ঢাকা ০২:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বরগুনার আমতলীতে ১৯০০ পিস ইয়াবা ও নগদ ৬০ হাজার টাকাসহ গ্রেপ্তার ২ ১০ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় ব্যবসায়ী কে অপহরণ করে হত্যাচেষ্টা; ভাঙ্গুড়ায় ১০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা খুলনায় বিশেষ যৌথ অভিযানে আরও ৩৪জন গ্রেফতার ঠাকুরগাঁওয়ে ইউপি সদস্য রিয়াজুল ইসলাম লিটনের বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল, তদন্তের দাবি এলাকাবাসীর খুলনায় বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস পালিত টানা দুই বছর শূন্য থাকলে পদ বিলুপ্ত সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার রায় আপিল বিভাগে স্থগিত কক্সবাজারের চকরিয়ায় পাচারের জন্য রাখা একাধিক বন্যপ্রাণী উদ্ধার, একজন গ্রেপ্তার ইরান যুদ্ধে ইসরায়েলকে একা ছেড়ে দেওয়ার হুমকি ট্রাম্পের এনআইডি’র স্মার্টকার্ড প্রকল্প শেষ হচ্ছে নভেম্বরে

রাজনীতিতে অশনি সংকেত

এই পৃথিবীর তরুলতা বৃক্ষরাজি নদী সাগর মহাসাগর পাহাড়-পর্বত সবকিছু আল্লাহ সৌন্দর্য মন্ডিত করে অপরূপ সৌন্দর্যে সজ্জিত করে সৃষ্টি করেছেন। নয়নাভিরাম এই দৃশ্য অবলোকন করে পৃথিবীর মানুষ সত্যিই মুগ্ধ। সৃষ্টি জগতের সবচেয়ে বড় সুন্দর আল্লাহর সৃষ্টি মানুষ। পৃথিবীতে কেউ অপরাধী হয়ে জন্মগ্রহণ করেনা পরিবেশ পারিপার্শ্বিক অবস্থা তাকে খারাপ পথে ধাবিত করে। পারিবারিক ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা একজন মানুষকে সৎ দায়িত্বশীল সততা মূল্যবোধ মানবিক ও সুন্দর মনের অধিকারী করে গড়ে তোলে। আল্লাহ মানুষকে জ্ঞান-বুদ্ধি ও বিবেক দিয়েছেন ।এগুলোকে জাগ্রত করে
বিচার বিশ্লেষণের মাধ্যমে যৌক্তিক উপায়ে পৃথিবীতে বসবাস করতে যা তাকে সামঞ্জস্যবিধানে এবং নতুন পথে চলতে সাহায্য করে।

যে সুন্দর মুখ দিয়ে আল্লাহ কথা বলা শিখিয়েছেন এবং মায়ের অসীম ত্যাগ বাবার আদর যত্ন ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে একজন মানব শিশু বড় হয়ে ওঠে। সেই পরম শ্রদ্ধেয় সবার মা-বাবা প্রত্যাশা করেন আমার সন্তান বড় হয়ে দেশের জন্য ভালো কাজ করবে, সবার কাছে প্রশংসিত হবে। মুখ দিয়ে কথার মাধ্যমে মানুষের ভালো পথের সন্ধান দিবে, হাত দিয়ে মানুষের সাহায্য করবে, পা দিয়ে মানুষের দুঃসময়ে হেঁটে যেয়ে তার পাশে দাঁড়াবে ,চোখ দিয়ে ভালো কিছু দেখবে, মাথা দিয়ে বুদ্ধি খাটিয়ে মানুষকে ভালো কাজের অনুপ্রেরণা দিবে । সুন্দর পৃথিবীর সুন্দর মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলবে।

অথচ আজ অনেকদিন হয়ে গেল একজন অযাচিত ব্যক্তি জনাব মির্জা আব্বাস প্রবীণ রাজনীতিবিদ, বিগত সরকারের জেল জুলুম হুলিয়া মাথায় নিয়ে শত নির্যাতনের মুখে যিনি অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি,তার বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে সস্তা জনপ্রিতা অর্জন করতে চেয়েছেন ।যে কথার কারণে তিনি দারুণভাবে আঘাত পেয়ে মৃত্যুর দরজা থেকে দেশবাসীর দোয়ায় জনগণের ও পরিবারের মাঝে ফিরে এসেছেন। মানুষকে মারতে গেলে অনেক সময় অস্ত্রের প্রয়োজন হয় না ।সম্মানি লোকদের কথার আঘাতে মৃত্যু মুখে ঠেলে দেয়া যায়। ক্রমাগত তুচ্ছ তাচ্ছিল্য ব্যক্তিগত আক্রোশ সম্মানের উপর অযাচিত বাক্য বানের আঘাত যা তাকে অসুস্থ করে তুলেছিল ।এখন আবার নতুন করে ভুয়া স্লোগান তুলে নেতা নেত্রী উপদেষ্টা এমপি মন্ত্রী দের চরিত্র হনন ও সম্মানহানি করার পায়তারা করছে যা দেশের জন্য সুখকর নয়।
বাংলাদেশের সর্ব শ্রেণীর মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত যার প্রাণ, জনগণের নিরঙ্কুশ ভোটের মাধ্যমে এমন একজন প্রধানমন্ত্রী আল্লাহ আমাদেরকে উপহার দিয়েছেন যিনি সাধারণ, সদালাপী ,নিরহংকার ,যিনি দীনহীন বেশে রাস্তাঘাটে হাঁটেন, সমস্যাগ্রস্ত মানুষের কথা শুনেন ,তাদের বাড়িতে যেয়ে হাজির হন, আপন করে বুকে টেনে নেন, কৃষককে স্টেজে বসিয়ে কথা বলেন, গাড়ি চালিয়ে ঈদ পরবর্তী রাস্তাঘাটের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন, রামিশা হত্যার বিচারের নির্দেশ দিয়ে মা বাবার বাসায় গিয়ে কষ্ট এবং দুঃখ লাঘব করার চেষ্টা করেন, মশা মারার জন্য ফ্লোরিডা যাওয়া বন্ধ করেন ,রাষ্ট্র পরিচালনায় তার “আই হ্যাভ এ প্ল্যান “এর মধ্যে অনেক প্রতিশ্রুতি ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন করেছেন, তার বিচক্ষণতায় সাইপ্রাসের আন্দ্রেয়াস এস কাকুরিসকে পরাজিত করে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনের বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডক্টর খলিলুর রহমানকেসভাপতি নির্বাচিত করেছেন । যা বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের সম্মান ও মর্যাদা কে উচ্চ আসনে আসীন করে অলংকৃত করেছেন। যিনি নির্বাচিত হয়ে প্রধানমন্ত্রীর অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। দক্ষতা যোগ্যতা দূরদৃষ্টির মাধ্যমে পৃথিবীর ইতিহাসের পাতায় তিনি বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। অথচ একজন রাজনীতিবিদ এত বড় সাফল্য কে প্রশংসা না করে তিনজন মন্ত্রীকে তিন দেশের ব্যক্তি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন যা সত্যিই দুঃখজনক। অথচ তিনি একজন আমার প্রিয় ব্যক্তিত্ব । বর্তমান সরকার আপনাকে পূর্বে কিছুই দেয়নি।হায়রে বাঙালি আমরা মানুষ হবো কবে?
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান একজন জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী। এমপি মন্ত্রী উপদেষ্টা এবং তার প্রশাসনের গঠনমূলক সমালোচনা করুন সরকারের ভুল পথ ধরিয়ে দিন সেটা না করে একজন রাজনীতিবিদ বলেছেন তাকে গালি দেয়া যাবে ভুয়া স্লোগান দেয়া যাবে, ডিম আলু টমেটো ময়দা ছুড়ে মারা যাবে। এগুলো যদি গণতান্ত্রিক অধিকার হয় তাহলে অগণতান্ত্রিক অধিকার কোনটি? প্রধানমন্ত্রীর তিন মাসের যে অর্জন ,সাফল্য আপনি এমন কি দেখলেন? যে তাকে উদ্দেশ্য করেএই ধরনের অশ্লীল অরাজনৈতিক বক্তব্য প্রদান করলেন। আপনি একজন উচ্চ শিক্ষিত মানুষ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন। তাকে তার ত্রুটি এবং ভুলগুলো ধরিয়ে দেন। তাহলে আপনি বাংলাদেশের মানুষের কাছে অধিকতর গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন। আপনি যা বলেছেন তা সত্যই দুঃখজনক। যেকোনো মূল্যে ক্ষমতা থেকে যেতে হবে, অনেকে প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন ।অনেকে আবার না পাওয়ার বেদনায় অনেক কিছু হারিয়ে হতাশ হয়ে অনেক কিছু বলে ফেলেন যা আইনসম্মত নয়। এগুলো মানবাধিকার লঙ্ঘন। সুতরাং স্বাধীন দেশে এ ধরনের মন্তব্য ব্যক্তি স্বাধীনতা নয়।

