ঢাকা ০১:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাংলাদেশের প্রতিটি বিভাগে ভারতীয় দূতাবাস কেন? প্রশ্ন তুললেন মেজর (অব.) দেলোয়ার হোসেন জুলাইয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড ব্যবসার কথা বলে ৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জেলা বিএনপিতে লিখিত আবেদন ভাঙ্গুড়া উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা ও সমন্বয় মাসিক সভা অনুষ্ঠিত ফরিদপুর সদর উপজেলায় আঃ কাদের জিলানী মাইনদ্দিন চিশতী (রহ:) ওয়াক্ফ এষ্টেটের সম্পদ লুটপাটের অভিযোগ সাতক্ষীরায় মাদক জব্দ-ধ্বংস মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে জাতীয় সংসদে অর্থ বিল পাস, করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ল প্রবীণ সাংবাদিকদের জন্য মাসিক ২০ হাজার টাকা সম্মানীভাতার দাবি নওগাঁর বদলগাছীতে রাত জেগে কবর পাহারায় স্বজনরা, মৃত্যুর পরও নেই স্বস্তি সাতক্ষীরায় ৭৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকার মাদকদ্রব্য ধ্বংস করল বিজিবি

গুদামে মজুত ঘাটতির অভিযোগ: সিঅ্যান্ডবি ঘাট এলএসডিতে ২০৫ মেট্রিক টন চাল কম থাকার দাবি, তদন্তে খাদ্য বিভাগের নজর

  • খুলনা অফিস
  • আপডেট সময় ১১:৪৩:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

খুলনার সিঅ্যান্ডবি ঘাট এলএসডি (লোকাল স্টোরেজ ডিপো)–তে সরকারি খাদ্য মজুত ব্যবস্থাপনা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। রেজিস্টারে থাকা হিসাব ও বাস্তব গুদাম গণনার মধ্যে প্রায় ২০৫ মেট্রিক টন চালের ঘাটতি পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় গুদামের সংরক্ষণ ব্যবস্থা, মজুত হিসাব এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগকারীদের দাবি, গুদামের কাগজপত্রে যে পরিমাণ চাল মজুত দেখানো হয়েছে, বাস্তবে গণনা করলে সেই পরিমাণ পাওয়া যাচ্ছে না। রেজিস্টারভিত্তিক হিসাব ও মাঠ পর্যায়ের বাস্তব মজুতের মধ্যে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য দেখা দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
খাদ্য বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, গুদামে সংরক্ষিত চালের মান যাচাই, নমুনা পরীক্ষা এবং মজুত সংক্রান্ত সঠিক রিপোর্ট দেওয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ওপর থাকে। বিশেষ করে ক্যামিষ্টের দায়িত্ব হলো চালের গুণগত মান পরীক্ষা করে তা গ্রহণযোগ্য কিনা সে বিষয়ে মতামত দেওয়া। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক সময় নিম্নমানের চালকেও ভালো মানের বলে ছাড়পত্র দেওয়ার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, “নিম্নমানের চাল ‘Good’ বলে পাস করা হয়”—এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এতে একদিকে যেমন সরকারি খাদ্য ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ ভোক্তাদের জন্য বরাদ্দ খাদ্যের মান নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ডিজিটাল মেশিনের মাধ্যমে ওজন ও বিতরণ কার্যক্রম নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ডিজিটাল মেশিন স্থাপন না করলে সংশ্লিষ্ট লাইসেন্স বাতিলের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এর আগেও একই ধরনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। গত ১২ এপ্রিল থেকে ডিজিটাল মেশিন স্থাপন ও অনিয়ম বন্ধের বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হলেও বাস্তবে তেমন অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
খাদ্য গুদামের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় মজুত ঘাটতির অভিযোগ উঠলে তা শুধু প্রশাসনিক অনিয়ম নয়, সরকারি সম্পদের নিরাপত্তার বিষয়ও হয়ে দাঁড়ায়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত, মজুতের পুনরায় যাচাই এবং দায়িত্বে অবহেলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
খাদ্য বিভাগের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত অডিট, ডিজিটাল মজুত ব্যবস্থাপনা এবং বাস্তব সময়ের তথ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

ট্যাগস :

বাংলাদেশের প্রতিটি বিভাগে ভারতীয় দূতাবাস কেন? প্রশ্ন তুললেন মেজর (অব.) দেলোয়ার হোসেন

গুদামে মজুত ঘাটতির অভিযোগ: সিঅ্যান্ডবি ঘাট এলএসডিতে ২০৫ মেট্রিক টন চাল কম থাকার দাবি, তদন্তে খাদ্য বিভাগের নজর

আপডেট সময় ১১:৪৩:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

খুলনার সিঅ্যান্ডবি ঘাট এলএসডি (লোকাল স্টোরেজ ডিপো)–তে সরকারি খাদ্য মজুত ব্যবস্থাপনা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। রেজিস্টারে থাকা হিসাব ও বাস্তব গুদাম গণনার মধ্যে প্রায় ২০৫ মেট্রিক টন চালের ঘাটতি পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় গুদামের সংরক্ষণ ব্যবস্থা, মজুত হিসাব এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগকারীদের দাবি, গুদামের কাগজপত্রে যে পরিমাণ চাল মজুত দেখানো হয়েছে, বাস্তবে গণনা করলে সেই পরিমাণ পাওয়া যাচ্ছে না। রেজিস্টারভিত্তিক হিসাব ও মাঠ পর্যায়ের বাস্তব মজুতের মধ্যে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য দেখা দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
খাদ্য বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, গুদামে সংরক্ষিত চালের মান যাচাই, নমুনা পরীক্ষা এবং মজুত সংক্রান্ত সঠিক রিপোর্ট দেওয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ওপর থাকে। বিশেষ করে ক্যামিষ্টের দায়িত্ব হলো চালের গুণগত মান পরীক্ষা করে তা গ্রহণযোগ্য কিনা সে বিষয়ে মতামত দেওয়া। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক সময় নিম্নমানের চালকেও ভালো মানের বলে ছাড়পত্র দেওয়ার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, “নিম্নমানের চাল ‘Good’ বলে পাস করা হয়”—এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এতে একদিকে যেমন সরকারি খাদ্য ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ ভোক্তাদের জন্য বরাদ্দ খাদ্যের মান নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ডিজিটাল মেশিনের মাধ্যমে ওজন ও বিতরণ কার্যক্রম নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ডিজিটাল মেশিন স্থাপন না করলে সংশ্লিষ্ট লাইসেন্স বাতিলের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এর আগেও একই ধরনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। গত ১২ এপ্রিল থেকে ডিজিটাল মেশিন স্থাপন ও অনিয়ম বন্ধের বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হলেও বাস্তবে তেমন অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
খাদ্য গুদামের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় মজুত ঘাটতির অভিযোগ উঠলে তা শুধু প্রশাসনিক অনিয়ম নয়, সরকারি সম্পদের নিরাপত্তার বিষয়ও হয়ে দাঁড়ায়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত, মজুতের পুনরায় যাচাই এবং দায়িত্বে অবহেলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
খাদ্য বিভাগের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত অডিট, ডিজিটাল মজুত ব্যবস্থাপনা এবং বাস্তব সময়ের তথ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।