সরকারের ভর্তুকি মূল্যে নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) নিয়মিতভাবে পণ্য বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। তবে বিভিন্ন এলাকায় টিসিবির পণ্য বিতরণকে ঘিরে কার্ড বাণিজ্য, ওজনে কারচুপি, অতিরিক্ত মূল্য আদায়, সময়ক্ষেপণ এবং সাধারণ মানুষের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের কারণে প্রকৃত উপকারভোগীরা তাদের প্রাপ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক প্রকৃত নিম্ন আয়ের পরিবারের সদস্য দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও টিসিবির কার্ড পাচ্ছেন না। অথচ প্রভাবশালী ব্যক্তি বা ডিলারের ঘনিষ্ঠদের নামে সহজেই কার্ড ইস্যু হচ্ছে। কয়েকজন অভিযোগ করেন, নতুন কার্ড পাইয়ে দেওয়ার নামে অবৈধভাবে অর্থ দাবি করা হয়। যদিও এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা এই প্রতিবেদনের পক্ষ থেকে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এছাড়া পণ্য বিতরণের সময় ওজনে কারচুপির অভিযোগও রয়েছে। উপকারভোগীদের দাবি, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত পরিমাণে চিনি, মসুর ডাল ও ভোজ্যতেল দেওয়ার কথা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে ওজনে কম দেওয়া হচ্ছে। কেউ কেউ অভিযোগ করেন, সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত অর্থও নেওয়া হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের আরও অভিযোগ, পণ্য সংগ্রহের জন্য ভোর থেকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। এরপর জানানো হয় পণ্য শেষ হয়ে গেছে অথবা পরে আসতে হবে। এতে নারী, বয়স্ক ও শ্রমজীবী মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে আগে থেকে তালিকা তৈরি করে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক উপকারভোগী বলেন, “ভোরে লাইনে দাঁড়িয়েও অনেক সময় পণ্য পাই না। পরে দেখি পরিচিত কিছু লোক এসে সহজেই পণ্য নিয়ে চলে যাচ্ছে। আমরা শুধু অপেক্ষাই করি।”
আরেক নারী উপকারভোগী বলেন, “টিসিবির কার্ড থাকলেও নিয়মিত পণ্য পাই না। আমাদের মতো গরিব মানুষের জন্য সরকারের এই উদ্যোগ থাকলেও কিছু অসাধু ব্যক্তির কারণে আমরা বঞ্চিত হচ্ছি।”
অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ডিলারের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে টিসিবির দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, “কোনো ডিলারের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে সচেতন নাগরিক ও উপকারভোগীরা টিসিবির পণ্য বিতরণ ব্যবস্থায় আরও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, প্রতিটি বিক্রয়কেন্দ্রে ডিজিটাল ওজন মেশিন ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা, প্রকাশ্যে ওজন প্রদর্শন, ডিজিটাল টোকেন বা সিরিয়াল ব্যবস্থা চালু, নিয়মিত প্রশাসনিক তদারকি এবং অভিযোগ গ্রহণের কার্যকর ব্যবস্থা চালু করা হলে অনিয়ম অনেকাংশে কমে আসবে।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, টিসিবির ভর্তুকির পণ্য প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হলে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। এতে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচির প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে।
মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন 






