এক সাগর রক্তের বিনিময়ে একটি কঠিন সময় ও কন্ট কাকীর্ণ পথ পার করে দেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার দেশ পরিচালনা করছে। অল্প দিনে সরকারের সুনাম সুখ্যাতি সর্বমহলে প্রশংসিত হচ্ছে এমন কিছু ব্যক্তির নিঃশ্বাসে কথাবার্তায় বাতাস ভারী হয়ে তীব্র দাবদহে বিষবাষ্পে পরিণত হয়েছে। আষাঢ়ের বর্ষায় সেই বাতাস দূষণমুক্ত হোক সেটাই আমাদের কামনা ।

লেখাপড়া শিখে শিক্ষিত হওয়া যায় কিন্তু প্রকৃত মানুষ হওয়া কঠিন। ভালো মানুষ হতে গেলে আপনাকে মানবিক গুণাবলীর অধিকারী হতে হবে। কে এইট পাস ,কার ডিগ্রী নাই, এগুলো বড় কথা নয় ,বড় কথা হল আপনি ভাল মানুষ কিনা ,আপনার মধ্যে মানবিক গুণাবলী বিদ্যমান আছে কিনা ,এটাই বিবেচ্য বিষয়। উচ্চশিক্ষিত চার সন্তানের মধ্যে মানবিক গুণাবলী বিদ্যমান নাই বিধায় পাশের রুমে মরে পড়ে থাকা মায়ের দেহে পোকা ধরত না। কারোর বিরুদ্ধে বলার আগে অনেক ভাবুন চিন্তা করুন এবং সক্রেটিসের সেই উক্তিটি মনে রাখুন।” নিজেকে জানুন”
একজন মায়া-মমতা ভালোবাসায় পরিপূর্ণ দরদী প্রধানমন্ত্রী যিনি রাষ্ট্রের সম্পদ, যিনি নিজেই একটি প্রতিষ্ঠান। তিন মাসে আপনার সফলতা কতিপয় অর্বাচীন ব্যক্তির মুখ থেকে নিঃসৃত দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য জাতি আশা করেনা। জাতি হিসেবে আমরা লজ্জিত ,দুঃখিত ও ব্যথিত। তবে প্রোপাগান্ডা কারীদের পিছনে কাদের অবস্থান তা সনাক্ত করা সময়ের দাবি। ক্রমাগত তাদের অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ মানহানিকর মন্তব্য সভ্য দেশের সভ্য সমাজের মানুষের নিকট কাম্য নয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিনিয়তই প্রতিবাদের ঝড় উঠছে। এদের মধ্যে কেউ যদি বিপদের সম্মুখীন হয় যদি তৃতীয় পক্ষ সুযোগ নিয়ে কোন দুর্ঘটনা ঘটায় তাহলে দেশবাসী মনে করবে এখানে সরকারের হস্তক্ষেপে রয়েছে। একটা শ্রেণি চাচ্ছে দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি হোক। তাই সরকারের সচেতন থাকা উচিত ।সবার সামাজিক মর্যাদা ও সম্মানের দিকে খেয়াল রেখে অচিরেই এই ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘন মানহানিকর মন্তব্য বন্ধ করা প্রয়োজন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মাদার অফ ডেমোক্রেসি প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুযোগ্য সন্তান। সততা ছিল যাদের অলংকার।আপনার রক্তে মিশে আছে দেশপ্রেম এবং বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ। আপনার অভীষ্ট লক্ষ্য সফলতা অনেকের কাছে কষ্ট এবং পরাজয়। তাদের রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। শত্রুরা আপনার অফিস পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। মনে রাখবেন এদেশ মীর জাফরের দেশ। দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র সম্পর্কে আপনি সচেতন থাকুন। বহির্বিশ্বে বন্ধু তৈরি করুন। আপনার স্বনামধন্য মা-বাবার বহির্বিশ্বে অনেক বন্ধু রয়েছেন। আপনার চারপাশে বিশ্বস্ত বন্ধু খুঁজে বের করুন । বিশ্বস্ত লোক কাছে রাখুন ।আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন।এ দেশের লোক আর চোখের পানি ফেলতে চায় না উন্নয়নের জোয়ারে হাসতে চাই। দেশবাসী আপনার সঙ্গে আছে ইনশাল্লাহ।
মোঃ আব্দুর রাজ্জাক
অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান
সমাজকর্ম বিভাগ
মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় কলেজ ঢাকা।
লেখক গবেষক টিভি ব্যক্তিত্ব ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

