ঢাকা ০৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
“ভিউ বাণিজ্য : সামাজিক পুঁজি” ঝিনাইদহ জেলা কারাগারে ধারণক্ষমতার চেয়ে প্রায় চারগুণ বন্দি খুলনার সোনাডাঙ্গায় শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ক্লাস ফাঁকি ও অনৈতিক আচরণের অভিযোগ, গোপালগঞ্জে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা, ২৪ ঘণ্টা সাইবার নজরদারি গোপালগঞ্জে নির্মাণাধীন কারখানা থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার নেপালে সম্মাননা স্মারক পেলেন সাংবাদিক শামসুদ্দোহা প্রিন্স সাতক্ষীরা কালিগঞ্জ বন্দকাটিতে পত্রবধূ ইয়াবা কারবারে জড়িত থাকায় সন্তানকে তাজ্য পুত্র পিতার নরসিংদীর পলাশে প্রতিবেশী ভাতিজার বিরুদ্ধে চাচীকে ধর্ষণের অভিযোগে পিবিআই’র হাতে গ্রেফতার ১ চীনের অর্থায়নে মোংলা বন্দরে ২টি অত্যাধুনিক কন্টেইনার জেটি নির্মাণ হচ্ছে —— মতবিনিময় সভায় মোংলা বন্দরের চেয়ারম্যান খুলনা শিপইয়ার্ডে নির্মিত টাগবোট ‘টিয়াখালী-৪’য়ের লঞ্চিং

সাতক্ষীরা কালিগঞ্জ বন্দকাটিতে পত্রবধূ ইয়াবা কারবারে জড়িত থাকায় সন্তানকে তাজ্য পুত্র পিতার

কালিগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের বন্দকাটি গ্রাম ইয়াবা গ্রাম হিসাবে পরিচিত। এখানে হাত বাড়ালেই মেলে ইয়াবা। ঘরে ঘরে কিশোর থেকে যুবকরা আসক্ত হয়ে পড়েছে ইয়াবা।  ইয়াবা আসক্তের ফলে এলকায় সৃষ্টি হয়েছে কিশোর গাং বেড়েছে চুরি ডাকাতি। এই এলাকায় ইয়াবার গডফাদার বন্দকাটি গ্রামের মজিদ গাজীর পুত্র ওবায়দুল্লাহ গাজী। সে সরাসরি টেকনাফ থেকে ইয়াবা এনে কালিগঞ্জ ও আশাশুনি উপজেলায় সরবরাহ করে। তার অধীনে রয়েছে ৫০ জন খুচরা ব্যবসায়ী। যারা ওবায়দুল্লাহ থেকে ইয়াবা নিয়ে পৌঁছে দিচ্ছে মাদক মহল্লায় মহল্লায়। আর ওবায়দুল্লাহ বড় চালান গচ্ছিত রাখা হয় বন্দকাটি গ্রামের টুকু মোড়লের স্ত্রী আকলিমা খাতুনের নিকট।

‎সরজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়, হাজার হাজার ইয়াবা ওবায়দুল্লাহ গাজী আকলিমা খাতুনের কাছে রাখে। পরে সেই ইয়াবা ছোট ছোট চালানে বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছে যায়। এমন ঘটনার প্রেক্ষিতে আকলিমার শুশুর আজিজ মোড়ল জানতে পেরে গ্রাম্য সালিশ আয়োজন করে। গ্রাম্য সালিশে আকলিমার ইয়াবা চোরাচালানের সাথে যুক্তর প্রমাণ পা-ওয়া যায়। সেই সালিশে সন্তান টুকু মোড়লকে বউ তালাক দিতে বলে পিতা আজিজ মোড়ল। এক প্রকার ঝামেলা সৃষ্টি হওয়ায় টুকু তার বউকে ছাড়তে নারাজ। পরে সালিশে সিধান্ত নেশ আজিজ মোড়ল তার সন্তান টুকু মোড়লকে তাজ্যপুত্র করে। পরে তারা পাশ্ববর্তী লুৎফর মোড়লের বাড়ি দেখাশোনার দায়িত্ব নেয় স্বামী স্ত্রী। লুৎফর মোড়লের দলুজ ঘর ব্যবহার করে এই ইয়াবা গচ্ছিত রাখে আকলিমা খাতুন। লুৎফর মোড়ল প্রভাবশালী হওয়ায় পুলিশ ঢুকতে ভয় পায়। যার ফলে রমরমা ইয়াবা গচ্ছিত রেখে ব্যবসা করে যাচ্ছে ওবায়দুল্লাহ গাজী সিন্ডিকেট। ওবায়দুল্লাহ গাজী ইতিমধ্যে ১০ থেকে ১২ টি মাদক মামলার আসামী।

‎বন্দকাটি গ্রামের বাসিন্দা ছবুর গাজী বলেন, কালিগঞ্জের বন্দকাটি ইয়াবার অভয়ারণ্যে। এখানে ইয়াবা বিক্রির গডফাদার রয়েছে। সে টেকনাফ থেকে ইয়াবা এনে টুকুর স্ত্রী আকলিমার কাছে রাখে। আকলিমা এলাকার প্রভাবশালী লুৎফর মোড়লের বাড়ি দেখাশোনা করে ইয়াবা সেই বাাড়িতে রাখে। যার ফলে তার শুশুর ঘটনা জানতে পেরে টুকুকে তাজ্য পুত্র করে সকল সম্পদ তিনকন্যার নামে লিখে দিয়েছে।

‎বন্দকাটি গ্রামের আরেক বাসিন্দা আকবার কবির বলেন, পুত্রবধূ ইয়াবা বিক্রির কারণে শুশুর বিচার সালিশ করে তাজ্যপুত্র করেছে টুকু মোড়লকে। বিচারে শুনেছি টুকুর স্ত্রী আকলিমা ওবায়দুল্লাহ গাজীর ইয়াবার চালান গচ্ছিত রাখে। যার ফলে এলাকাবাসীর চাপে তাকে তাজ্যপুত্র করেছে।

‎স্থানীয় ইউপি সদস্য লাইলী পারভীন বলেন, বন্দকাটি গ্রামের আজিজ মোড়ল তার পুত্রবধুর বিরুদ্ধে ইয়াবা কারবারে জড়িত থাকার কারণে সালিশ ডাকে। আমরা দুইজন ইউপি সদস্য উক্ত বিচারে উপস্থিত ছিলাম। বিচারে টুকু মোড়লের বউ আকলিমা খাতুনের ওবায়দুল্লাহ গাজীর ইয়াবা রাখার সত্যতা পায়। যার ফলে তার পিতা আজিজ মোড়ল তাজ্যপুত্র করে তিন কন্যার নামে সকল সম্পদ দানপত্র করে দিয়েছে।

‎অভিযুক্ত তাজ্যপুত্র টুকু মোড়ল গণমাধ্যমকে বলেন, আমার পিতা আমার স্ত্রীর প্রতি রাগ্বানিত হয়ে আমাকে তাজ্য পুত্র করার পর্যায়ে গিয়েছে । বউ ইয়াবা বিক্রির সাথে জড়িত বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি এড়িয়ে যান।

‎কালিগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, কালিগঞ্জের বন্দকাটি ওবায়দুল্লাহ গাজী মাদক ব্যবসায়ী এটা আমরা জানি। আমরা ইতিমধ্যে তাকে ধরার প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। তার সাথে জড়িত আকলিমা খাতুন, আমিরুল,এনামুল সহ তার সকল সহযোগীদের ধরা হবে। মাদকের বিরুদ্ধে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

Tag :
About Author Information

Nirvik Sangbad

“ভিউ বাণিজ্য : সামাজিক পুঁজি”

সাতক্ষীরা কালিগঞ্জ বন্দকাটিতে পত্রবধূ ইয়াবা কারবারে জড়িত থাকায় সন্তানকে তাজ্য পুত্র পিতার

আপলোড সময় ১২:২৫:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কালিগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের বন্দকাটি গ্রাম ইয়াবা গ্রাম হিসাবে পরিচিত। এখানে হাত বাড়ালেই মেলে ইয়াবা। ঘরে ঘরে কিশোর থেকে যুবকরা আসক্ত হয়ে পড়েছে ইয়াবা।  ইয়াবা আসক্তের ফলে এলকায় সৃষ্টি হয়েছে কিশোর গাং বেড়েছে চুরি ডাকাতি। এই এলাকায় ইয়াবার গডফাদার বন্দকাটি গ্রামের মজিদ গাজীর পুত্র ওবায়দুল্লাহ গাজী। সে সরাসরি টেকনাফ থেকে ইয়াবা এনে কালিগঞ্জ ও আশাশুনি উপজেলায় সরবরাহ করে। তার অধীনে রয়েছে ৫০ জন খুচরা ব্যবসায়ী। যারা ওবায়দুল্লাহ থেকে ইয়াবা নিয়ে পৌঁছে দিচ্ছে মাদক মহল্লায় মহল্লায়। আর ওবায়দুল্লাহ বড় চালান গচ্ছিত রাখা হয় বন্দকাটি গ্রামের টুকু মোড়লের স্ত্রী আকলিমা খাতুনের নিকট।

