সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলায় অপদ্রব্য (জেল/রাসায়নিক) পুশকৃত ১ হাজার ৩৪২ কেজি বাগদা চিংড়ি জব্দ করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিনষ্ট করা হয়েছে। এ সময় চিংড়িতে অপদ্রব্য পুশের কাজে ব্যবহৃত সিরিঞ্জ ও অন্যান্য সামগ্রীও জব্দ করা হয়। অভিযুক্ত দুই ব্যবসায়ী পালিয়ে গেলেও তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে উপজেলা মৎস্য বিভাগ।
সাতক্ষীরা আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নের বুড়াখারাটি গ্রামে বুধবার (১ জুলাই) বিকেলে চিংড়িতে অপদ্রব্য পুশবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে র্যাব, উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ। বিকেল ৩টার দিকে পরিচালিত এ অভিযানে অপদ্রব্য পুশকৃত বিপুল পরিমাণ বাগদা চিংড়ি জব্দের পর ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তা ধ্বংস করা হয়।
উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্র জানায়, বুড়াখারাটি গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নান সরদারের ছেলে রবিউল ইসলাম ও আব্দুল হামিদ সরদার তাদের বাড়িতে বাগদা চিংড়িতে অপদ্রব্য পুশ করছিলেন—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে অংশ নেন র্যাব-৬-এর কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়নুদ্দীন জিয়াদ, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাফিউল ইসলাম এবং সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম। তাদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
অভিযানের খবর পেয়ে অভিযুক্ত দুই ভাই পালিয়ে গেলেও তাদের বাড়ি থেকে ৬১ ক্যারেট অপদ্রব্য পুশকৃত বাগদা চিংড়ি, অপদ্রব্য এবং সিরিঞ্জ জব্দ করা হয়।
পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাফিউল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত জব্দকৃত চিংড়ি পিচঢালা সড়কে ফেলে গাড়ির চাকায় পিষ্ট করে নষ্ট করেন। পরবর্তীতে সেগুলোতে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে সম্পূর্ণরূপে বিনষ্ট করা হয়।
মৎস্য বিভাগের তথ্যমতে, জব্দ করা চিংড়ির মোট ওজন প্রায় ১ হাজার ৩৪২ কেজি এবং বাজারমূল্য আনুমানিক ১৩ থেকে ১৪ লাখ টাকা।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানান, অভিযুক্ত দুই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে।
সংবাদ শিরোনাম ::
আশাশুনিতে অপদ্রব্য পুশকৃত ১,৩৪২ কেজি বাগদা চিংড়ি জব্দ, বিনষ্ট; মামলা প্রস্তুতি
-
সাতক্ষীরা অফিস - আপডেট সময় ১১:১৩:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
- ১৬ বার পড়া হয়েছে
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ





















