স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক চিকিৎসা বিষয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে খুলনায় অনুষ্ঠিত হয়েছে একটি মেডিকেল স্বাস্থ্যসেবা সেমিনার। নগরীর ময়লাপোতা এলাকায় অবস্থিত একতা ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টার-এর উদ্যোগে সোমবার (১৩ জুলাই) এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা. এস. এম. শাহরিয়ার শিহাব। তিনি এমবিবিএস (ঢাকা), বিসিএস (স্বাস্থ্য), সিসিডি (বারডেম) এবং বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটি থেকে ইন্টারনাল মেডিসিনে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসক। বক্তব্যে তিনি বলেন, অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং শারীরিক ব্যায়ামের কোনো বিকল্প নেই। সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে অনেক রোগ প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্ত ও প্রতিরোধ করা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন গাজী মো. ইলিয়াস, চেয়ারম্যান, একতা ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টার। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া এবং স্বাস্থ্যবিষয়ক সচেতনতা গড়ে তোলাই এ ধরনের আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এম. এম. সালাহউদ্দিন। অনুষ্ঠানে তিনি স্বাস্থ্যসেবা খাতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন একতা ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টারের সিনিয়র মার্কেটিং কর্মকর্তা মো. ইসমাইল হোসেন আলমগীর।
সেমিনারে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, কিডনি সমস্যা, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং রোগ প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। উপস্থিত চিকিৎসকরা অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন স্বাস্থ্যসংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেন এবং সুস্থ জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করেন।
বক্তারা বলেন, বর্তমানে দেশে অসংক্রামক রোগের হার উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ অবস্থায় স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি, সময়মতো রোগ নির্ণয় এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। এ ধরনের সেমিনার সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও জনসাধারণের জন্য স্বাস্থ্যসেবা ও সচেতনতামূলক এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে, যাতে মানুষ সহজেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ গ্রহণ করে সুস্থ ও নিরাপদ জীবনযাপন করতে পারেন।
খুলনা ব্যুরো 


