‎সরজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়, হাজার হাজার ইয়াবা ওবায়দুল্লাহ গাজী আকলিমা খাতুনের কাছে রাখে। পরে সেই ইয়াবা ছোট ছোট চালানে বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছে যায়। এমন ঘটনার প্রেক্ষিতে আকলিমার শুশুর আজিজ মোড়ল জানতে পেরে গ্রাম্য সালিশ আয়োজন করে। গ্রাম্য সালিশে আকলিমার ইয়াবা চোরাচালানের সাথে যুক্তর প্রমাণ পা-ওয়া যায়। সেই সালিশে সন্তান টুকু মোড়লকে বউ তালাক দিতে বলে পিতা আজিজ মোড়ল। এক প্রকার ঝামেলা সৃষ্টি হওয়ায় টুকু তার বউকে ছাড়তে নারাজ। পরে সালিশে সিধান্ত নেশ আজিজ মোড়ল তার সন্তান টুকু মোড়লকে তাজ্যপুত্র করে। পরে তারা পাশ্ববর্তী লুৎফর মোড়লের বাড়ি দেখাশোনার দায়িত্ব নেয় স্বামী স্ত্রী। লুৎফর মোড়লের দলুজ ঘর ব্যবহার করে এই ইয়াবা গচ্ছিত রাখে আকলিমা খাতুন। লুৎফর মোড়ল প্রভাবশালী হওয়ায় পুলিশ ঢুকতে ভয় পায়। যার ফলে রমরমা ইয়াবা গচ্ছিত রেখে ব্যবসা করে যাচ্ছে ওবায়দুল্লাহ গাজী সিন্ডিকেট। ওবায়দুল্লাহ গাজী ইতিমধ্যে ১০ থেকে ১২ টি মাদক মামলার আসামী।

‎বন্দকাটি গ্রামের বাসিন্দা ছবুর গাজী বলেন, কালিগঞ্জের বন্দকাটি ইয়াবার অভয়ারণ্যে। এখানে ইয়াবা বিক্রির গডফাদার রয়েছে। সে টেকনাফ থেকে ইয়াবা এনে টুকুর স্ত্রী আকলিমার কাছে রাখে। আকলিমা এলাকার প্রভাবশালী লুৎফর মোড়লের বাড়ি দেখাশোনা করে ইয়াবা সেই বাাড়িতে রাখে। যার ফলে তার শুশুর ঘটনা জানতে পেরে টুকুকে তাজ্য পুত্র করে সকল সম্পদ তিনকন্যার নামে লিখে দিয়েছে।

‎বন্দকাটি গ্রামের আরেক বাসিন্দা আকবার কবির বলেন, পুত্রবধূ ইয়াবা বিক্রির কারণে শুশুর বিচার সালিশ করে তাজ্যপুত্র করেছে টুকু মোড়লকে। বিচারে শুনেছি টুকুর স্ত্রী আকলিমা ওবায়দুল্লাহ গাজীর ইয়াবার চালান গচ্ছিত রাখে। যার ফলে এলাকাবাসীর চাপে তাকে তাজ্যপুত্র করেছে।

‎স্থানীয় ইউপি সদস্য লাইলী পারভীন বলেন, বন্দকাটি গ্রামের আজিজ মোড়ল তার পুত্রবধুর বিরুদ্ধে ইয়াবা কারবারে জড়িত থাকার কারণে সালিশ ডাকে। আমরা দুইজন ইউপি সদস্য উক্ত বিচারে উপস্থিত ছিলাম। বিচারে টুকু মোড়লের বউ আকলিমা খাতুনের ওবায়দুল্লাহ গাজীর ইয়াবা রাখার সত্যতা পায়। যার ফলে তার পিতা আজিজ মোড়ল তাজ্যপুত্র করে তিন কন্যার নামে সকল সম্পদ দানপত্র করে দিয়েছে।

‎অভিযুক্ত তাজ্যপুত্র টুকু মোড়ল গণমাধ্যমকে বলেন, আমার পিতা আমার স্ত্রীর প্রতি রাগ্বানিত হয়ে আমাকে তাজ্য পুত্র করার পর্যায়ে গিয়েছে । বউ ইয়াবা বিক্রির সাথে জড়িত বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি এড়িয়ে যান।

‎কালিগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, কালিগঞ্জের বন্দকাটি ওবায়দুল্লাহ গাজী মাদক ব্যবসায়ী এটা আমরা জানি। আমরা ইতিমধ্যে তাকে ধরার প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। তার সাথে জড়িত আকলিমা খাতুন, আমিরুল,এনামুল সহ তার সকল সহযোগীদের ধরা হবে। মাদকের বিরুদ্ধে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।