বরগুনার আমতলীতে ১৯০০ পিস ইয়াবা ও নগদ ৬০ হাজার টাকাসহ গ্রেপ্তার ২

রাজনীতিতে অশনি সংকেত

আপডেট সময় ০১:৪৫:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬

এই পৃথিবীর তরুলতা বৃক্ষরাজি নদী সাগর মহাসাগর পাহাড়-পর্বত সবকিছু আল্লাহ সৌন্দর্য মন্ডিত করে অপরূপ সৌন্দর্যে সজ্জিত করে সৃষ্টি করেছেন। নয়নাভিরাম এই দৃশ্য অবলোকন করে পৃথিবীর মানুষ সত্যিই মুগ্ধ। সৃষ্টি জগতের সবচেয়ে বড় সুন্দর আল্লাহর সৃষ্টি মানুষ। পৃথিবীতে কেউ অপরাধী হয়ে জন্মগ্রহণ করেনা পরিবেশ পারিপার্শ্বিক অবস্থা তাকে খারাপ পথে ধাবিত করে। পারিবারিক ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা একজন মানুষকে সৎ দায়িত্বশীল সততা মূল্যবোধ মানবিক ও সুন্দর মনের অধিকারী করে গড়ে তোলে। আল্লাহ মানুষকে জ্ঞান-বুদ্ধি ও বিবেক দিয়েছেন ।এগুলোকে জাগ্রত করে
বিচার বিশ্লেষণের মাধ্যমে যৌক্তিক উপায়ে পৃথিবীতে বসবাস করতে যা তাকে সামঞ্জস্যবিধানে এবং নতুন পথে চলতে সাহায্য করে।

যে সুন্দর মুখ দিয়ে আল্লাহ কথা বলা শিখিয়েছেন এবং মায়ের অসীম ত্যাগ বাবার আদর যত্ন ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে একজন মানব শিশু বড় হয়ে ওঠে। সেই পরম শ্রদ্ধেয় সবার মা-বাবা প্রত্যাশা করেন আমার সন্তান বড় হয়ে দেশের জন্য ভালো কাজ করবে, সবার কাছে প্রশংসিত হবে। মুখ দিয়ে কথার মাধ্যমে মানুষের ভালো পথের সন্ধান দিবে, হাত দিয়ে মানুষের সাহায্য করবে, পা দিয়ে মানুষের দুঃসময়ে হেঁটে যেয়ে তার পাশে দাঁড়াবে ,চোখ দিয়ে ভালো কিছু দেখবে, মাথা দিয়ে বুদ্ধি খাটিয়ে মানুষকে ভালো কাজের অনুপ্রেরণা দিবে । সুন্দর পৃথিবীর সুন্দর মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলবে।

