ঢাকা ০৮:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
আনন্দবাজার পত্রিকায় শিরোনামঃ রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের ইস্তফায় ‘জলঘোলা’ হচ্ছে বাংলাদেশে তালার খলিলনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রনব ঘোষ স্বপদে বহাল সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ নির্দেশনা লাইসেন্স ফিরে পেল আদ্‌-দ্বীন হাসপাতাল খুলনায় রেলস্টেশনের সামনে গুলিবিদ্ধ যুবকের লাশ উদ্ধার সাংবাদিক সুরুজ আলীর মামলা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবি রাজশাহী প্রেসক্লাবের খুলনায় ৯ সন্ত্রাসী গ্রুপের দৌরাত্ম্য: ১৫ দিনে গ্রেপ্তার ১৮৪, তবু অধরা শীর্ষ গডফাদাররা রাজশাহী ‘ম্যাঙ্গো লাভার’ ই-কমার্স কার্যালয়ে তরুণীকে ধর্ষণচেষ্টার মামলায় যুবক আটক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাজশাহী প্রেসক্লাব সভাপতি সাইদুর রহমানের সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল খুলনায় বাসের টিকিট কালেক্টরের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে গড়ে উঠেছে অনলাইন ক্যাসিনো সাম্রাজ্য।

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় ভয়াবহভাবে বিস্তার লাভ করেছে অনলাইন ক্যাসিনো ও জুয়া বাণিজ্য। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব ও সাংবাদিক পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে এই অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উঠতি বয়সের তরুণ ও শিক্ষার্থীরা। দিন দিন জুয়ার ভয়াল থাবায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে বহু পরিবার।
অভিযোগ রয়েছে, এসব অপরাধের সাথে জরিত সাংবাদিক পরিচয়ধারী স্হানীয় সাংবাদিক দীর্ঘদিন ধরে ওয়ানএক্স, মেলবেট, লাইনবেটসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অনলাইন বেটিং প্ল্যাটফর্মের এজেন্ট হিসেবে কাজ করছেন। তাদের মাধ্যমে নবীগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় অনলাইন জুয়ার নেটওয়ার্ক বিস্তৃত হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, মাধবপুর ও ঢাকা থেকে বিকাশ ও নগদ এজেন্ট পরিচালনার মাধ্যমে তারা প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এর আগেও এ সব অপরাধের বিরুদ্ধে স্থানীয় পত্রিকা ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। তবে রহস্যজনক কারণে কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়া ও প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়ে থেকে এ চক্রটি দীর্ঘদিন ধরেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখের সামনে অবাধে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—ক্যাসিনো ব্যবসার অভিযোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা গ্রেফতার ও কারাভোগ করলেও নবীগঞ্জে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানো এসব ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
এদিকে অনলাইন জুয়ার ভয়াবহ প্রভাব পড়ছে তরুণ সমাজের ওপর। নবীগঞ্জ সদর ছাড়াও ইমামবাড়ি বাজার, আউশকান্দি, টুকের বাজার, কাজিরবাজার, পানিউমদা বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দ্রুত বিস্তার লাভ করেছে এ ব্যবসা। স্থানীয়দের অভিযোগ, উঠতি বয়সী তরুণদের টার্গেট করে তাদের মোবাইলে বিভিন্ন বেটিং অ্যাপস ইনস্টল করে দেওয়া হয়। শুরুতে বিনামূল্যে বা অল্প টাকায় খেলতে উৎসাহ দেওয়া হলেও পরে তারা ভয়াবহ আসক্তিতে জড়িয়ে পড়ে।
বিশেষ করে স্কুল ও কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ আসক্তি উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে বলে জানিয়েছেন অভিভাবকরা। অনেক শিক্ষার্থী পরিবারের অজান্তে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে টাকা লেনদেন করছে। কেউ কেউ নিজের পড়াশোনার খরচ, আবার কেউ পরিবারের অর্থ চুরি করেও জুয়ার পেছনে ব্যয় করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও অভিভাবকদের ভাষ্য, অনলাইন জুয়া এখন মাদকের চেয়েও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। কারণ এটি ঘরে বসেই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ায় সহজেই তরুণদের আকৃষ্ট করছে। এতে একদিকে যেমন আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে সামাজিক অবক্ষয়ও বাড়ছে উদ্বেগজনকভাবে।
অভিযোগ রয়েছে, এ চক্রের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে সাহস পান না। অনেককে মামলা, হয়রানি কিংবা প্রশাসনিক প্রভাব খাটানোর ভয় দেখানো হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। ফলে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোও প্রকাশ্যে মুখ খুলতে পারছে না।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা বলছেন, এখনই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পুরো যুব সমাজ ধ্বংসের দিকে চলে যাবে। অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে তাদের নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি বিকাশ-নগদসহ মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত সন্দেহজনক লেনদেনের ওপর নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।

