খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো. আশরাফুজ্জামান সোহাগকে ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগ ও দুদকের মামলার বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, যশোর জেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে (২০১৮-২০২০) চাল-ধান সংরক্ষণ, বিতরণ ব্যবস্থাপনা ও গুদাম পরিচালনা নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মামলা দায়ের করে।
জানা যায়, মো. আশরাফুজ্জামান সোহাগ ২০১০ সালে খাদ্য পরিদর্শক পদে সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খাদ্য অধিদপ্তরে যোগদান করেন। পরবর্তীতে তিনি খাদ্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন দায়িত্বে কর্মরত ছিলেন। ২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত যশোর জেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সময়ে তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়। এর ভিত্তিতে ২০২২ সালের ২৬ জুলাই দুদকের যশোর সমন্বিত কার্যালয়ে মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, অভিযোগে প্রায় ১ কোটি ৯ লাখ ৬ হাজার টাকা জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং প্রায় ১ কোটি ১৬ লাখ ৯৩ হাজার টাকার সম্পদ গোপনের বিষয় উল্লেখ করা হয়। মামলায় মো. আশরাফুজ্জামান সোহাগ ও তার স্ত্রী রোকেয়া সুলতানাকে আসামি করা হয়।
দুদকের যশোর সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মোশাররফ হোসেন মামলার বাদী ছিলেন। অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় মামলা করা হয়।
মামলা দায়েরের পর দুদকের পক্ষ থেকে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে অভিযোগের পরও আশরাফুজ্জামান সোহাগ বর্তমানে খুলনার রূপসা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে দুদকের মামলা চলমান থাকা অবস্থায় একজন সরকারি কর্মকর্তা কীভাবে দায়িত্ব পালন করছেন—তা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিভিন্ন মহল থেকে বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে পর্যালোচনার দাবি জানানো হয়েছে।
তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলার চূড়ান্ত বিচারিক সিদ্ধান্ত এখনো প্রকাশিত হয়নি। তদন্ত শেষে আদালতের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা বা অসত্যতা নির্ধারিত হবে।
খুলনা ব্যুরো 















