ঢাকা ০১:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাংলাদেশের প্রতিটি বিভাগে ভারতীয় দূতাবাস কেন? প্রশ্ন তুললেন মেজর (অব.) দেলোয়ার হোসেন জুলাইয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড ব্যবসার কথা বলে ৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জেলা বিএনপিতে লিখিত আবেদন ভাঙ্গুড়া উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা ও সমন্বয় মাসিক সভা অনুষ্ঠিত ফরিদপুর সদর উপজেলায় আঃ কাদের জিলানী মাইনদ্দিন চিশতী (রহ:) ওয়াক্ফ এষ্টেটের সম্পদ লুটপাটের অভিযোগ সাতক্ষীরায় মাদক জব্দ-ধ্বংস মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে জাতীয় সংসদে অর্থ বিল পাস, করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ল প্রবীণ সাংবাদিকদের জন্য মাসিক ২০ হাজার টাকা সম্মানীভাতার দাবি নওগাঁর বদলগাছীতে রাত জেগে কবর পাহারায় স্বজনরা, মৃত্যুর পরও নেই স্বস্তি সাতক্ষীরায় ৭৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকার মাদকদ্রব্য ধ্বংস করল বিজিবি

রূপগঞ্জে সরকারি অধিগ্রহনকৃত জমির নামজারি করে চলছে বেচাকেনা।। কর্তৃপক্ষ উদাসীন

অধিগ্রহনকৃত জমি নামজারী না করার কথা ও আইন থাকলেও মানছেন না খোদ ভূমি অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীরা। সুযোগ সন্ধানী কর্মকর্তা কর্মচারীরদের মোনাফা লোভের শিকার হয়ে ভূগান্তিতে পড়ছেন ভূমির প্রকৃত নামজারী প্রাপ্তরা।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার তারাব নায়েব অফিসের অনিয়মের যোগসাজশে উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় গন্ধর্বপুর মৌজার এসএ/ সিএস খতিয়ান ১০৩ আরএস খতিয়ান ৩৪১। যাহার এসএ/ সিএস দাগ ১৪০ আরএস দাগ ২৯২ মোট জমির পরিমান ১৬ শতাংশ। ১৯৯২ সনে অধিকগ্রহন করেছেন ৮ শতাংশ।

জানা গেছে, ১৪২৯ নং দলিলে খরিদ সূত্রে মালিক আলীম উদ্দীন আজিম উদ্দীন বাবুর আলী। আজিম উদ্দীন ও বাবুর আলী ১৯৭০ সনে ১১৬০ নং দলিলে মেহের আলীর নিকট সাব কবলা বিক্রি করেন।

মেহের আলী অধিগ্রহনের টাকা উত্তোলন করেন। যাহার এলএ কেস নং ৩১। তথ্য গোপন করে অধিগ্রহণের জমি নামজারী করিয়ে ধারাবাহিকভাবে বেচাকিনা করতে থাকেন একাধিক ব্যক্তি। জমির প্রকৃত মালিক ৮ শতাংশ জমি নামজারী করতে চাইলে ভূমি কর্মকর্তারা জমি পরিমান খালি নাই বলে সাফ জানিয়ে মিসকেস করার পরামর্শ দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পরে ৫৯৫/২০২৫ ইং মামলার বিবাদী আবুল হোসেন বাবু ৯৮৫ নামজারী জোতের বিরোদ্ধে মিসকেসটি চলমান ২ বছর ধরে। বহুবার বাদী গং ও বিবাদীর উপস্থিতিতে শোনানী হয়েছে। সহকারী কমিশনার ( ভূমি) সার্ভেয়ার নিশাত খানম রহস্যজনক কারণে এ মামলাটির আদেশ দিচ্ছন না। তিনি বলেন আমি ছোট চেয়ারে কাজকরি। বড় স্যারেরা বড় চেয়ারে বসে এ মামলার বিবাদীর পক্ষে তদবির করেন। আমি এ মামলার জন্য বিপদে আছি।

মামলার বাদীগং অভিযোগ করে বলেন, এ মামলাটির তদন্তভার প্রধান সহকারী রূপগঞ্জ ভূমি অফিস মামুন হোসেনের না থাকলেও হস্তক্ষেপ করেই যাচ্ছেন তার চাহিদা পুরণ না করায়। তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বাহানা তৌরী করে সময় পারকরাচ্ছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে।

‎ ৫৯৫/২৫ ইং মামলাটির অগ্রগতি ও বাদীর অভিযোগের ভিত্তিতে সার্ভেয়ার নিশাত খানমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মামলাটি আমার আগের সার্ভেয়ারের কাছে ছিল। আমি দায়িত্ব নেয়ার পরে বাদী বিবাদীর কাগজ ভালো করে দেখেছি বহুবার শোনানীও করেছি। বাদীর কাগজ পত্র আদেশ পাওয়ার মতো। আমি আমার স্যারের কথার বাহিরে কোন কাজ করতে পারি না। তবে বিবাদী আবুল হোসেন বাবু ততবিরবাজ। শোনানীর আগে পরে ততবিরের কারনে আদেশ দেওয়া সম্বভ হচ্ছে না।

‎প্রধান সহকারী মামুন হোসেন বলেন, চলমান মামলায় আমি কোন হস্তক্ষেপ করিনা। ৫৯৫/২৫ মামলাটি আদেশ হবে বাদীর পক্ষে আমি একাধিক বার বলেছি। আমি এ মামলার কাগজ দেখেছি। তবে বিবাদী আবুল হোসেন বাবু আমাকে হুমকি ধামকি দিচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগে বাদীকে আমাকে জরিয়ে মিথ্যা বানোয়াট কথা লিখছেন। বিবাদীর যাদের কাছ থেকে খরিদ করেছেন তারা পূর্বেই ১৬ শতক থেকে ৮ শতক জমি বিক্রী করেছেন ২৯২ নং দাগ থেক। তাই বিবাদী আবুল হোসেন বাবু এ দাগে তার মালিকানা টিকবে না। তার মালিকানা অংশ অধিকগ্রহনের অংশে।

‎এ মামলার বাদী গংরা বলেন, আমরা জমি দখলে আছি খরিদ করার পর থেকে। আমাদের আগের মালিকরাও দখলেছিল। আমাদের জমিতে আমরা সবজি চাষাবাদসহ বিভিন্ন প্রজাতীর ফলদ গাছ রোপন করে চাষাবাদ করে আসছি। বিবাদী আমাদের জমি দখলে নিতে পায়তারা করছেন ও হুমকি ধামকি দিচ্ছেন। মামলা হামলা দিবেন বলেও ঘোষণা দিচ্ছেন। আবুল হোসেন বাবু যাদের কাছ থেকে জমি খরিদ করেছেন বলে দাবি করেন তারা ১৯৯২ সনে ভূমি অধিকগ্রহন করার সময় ১৯৯২ সনে এলএ কেস ৩১ /১৯৯২ ইং সনে ৮ শতক জমির টাকা উত্তোলন করেন। চথুর প্রকৃতির মানুষ বিবাদী আবুল হোসেন বাবু সরকারের অধিকগ্রহণকৃত জমির অংশ নামজারী করে দখলের পায়তারা করতেছেন।

এবিষয়ে রূপগঞ্জ ‎সহকারী কমিশনার(ভূমি)মারজানুর রহমান বলেন, আমি বেশ কয়েকবার শোনানি করেছি। রিপোর্ট দেয়ার জন্য লিখিতভাবে সার্ভেয়ারকে বলেছি। বাদীদের কাগজ আদেশ পাওয়ার মতো তা প্রধানসহকারী ও সার্ভেয়ার জানিয়েছেন একাধিকবার। বিবাদীর লোকজনের তদবিরের কারণে সময় নস্ট হয়েছে। তবে চুরান্ত সিদ্বান্ত তার পক্ষেই যাবে কাগজের ধারাবাহিকতা যার মিল থাকবে।

ট্যাগস :

বাংলাদেশের প্রতিটি বিভাগে ভারতীয় দূতাবাস কেন? প্রশ্ন তুললেন মেজর (অব.) দেলোয়ার হোসেন

রূপগঞ্জে সরকারি অধিগ্রহনকৃত জমির নামজারি করে চলছে বেচাকেনা।। কর্তৃপক্ষ উদাসীন

আপডেট সময় ১০:২৮:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

অধিগ্রহনকৃত জমি নামজারী না করার কথা ও আইন থাকলেও মানছেন না খোদ ভূমি অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীরা। সুযোগ সন্ধানী কর্মকর্তা কর্মচারীরদের মোনাফা লোভের শিকার হয়ে ভূগান্তিতে পড়ছেন ভূমির প্রকৃত নামজারী প্রাপ্তরা।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার তারাব নায়েব অফিসের অনিয়মের যোগসাজশে উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় গন্ধর্বপুর মৌজার এসএ/ সিএস খতিয়ান ১০৩ আরএস খতিয়ান ৩৪১। যাহার এসএ/ সিএস দাগ ১৪০ আরএস দাগ ২৯২ মোট জমির পরিমান ১৬ শতাংশ। ১৯৯২ সনে অধিকগ্রহন করেছেন ৮ শতাংশ।

জানা গেছে, ১৪২৯ নং দলিলে খরিদ সূত্রে মালিক আলীম উদ্দীন আজিম উদ্দীন বাবুর আলী। আজিম উদ্দীন ও বাবুর আলী ১৯৭০ সনে ১১৬০ নং দলিলে মেহের আলীর নিকট সাব কবলা বিক্রি করেন।

মেহের আলী অধিগ্রহনের টাকা উত্তোলন করেন। যাহার এলএ কেস নং ৩১। তথ্য গোপন করে অধিগ্রহণের জমি নামজারী করিয়ে ধারাবাহিকভাবে বেচাকিনা করতে থাকেন একাধিক ব্যক্তি। জমির প্রকৃত মালিক ৮ শতাংশ জমি নামজারী করতে চাইলে ভূমি কর্মকর্তারা জমি পরিমান খালি নাই বলে সাফ জানিয়ে মিসকেস করার পরামর্শ দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পরে ৫৯৫/২০২৫ ইং মামলার বিবাদী আবুল হোসেন বাবু ৯৮৫ নামজারী জোতের বিরোদ্ধে মিসকেসটি চলমান ২ বছর ধরে। বহুবার বাদী গং ও বিবাদীর উপস্থিতিতে শোনানী হয়েছে। সহকারী কমিশনার ( ভূমি) সার্ভেয়ার নিশাত খানম রহস্যজনক কারণে এ মামলাটির আদেশ দিচ্ছন না। তিনি বলেন আমি ছোট চেয়ারে কাজকরি। বড় স্যারেরা বড় চেয়ারে বসে এ মামলার বিবাদীর পক্ষে তদবির করেন। আমি এ মামলার জন্য বিপদে আছি।

মামলার বাদীগং অভিযোগ করে বলেন, এ মামলাটির তদন্তভার প্রধান সহকারী রূপগঞ্জ ভূমি অফিস মামুন হোসেনের না থাকলেও হস্তক্ষেপ করেই যাচ্ছেন তার চাহিদা পুরণ না করায়। তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বাহানা তৌরী করে সময় পারকরাচ্ছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে।

‎ ৫৯৫/২৫ ইং মামলাটির অগ্রগতি ও বাদীর অভিযোগের ভিত্তিতে সার্ভেয়ার নিশাত খানমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মামলাটি আমার আগের সার্ভেয়ারের কাছে ছিল। আমি দায়িত্ব নেয়ার পরে বাদী বিবাদীর কাগজ ভালো করে দেখেছি বহুবার শোনানীও করেছি। বাদীর কাগজ পত্র আদেশ পাওয়ার মতো। আমি আমার স্যারের কথার বাহিরে কোন কাজ করতে পারি না। তবে বিবাদী আবুল হোসেন বাবু ততবিরবাজ। শোনানীর আগে পরে ততবিরের কারনে আদেশ দেওয়া সম্বভ হচ্ছে না।

‎প্রধান সহকারী মামুন হোসেন বলেন, চলমান মামলায় আমি কোন হস্তক্ষেপ করিনা। ৫৯৫/২৫ মামলাটি আদেশ হবে বাদীর পক্ষে আমি একাধিক বার বলেছি। আমি এ মামলার কাগজ দেখেছি। তবে বিবাদী আবুল হোসেন বাবু আমাকে হুমকি ধামকি দিচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগে বাদীকে আমাকে জরিয়ে মিথ্যা বানোয়াট কথা লিখছেন। বিবাদীর যাদের কাছ থেকে খরিদ করেছেন তারা পূর্বেই ১৬ শতক থেকে ৮ শতক জমি বিক্রী করেছেন ২৯২ নং দাগ থেক। তাই বিবাদী আবুল হোসেন বাবু এ দাগে তার মালিকানা টিকবে না। তার মালিকানা অংশ অধিকগ্রহনের অংশে।

‎এ মামলার বাদী গংরা বলেন, আমরা জমি দখলে আছি খরিদ করার পর থেকে। আমাদের আগের মালিকরাও দখলেছিল। আমাদের জমিতে আমরা সবজি চাষাবাদসহ বিভিন্ন প্রজাতীর ফলদ গাছ রোপন করে চাষাবাদ করে আসছি। বিবাদী আমাদের জমি দখলে নিতে পায়তারা করছেন ও হুমকি ধামকি দিচ্ছেন। মামলা হামলা দিবেন বলেও ঘোষণা দিচ্ছেন। আবুল হোসেন বাবু যাদের কাছ থেকে জমি খরিদ করেছেন বলে দাবি করেন তারা ১৯৯২ সনে ভূমি অধিকগ্রহন করার সময় ১৯৯২ সনে এলএ কেস ৩১ /১৯৯২ ইং সনে ৮ শতক জমির টাকা উত্তোলন করেন। চথুর প্রকৃতির মানুষ বিবাদী আবুল হোসেন বাবু সরকারের অধিকগ্রহণকৃত জমির অংশ নামজারী করে দখলের পায়তারা করতেছেন।

এবিষয়ে রূপগঞ্জ ‎সহকারী কমিশনার(ভূমি)মারজানুর রহমান বলেন, আমি বেশ কয়েকবার শোনানি করেছি। রিপোর্ট দেয়ার জন্য লিখিতভাবে সার্ভেয়ারকে বলেছি। বাদীদের কাগজ আদেশ পাওয়ার মতো তা প্রধানসহকারী ও সার্ভেয়ার জানিয়েছেন একাধিকবার। বিবাদীর লোকজনের তদবিরের কারণে সময় নস্ট হয়েছে। তবে চুরান্ত সিদ্বান্ত তার পক্ষেই যাবে কাগজের ধারাবাহিকতা যার মিল থাকবে।