রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে যুবতীকে বিক্রি করে জোরপূর্বক দেহ ব্যবসা করা হচ্ছে। গোয়ালন্দ ঘাট থানায় গত ১৬ জুন ৪ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ মামলার মূল আসামী বাড়ীর মালিককে বাদ দিয়ে মামলা রেকর্ড করেছে। ফলে মামলাটি ধাপাচাপা পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। জানা যায়, গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, গোপালগঞ্জ কোয়াটারে ২২ ফেব্রুয়ারী সকাল সাড়ে ৯ টায় ২য় তলা বাসা থেকে গৃতকর্তার নিকট থেকে বেতন না পেয়ে ও নির্যাতনে অতিষ্ট হয়ে বাসা থেকে কাজের বুয়া লাভলী খাতুন (২৫) পালিয়ে যায়। ২৩ ফেব্রুয়ারী শেরপুর জেলার শ্রীবরদী থানার আতাউর রহমানের স্ত্রী হালিমা খাতুন (৬২) গোপালগঞ্জ সদর থানায় অভিযোগ করে যে, লাভলী খাতুন (২৫) নগদ ২০ হাজার টাকা নিয়ে পালায়। লাভলী খাতুনকে না পেয়ে তাহার পিতা-মাতা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুজি শুরু করে। গাজীপুর জেলায় বাসের মধ্যে আইনুল ইসলাম (২৬) নামে এক দালালের সাথে লাভলী খাতুনের পরিচয় হয়। ভালো ও বেশি বেতনের চাকুরীর কথা বলে লাভলী খাতুনকে গোয়ালন্দ ঘাট থানার দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর সরর্দারিনি শিরীন (৪৫) এর নিকট গত ৩০ মার্চ ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেয়। শিরীন তাকে ৩ বেলা খাওয়া ও ২ সেট জামা-কাপড়ের বিনিময়ে জোরপূর্বক দেহ ব্যবসা করতে বাধ্য করে। প্রতি দিবারাতে লাভলী ১০/১২ হাজার টাকা আয় করে সর্দারিনী ও তার গার্ড বাবুল ও আমজাদের হাতে তুলে দেয়। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে গত ঈদের ২ দিন আগে লাভলী খাতুন পতিতালয় থেকে পালিয়ে অর্ধকিলোমিটার দূরে দৌলতদিয়া বাজারের মধ্যে সর্দারিনীর কর্মচারী গার্ড বাবুল ও আমজাদের হাতে ধরা পড়ে। তাকে পুনরায় যৌনপল্øীতে নিয়ে ঘরের ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে অমানষিক নির্যাতন করা হয়। এ ঘটনায় তার ডাক চিৎকার প্রতিবেশীরা শুনলেও কেউ সহযোগীতার জন্য এগিয়ে আসেনি। ময়মনসিংহ জেলার এক খদ্দেরের মোবাইল ফোন নিয়ে গোপনে তার পিতার নিকট জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ থানা এলাকায় তাকে উদ্ধারের জন্য জানায়। মেয়ের মোবাইল ফোন পেয়ে তার পিতা দিনমজুর রাজ্জাক শেখ (৫২) রাজবাড়ী জেলায় চলে আসে। দৈনিক দিনকাল পত্রিকার রাজবাড়ী জেলা প্রতিনিধি ডিএম ফাহিমুর রহমানের সহযোগীতায় রাজবাড়ী পুলিশ সুপারের নিকট তার মেয়েকে উদ্ধারের জন্য আবেদন করে। পুলিশ সুপারের নির্দেশে গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ ১৬ জুন দুপুরে সর্দারিনী শিরীনের বাড়ী থেকে লাভলী খাতুনকে উদ্ধার করে। পুলিশের আগমন টের পেয়ে সর্দারীনি শিরীন তার কথিত স্বামী নয়ন, বাড়ীর পাহারাদার বাবলু, আমজাদ এবং লাভলীর বিক্রিতা আইনুল ইসলাম পালিয় যায়। আইনুল ইসলামের বাড়ী নীলফামারী জেলার ডেমলা থানার রুপাইয়া গ্রামে। তার পিতার নাম মোঃ নুরুল ইসলাম। গোয়ালন্দ ঘাট থানার মামলা নম্বর ১৫ (৬) ২৬। মানব পাচার আইনের মামলার প্রধান আসামী বাড়ী ও জমির মালিককে পুলিশ এজাহারে আসামী থেকে বাদ দিয়ে রেকর্ড করেছে। ফলে এই মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ভিকটিম ২৭ জুন জানান, সর্দারিনী শিরীনের বাড়ীতে বৃষ্টি (২২) ও রাহি (২৫) নামক ২ যুবতীকে দিয়ে এখনও জোরপূর্বক দেহ ব্যবসা করানো হচ্ছে। উল্লেখ্য- দৌলতদিয়া যৌনপল্লী বাংলাদেশের মধ্যে এখনও সর্ববৃহৎ। শতাধিক বাড়ীতে এখনও ৫ শতাধিক যুবতী মেয়েদেরকে দিয়ে জোরপূর্বক দেহ ব্যবসা করানো হচ্ছে। এ সকল মেয়েদের লাইসেন্স নেই। গোয়ালন্দ ঘাট থানা থেকে দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর দুরুত্ব ৪ কিলোমিটার। এখানে আন্তঃজেলা অপরাধীদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় স্থল হিসাবে পরিচিত রয়েছে। বাংলাদেশের মধ্যে মধ্যে দৌলতদিয়া সবচাইতে বেশী মাদক বিক্রয়ের হাট রয়েছে। হ্যানকাফ সহ ভ্রাম্যমান আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট ও গোয়ালন্দ সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মুনতাসির হাসান খানের সামনে থেকে মাদক ব্যবসায়ীরা আসামীকে ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি মোঃ সফিকুল ইসলাম জানান, আসামীরা পলাতক রয়েছে।
সংবাদ শিরোনাম ::
দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে যুবতীকে দিয়ে জোরপূর্বক দেহ ব্যবসা ।। মামলার ৪ আসামীকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ
-
মোঃ রফিকুল ইসলাম, রাজবাড়ী - আপডেট সময় ০৬:১০:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
- ১১ বার পড়া হয়েছে
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ















