বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকা বিভাগের তেজগাঁও, ক্যান্টনমেন্ট ও টঙ্গী এলাকায় বিদ্যুৎ বিভাগের এক মিস্ত্রির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে মাসে লাখ লাখ টাকা আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি বিদ্যুৎ বিভাগের মিস্ত্রি আরিফুল ইসলাম। অভিযোগ রয়েছে, তিনি প্রায় ১৫ বছর ধরে একই কর্মস্থলে বহাল থেকে একটি প্রভাবশালী চক্র গড়ে তুলে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানা যায়নি।
রেলওয়ের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় পরপর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি হওয়ার কথা থাকলেও আরিফুল ইসলাম দীর্ঘ ১৫ বছর একই কর্মস্থলে রয়েছেন। দীর্ঘদিন একই এলাকায় কর্মরত থাকার সুযোগে তিনি অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ করেন তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তেজগাঁও ১৪ নম্বর ইয়ার্ড সংলগ্ন এলাকায় অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে প্রতি মাসে প্রায় ৫০ হাজার টাকা আদায় করা হয়। এছাড়া তেজগাঁও রেলওয়ে কলোনির বিভিন্ন অবৈধ দোকান, বাসাবাড়ি, অটোরিকশা গ্যারেজ, ব্যাটারিচালিত যানবাহনের চার্জিং পয়েন্ট এবং বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অবৈধ সংযোগ দিয়ে নিয়মিত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, জাকিরের গলি, বাদশার পানির হাউস, লন্ড্রি দোকান, তেজগাঁও মডেল হাই স্কুল সংলগ্ন ব্যাটারিচালিত যানবাহনের চার্জিং পয়েন্ট এবং উত্তর কলোনি ব্রিজসংলগ্ন সাবেক আনোয়ার মার্কেট এলাকায়ও অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে প্রতি মাসে কয়েক হাজার থেকে কয়েক দশ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়।
রেলওয়ের কয়েকজন কর্মচারীর দাবি, ২০১৭ সালের আগে তেজগাঁও এলাকায় প্রায় ৩২০টি রেল কোয়ার্টার ছিল। পরবর্তীতে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের কারণে অনেক কোয়ার্টার উচ্ছেদ হয়ে বর্তমানে প্রায় ১০০টি কোয়ার্টার অবশিষ্ট রয়েছে। অথচ কোয়ার্টারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেলেও বিদ্যুৎ বিল কমার পরিবর্তে দ্বিগুণ হয়েছে। তাদের অভিযোগ, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগই এর অন্যতম কারণ।
অভিযোগ রয়েছে, কেউ মাসিক টাকা দিতে দেরি করলে লোক দেখানোভাবে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। পরে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে পুনরায় সংযোগ দেওয়া হয়। এ কাজে বিদ্যুৎ বিভাগের আরও কয়েকজন কর্মচারীর সম্পৃক্ততার অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা।
এদিকে, অভিযোগ উঠেছে যে বিদ্যুৎ বিভাগের ইলেকট্রিক খালাসী রতন আরিফুল ইসলামের পক্ষে বিভিন্ন স্থান থেকে মাসিক অর্থ সংগ্রহ করেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে রতনের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিইই ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রেলওয়ের অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহার বন্ধে নিয়মিত নিরপেক্ষ অডিট, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্দিষ্ট সময় পরপর বদলি, স্মার্ট মিটার স্থাপন এবং অবৈধ সংযোগের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা জরুরি। অন্যথায় রাষ্ট্রের রাজস্ব ক্ষতির পাশাপাশি বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম ও দুর্নীতির ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মিস্ত্রি আরিফুল ইসলামের বক্তব্য নেয়ার জন্য একাধীক বার তার মোবাইলে যোগাযোগ করা হলেও ফোনটি বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
সত্য প্রকাশ দত্ত 





















