ঢাকা ০১:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
একীভূত হচ্ছে যশোরের ১৬ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় খুলনায় অপহরণ করে হত্যার অভিযোগে মামলার দেড়মাস পর ঢাকা থেকে সেই গৃহবধূকে জীবিত উদ্ধার করল পিবিআই কালিগঞ্জে মাদক সিন্ডিকেটের কবল থেকে সাংবাদিকের ফোন উদ্ধার এএসআই এরশাদের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ যদি হয় তাবলীগ! রূপগঞ্জে পরিত্যক্ত ভবনে ৫ পাইপগান ও ৪ কেজি ৭০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার তালার হরিহরনগরে ব্যবসায়ীর উপর মাদকসেবীর হামলা! তালায় সরকারি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান’র সাথে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত তালায় সমাজসেবা অধিদপ্তরের পেশাভিত্তিক উন্নয়নে সফটস্কিলস প্রশিক্ষন উদ্বোধন খুলনায় বিদেশি পিস্তল, ম্যাগজিন ও তাজা গুলিসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক কর্মকর্তা গ্রেফতার সামেক হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ কুদরত-ই-খুদার পিএস পরিচয়ে কে এই ভণ্ড প্রতারক মাসুদ রাসেল?

পদোন্নতি বাণিজ্যে তোলপাড় বন বিভাগ

গ্রেডেশন তালিকা ছাড়াই পদোন্নতি, জুনিয়রদের অগ্রাধিকার, টাকার অভিযোগ; মামলার আসামিও পদোন্নতি, হাইকোর্ট-ট্রাইব্যুনালে ৩ মামলা

বন বিভাগের পদোন্নতি প্রক্রিয়াকে ঘিরে ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগে দেশের বন প্রশাসনে চরম অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতির ক্ষেত্রে সরকারি বিধি অনুসরণ না করা, সিনিয়র কর্মীদের বঞ্চিত করে জুনিয়রদের উচ্চপদে উন্নীত করা, পদোন্নতির নামে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ এবং মামলা থাকা সত্ত্বেও কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দেওয়ার অভিযোগে ক্ষোভে ফুঁসছেন বন বিভাগের শত শত কর্মকর্তা-কর্মচারী।

ভুক্তভোগী একাধিক কর্মকর্তা জানান, সরকারি বিধি অনুযায়ী পদোন্নতির আগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সিনিয়রিটি বা গ্রেডেশন তালিকা প্রকাশ করে আপত্তি গ্রহণের সুযোগ দেওয়ার কথা। কিন্তু এবার সেই তালিকা নোটিশ বোর্ডে প্রকাশ না করেই পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে পদোন্নতির পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে সিনিয়রদের বঞ্চিত করার অভিযোগ। অভিযোগ অনুযায়ী, ১৯৮০ সালে নিয়োগ পাওয়া অনেক ফরেস্ট গার্ড এখনও একই পদে কর্মরত রয়েছেন। অন্যদিকে ২০১৪ সালে নিয়োগ পাওয়া কয়েকজন কর্মকর্তা ডেপুটি রেঞ্জার পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। এতে দীর্ঘদিন চাকরি করেও পদোন্নতি না পাওয়া কর্মীদের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

পদোন্নতি প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও সামনে এসেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, পদোন্নতির আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। যদিও এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে বিষয়টি নিয়ে বিভাগজুড়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

আরও গুরুতর অভিযোগ হলো, গাছ পাচারের মামলায় অভিযুক্ত কয়েকজন কর্মকর্তাকেও পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, যাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ বা মামলা বিচারাধীন, তাদের পদোন্নতি দেওয়ায় সৎ ও যোগ্য কর্মকর্তারা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন এবং প্রশাসনের জবাবদিহিতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।