Tag :
About Author Information

Nirvik Sangbad

জনপ্রিয় সংবাদ

আনন্দবাজার পত্রিকায় শিরোনামঃ রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের ইস্তফায় ‘জলঘোলা’ হচ্ছে বাংলাদেশে

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে গড়ে উঠেছে অনলাইন ক্যাসিনো সাম্রাজ্য।

আপলোড সময় ০২:৫৯:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় ভয়াবহভাবে বিস্তার লাভ করেছে অনলাইন ক্যাসিনো ও জুয়া বাণিজ্য। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব ও সাংবাদিক পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে এই অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উঠতি বয়সের তরুণ ও শিক্ষার্থীরা। দিন দিন জুয়ার ভয়াল থাবায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে বহু পরিবার।
অভিযোগ রয়েছে, এসব অপরাধের সাথে জরিত সাংবাদিক পরিচয়ধারী স্হানীয় সাংবাদিক দীর্ঘদিন ধরে ওয়ানএক্স, মেলবেট, লাইনবেটসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অনলাইন বেটিং প্ল্যাটফর্মের এজেন্ট হিসেবে কাজ করছেন। তাদের মাধ্যমে নবীগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় অনলাইন জুয়ার নেটওয়ার্ক বিস্তৃত হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, মাধবপুর ও ঢাকা থেকে বিকাশ ও নগদ এজেন্ট পরিচালনার মাধ্যমে তারা প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এর আগেও এ সব অপরাধের বিরুদ্ধে স্থানীয় পত্রিকা ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। তবে রহস্যজনক কারণে কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়া ও প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়ে থেকে এ চক্রটি দীর্ঘদিন ধরেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখের সামনে অবাধে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—ক্যাসিনো ব্যবসার অভিযোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা গ্রেফতার ও কারাভোগ করলেও নবীগঞ্জে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানো এসব ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
এদিকে অনলাইন জুয়ার ভয়াবহ প্রভাব পড়ছে তরুণ সমাজের ওপর। নবীগঞ্জ সদর ছাড়াও ইমামবাড়ি বাজার, আউশকান্দি, টুকের বাজার, কাজিরবাজার, পানিউমদা বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দ্রুত বিস্তার লাভ করেছে এ ব্যবসা। স্থানীয়দের অভিযোগ, উঠতি বয়সী তরুণদের টার্গেট করে তাদের মোবাইলে বিভিন্ন বেটিং অ্যাপস ইনস্টল করে দেওয়া হয়। শুরুতে বিনামূল্যে বা অল্প টাকায় খেলতে উৎসাহ দেওয়া হলেও পরে তারা ভয়াবহ আসক্তিতে জড়িয়ে পড়ে।
বিশেষ করে স্কুল ও কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ আসক্তি উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে বলে জানিয়েছেন অভিভাবকরা। অনেক শিক্ষার্থী পরিবারের অজান্তে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে টাকা লেনদেন করছে। কেউ কেউ নিজের পড়াশোনার খরচ, আবার কেউ পরিবারের অর্থ চুরি করেও জুয়ার পেছনে ব্যয় করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও অভিভাবকদের ভাষ্য, অনলাইন জুয়া এখন মাদকের চেয়েও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। কারণ এটি ঘরে বসেই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ায় সহজেই তরুণদের আকৃষ্ট করছে। এতে একদিকে যেমন আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে সামাজিক অবক্ষয়ও বাড়ছে উদ্বেগজনকভাবে।
অভিযোগ রয়েছে, এ চক্রের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে সাহস পান না। অনেককে মামলা, হয়রানি কিংবা প্রশাসনিক প্রভাব খাটানোর ভয় দেখানো হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। ফলে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোও প্রকাশ্যে মুখ খুলতে পারছে না।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা বলছেন, এখনই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পুরো যুব সমাজ ধ্বংসের দিকে চলে যাবে। অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে তাদের নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি বিকাশ-নগদসহ মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত সন্দেহজনক লেনদেনের ওপর নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।