ঢাকা ০১:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
খুলনাবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে গল্লামারী ব্রিজ: সফল খুলনাবাসী খুলনা খাদ্য অধিদপ্তরে ওজনে কারসাজি ও বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ: সরকারি চাল যাচ্ছে কোথায়? সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নিশ্চিতের দাবি সাংবাদিক জাহাঙ্গীর হোসেনের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে কটুক্তি-ব্যঙ্গচিত্র,২৭ মামলার আসামি কামাল প্রধান এখনো প্রকাশ্যে খুলনা ডিবি পুলিশের হাতে বি কোম্পানির সক্রিয় ৫ সন্ত্রাসী গ্রেফতার পাবনার ভাঙ্গুড়ায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৩৫ টি ঘর বিক্রি, পরিত্যক্ত ঘরে জুয়া-মাদক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ক্ষমতার পালাবদলে নাম বদলে গেছে সিলেট চন্ডীপুল গোলচত্বর সহ অন্যান্য স্থাপনার বিয়ের সাজ না খুলতেই মৃত্যুর ডাক: নববধূকে রেখে চিরবিদায়ে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল রানা খুলনায় আন্তর্জাতিকমানের আধুনিক খাদ্য সংরক্ষণাগার (গমের স্টিল সাইলো) নির্মাণ সম্পন্ন খুলনার বটিয়াঘাটার খেয়া ঘাটে দ্বিগুণ ভাড়া আদায়: কর্তৃপক্ষ নিরব

খুলনায় আন্তর্জাতিকমানের আধুনিক খাদ্য সংরক্ষণাগার (গমের স্টিল সাইলো) নির্মাণ সম্পন্ন

  • শাহিন হোসেন
  • আপডেট সময় ১২:৪০:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
  • ১৩ বার পড়া হয়েছে

খুলনায় আন্তর্জাতিকমানের আধুনিক খাদ্য সংরক্ষণাগার (গমের স্টিল সাইলো) নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। খুলনা মহানগরীর দৌলতপুরের মহেশ্বরপাশা খাদ্য গুদামের অভ্যন্তরে ভৈরব নদীর তীরে নির্মিত এই আধুনিক সাইলো দেশের খাদ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। প্রায় ৩৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ প্রকল্পটি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর খাদ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

খাদ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আমদানি করা গম দীর্ঘ সময় নিরাপদে সংরক্ষণ করা এবং দুর্যোগকালীন সময়ে দ্রুত খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখার লক্ষ্যেই এই স্টিল সাইলো নির্মাণ করা হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির এই সংরক্ষণাগারে গমের গুণগত মান দীর্ঘদিন ধরে অক্ষুণ্ন রাখা সম্ভব হবে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রচলিত খাদ্য গুদামের তুলনায় স্টিল সাইলোতে খাদ্যশস্য সংরক্ষণে সুবিধা অনেক বেশি। এখানে তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও বায়ু চলাচল নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে গমের মান বজায় রাখা যায়। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে সংরক্ষণ করলেও পচন, নষ্ট হওয়া বা গুণগত মান কমে যাওয়ার ঝুঁকি কম থাকবে।

ভৈরব নদীর তীরে নির্মাণ হওয়ায় এই সাইলোর আরেকটি বড় সুবিধা হলো নৌপথে সহজে গম পরিবহন করা যাবে। আমদানিকৃত গম জাহাজ থেকে দ্রুত খালাস করে সংরক্ষণ করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নদীবন্দরকেন্দ্রিক এই অবকাঠামো খুলনার খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করবে।

খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, খুলনা অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে খাদ্য সংরক্ষণের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজন ছিল। নতুন এই সাইলো চালু হলে খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খাদ্য মজুত ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। বিশেষ করে ঘূর্ণিঝড়, বন্যা বা অন্য কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় জরুরি খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে এটি সহায়ক হবে।

স্থানীয়রা বলছেন, খুলনার দৌলতপুর-মহেশ্বরপাশা এলাকায় এত বড় একটি আধুনিক স্থাপনা নির্মাণ হওয়ায় এলাকার গুরুত্বও বাড়বে। পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান ও স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তারা মনে করছেন।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু স্থাপনা নির্মাণ করলেই হবে না, এর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ, নিয়মিত প্রযুক্তিগত তদারকি এবং স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। কারণ আধুনিক খাদ্য সংরক্ষণাগারের কার্যকারিতা নির্ভর করে সঠিক পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার ওপর।

খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক বাজারে খাদ্যপণ্যের মূল্য ওঠানামা এবং আন্তর্জাতিক সংকটের সময়ে খাদ্য মজুত সক্ষমতা বাড়ানো এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের আধুনিক সাইলো দেশের খাদ্য ব্যবস্থাপনায় স্থিতিশীলতা আনতে সহায়ক হবে।

প্রায় ৩৫৬ কোটি টাকার এই প্রকল্প খুলনার খাদ্য অবকাঠামো উন্নয়নে একটি বড় সংযোজন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন প্রকল্পটির পূর্ণাঙ্গ ব্যবহার শুরু হলে দেশের গম সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন গতি আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

খুলনাবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে গল্লামারী ব্রিজ: সফল খুলনাবাসী

খুলনায় আন্তর্জাতিকমানের আধুনিক খাদ্য সংরক্ষণাগার (গমের স্টিল সাইলো) নির্মাণ সম্পন্ন

আপডেট সময় ১২:৪০:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

খুলনায় আন্তর্জাতিকমানের আধুনিক খাদ্য সংরক্ষণাগার (গমের স্টিল সাইলো) নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। খুলনা মহানগরীর দৌলতপুরের মহেশ্বরপাশা খাদ্য গুদামের অভ্যন্তরে ভৈরব নদীর তীরে নির্মিত এই আধুনিক সাইলো দেশের খাদ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। প্রায় ৩৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ প্রকল্পটি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর খাদ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

খাদ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আমদানি করা গম দীর্ঘ সময় নিরাপদে সংরক্ষণ করা এবং দুর্যোগকালীন সময়ে দ্রুত খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখার লক্ষ্যেই এই স্টিল সাইলো নির্মাণ করা হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির এই সংরক্ষণাগারে গমের গুণগত মান দীর্ঘদিন ধরে অক্ষুণ্ন রাখা সম্ভব হবে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রচলিত খাদ্য গুদামের তুলনায় স্টিল সাইলোতে খাদ্যশস্য সংরক্ষণে সুবিধা অনেক বেশি। এখানে তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও বায়ু চলাচল নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে গমের মান বজায় রাখা যায়। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে সংরক্ষণ করলেও পচন, নষ্ট হওয়া বা গুণগত মান কমে যাওয়ার ঝুঁকি কম থাকবে।

ভৈরব নদীর তীরে নির্মাণ হওয়ায় এই সাইলোর আরেকটি বড় সুবিধা হলো নৌপথে সহজে গম পরিবহন করা যাবে। আমদানিকৃত গম জাহাজ থেকে দ্রুত খালাস করে সংরক্ষণ করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নদীবন্দরকেন্দ্রিক এই অবকাঠামো খুলনার খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করবে।

খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, খুলনা অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে খাদ্য সংরক্ষণের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজন ছিল। নতুন এই সাইলো চালু হলে খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খাদ্য মজুত ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। বিশেষ করে ঘূর্ণিঝড়, বন্যা বা অন্য কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় জরুরি খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে এটি সহায়ক হবে।

স্থানীয়রা বলছেন, খুলনার দৌলতপুর-মহেশ্বরপাশা এলাকায় এত বড় একটি আধুনিক স্থাপনা নির্মাণ হওয়ায় এলাকার গুরুত্বও বাড়বে। পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান ও স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তারা মনে করছেন।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু স্থাপনা নির্মাণ করলেই হবে না, এর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ, নিয়মিত প্রযুক্তিগত তদারকি এবং স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। কারণ আধুনিক খাদ্য সংরক্ষণাগারের কার্যকারিতা নির্ভর করে সঠিক পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার ওপর।

খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক বাজারে খাদ্যপণ্যের মূল্য ওঠানামা এবং আন্তর্জাতিক সংকটের সময়ে খাদ্য মজুত সক্ষমতা বাড়ানো এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের আধুনিক সাইলো দেশের খাদ্য ব্যবস্থাপনায় স্থিতিশীলতা আনতে সহায়ক হবে।

প্রায় ৩৫৬ কোটি টাকার এই প্রকল্প খুলনার খাদ্য অবকাঠামো উন্নয়নে একটি বড় সংযোজন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন প্রকল্পটির পূর্ণাঙ্গ ব্যবহার শুরু হলে দেশের গম সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন গতি আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।