এ অবস্থায় পদোন্নতিতে বঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অংশ প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল ও হাইকোর্টে মোট তিনটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলাগুলো বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। বাদীপক্ষের প্রত্যাশা, আদালতের মাধ্যমে পদোন্নতি প্রক্রিয়ার অনিয়মের বিচার হবে এবং মেধা, জ্যেষ্ঠতা ও বিধিমালা অনুসারে নতুন করে পদোন্নতির ব্যবস্থা করা হবে।

বন বিভাগের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলছেন, পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে মাঠপর্যায়ে কর্মীদের মনোবল আরও ভেঙে পড়বে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বন সংরক্ষণ ও বন্যপ্রাণী রক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।

Tag :
About Author Information

Nirvik Sangbad

জনপ্রিয় সংবাদ

একীভূত হচ্ছে যশোরের ১৬ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

পদোন্নতি বাণিজ্যে তোলপাড় বন বিভাগ

আপলোড সময় ১২:৩২:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

গ্রেডেশন তালিকা ছাড়াই পদোন্নতি, জুনিয়রদের অগ্রাধিকার, টাকার অভিযোগ; মামলার আসামিও পদোন্নতি, হাইকোর্ট-ট্রাইব্যুনালে ৩ মামলা

বন বিভাগের পদোন্নতি প্রক্রিয়াকে ঘিরে ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগে দেশের বন প্রশাসনে চরম অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতির ক্ষেত্রে সরকারি বিধি অনুসরণ না করা, সিনিয়র কর্মীদের বঞ্চিত করে জুনিয়রদের উচ্চপদে উন্নীত করা, পদোন্নতির নামে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ এবং মামলা থাকা সত্ত্বেও কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দেওয়ার অভিযোগে ক্ষোভে ফুঁসছেন বন বিভাগের শত শত কর্মকর্তা-কর্মচারী।

ভুক্তভোগী একাধিক কর্মকর্তা জানান, সরকারি বিধি অনুযায়ী পদোন্নতির আগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সিনিয়রিটি বা গ্রেডেশন তালিকা প্রকাশ করে আপত্তি গ্রহণের সুযোগ দেওয়ার কথা। কিন্তু এবার সেই তালিকা নোটিশ বোর্ডে প্রকাশ না করেই পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে পদোন্নতির পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে সিনিয়রদের বঞ্চিত করার অভিযোগ। অভিযোগ অনুযায়ী, ১৯৮০ সালে নিয়োগ পাওয়া অনেক ফরেস্ট গার্ড এখনও একই পদে কর্মরত রয়েছেন। অন্যদিকে ২০১৪ সালে নিয়োগ পাওয়া কয়েকজন কর্মকর্তা ডেপুটি রেঞ্জার পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। এতে দীর্ঘদিন চাকরি করেও পদোন্নতি না পাওয়া কর্মীদের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

পদোন্নতি প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও সামনে এসেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, পদোন্নতির আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। যদিও এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে বিষয়টি নিয়ে বিভাগজুড়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

আরও গুরুতর অভিযোগ হলো, গাছ পাচারের মামলায় অভিযুক্ত কয়েকজন কর্মকর্তাকেও পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, যাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ বা মামলা বিচারাধীন, তাদের পদোন্নতি দেওয়ায় সৎ ও যোগ্য কর্মকর্তারা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন এবং প্রশাসনের জবাবদিহিতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।

এ অবস্থায় পদোন্নতিতে বঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অংশ প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল ও হাইকোর্টে মোট তিনটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলাগুলো বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। বাদীপক্ষের প্রত্যাশা, আদালতের মাধ্যমে পদোন্নতি প্রক্রিয়ার অনিয়মের বিচার হবে এবং মেধা, জ্যেষ্ঠতা ও বিধিমালা অনুসারে নতুন করে পদোন্নতির ব্যবস্থা করা হবে।

বন বিভাগের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলছেন, পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে মাঠপর্যায়ে কর্মীদের মনোবল আরও ভেঙে পড়বে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বন সংরক্ষণ ও বন্যপ্রাণী রক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।