ঢাকা ০২:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
খুলনাবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে গল্লামারী ব্রিজ: সফল খুলনাবাসী খুলনা খাদ্য অধিদপ্তরে ওজনে কারসাজি ও বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ: সরকারি চাল যাচ্ছে কোথায়? সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নিশ্চিতের দাবি সাংবাদিক জাহাঙ্গীর হোসেনের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে কটুক্তি-ব্যঙ্গচিত্র,২৭ মামলার আসামি কামাল প্রধান এখনো প্রকাশ্যে খুলনা ডিবি পুলিশের হাতে বি কোম্পানির সক্রিয় ৫ সন্ত্রাসী গ্রেফতার পাবনার ভাঙ্গুড়ায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৩৫ টি ঘর বিক্রি, পরিত্যক্ত ঘরে জুয়া-মাদক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ক্ষমতার পালাবদলে নাম বদলে গেছে সিলেট চন্ডীপুল গোলচত্বর সহ অন্যান্য স্থাপনার বিয়ের সাজ না খুলতেই মৃত্যুর ডাক: নববধূকে রেখে চিরবিদায়ে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল রানা খুলনায় আন্তর্জাতিকমানের আধুনিক খাদ্য সংরক্ষণাগার (গমের স্টিল সাইলো) নির্মাণ সম্পন্ন খুলনার বটিয়াঘাটার খেয়া ঘাটে দ্বিগুণ ভাড়া আদায়: কর্তৃপক্ষ নিরব

সাংবাদিক রেজানুরকে গ্রেপ্তারে সম্পাদক পরিষদের উদ্বেগ

বগুড়ায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে নিয়ে প্রকাশিত একটি সংবাদের জেরে দায়ের করা মামলায় ‘দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মো. রেজানুর ইসলামকে গ্রেপ্তার ও কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সম্পাদক পরিষদ।

শনিবার সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নুরুল কবীর ও সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই ঘটনায় উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সম্পাদক পরিষদ মনে করে, এ ঘটনা বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার এবং রাষ্ট্র সংস্কারবিষয়ক ৩১ দফা কর্মসূচিতে ঘোষিত গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকারের অঙ্গীকারের সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।’

প্রকাশিত সংবাদে আপত্তি থাকলে তার প্রতিকারের বিদ্যমান কাঠামোর কথা উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘কোনো সংবাদ বা প্রতিবেদনের বিষয়ে কোনো সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি, তিনি রাষ্ট্রের যে পদেই অধিষ্ঠিত থাকুন না কেন, আপত্তি থাকলে তার প্রতিকার পাওয়ার জন্য দেশে বিদ্যমান আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি প্রেস কাউন্সিলে অভিযোগ জানাতে পারেন, যা এ ধরনের অভিযোগের বিচার ও নিষ্পত্তির জন্য প্রতিষ্ঠিত আইনসম্মত প্রতিষ্ঠান। একইভাবে প্রচলিত আইন অনুযায়ী সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি নিজেও মামলা করে প্রতিকার চাইতে পারেন।’

আগের সরকারের আমলের উদাহরণ টেনে সম্পাদক পরিষদ বলছে, ‘এ ঘটনায় একজন সাংবাদিকের করা মামলায় আরেকজন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার ও কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অতীতেও আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ও হয়রানির এমন প্রবণতা দেখা গেছে। বর্তমান ঘটনার মধ্য দিয়ে সেই উদ্বেগজনক ধারার পুনরাবৃত্তি ঘটল।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা, গ্রেপ্তার এবং কারাগারে পাঠানোর প্রবণতা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের অধিকারের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। এ ঘটনা সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমকর্মীদের স্বাধীনতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিশ্ব সংবাদমাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে বাংলাদেশের বর্তমান ১৫২তম অবস্থানের প্রেক্ষাপটে এ ধরনের ঘটনা দেশের গণমাধ্যম স্বাধীনতার অবনতিকে আরও ত্বরান্বিত করবে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।’

বিবৃতিতে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে মো. রেজানুর ইসলামের মুক্তি দাবি করেছে সম্পাদক পরিষদ।

এতে বলা হয়, ‘সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারের পরিবর্তে বিদ্যমান আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায়, বিশেষত প্রেস কাউন্সিলের মাধ্যমে, প্রতিকার ব্যবস্থার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছে।’

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

খুলনাবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে গল্লামারী ব্রিজ: সফল খুলনাবাসী

সাংবাদিক রেজানুরকে গ্রেপ্তারে সম্পাদক পরিষদের উদ্বেগ

আপডেট সময় ১২:০৬:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

বগুড়ায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে নিয়ে প্রকাশিত একটি সংবাদের জেরে দায়ের করা মামলায় ‘দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মো. রেজানুর ইসলামকে গ্রেপ্তার ও কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সম্পাদক পরিষদ।

শনিবার সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নুরুল কবীর ও সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই ঘটনায় উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সম্পাদক পরিষদ মনে করে, এ ঘটনা বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার এবং রাষ্ট্র সংস্কারবিষয়ক ৩১ দফা কর্মসূচিতে ঘোষিত গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকারের অঙ্গীকারের সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।’

প্রকাশিত সংবাদে আপত্তি থাকলে তার প্রতিকারের বিদ্যমান কাঠামোর কথা উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘কোনো সংবাদ বা প্রতিবেদনের বিষয়ে কোনো সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি, তিনি রাষ্ট্রের যে পদেই অধিষ্ঠিত থাকুন না কেন, আপত্তি থাকলে তার প্রতিকার পাওয়ার জন্য দেশে বিদ্যমান আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি প্রেস কাউন্সিলে অভিযোগ জানাতে পারেন, যা এ ধরনের অভিযোগের বিচার ও নিষ্পত্তির জন্য প্রতিষ্ঠিত আইনসম্মত প্রতিষ্ঠান। একইভাবে প্রচলিত আইন অনুযায়ী সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি নিজেও মামলা করে প্রতিকার চাইতে পারেন।’

আগের সরকারের আমলের উদাহরণ টেনে সম্পাদক পরিষদ বলছে, ‘এ ঘটনায় একজন সাংবাদিকের করা মামলায় আরেকজন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার ও কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অতীতেও আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ও হয়রানির এমন প্রবণতা দেখা গেছে। বর্তমান ঘটনার মধ্য দিয়ে সেই উদ্বেগজনক ধারার পুনরাবৃত্তি ঘটল।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা, গ্রেপ্তার এবং কারাগারে পাঠানোর প্রবণতা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের অধিকারের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। এ ঘটনা সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমকর্মীদের স্বাধীনতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিশ্ব সংবাদমাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে বাংলাদেশের বর্তমান ১৫২তম অবস্থানের প্রেক্ষাপটে এ ধরনের ঘটনা দেশের গণমাধ্যম স্বাধীনতার অবনতিকে আরও ত্বরান্বিত করবে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।’

বিবৃতিতে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে মো. রেজানুর ইসলামের মুক্তি দাবি করেছে সম্পাদক পরিষদ।

এতে বলা হয়, ‘সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারের পরিবর্তে বিদ্যমান আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায়, বিশেষত প্রেস কাউন্সিলের মাধ্যমে, প্রতিকার ব্যবস্থার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছে।’