অথচ আজ অনেকদিন হয়ে গেল একজন অযাচিত ব্যক্তি জনাব মির্জা আব্বাস প্রবীণ রাজনীতিবিদ, বিগত সরকারের জেল জুলুম হুলিয়া মাথায় নিয়ে শত নির্যাতনের মুখে যিনি অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি,তার বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে সস্তা জনপ্রিতা অর্জন করতে চেয়েছেন ।যে কথার কারণে তিনি দারুণভাবে আঘাত পেয়ে মৃত্যুর দরজা থেকে দেশবাসীর দোয়ায় জনগণের ও পরিবারের মাঝে ফিরে এসেছেন। মানুষকে মারতে গেলে অনেক সময় অস্ত্রের প্রয়োজন হয় না ।সম্মানি লোকদের কথার আঘাতে মৃত্যু মুখে ঠেলে দেয়া যায়। ক্রমাগত তুচ্ছ তাচ্ছিল্য ব্যক্তিগত আক্রোশ সম্মানের উপর অযাচিত বাক্য বানের আঘাত যা তাকে অসুস্থ করে তুলেছিল ।এখন আবার নতুন করে ভুয়া স্লোগান তুলে নেতা নেত্রী উপদেষ্টা এমপি মন্ত্রী দের চরিত্র হনন ও সম্মানহানি করার পায়তারা করছে যা দেশের জন্য সুখকর নয়।
বাংলাদেশের সর্ব শ্রেণীর মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত যার প্রাণ, জনগণের নিরঙ্কুশ ভোটের মাধ্যমে এমন একজন প্রধানমন্ত্রী আল্লাহ আমাদেরকে উপহার দিয়েছেন যিনি সাধারণ, সদালাপী ,নিরহংকার ,যিনি দীনহীন বেশে রাস্তাঘাটে হাঁটেন, সমস্যাগ্রস্ত মানুষের কথা শুনেন ,তাদের বাড়িতে যেয়ে হাজির হন, আপন করে বুকে টেনে নেন, কৃষককে স্টেজে বসিয়ে কথা বলেন, গাড়ি চালিয়ে ঈদ পরবর্তী রাস্তাঘাটের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন, রামিশা হত্যার বিচারের নির্দেশ দিয়ে মা বাবার বাসায় গিয়ে কষ্ট এবং দুঃখ লাঘব করার চেষ্টা করেন, মশা মারার জন্য ফ্লোরিডা যাওয়া বন্ধ করেন ,রাষ্ট্র পরিচালনায় তার “আই হ্যাভ এ প্ল্যান “এর মধ্যে অনেক প্রতিশ্রুতি ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন করেছেন, তার বিচক্ষণতায় সাইপ্রাসের আন্দ্রেয়াস এস কাকুরিসকে পরাজিত করে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনের বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডক্টর খলিলুর রহমানকেসভাপতি নির্বাচিত করেছেন । যা বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের সম্মান ও মর্যাদা কে উচ্চ আসনে আসীন করে অলংকৃত করেছেন। যিনি নির্বাচিত হয়ে প্রধানমন্ত্রীর অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। দক্ষতা যোগ্যতা দূরদৃষ্টির মাধ্যমে পৃথিবীর ইতিহাসের পাতায় তিনি বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। অথচ একজন রাজনীতিবিদ এত বড় সাফল্য কে প্রশংসা না করে তিনজন মন্ত্রীকে তিন দেশের ব্যক্তি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন যা সত্যিই দুঃখজনক। অথচ তিনি একজন আমার প্রিয় ব্যক্তিত্ব । বর্তমান সরকার আপনাকে পূর্বে কিছুই দেয়নি।হায়রে বাঙালি আমরা মানুষ হবো কবে?
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান একজন জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী। এমপি মন্ত্রী উপদেষ্টা এবং তার প্রশাসনের গঠনমূলক সমালোচনা করুন সরকারের ভুল পথ ধরিয়ে দিন সেটা না করে একজন রাজনীতিবিদ বলেছেন তাকে গালি দেয়া যাবে ভুয়া স্লোগান দেয়া যাবে, ডিম আলু টমেটো ময়দা ছুড়ে মারা যাবে। এগুলো যদি গণতান্ত্রিক অধিকার হয় তাহলে অগণতান্ত্রিক অধিকার কোনটি? প্রধানমন্ত্রীর তিন মাসের যে অর্জন ,সাফল্য আপনি এমন কি দেখলেন? যে তাকে উদ্দেশ্য করেএই ধরনের অশ্লীল অরাজনৈতিক বক্তব্য প্রদান করলেন। আপনি একজন উচ্চ শিক্ষিত মানুষ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন। তাকে তার ত্রুটি এবং ভুলগুলো ধরিয়ে দেন। তাহলে আপনি বাংলাদেশের মানুষের কাছে অধিকতর গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন। আপনি যা বলেছেন তা সত্যই দুঃখজনক। যেকোনো মূল্যে ক্ষমতা থেকে যেতে হবে, অনেকে প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন ।অনেকে আবার না পাওয়ার বেদনায় অনেক কিছু হারিয়ে হতাশ হয়ে অনেক কিছু বলে ফেলেন যা আইনসম্মত নয়। এগুলো মানবাধিকার লঙ্ঘন। সুতরাং স্বাধীন দেশে এ ধরনের মন্তব্য ব্যক্তি স্বাধীনতা নয়।

এক সাগর রক্তের বিনিময়ে একটি কঠিন সময় ও কন্ট কাকীর্ণ পথ পার করে দেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার দেশ পরিচালনা করছে। অল্প দিনে সরকারের সুনাম সুখ্যাতি সর্বমহলে প্রশংসিত হচ্ছে এমন কিছু ব্যক্তির নিঃশ্বাসে কথাবার্তায় বাতাস ভারী হয়ে তীব্র দাবদহে বিষবাষ্পে পরিণত হয়েছে। আষাঢ়ের বর্ষায় সেই বাতাস দূষণমুক্ত হোক সেটাই আমাদের কামনা ।

লেখাপড়া শিখে শিক্ষিত হওয়া যায় কিন্তু প্রকৃত মানুষ হওয়া কঠিন। ভালো মানুষ হতে গেলে আপনাকে মানবিক গুণাবলীর অধিকারী হতে হবে। কে এইট পাস ,কার ডিগ্রী নাই, এগুলো বড় কথা নয় ,বড় কথা হল আপনি ভাল মানুষ কিনা ,আপনার মধ্যে মানবিক গুণাবলী বিদ্যমান আছে কিনা ,এটাই বিবেচ্য বিষয়। উচ্চশিক্ষিত চার সন্তানের মধ্যে মানবিক গুণাবলী বিদ্যমান নাই বিধায় পাশের রুমে মরে পড়ে থাকা মায়ের দেহে পোকা ধরত না। কারোর বিরুদ্ধে বলার আগে অনেক ভাবুন চিন্তা করুন এবং সক্রেটিসের সেই উক্তিটি মনে রাখুন।” নিজেকে জানুন”
একজন মায়া-মমতা ভালোবাসায় পরিপূর্ণ দরদী প্রধানমন্ত্রী যিনি রাষ্ট্রের সম্পদ, যিনি নিজেই একটি প্রতিষ্ঠান। তিন মাসে আপনার সফলতা কতিপয় অর্বাচীন ব্যক্তির মুখ থেকে নিঃসৃত দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য জাতি আশা করেনা। জাতি হিসেবে আমরা লজ্জিত ,দুঃখিত ও ব্যথিত। তবে প্রোপাগান্ডা কারীদের পিছনে কাদের অবস্থান তা সনাক্ত করা সময়ের দাবি। ক্রমাগত তাদের অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ মানহানিকর মন্তব্য সভ্য দেশের সভ্য সমাজের মানুষের নিকট কাম্য নয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিনিয়তই প্রতিবাদের ঝড় উঠছে। এদের মধ্যে কেউ যদি বিপদের সম্মুখীন হয় যদি তৃতীয় পক্ষ সুযোগ নিয়ে কোন দুর্ঘটনা ঘটায় তাহলে দেশবাসী মনে করবে এখানে সরকারের হস্তক্ষেপে রয়েছে। একটা শ্রেণি চাচ্ছে দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি হোক। তাই সরকারের সচেতন থাকা উচিত ।সবার সামাজিক মর্যাদা ও সম্মানের দিকে খেয়াল রেখে অচিরেই এই ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘন মানহানিকর মন্তব্য বন্ধ করা প্রয়োজন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মাদার অফ ডেমোক্রেসি প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুযোগ্য সন্তান। সততা ছিল যাদের অলংকার।আপনার রক্তে মিশে আছে দেশপ্রেম এবং বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ। আপনার অভীষ্ট লক্ষ্য সফলতা অনেকের কাছে কষ্ট এবং পরাজয়। তাদের রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। শত্রুরা আপনার অফিস পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। মনে রাখবেন এদেশ মীর জাফরের দেশ। দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র সম্পর্কে আপনি সচেতন থাকুন। বহির্বিশ্বে বন্ধু তৈরি করুন। আপনার স্বনামধন্য মা-বাবার বহির্বিশ্বে অনেক বন্ধু রয়েছেন। আপনার চারপাশে বিশ্বস্ত বন্ধু খুঁজে বের করুন । বিশ্বস্ত লোক কাছে রাখুন ।আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন।এ দেশের লোক আর চোখের পানি ফেলতে চায় না উন্নয়নের জোয়ারে হাসতে চাই। দেশবাসী আপনার সঙ্গে আছে ইনশাল্লাহ।
মোঃ আব্দুর রাজ্জাক
অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান
সমাজকর্ম বিভাগ
মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় কলেজ ঢাকা।
লেখক গবেষক টিভি ব্যক্তিত্ব ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক