ঢাকা ১২:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাংলাদেশের প্রতিটি বিভাগে ভারতীয় দূতাবাস কেন? প্রশ্ন তুললেন মেজর (অব.) দেলোয়ার হোসেন জুলাইয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড ব্যবসার কথা বলে ৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জেলা বিএনপিতে লিখিত আবেদন ভাঙ্গুড়া উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা ও সমন্বয় মাসিক সভা অনুষ্ঠিত ফরিদপুর সদর উপজেলায় আঃ কাদের জিলানী মাইনদ্দিন চিশতী (রহ:) ওয়াক্ফ এষ্টেটের সম্পদ লুটপাটের অভিযোগ সাতক্ষীরায় মাদক জব্দ-ধ্বংস মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে জাতীয় সংসদে অর্থ বিল পাস, করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ল প্রবীণ সাংবাদিকদের জন্য মাসিক ২০ হাজার টাকা সম্মানীভাতার দাবি নওগাঁর বদলগাছীতে রাত জেগে কবর পাহারায় স্বজনরা, মৃত্যুর পরও নেই স্বস্তি সাতক্ষীরায় ৭৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকার মাদকদ্রব্য ধ্বংস করল বিজিবি

বাংলাদেশের প্রতিটি বিভাগে ভারতীয় দূতাবাস কেন? প্রশ্ন তুললেন মেজর (অব.) দেলোয়ার হোসেন

  • শাহিন হোসেন
  • আপডেট সময় ১২:৫১:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের প্রতিটি বিভাগে ভারতীয় দূতাবাস বা কনস্যুলার কার্যক্রম স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর (অব.) দেলোয়ার হোসেন। তিনি বলেছেন, কূটনৈতিক সম্পর্ক ও জনগণের যোগাযোগের জন্য বিদেশি মিশনের কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ হলেও দেশের প্রতিটি প্রশাসনিক বিভাগে কোনো একটি দেশের কূটনৈতিক উপস্থিতি স্থাপনের বিষয়টি জাতীয় স্বার্থ, নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক ভারসাম্যের আলোকে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
সম্প্রতি এক বক্তব্যে মেজর (অব.) দেলোয়ার হোসেন বলেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। দেশের অভ্যন্তরে বিদেশি কূটনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে সরকারের নীতিমালা, নিরাপত্তা বিবেচনা এবং পারস্পরিক স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, “বাংলাদেশের প্রতিটি বিভাগে ভারতীয় দূতাবাস কেন প্রয়োজন—এর পেছনে উদ্দেশ্য কী এবং এর প্রয়োজনীয়তা কতটুকু, তা জনগণের সামনে পরিষ্কার হওয়া দরকার।”
তিনি আরও বলেন, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, যোগাযোগ, শিক্ষা, চিকিৎসা ও মানুষের যাতায়াতের ক্ষেত্রে সহযোগিতা রয়েছে। তবে কূটনৈতিক সম্পর্কের বিস্তৃতি যেন দেশের স্বার্থ ও ভারসাম্য বজায় রেখেই হয়—এ বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি।
মেজর (অব.) দেলোয়ার হোসেনের বক্তব্যের পর রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকে মনে করছেন, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার পাশাপাশি কূটনৈতিক কার্যক্রমের কাঠামো নিয়েও স্বচ্ছ আলোচনা প্রয়োজন। আবার কেউ কেউ বলছেন, ভিসা, বাণিজ্য ও নাগরিক সেবার সুবিধার জন্য বড় দেশগুলোর কনস্যুলার কার্যক্রম আঞ্চলিক পর্যায়ে সম্প্রসারণ করা হয়ে থাকে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দূতাবাস সাধারণত রাজধানীভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন দেশে কনস্যুলেট, সহকারী হাইকমিশন বা ভিসা সেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়। এসব কার্যক্রমের উদ্দেশ্য সাধারণত নাগরিক সেবা সহজ করা, বাণিজ্যিক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং দুই দেশের সম্পর্ককে আরও কার্যকর করা।
মেজর (অব.) দেলোয়ার হোসেন বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি মনে করেন, কোনো বিদেশি দেশের কার্যক্রম সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে জনমত, নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় নীতির বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশকে তার কূটনৈতিক সিদ্ধান্তগুলো স্বাধীনভাবে গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি দেশের স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের আস্থাকে প্রাধান্য দিয়ে যেকোনো আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয় মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
এদিকে, তার বক্তব্য ঘিরে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক বহুস্তরীয় হলেও কূটনৈতিক কাঠামো নিয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বাস্তবতা, প্রয়োজনীয়তা ও জাতীয় স্বার্থের বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া উচিত।

ট্যাগস :

বাংলাদেশের প্রতিটি বিভাগে ভারতীয় দূতাবাস কেন? প্রশ্ন তুললেন মেজর (অব.) দেলোয়ার হোসেন

বাংলাদেশের প্রতিটি বিভাগে ভারতীয় দূতাবাস কেন? প্রশ্ন তুললেন মেজর (অব.) দেলোয়ার হোসেন

আপডেট সময় ১২:৫১:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশের প্রতিটি বিভাগে ভারতীয় দূতাবাস বা কনস্যুলার কার্যক্রম স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর (অব.) দেলোয়ার হোসেন। তিনি বলেছেন, কূটনৈতিক সম্পর্ক ও জনগণের যোগাযোগের জন্য বিদেশি মিশনের কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ হলেও দেশের প্রতিটি প্রশাসনিক বিভাগে কোনো একটি দেশের কূটনৈতিক উপস্থিতি স্থাপনের বিষয়টি জাতীয় স্বার্থ, নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক ভারসাম্যের আলোকে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
সম্প্রতি এক বক্তব্যে মেজর (অব.) দেলোয়ার হোসেন বলেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। দেশের অভ্যন্তরে বিদেশি কূটনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে সরকারের নীতিমালা, নিরাপত্তা বিবেচনা এবং পারস্পরিক স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, “বাংলাদেশের প্রতিটি বিভাগে ভারতীয় দূতাবাস কেন প্রয়োজন—এর পেছনে উদ্দেশ্য কী এবং এর প্রয়োজনীয়তা কতটুকু, তা জনগণের সামনে পরিষ্কার হওয়া দরকার।”
তিনি আরও বলেন, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, যোগাযোগ, শিক্ষা, চিকিৎসা ও মানুষের যাতায়াতের ক্ষেত্রে সহযোগিতা রয়েছে। তবে কূটনৈতিক সম্পর্কের বিস্তৃতি যেন দেশের স্বার্থ ও ভারসাম্য বজায় রেখেই হয়—এ বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি।
মেজর (অব.) দেলোয়ার হোসেনের বক্তব্যের পর রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকে মনে করছেন, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার পাশাপাশি কূটনৈতিক কার্যক্রমের কাঠামো নিয়েও স্বচ্ছ আলোচনা প্রয়োজন। আবার কেউ কেউ বলছেন, ভিসা, বাণিজ্য ও নাগরিক সেবার সুবিধার জন্য বড় দেশগুলোর কনস্যুলার কার্যক্রম আঞ্চলিক পর্যায়ে সম্প্রসারণ করা হয়ে থাকে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দূতাবাস সাধারণত রাজধানীভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন দেশে কনস্যুলেট, সহকারী হাইকমিশন বা ভিসা সেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়। এসব কার্যক্রমের উদ্দেশ্য সাধারণত নাগরিক সেবা সহজ করা, বাণিজ্যিক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং দুই দেশের সম্পর্ককে আরও কার্যকর করা।
মেজর (অব.) দেলোয়ার হোসেন বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি মনে করেন, কোনো বিদেশি দেশের কার্যক্রম সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে জনমত, নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় নীতির বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশকে তার কূটনৈতিক সিদ্ধান্তগুলো স্বাধীনভাবে গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি দেশের স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের আস্থাকে প্রাধান্য দিয়ে যেকোনো আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয় মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
এদিকে, তার বক্তব্য ঘিরে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক বহুস্তরীয় হলেও কূটনৈতিক কাঠামো নিয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বাস্তবতা, প্রয়োজনীয়তা ও জাতীয় স্বার্থের বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া উচিত।