ঢাকা ০৫:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
আনন্দবাজার পত্রিকায় শিরোনামঃ রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের ইস্তফায় ‘জলঘোলা’ হচ্ছে বাংলাদেশে তালার খলিলনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রনব ঘোষ স্বপদে বহাল সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ নির্দেশনা লাইসেন্স ফিরে পেল আদ্‌-দ্বীন হাসপাতাল খুলনায় রেলস্টেশনের সামনে গুলিবিদ্ধ যুবকের লাশ উদ্ধার সাংবাদিক সুরুজ আলীর মামলা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবি রাজশাহী প্রেসক্লাবের খুলনায় ৯ সন্ত্রাসী গ্রুপের দৌরাত্ম্য: ১৫ দিনে গ্রেপ্তার ১৮৪, তবু অধরা শীর্ষ গডফাদাররা রাজশাহী ‘ম্যাঙ্গো লাভার’ ই-কমার্স কার্যালয়ে তরুণীকে ধর্ষণচেষ্টার মামলায় যুবক আটক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাজশাহী প্রেসক্লাব সভাপতি সাইদুর রহমানের সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল খুলনায় বাসের টিকিট কালেক্টরের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার
সব সচিবকে জনপ্রশাসনের চিঠি

টানা দুই বছর শূন্য থাকলে পদ বিলুপ্ত

শূন্য পদে জনবল নিয়োগে কঠোর সরকার

যৌক্তিক কারণ ছাড়া কোনো শূন্য পদে টানা দুই বছরের বেশি নিয়োগ সম্পন্ন করা না গেলে তা বিলুপ্তির নির্দেশ দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এ জন্য প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব ও সচিবকে গত মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, গত ৭ এপ্রিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগের সমন্বয় সভায় সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। এর আগে গত মার্চে ছয় মাসের মধ্যে পাঁচ লাখ জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছিল সরকার। এর মাধ্যমে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হবে। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা নিয়োগ দেবে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ কার্যক্রম সমন্বয় করবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

সচিবদের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, সৃজন করা কোনো পদ টানা দুই বছরের বেশি সময় শূন্য থাকলে এবং সংশ্লিষ্ট পদে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে তা বিলুপ্তির প্রক্রিয়ায় নেওয়ার জন্য প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে উদ্যোগ নিতে হবে। এ ধরনের পদ সংরক্ষণ করার বদলে বাস্তব প্রয়োজন ও জনবল ব্যবস্থাপনার কার্যকারিতা বিবেচনায় পদগুলোর যৌক্তিকতা পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে।

জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ফিরোজ মিয়া গতকাল নির্ভীক সংবাদকে বলেন, এ ক্ষেত্রে শূন্য পদের প্রয়োজনীয়তা আছে কিনা এবং বিলুপ্ত হলে সাংগঠনিক কাঠামোতে অসংগতি দেখা দেয় কিনা তা যাচাই-বাছাই করতে হবে। অনেক দপ্তর-সংস্থায় পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। তবে নিয়োগবিধি তৈরি করা হয়নি। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় একটি বিধি ও প্রবিধিমালা সংশোধন করতে পাঁচ থেকে ছয় বছর পার করে দেয়। দ্রুত নিয়োগ সম্পন্ন করতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিধি ও প্রবিধিমালা তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে সংশোধন করতে। এ জন্য সরকার একটি ক্রাশ প্রোগ্রাম নিতে পারে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ‘স্ট্যাটিসটিকস অব পাবলিক সার্ভেন্টস-২০২৪’ অনুযায়ী, সব শ্রেণি মিলিয়ে বর্তমানে ১৪ লাখ ৫০ হাজার ৮৯১ জন সরকারি চাকরিজীবী কর্মরত আছেন। এর বিপরীতে শূন্য আছে চার লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি পদ। বর্তমানে সরকারি চাকরির প্রথম শ্রেণিতে কর্মরত আছেন এক লাখ ৯০ হাজার ৭৭৩ জন, এর মধ্যে শূন্য পদ ৬৮ হাজার ৮৮৪টি। দ্বিতীয় শ্রেণিতে কর্মরত দুই লাখ ৩৩ হাজার ৭২৬ জন, শূন্য এক লাখ ২৯ হাজার ১৬৬টি পদ। তৃতীয় শ্রেণিতে কর্মরত ছয় লাখ ১৩ হাজার ৮৩৫ জন, শূন্য এক লাখ ৪৬ হাজার ৭৯৯টি পদ। চতুর্থ শ্রেণিতে কর্মরত চার লাখ চার হাজার ৫৭৭ জন, শূন্য এক লাখ ১৫ হাজার ২৩৫টি পদ।

এদিকে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সব পর্যায় মিলিয়ে ৩২ শতাংশ পদ খালি আছে। খালি পদের সংখ্যা ৭৭ হাজার ৮৭৭টি। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন সংসদে জানিয়েছেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ বলেন, কোন দপ্তরে কতটি শূন্য পদ আছে, এ জন্য তথ্য নেওয়া হচ্ছে। সব তথ্য পাওয়ার পর নিয়োগ ও বিলুপ্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কেও চিঠি দিয়ে জানানো হবে। তিনি বলেন, জনবল নিয়োগের জন্য বাজেট প্রয়োজন। আশা করি, নতুন অর্থবছরে বাজেট পাব। এরপর আগামী জুলাই থেকে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে এক সচিব বলেন, শূন্য পদের বিষয়ে সব দপ্তর/সংস্থার প্রধানদের ডেকে বৈঠক করা হয়েছে। পিএসসির চেয়ারম্যানের সঙ্গেও দুই দফা বৈঠক করেছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরা।
এদিকে, পিএসসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোবাশ্বের মোনেম বলেন, শূন্য পদে নিয়োগের বিষয়ে কয়েকজন মন্ত্রী তথ্য জানতে চেয়েছিলেন। আমরা বিস্তারিত পরিকল্পনা জানিয়েছি। তবে কোন পদে কতজন নিয়োগ হবে, তা নথি দেখে বলতে হবে। তিনি বলেন, প্রতিবছর একটি বিসিএস সম্পন্ন করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে পিএসসি। এ ছাড়া জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বিশেষ কোনো বিসিএস বা নিয়োগের উদ্যোগ নিলে সেই কাজ করার চেষ্টা করব।

বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার
বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে বলা আছে, সরকারের বিভিন্ন দপ্তর/সংস্থায় পাঁচ লক্ষাধিক সরকারি কর্মচারীর পদ শূন্য আছে। যত দ্রুত সম্ভব স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় যোগ্যতার ভিত্তিতে মেধাবীদের শূন্য পদে নিয়োগ দেওয়া হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে বারবার তাগাদা দেওয়া হলেও নিয়োগ প্রক্রিয়ার গতি মন্থর। কোনো কোনো দপ্তর ও সংস্থার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের চার-পাঁচ বছরেও নিয়োগ কার্যক্রম শেষ হচ্ছে না। এতে রাজস্ব খাতের পদগুলো বছরের পর বছর শূন্যই থেকে যাচ্ছে। অন্যদিকে, দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বাড়ছে। এ জন্য সরকার এবার কঠোর উদ্যোগ নিয়েছে।

খরচ লাগবে সাড়ে ৮ কোটি টাকা
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও অর্থ বিভাগের বাজেট শাখার কর্মকর্তারা বলেন, পাঁচ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ কার্যক্রমে প্রয়োজন হবে সাড়ে আট কোটি টাকা। এ জন্য আগামী অর্থবছরে অর্থ বরাদ্দ রাখা হবে।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেন, সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ কত সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ করতে পারবে, সে ধরনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সঙ্গে পাঁচ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের চেষ্টা চলছে।

Tag :
About Author Information

Nirvik Sangbad

জনপ্রিয় সংবাদ

আনন্দবাজার পত্রিকায় শিরোনামঃ রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের ইস্তফায় ‘জলঘোলা’ হচ্ছে বাংলাদেশে

সব সচিবকে জনপ্রশাসনের চিঠি

টানা দুই বছর শূন্য থাকলে পদ বিলুপ্ত

আপলোড সময় ০২:২৬:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

শূন্য পদে জনবল নিয়োগে কঠোর সরকার

যৌক্তিক কারণ ছাড়া কোনো শূন্য পদে টানা দুই বছরের বেশি নিয়োগ সম্পন্ন করা না গেলে তা বিলুপ্তির নির্দেশ দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এ জন্য প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব ও সচিবকে গত মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, গত ৭ এপ্রিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগের সমন্বয় সভায় সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। এর আগে গত মার্চে ছয় মাসের মধ্যে পাঁচ লাখ জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছিল সরকার। এর মাধ্যমে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হবে। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা নিয়োগ দেবে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ কার্যক্রম সমন্বয় করবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

সচিবদের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, সৃজন করা কোনো পদ টানা দুই বছরের বেশি সময় শূন্য থাকলে এবং সংশ্লিষ্ট পদে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে তা বিলুপ্তির প্রক্রিয়ায় নেওয়ার জন্য প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে উদ্যোগ নিতে হবে। এ ধরনের পদ সংরক্ষণ করার বদলে বাস্তব প্রয়োজন ও জনবল ব্যবস্থাপনার কার্যকারিতা বিবেচনায় পদগুলোর যৌক্তিকতা পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে।

জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ফিরোজ মিয়া গতকাল নির্ভীক সংবাদকে বলেন, এ ক্ষেত্রে শূন্য পদের প্রয়োজনীয়তা আছে কিনা এবং বিলুপ্ত হলে সাংগঠনিক কাঠামোতে অসংগতি দেখা দেয় কিনা তা যাচাই-বাছাই করতে হবে। অনেক দপ্তর-সংস্থায় পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। তবে নিয়োগবিধি তৈরি করা হয়নি। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় একটি বিধি ও প্রবিধিমালা সংশোধন করতে পাঁচ থেকে ছয় বছর পার করে দেয়। দ্রুত নিয়োগ সম্পন্ন করতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিধি ও প্রবিধিমালা তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে সংশোধন করতে। এ জন্য সরকার একটি ক্রাশ প্রোগ্রাম নিতে পারে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ‘স্ট্যাটিসটিকস অব পাবলিক সার্ভেন্টস-২০২৪’ অনুযায়ী, সব শ্রেণি মিলিয়ে বর্তমানে ১৪ লাখ ৫০ হাজার ৮৯১ জন সরকারি চাকরিজীবী কর্মরত আছেন। এর বিপরীতে শূন্য আছে চার লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি পদ। বর্তমানে সরকারি চাকরির প্রথম শ্রেণিতে কর্মরত আছেন এক লাখ ৯০ হাজার ৭৭৩ জন, এর মধ্যে শূন্য পদ ৬৮ হাজার ৮৮৪টি। দ্বিতীয় শ্রেণিতে কর্মরত দুই লাখ ৩৩ হাজার ৭২৬ জন, শূন্য এক লাখ ২৯ হাজার ১৬৬টি পদ। তৃতীয় শ্রেণিতে কর্মরত ছয় লাখ ১৩ হাজার ৮৩৫ জন, শূন্য এক লাখ ৪৬ হাজার ৭৯৯টি পদ। চতুর্থ শ্রেণিতে কর্মরত চার লাখ চার হাজার ৫৭৭ জন, শূন্য এক লাখ ১৫ হাজার ২৩৫টি পদ।

এদিকে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সব পর্যায় মিলিয়ে ৩২ শতাংশ পদ খালি আছে। খালি পদের সংখ্যা ৭৭ হাজার ৮৭৭টি। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন সংসদে জানিয়েছেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ বলেন, কোন দপ্তরে কতটি শূন্য পদ আছে, এ জন্য তথ্য নেওয়া হচ্ছে। সব তথ্য পাওয়ার পর নিয়োগ ও বিলুপ্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কেও চিঠি দিয়ে জানানো হবে। তিনি বলেন, জনবল নিয়োগের জন্য বাজেট প্রয়োজন। আশা করি, নতুন অর্থবছরে বাজেট পাব। এরপর আগামী জুলাই থেকে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে এক সচিব বলেন, শূন্য পদের বিষয়ে সব দপ্তর/সংস্থার প্রধানদের ডেকে বৈঠক করা হয়েছে। পিএসসির চেয়ারম্যানের সঙ্গেও দুই দফা বৈঠক করেছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরা।
এদিকে, পিএসসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোবাশ্বের মোনেম বলেন, শূন্য পদে নিয়োগের বিষয়ে কয়েকজন মন্ত্রী তথ্য জানতে চেয়েছিলেন। আমরা বিস্তারিত পরিকল্পনা জানিয়েছি। তবে কোন পদে কতজন নিয়োগ হবে, তা নথি দেখে বলতে হবে। তিনি বলেন, প্রতিবছর একটি বিসিএস সম্পন্ন করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে পিএসসি। এ ছাড়া জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বিশেষ কোনো বিসিএস বা নিয়োগের উদ্যোগ নিলে সেই কাজ করার চেষ্টা করব।

বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার
বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে বলা আছে, সরকারের বিভিন্ন দপ্তর/সংস্থায় পাঁচ লক্ষাধিক সরকারি কর্মচারীর পদ শূন্য আছে। যত দ্রুত সম্ভব স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় যোগ্যতার ভিত্তিতে মেধাবীদের শূন্য পদে নিয়োগ দেওয়া হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে বারবার তাগাদা দেওয়া হলেও নিয়োগ প্রক্রিয়ার গতি মন্থর। কোনো কোনো দপ্তর ও সংস্থার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের চার-পাঁচ বছরেও নিয়োগ কার্যক্রম শেষ হচ্ছে না। এতে রাজস্ব খাতের পদগুলো বছরের পর বছর শূন্যই থেকে যাচ্ছে। অন্যদিকে, দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বাড়ছে। এ জন্য সরকার এবার কঠোর উদ্যোগ নিয়েছে।

খরচ লাগবে সাড়ে ৮ কোটি টাকা
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও অর্থ বিভাগের বাজেট শাখার কর্মকর্তারা বলেন, পাঁচ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ কার্যক্রমে প্রয়োজন হবে সাড়ে আট কোটি টাকা। এ জন্য আগামী অর্থবছরে অর্থ বরাদ্দ রাখা হবে।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেন, সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ কত সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ করতে পারবে, সে ধরনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সঙ্গে পাঁচ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের চেষ্টা চলছে।