সুন্দরবনে সক্রিয় চারটি জলদস্যু বাহিনীর ৫২জন সদস্য অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে র্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। গতকাল মঙ্গলবার র্যাব-৬ এ তথ্য জানিয়েছে। এর আগে গত সোমবার সন্ধ্যায় ৫২ জন জলদস্যু র্যাব-৬ এর কাছে আত্মসমর্পন করে।
র্যাব-৬ সূত্র জানায়, ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবনের প্রতিকূল পরিবেশ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান ও অপরাধমূলক জীবনের অনিশ্চয়তার কারণে জলদস্যু বাহিনীর সদস্যরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেয়। একপর্যায়ে গত সোমবার চারটি জলদস্যু বাহিনীর ৫২জন সদস্য র্যাবের কাছে আত্মসমর্পন করে। আত্মসমর্পণকারী জলদস্যুদের মধ্যে বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ১৬ জন, আনারুল বাহিনীর ১৩ জন, আফজাল ওরফে দুলাভাই বাহিনীর ১৫ জন ও আফতাব বাহিনীর ৮ জন সদস্য রয়েছে।
সূত্রমতে, সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল জেলে, বাওয়ালি, মৌয়ালসহ হাজার হাজার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে জলদস্যু ও বনদস্যুদের অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকা-ের কারণে আতঙ্কের মধ্যে ছিলেন। তবে একযোগে চারটি জলদস্যু বাহিনীর ৫২ সদস্যের আত্মসমর্পণ সুন্দরবনের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছে র্যাব।
র্যাব-৬এর -অধিনায়ক লে. কর্নেল নিস্তার আহমেদ বলেন, গতকাল মঙ্গলবার সকালে আত্মসমর্পকারী জলদস্যুদের মধ্যে ২৯জনকে বাগেরহাটের মোংলা থানায় ও ২৩ জনকে শরণখোলা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সুন্দরবনকে জলদস্যু ও বনদস্যুদের অপতৎপরতা থেকে মুক্ত রাখা এবং বননির্ভর জনগোষ্ঠীর জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা র্যাব-৬ এর অন্যতম অগ্রাধিকার। জলদস্যুতা, অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়সহ সংঘবদ্ধ অপরাধ প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি ও আভিযানিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। উল্লেখ্য, সুন্দরবনের বন্যপ্রাণীর প্রজনন ও বিচরণ নির্বিঘœ রাখা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে গত ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত তিন মাস সুন্দরবনে পর্যটক ও বনজীবীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ছিল। তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে গতকাল মঙ্গলবার থেকে সুন্দরবনে পুনরায় পর্যটক ও বনজীবীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।
খুলনা অফিস 












