খুলনার বেসরকারি দৌলতপুর (দিবা-নৈশ) কলেজে পরিচালনা পরিষদ গঠন নিয়ে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। উচ্চ আদালতে পাল্টাপাল্টি রিটের পর কলেজে দুদফা তালা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ অবস্থায় কলেজের ডিগ্রি পরীক্ষার ফরম পূরণ ও আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি মাসুদ হোসেন রনিকে কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মনোনীত করা হয়। ২০২৫ সালে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি গঠনসংক্রান্ত নতুন বিধিমালায় সভাপতি হতে হলে ন্যূনতম স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) ডিগ্রি থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়। তখন মাসুদ হোসেন রনি বাদ পড়েন। নতুন সভাপতি করা হয় ৬নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক মো. জয়নাল আবেদীনকে। এর বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিট করেন মাসুদ হোসেন রনি। আদালত নতুন সভাপতি নিয়োগ আদেশে স্থগিতাদেশ দেন। এবার আপিল বিভাগে এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেন অধ্যাপক মো. জয়নাল আবেদীন। আপিল বিভাগ নিম্ন আদালতের আদেশে স্থগিতাদেশ দেন। এরপর থেকে অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এমন অবস্থায় গত ১৬ জুন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এক পত্রে ফের অ্যাডভোকেট শেখ মাসুদ হোসেন রনিকে পরিচালনা পর্ষদের নতুন সভাপতি মনোনীত করে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বর্তমান সভাপতি অধ্যাপক মো. জয়নাল আবেদীন আবারো হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করেন। আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠানো ঐ পত্রের কার্যকারিতার ওপর স্থগিতাদেশ প্রদান করেন। ফলে আইনি প্রক্রিয়ার অধ্যাপক মো. জয়নাল আবেদীন কলেজটির সভাপতি পদে থেকে যান।
সর্বশেষ বুধ ও বৃহস্পতিবার ঐ কমিটি নিয়ে কলেজে তালা দেওয়ার ঘটনা ঘটে। প্রথমে অ্যাডভোকেট শেখ মাসুদ হোসেনের পক্ষে তালা দেওয়া হয়। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানালে তারা তালা খুলে দেয়। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ফের তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন শেখ মাসুদ হোসেনের অনুসারীরা। এ সময় বাইরের লোকজনের আগমনে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতংক দেখা দেয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঐ কলেজের একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, পরিচালনা পর্ষদ নিয়ে দ্বন্দ্বে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেকে ভয়ে ক্যাম্পাসে আসতে চায় না। অথচ মাত্র কয়েকদিন পর এইচএসসি পরীক্ষা।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মু মোরাদুল ইসলাম বলেন, ‘কে বা কারা কলেজে তালা ঝুলিয়েছে, এমন একটি অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ব্যবস্থা নিয়েছে। পরে অপর একটি পক্ষও থানায় এসছিলেন। তবে কোনো সংঘাতের অভিযোগ পাওয়া যায়নি।’
এ বিষয়ে কলেজের কলেজের অধ্যক্ষ এ এস এম আনিসুর রহমান বলেন, পরিচালনা পর্ষদ নিয়ে জটিলতায় কিছুটা সমস্যা হয়েছে। তালা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।
সংবাদ শিরোনাম ::
দৌলতপুর দিবা-নৈশ কলেজ পরিচালনা পর্ষদ গঠন নিয়ে অস্থিরতা, বিপাকে শিক্ষার্থীরা
-
খুলনা ব্যুরো - আপডেট সময় ০৬:৪৭:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
- ৯ বার পড়া হয়েছে
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ















