন বয়স হয়েছে, তারপরও জীবন-জীবিকার টানে এখনও লাঠিতে ভর করে হাঁটতে হয়। আমার বাপ-দাদারাও বর্ষা মৌসুমে এই কর্দমাক্ত রাস্তায় সারাজীবন হেঁটেছেন। আমরাও সেই একই পথে চলছি। আর কবে হবে এই এলাকার বেড়িবাঁধের ওপর ইটের সলিংয়ের রাস্তা নির্মাণ, আক্ষেপ নিয়েই এসব কথা বলছিলেন একজন বৃদ্ধ।
কৈখালী রাস্তাঘাটের এ দুর্দশা দেখলে বাইরে থেকে আসা সকলেই হতভম্ব হয়। গ্রামের কাঁচা রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ চলাচল করে। একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তাটিতে ব্যাপক পরিমাণ কাঁদা জমে।
প্রতিদিন এইসব কাঁচা রাস্তা দিয়ে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা পড়ুয়া কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রী, চাকরিজীবীসহ এলাবাসি চলাচল করে এই রাস্তা দিয়ে।
চলমান বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে কাঁচা রাস্তাটি গর্ত, খানাখন্দক হওয়ার কারণে মানুষ চলাচল করতে পারছে না। এলাকার রাস্তাটি আজও বিন্দু পরিমাণ উন্নয়ন হয়নি।
এবিষয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাইনি।
হাবিবুল্লাহ বাহার হাবিব 


















