রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে কবুতরের ব্যবসা, সমিতি পরিচালনা ও বিকাশের দোকানের আড়ালে গড়ে ওঠা একটি ভয়ংকর মাদক চক্রের আস্তানা উন্মোচন করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।
ডিএনসি সূত্র জানায়, দীর্ঘদিনের নজরদারি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তালিকাভুক্ত মাদক গডফাদার কবুতর মমিনের বসতঘর, কবুতরের দোকান, তার পরিচালিত সমিতি ঘর ও বিকাশ দোকানে তল্লাশি চালিয়ে মাদক বিক্রির ৪৩,০৬,১৪০ (তেতাল্লিশ লাখ ছয় হাজার একশত চল্লিশ) টাকানগদ সহ, ৬১০ গ্রাম হেরোইন ২৫৩ পিস ইয়াবা, ২ বোতল বিদেশি মদ ও ২০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোঃ রাজিউর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
অভিজানে গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন, মো. রানা (৩৮), গডফাদার মমিনের স্ত্রী নুরুন্নাহার (৪০) এবং মো. আশরাদুল ইসলাম (২৮)।
এ সময়ে চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হলেও পালিয়ে যায় মূল হোতা মমিন। চক্রটির প্রধান মমিন (পলাতক) হিসেবে অভিযুক্ত হয়েছেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মমিনের স্ত্রী নুরুন্নাহার স্বীকার করেছেন যে, তারা দীর্ঘদিন ধরে কবুতর ও সমিতির ব্যবসার আড়ালে নিজেদের বিকাশ চ্যানেলের মাধ্যমে মাদকের লেনদেন পরিচালনা করে আসছিলেন।
এ ঘটনায় ডিএনসি গুলশান সার্কেলের পরিদর্শক মোঃ ইমদাদুল হক খাঁন বাদী হয়ে বনানী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ (সংশোধিত, ২০২৬) অনুযায়ী একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছেন।
এছাড়া অভিযান চলাকালে ঘটনাস্থল থেকে হাতেনাতে ধরা পড়া ৪ জন মাদকসেবীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
মাদকদ্রব্য অধিদপ্তর জানায়, ২৯ আগস্ট (২০২৬) সংস্থাটির মহাপরিচালক মোঃ হাসান মারুফের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং ঢাকা মেট্রো কার্যালয়ের (উত্তর) উপপরিচালক মোঃ রাজিউর রহমানের নেতৃত্বে ৫টি আলাদা টিম কড়াইল বস্তিতে এই যৌথ অভিযান পরিচালনা করে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোঃ রাজিউর রহমান জানান, সরকারের মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে তাদের এই বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মো.মোস্তাফিজুর রহমান খান 





















