ঢাকা ১০:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ভাঙ্গুড়ায় মাদকসেবনের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারা ও অর্থদন্ড আবারও খুলনায় স্কুলছাত্রীকে লক্ষ্য করে গুলি, হাসপাতালে ভর্তি ইরান সফরে গালিবাফের সঙ্গে সাক্ষাৎ, খামেনি হত্যার হুমকির নিন্দা স্পিকারের টিসিবির পণ্য বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ: কার্ড বাণিজ্য, ওজনে কারচুপি, সময়ক্ষেপণ ও হয়রানিতে ক্ষুব্ধ উপকারভোগীরা ঘরহারা মা’কে নিজ ভিটায় পুনর্বাসন.মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন পুঠিয়ার এসিল্যান্ড  গাজীপুরে একের পর এক নিভছে শিল্পের বাতি: এক সপ্তাহে বন্ধ ১৩ পোশাক কারখানা, অনিশ্চয়তায় হাজারো শ্রমিক খুলনায় প্রতিপক্ষের হামলায় কৃষক নিহত গাজীপুরের শ্রীপুরে অবহেলিত সড়কের উন্নয়নে শুরু হলো নির্মাণকাজ “এআই এবং সৃজনশীল শিল্পকলা” জাল সনদে চাকরি: খুলনায় নৈশ প্রহরীর বিরুদ্ধে বন বিভাগের মামলা, ৪৭ লাখ টাকা ফেরতের দাবি

জাল সনদে চাকরি: খুলনায় নৈশ প্রহরীর বিরুদ্ধে বন বিভাগের মামলা, ৪৭ লাখ টাকা ফেরতের দাবি

  • খুলনা ব্যুরো
  • আপডেট সময় ০৯:৫৯:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
  • ১৫ বার পড়া হয়েছে

মিথ্যা জন্মতারিখ ও জাল শিক্ষাগত সনদ দাখিল করে চাকরিতে যোগদানের অভিযোগে সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের নৈশ প্রহরী মো. সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছে বন বিভাগ। একই সঙ্গে চাকরিকালীন সময়ে সরকারি কোষাগার থেকে প্রাপ্ত ৪৭ লাখ ৩১ হাজার ২০৭ টাকা ফেরত আদায়ের দাবি জানানো হয়েছে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, মো. সিরাজুল ইসলাম, পিতা ইব্রাহিম শেখ, খুলনা জেলার রূপসা উপজেলার ইলাইপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ২০০১ সালের ২ মে নৈশ প্রহরী হিসেবে সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগে যোগদান করেন। পরবর্তীতে তার চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে জমা দেওয়া জন্মতারিখ ও শিক্ষাগত সনদ নিয়ে অভিযোগ ওঠে।

অভিযোগের পর বিভাগীয় তদন্তে জমা দেওয়া কাগজপত্রে অসঙ্গতি ধরা পড়ে বলে বন বিভাগ দাবি করে। এরপর বিভাগীয় বিধি অনুসরণ করে ২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।

এর ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের ২৪ জুন সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় চাকরির পুরো সময় সরকারি বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা বাবদ গ্রহণ করা ৪৭ লাখ ৩১ হাজার ২০৭ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত আদায়ের আবেদন করা হয়েছে।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, সরকারি চাকরিতে জাল সনদ বা ভুয়া তথ্য ব্যবহার করে নিয়োগ গ্রহণ রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপব্যবহারের শামিল। এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে বিভাগ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।

জানা গেছে, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) গণশুনানিতে উত্থাপিত অভিযোগ ও নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করে বন বিভাগ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, এ ঘটনা শুধু একজন কর্মচারীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জাল সনদ ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। তাই তারা বিষয়টি নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থা এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি নিয়োগে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নিয়োগের সময় সনদপত্রের ডিজিটাল যাচাই, নিয়মিত নিরীক্ষা এবং অভিযোগের দ্রুত তদন্ত নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তি আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাচ্ছেন কি না, সেটিও আইনি প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ভাঙ্গুড়ায় মাদকসেবনের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারা ও অর্থদন্ড

জাল সনদে চাকরি: খুলনায় নৈশ প্রহরীর বিরুদ্ধে বন বিভাগের মামলা, ৪৭ লাখ টাকা ফেরতের দাবি

আপডেট সময় ০৯:৫৯:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

মিথ্যা জন্মতারিখ ও জাল শিক্ষাগত সনদ দাখিল করে চাকরিতে যোগদানের অভিযোগে সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের নৈশ প্রহরী মো. সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছে বন বিভাগ। একই সঙ্গে চাকরিকালীন সময়ে সরকারি কোষাগার থেকে প্রাপ্ত ৪৭ লাখ ৩১ হাজার ২০৭ টাকা ফেরত আদায়ের দাবি জানানো হয়েছে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, মো. সিরাজুল ইসলাম, পিতা ইব্রাহিম শেখ, খুলনা জেলার রূপসা উপজেলার ইলাইপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ২০০১ সালের ২ মে নৈশ প্রহরী হিসেবে সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগে যোগদান করেন। পরবর্তীতে তার চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে জমা দেওয়া জন্মতারিখ ও শিক্ষাগত সনদ নিয়ে অভিযোগ ওঠে।

অভিযোগের পর বিভাগীয় তদন্তে জমা দেওয়া কাগজপত্রে অসঙ্গতি ধরা পড়ে বলে বন বিভাগ দাবি করে। এরপর বিভাগীয় বিধি অনুসরণ করে ২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।

এর ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের ২৪ জুন সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় চাকরির পুরো সময় সরকারি বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা বাবদ গ্রহণ করা ৪৭ লাখ ৩১ হাজার ২০৭ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত আদায়ের আবেদন করা হয়েছে।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, সরকারি চাকরিতে জাল সনদ বা ভুয়া তথ্য ব্যবহার করে নিয়োগ গ্রহণ রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপব্যবহারের শামিল। এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে বিভাগ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।

জানা গেছে, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) গণশুনানিতে উত্থাপিত অভিযোগ ও নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করে বন বিভাগ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, এ ঘটনা শুধু একজন কর্মচারীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জাল সনদ ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। তাই তারা বিষয়টি নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থা এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি নিয়োগে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নিয়োগের সময় সনদপত্রের ডিজিটাল যাচাই, নিয়মিত নিরীক্ষা এবং অভিযোগের দ্রুত তদন্ত নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তি আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাচ্ছেন কি না, সেটিও আইনি প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।