ঢাকা ০১:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
খুলনাবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে গল্লামারী ব্রিজ: সফল খুলনাবাসী খুলনা খাদ্য অধিদপ্তরে ওজনে কারসাজি ও বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ: সরকারি চাল যাচ্ছে কোথায়? সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নিশ্চিতের দাবি সাংবাদিক জাহাঙ্গীর হোসেনের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে কটুক্তি-ব্যঙ্গচিত্র,২৭ মামলার আসামি কামাল প্রধান এখনো প্রকাশ্যে খুলনা ডিবি পুলিশের হাতে বি কোম্পানির সক্রিয় ৫ সন্ত্রাসী গ্রেফতার পাবনার ভাঙ্গুড়ায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৩৫ টি ঘর বিক্রি, পরিত্যক্ত ঘরে জুয়া-মাদক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ক্ষমতার পালাবদলে নাম বদলে গেছে সিলেট চন্ডীপুল গোলচত্বর সহ অন্যান্য স্থাপনার বিয়ের সাজ না খুলতেই মৃত্যুর ডাক: নববধূকে রেখে চিরবিদায়ে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল রানা খুলনায় আন্তর্জাতিকমানের আধুনিক খাদ্য সংরক্ষণাগার (গমের স্টিল সাইলো) নির্মাণ সম্পন্ন খুলনার বটিয়াঘাটার খেয়া ঘাটে দ্বিগুণ ভাড়া আদায়: কর্তৃপক্ষ নিরব

খুলনাবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে গল্লামারী ব্রিজ: সফল খুলনাবাসী

  • খুলনা অফিস
  • আপডেট সময় ০১:১১:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

খুলনাবাসীর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে আরও একধাপ এগিয়ে গেল গল্লামারী ব্রিজ প্রকল্প। ময়ূর নদের উপর নির্মাণাধীন এই সেতু চালু হলে খুলনা শহরের সাথে তালা-সাতক্ষীরা রুটের যোগাযোগে আসবে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফেরির জন্য অপেক্ষা, নৌকা ডুবির ঝুঁকি – সব ভোগান্তির অবসান হবে। এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা রাখায় খুলনাবাসীর পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু ভাইকে।

স্থানীয়রা বলছেন, “গল্লামারী ব্রিজ শুধু একটি সেতু নয়, এটি খুলনাবাসীর আবেগ, দীর্ঘদিনের অপেক্ষার ফসল। জনগণের প্রিয় বন্ধু নজরুল ইসলাম মঞ্জু ভাইয়ের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও তদারকির কারণেই আজ প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখছে।”

দীর্ঘদিনের স্বপ্ন: ভোগান্তির অবসান

খুলনা শহরের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে ময়ূর নদের উপর গল্লামারী পয়েন্টে সেতুর দাবি ছিল খুলনাবাসীর বহুদিনের। বর্তমানে এই পয়েন্টে নদী পারাপারের জন্য ফেরি ও নৌকার উপর নির্ভর করতে হয়। প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় শিক্ষার্থী, রোগী, শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের ফেরির জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। বর্ষা মৌসুমে নদী উত্তাল থাকলে নৌকা চলাচল বন্ধ থাকে, তখন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে খুলনার সাথে সাতক্ষীরা ও দক্ষিণাঞ্চলের।

তালা উপজেলার ব্যবসায়ী আব্দুল গফার বলেন, “আমার পণ্য নিয়ে খুলনা আসতে হলে ফেরির জন্য ২-৩ ঘণ্টা বসে থাকতে হয়। মাঝে মাঝে পণ্য নষ্ট হয়ে যায়। গল্লামারী ব্রিজ হলে ১০ মিনিটে নদী পার হয়ে যাব। এটা আমাদের জন্য বাঁচা-মরার বিষয়।”

খুলনা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার বলেন, “হোস্টেল গল্লামারীতে, ক্লাস শহরে। ফেরি মিস হলে ক্লাস মিস। রাত 8টার পর ফেরি বন্ধ, তখন বাসায় ফেরা কষ্ট। ব্রিজ হলে এই ভোগান্তি আর থাকবে না।”

প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা ও গুরুত্ব

গল্লামারী ব্রিজ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর। প্রায় ৮০০ মিটার দৈর্ঘ্যের এই সেতুটি ৪ লেন বিশিষ্ট হবে। এতে পথচারী ও সাইকেল লেনও থাকবে। সেতুটি চালু হলে খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের যানজট ৬০% কমে যাবে বলে প্রকৌশলীরা আশা করছেন।

প্রকল্প পরিচালক জানান, সেতুর পাইলিং ও মূল কাঠামোর ৭০% কাজ শেষ হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ শেষ করার লক্ষ্যে দিন-রাত কাজ চলছে। সেতু চালু হলে খুলনা বন্দর, মোংলা বন্দর ও সাতক্ষীরার মধ্যে পণ্য পরিবহন সহজ হবে। কৃষকরা সরাসরি তাদের পণ্য খুলনা শহরের বাজারে নিয়ে আসতে পারবেন।

নজরুল ইসলাম মঞ্জু: জনগণের প্রিয় বন্ধু

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু ভাইকে খুলনাবাসী “জনগণের প্রিয় বন্ধু” হিসেবেই চেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি নগরীর উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, রাস্তা-ঘাট মেরামত ও জনদুর্ভোগ লাঘবে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।

গল্লামারী ব্রিজ প্রকল্পের ক্ষেত্রেও তার ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। প্রকল্প বাস্তবায়নে জমি অধিগ্রহণ, স্থানীয়দের সাথে সমন্বয়, সড়ক ও জনপথ বিভাগের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ – সব ক্ষেত্রেই তিনি সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। সপ্তাহে অন্তত একদিন তিনি নিজে গিয়ে নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করেন এবং ঠিকাদারদের কাজের গতি বাড়ানোর নির্দেশ দেন।

স্থানীয় কাউন্সিলর বলেন, “মঞ্জু ভাই না থাকলে এই প্রকল্পের কাজ এত দ্রুত এগোতো না। তিনি খুলনাবাসীর দুঃখ-কষ্ট বোঝেন। জনগণের প্রিয় বন্ধু বলেই আমরা তাকে ডাকি। গল্লামারী ব্রিজ তার হাত ধরেই বাস্তবায়ন হচ্ছে।”

খুলনাবাসীর প্রতিক্রিয়া: কৃতজ্ঞতা ও প্রত্যাশা

গল্লামারী এলাকার বাসিন্দা ও মুক্তিযোদ্ধা শেখ আব্দুল হাকিম বলেন, “50 বছর ধরে এই ব্রিজের স্বপ্ন দেখছি। এখন স্বপ্ন সত্যি হতে চলেছে। এটা সম্ভব হয়েছে মঞ্জু ভাইয়ের মতো জনবান্ধব প্রশাসকের কারণে। তাকে খুলনাবাসীর পক্ষ থেকে স্যালুট।”

ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি বলেন, “ব্রিজ হলে খুলনার ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন গতি আসবে। সাতক্ষীরার চিংড়ি, সবজি সহজে খুলনায় আসবে। পণ্যের দাম কমবে, মানুষ উপকৃত হবে। মঞ্জু ভাইকে ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করব না।”

সাধারণ মানুষের দাবি, ব্রিজ চালু হওয়ার পর যেন টোলের নামে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা না হয়। গরিব মানুষ যেন সহজে পারাপার করতে পারে সেদিকে নজর রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।

অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব

বিশেষজ্ঞদের মতে, গল্লামারী ব্রিজ খুলনা বিভাগের অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলবে।
১. যাতায়াত খরচ কমবে: ফেরি ভাড়া, সময় ও জ্বালানি সাশ্রয় হবে।
২. কৃষি বাজার সম্প্রসারণ: সাতক্ষীরা-খুলনার কৃষক সরাসরি শহরের বাজারে পণ্য বিক্রি করতে পারবে।
৩. শিল্পায়ন: শিল্প কারখানার কাঁচামাল ও উৎপাদিত পণ্য পরিবহন সহজ হবে।
৪. পর্যটন: সুন্দরবনগামী পর্যটকদের যাতায়াত সহজ হবে।
৫. জরুরি সেবা: রোগী ও অ্যাম্বুলেন্স দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছাতে পারবে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহানাজ সুলতানা বলেন, “একটি সেতু একটি অঞ্চলের ভাগ্য বদলে দিতে পারে। গল্লামারী ব্রিজ খুলনার সাথে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগের নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।”

সফল খুলনাবাসী: ঐক্যের জয়

গল্লামারী ব্রিজ শুধু ইট-সিমেন্টের স্থাপনা নয়, এটি খুলনাবাসীর ঐক্য ও দাবি আদায়ের সফলতার প্রতীক। দীর্ঘদিন ধরে মানুষের আন্দোলন, জনপ্রতিনিধিদের দাবি ও প্রশাসনের আন্তরিকতার ফলেই আজ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পথে।

খুলনাবাসীর পক্ষ থেকে ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু ভাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে ব্যানার-ফেস্টুনও টাঙানো হয়েছে শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে। “সফল খুলনাবাসী, ধন্যবাদ মঞ্জু ভাই” – এমন স্লোগানে মুখরিত খুলনা।

স্বপ্ন দেখলে তা বাস্তবায়নও হয় – গল্লামারী ব্রিজ তারই প্রমাণ। খুলনাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি যখন জনগণের প্রিয় বন্ধু নজরুল ইসলাম মঞ্জু ভাইয়ের হাত ধরে বাস্তবায়নের পথে, তখন এটা নিশ্চিত যে খুলনার উন্নয়ন অগ্রযাত্রা থেমে থাকবে না।

ব্রিজ চালু হলে নির্ভীক সংবাদ আবার সরেজমিনে যাবে। দেখবে, যাত্রীর সময় বাঁচছে কিনা, পণ্যের দাম কমছে কিনা। প্রতিশ্রুতি রক্ষা হলে সেটিও খুলনাবাসীকে জানাবে নির্ভীক সংবাদ।

খুলনাবাসীর স্বপ্ন বাস্তবায়নের এই জয়যাত্রা অব্যাহত থাকুক। জনগণের প্রিয় বন্ধু নজরুল ইসলাম মঞ্জু ভাইয়ের নেতৃত্বে খুলনা এগিয়ে যাক স্মার্ট সিটির পথে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

খুলনাবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে গল্লামারী ব্রিজ: সফল খুলনাবাসী

খুলনাবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে গল্লামারী ব্রিজ: সফল খুলনাবাসী

আপডেট সময় ০১:১১:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

খুলনাবাসীর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে আরও একধাপ এগিয়ে গেল গল্লামারী ব্রিজ প্রকল্প। ময়ূর নদের উপর নির্মাণাধীন এই সেতু চালু হলে খুলনা শহরের সাথে তালা-সাতক্ষীরা রুটের যোগাযোগে আসবে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফেরির জন্য অপেক্ষা, নৌকা ডুবির ঝুঁকি – সব ভোগান্তির অবসান হবে। এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা রাখায় খুলনাবাসীর পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু ভাইকে।

স্থানীয়রা বলছেন, “গল্লামারী ব্রিজ শুধু একটি সেতু নয়, এটি খুলনাবাসীর আবেগ, দীর্ঘদিনের অপেক্ষার ফসল। জনগণের প্রিয় বন্ধু নজরুল ইসলাম মঞ্জু ভাইয়ের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও তদারকির কারণেই আজ প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখছে।”

দীর্ঘদিনের স্বপ্ন: ভোগান্তির অবসান

খুলনা শহরের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে ময়ূর নদের উপর গল্লামারী পয়েন্টে সেতুর দাবি ছিল খুলনাবাসীর বহুদিনের। বর্তমানে এই পয়েন্টে নদী পারাপারের জন্য ফেরি ও নৌকার উপর নির্ভর করতে হয়। প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় শিক্ষার্থী, রোগী, শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের ফেরির জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। বর্ষা মৌসুমে নদী উত্তাল থাকলে নৌকা চলাচল বন্ধ থাকে, তখন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে খুলনার সাথে সাতক্ষীরা ও দক্ষিণাঞ্চলের।

তালা উপজেলার ব্যবসায়ী আব্দুল গফার বলেন, “আমার পণ্য নিয়ে খুলনা আসতে হলে ফেরির জন্য ২-৩ ঘণ্টা বসে থাকতে হয়। মাঝে মাঝে পণ্য নষ্ট হয়ে যায়। গল্লামারী ব্রিজ হলে ১০ মিনিটে নদী পার হয়ে যাব। এটা আমাদের জন্য বাঁচা-মরার বিষয়।”

খুলনা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার বলেন, “হোস্টেল গল্লামারীতে, ক্লাস শহরে। ফেরি মিস হলে ক্লাস মিস। রাত 8টার পর ফেরি বন্ধ, তখন বাসায় ফেরা কষ্ট। ব্রিজ হলে এই ভোগান্তি আর থাকবে না।”

প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা ও গুরুত্ব

গল্লামারী ব্রিজ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর। প্রায় ৮০০ মিটার দৈর্ঘ্যের এই সেতুটি ৪ লেন বিশিষ্ট হবে। এতে পথচারী ও সাইকেল লেনও থাকবে। সেতুটি চালু হলে খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের যানজট ৬০% কমে যাবে বলে প্রকৌশলীরা আশা করছেন।

প্রকল্প পরিচালক জানান, সেতুর পাইলিং ও মূল কাঠামোর ৭০% কাজ শেষ হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ শেষ করার লক্ষ্যে দিন-রাত কাজ চলছে। সেতু চালু হলে খুলনা বন্দর, মোংলা বন্দর ও সাতক্ষীরার মধ্যে পণ্য পরিবহন সহজ হবে। কৃষকরা সরাসরি তাদের পণ্য খুলনা শহরের বাজারে নিয়ে আসতে পারবেন।

নজরুল ইসলাম মঞ্জু: জনগণের প্রিয় বন্ধু

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু ভাইকে খুলনাবাসী “জনগণের প্রিয় বন্ধু” হিসেবেই চেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি নগরীর উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, রাস্তা-ঘাট মেরামত ও জনদুর্ভোগ লাঘবে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।

গল্লামারী ব্রিজ প্রকল্পের ক্ষেত্রেও তার ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। প্রকল্প বাস্তবায়নে জমি অধিগ্রহণ, স্থানীয়দের সাথে সমন্বয়, সড়ক ও জনপথ বিভাগের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ – সব ক্ষেত্রেই তিনি সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। সপ্তাহে অন্তত একদিন তিনি নিজে গিয়ে নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করেন এবং ঠিকাদারদের কাজের গতি বাড়ানোর নির্দেশ দেন।

স্থানীয় কাউন্সিলর বলেন, “মঞ্জু ভাই না থাকলে এই প্রকল্পের কাজ এত দ্রুত এগোতো না। তিনি খুলনাবাসীর দুঃখ-কষ্ট বোঝেন। জনগণের প্রিয় বন্ধু বলেই আমরা তাকে ডাকি। গল্লামারী ব্রিজ তার হাত ধরেই বাস্তবায়ন হচ্ছে।”

খুলনাবাসীর প্রতিক্রিয়া: কৃতজ্ঞতা ও প্রত্যাশা

গল্লামারী এলাকার বাসিন্দা ও মুক্তিযোদ্ধা শেখ আব্দুল হাকিম বলেন, “50 বছর ধরে এই ব্রিজের স্বপ্ন দেখছি। এখন স্বপ্ন সত্যি হতে চলেছে। এটা সম্ভব হয়েছে মঞ্জু ভাইয়ের মতো জনবান্ধব প্রশাসকের কারণে। তাকে খুলনাবাসীর পক্ষ থেকে স্যালুট।”

ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি বলেন, “ব্রিজ হলে খুলনার ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন গতি আসবে। সাতক্ষীরার চিংড়ি, সবজি সহজে খুলনায় আসবে। পণ্যের দাম কমবে, মানুষ উপকৃত হবে। মঞ্জু ভাইকে ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করব না।”

সাধারণ মানুষের দাবি, ব্রিজ চালু হওয়ার পর যেন টোলের নামে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা না হয়। গরিব মানুষ যেন সহজে পারাপার করতে পারে সেদিকে নজর রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।

অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব

বিশেষজ্ঞদের মতে, গল্লামারী ব্রিজ খুলনা বিভাগের অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলবে।
১. যাতায়াত খরচ কমবে: ফেরি ভাড়া, সময় ও জ্বালানি সাশ্রয় হবে।
২. কৃষি বাজার সম্প্রসারণ: সাতক্ষীরা-খুলনার কৃষক সরাসরি শহরের বাজারে পণ্য বিক্রি করতে পারবে।
৩. শিল্পায়ন: শিল্প কারখানার কাঁচামাল ও উৎপাদিত পণ্য পরিবহন সহজ হবে।
৪. পর্যটন: সুন্দরবনগামী পর্যটকদের যাতায়াত সহজ হবে।
৫. জরুরি সেবা: রোগী ও অ্যাম্বুলেন্স দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছাতে পারবে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহানাজ সুলতানা বলেন, “একটি সেতু একটি অঞ্চলের ভাগ্য বদলে দিতে পারে। গল্লামারী ব্রিজ খুলনার সাথে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগের নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।”

সফল খুলনাবাসী: ঐক্যের জয়

গল্লামারী ব্রিজ শুধু ইট-সিমেন্টের স্থাপনা নয়, এটি খুলনাবাসীর ঐক্য ও দাবি আদায়ের সফলতার প্রতীক। দীর্ঘদিন ধরে মানুষের আন্দোলন, জনপ্রতিনিধিদের দাবি ও প্রশাসনের আন্তরিকতার ফলেই আজ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পথে।

খুলনাবাসীর পক্ষ থেকে ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু ভাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে ব্যানার-ফেস্টুনও টাঙানো হয়েছে শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে। “সফল খুলনাবাসী, ধন্যবাদ মঞ্জু ভাই” – এমন স্লোগানে মুখরিত খুলনা।

স্বপ্ন দেখলে তা বাস্তবায়নও হয় – গল্লামারী ব্রিজ তারই প্রমাণ। খুলনাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি যখন জনগণের প্রিয় বন্ধু নজরুল ইসলাম মঞ্জু ভাইয়ের হাত ধরে বাস্তবায়নের পথে, তখন এটা নিশ্চিত যে খুলনার উন্নয়ন অগ্রযাত্রা থেমে থাকবে না।

ব্রিজ চালু হলে নির্ভীক সংবাদ আবার সরেজমিনে যাবে। দেখবে, যাত্রীর সময় বাঁচছে কিনা, পণ্যের দাম কমছে কিনা। প্রতিশ্রুতি রক্ষা হলে সেটিও খুলনাবাসীকে জানাবে নির্ভীক সংবাদ।

খুলনাবাসীর স্বপ্ন বাস্তবায়নের এই জয়যাত্রা অব্যাহত থাকুক। জনগণের প্রিয় বন্ধু নজরুল ইসলাম মঞ্জু ভাইয়ের নেতৃত্বে খুলনা এগিয়ে যাক স্মার্ট সিটির পথে।