ঢাকা ০৬:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
আনন্দবাজার পত্রিকায় শিরোনামঃ রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের ইস্তফায় ‘জলঘোলা’ হচ্ছে বাংলাদেশে তালার খলিলনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রনব ঘোষ স্বপদে বহাল সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ নির্দেশনা লাইসেন্স ফিরে পেল আদ্‌-দ্বীন হাসপাতাল খুলনায় রেলস্টেশনের সামনে গুলিবিদ্ধ যুবকের লাশ উদ্ধার সাংবাদিক সুরুজ আলীর মামলা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবি রাজশাহী প্রেসক্লাবের খুলনায় ৯ সন্ত্রাসী গ্রুপের দৌরাত্ম্য: ১৫ দিনে গ্রেপ্তার ১৮৪, তবু অধরা শীর্ষ গডফাদাররা রাজশাহী ‘ম্যাঙ্গো লাভার’ ই-কমার্স কার্যালয়ে তরুণীকে ধর্ষণচেষ্টার মামলায় যুবক আটক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাজশাহী প্রেসক্লাব সভাপতি সাইদুর রহমানের সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল খুলনায় বাসের টিকিট কালেক্টরের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

কেবিএস প্রকল্পে লুটপাট? সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন প্রকল্প পরিচালক কামরুজ্জামান

খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা (কেবিএস) জেলার সমন্বয়ে বাস্তবায়নাধীন উন্নয়ন প্রকল্পকে ঘিরে নতুন করে নানা প্রশ্ন, অভিযোগ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

প্রকল্পের বর্তমান পরিচালক মো. কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, অসমাপ্ত কাজ বাতিল এবং বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ তুলছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি, ঠিকাদার ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মো. কামরুজ্জামান বর্তমানে অন্য একটি প্রকল্পের দায়িত্বে থাকলেও অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে কেবিএস প্রকল্প পরিচালনা করছেন।

অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি প্রকল্পের বিভিন্ন বিষয়ে একক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে আসছেন। বিশেষ করে চলমান কিছু স্কিম বাতিল এবং প্রকল্প দ্রুত সমাপ্তির উদ্যোগ নিয়ে মাঠপর্যায়ে ব্যাপক অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কয়েকজন ঠিকাদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন, কেবিএস প্রকল্পের আওতায় এখনও বহু উন্নয়ন কাজ অসমাপ্ত রয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা, ড্রেনেজ, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি।

অথচ এসব কাজের একটি অংশ বাতিল বা স্থগিত রেখে প্রকল্প সমাপ্তির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তাদের ভাষ্য, প্রকল্পের প্রকৃত বাস্তবতা গোপন রেখে যদি সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ প্রত্যাশিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে।

এদিকে প্রকল্প পরিচালকের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে। ঢাকার আগারগাঁও বিএনপি বাজারের পাশে ২৭ নং ভবনের ১০ তলার পাঁচ তলায় নিজ ফ্লাটে থাকেন। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় নিজের কিনা ফ্লাটে ছয় তলা ভবনের নির্মান কাজ চলছে। মিরপুর ১২ নং সাগরদা পল্লবী থানার পেছনে আট তলা ভবনের চার তলা ফ্লাট তার ভাড়া দেওয়া। যেটি তার নিজের। মিরপুর ১ নং মার্কেটে তার দোকান আছে।

এবার যায় নিজ জেলা কুষ্টিয়ায়। এখানে তার পুলিশ লাইনের সামনে চার তলা ভবন নিজের। কুষ্টিয়া ছয় রাস্তার মোড়ে ২২ নং ফয়সাল টাওয়ারে একটা ফ্লাট আছে। কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের মার্কেটে তার একটি শপিং মহলের দোকান আছে। কুষ্টিয়া মিরপুরে তার পরিবারের নামে কোটি কোটি টাকার সম্পদ আছে। এছাড়া তার ব্যাংক ব্যালেন্স নিয়েও অনুসন্ধান চলছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, বিভিন্ন সময়ে ভুয়া বিল-ভাউচার এবং অনিয়মিত ব্যয়ের মাধ্যমে সরকারি অর্থ অপচয় করা হয়েছে। বিষয়গুলো খতিয়ে দেখলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে।

সম্প্রতি একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে প্রধান প্রকৌশলীর কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

অভিযোগে প্রকল্প পরিচালকের বিরুদ্ধে অর্থ দাবির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে প্রকল্প পরিচালকের সম্পদের বিষয়টি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, দীর্ঘ চাকরি জীবনে সরকারি বেতনের আয়ের তুলনায় তার নামে বা পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা সম্পদের পরিমাণ অস্বাভাবিক। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে একাধিক ফ্ল্যাট, ভবন, দোকান এবং অন্যান্য সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে । সংশ্লিষ্টদের দাবী, এসব সম্পদের উৎস অনুসন্ধান করা প্রয়োজন।

স্থানীয়দের মতে, একজন সরকারি কর্মকর্তার সম্পদের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হওয়া উচিত। এতে অভিযোগ সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে, আর অভিযোগ মিথ্যা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিও দায়মুক্ত হবেন। তাই বিষয়টি নিয়ে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

চাকুরী জীবনে যেখানে চাকুরী করেছেন, সেখান থেকে সম্মান নিয়ে ফিরতে পারেন নি। বরং সেখানে থেকে শাস্তিমূুলক বদলি এবং অপমানিত হয়ে ফিরেছে।

বলছিলাম খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা প্রকল্পের বর্তমান প্রকল্প পরিচালক মো. কামরুজ্জামানের কথা। তিনি মূলত আছেন কুষ্টিয়া প্রকল্পের পরিচালকের দায়িত্ত আর চলতি দায়িত্ব পালন করছেনকেবিএস প্রকল্পের পরিচালক হিসাবে চলতি দায়িত্বে।

কেবিএস প্রকল্পের দায়িত্ব থেকে তিনি বিভিন্ন সময়ে ভুয়া বিল ভাউচারে কোটি কোটি টাকা উত্তলোন করে লুট পাট করেছেন। নামে বেনামে তৈরি করেছেন অঢেল সম্পদ। যাহা অনুসন্ধান করলে বেরিয়ে আসবে।

ইতিমধ্যে ঠিকাদারী প্রতিষ্টান আমির মুসুর গ্রুপ তাদের কাছে ১৫ লক্ষ টাকা দাবী করেছে বলে প্রধান প্রকৌশলীর কাছে অভিযোগ দিয়েছেন। সেটও তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।

অন্যদিকে কেবিএস প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। প্রকল্পের আওতায় কর্মরত আউটসোর্সিংভিত্তিক প্রায় ৬৫ জন কর্মচারী চাকরি হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন বলে জানা গেছে। তাদের অনেকেই বলছেন, প্রকল্প হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে তারা বেকার হয়ে পড়বেন। চাকরি হারানোর ভয়ে অনেকে প্রকাশ্যে কথা বলতেও অনিচ্ছুক।

প্রকল্প এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ বিরাজ করছে। তাদের অভিযোগ, প্রকল্পের আওতায় যেসব উন্নয়ন কাজের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার সবগুলো এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা সমস্যা আগের মতোই রয়ে গেছে। কোথাও কোথাও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নও অসম্পূর্ণ। ফলে প্রকল্পের কাজ শেষ না করেই সমাপ্তি ঘোষণা করা হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে।

সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, কেবিএস প্রকল্পে বাস্তবে কতগুলো কাজ সম্পন্ন হয়েছে, কতগুলো অসমাপ্ত রয়েছে এবং প্রকল্পের অর্থ কীভাবে ব্যয় হয়েছে—এসব তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করা উচিত। একই সঙ্গে প্রকল্প পরিচালকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নজরদারির দাবিও উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।

তাদের মতে, জনগণের অর্থে পরিচালিত প্রকল্পে কোনো ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক মো. কামরুজ্জামানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুযায়ী, তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।

বর্তমানে কেবিএস প্রকল্প নিয়ে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে জনমনে। প্রকল্পের বাস্তব অবস্থা কী, অভিযোগগুলোর ভিত্তি কতটুকু, সম্পদের উৎস বৈধ কি না এবং অসমাপ্ত কাজের ভবিষ্যৎ কী—এসব প্রশ্নের উত্তর এখন খুঁজছেন সংশ্লিষ্টরা। তাই প্রকল্প নিয়ে সকল বিতর্কের অবসান ঘটাতে একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য তদন্তই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর সমাধান।

Tag :
About Author Information

Nirvik Sangbad

জনপ্রিয় সংবাদ

আনন্দবাজার পত্রিকায় শিরোনামঃ রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের ইস্তফায় ‘জলঘোলা’ হচ্ছে বাংলাদেশে

কেবিএস প্রকল্পে লুটপাট? সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন প্রকল্প পরিচালক কামরুজ্জামান

আপলোড সময় ০১:৩৯:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা (কেবিএস) জেলার সমন্বয়ে বাস্তবায়নাধীন উন্নয়ন প্রকল্পকে ঘিরে নতুন করে নানা প্রশ্ন, অভিযোগ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

প্রকল্পের বর্তমান পরিচালক মো. কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, অসমাপ্ত কাজ বাতিল এবং বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ তুলছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি, ঠিকাদার ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মো. কামরুজ্জামান বর্তমানে অন্য একটি প্রকল্পের দায়িত্বে থাকলেও অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে কেবিএস প্রকল্প পরিচালনা করছেন।

অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি প্রকল্পের বিভিন্ন বিষয়ে একক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে আসছেন। বিশেষ করে চলমান কিছু স্কিম বাতিল এবং প্রকল্প দ্রুত সমাপ্তির উদ্যোগ নিয়ে মাঠপর্যায়ে ব্যাপক অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কয়েকজন ঠিকাদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন, কেবিএস প্রকল্পের আওতায় এখনও বহু উন্নয়ন কাজ অসমাপ্ত রয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা, ড্রেনেজ, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি।

অথচ এসব কাজের একটি অংশ বাতিল বা স্থগিত রেখে প্রকল্প সমাপ্তির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তাদের ভাষ্য, প্রকল্পের প্রকৃত বাস্তবতা গোপন রেখে যদি সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ প্রত্যাশিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে।

এদিকে প্রকল্প পরিচালকের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে। ঢাকার আগারগাঁও বিএনপি বাজারের পাশে ২৭ নং ভবনের ১০ তলার পাঁচ তলায় নিজ ফ্লাটে থাকেন। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় নিজের কিনা ফ্লাটে ছয় তলা ভবনের নির্মান কাজ চলছে। মিরপুর ১২ নং সাগরদা পল্লবী থানার পেছনে আট তলা ভবনের চার তলা ফ্লাট তার ভাড়া দেওয়া। যেটি তার নিজের। মিরপুর ১ নং মার্কেটে তার দোকান আছে।

এবার যায় নিজ জেলা কুষ্টিয়ায়। এখানে তার পুলিশ লাইনের সামনে চার তলা ভবন নিজের। কুষ্টিয়া ছয় রাস্তার মোড়ে ২২ নং ফয়সাল টাওয়ারে একটা ফ্লাট আছে। কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের মার্কেটে তার একটি শপিং মহলের দোকান আছে। কুষ্টিয়া মিরপুরে তার পরিবারের নামে কোটি কোটি টাকার সম্পদ আছে। এছাড়া তার ব্যাংক ব্যালেন্স নিয়েও অনুসন্ধান চলছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, বিভিন্ন সময়ে ভুয়া বিল-ভাউচার এবং অনিয়মিত ব্যয়ের মাধ্যমে সরকারি অর্থ অপচয় করা হয়েছে। বিষয়গুলো খতিয়ে দেখলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে।

সম্প্রতি একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে প্রধান প্রকৌশলীর কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

অভিযোগে প্রকল্প পরিচালকের বিরুদ্ধে অর্থ দাবির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে প্রকল্প পরিচালকের সম্পদের বিষয়টি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, দীর্ঘ চাকরি জীবনে সরকারি বেতনের আয়ের তুলনায় তার নামে বা পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা সম্পদের পরিমাণ অস্বাভাবিক। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে একাধিক ফ্ল্যাট, ভবন, দোকান এবং অন্যান্য সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে । সংশ্লিষ্টদের দাবী, এসব সম্পদের উৎস অনুসন্ধান করা প্রয়োজন।

স্থানীয়দের মতে, একজন সরকারি কর্মকর্তার সম্পদের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হওয়া উচিত। এতে অভিযোগ সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে, আর অভিযোগ মিথ্যা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিও দায়মুক্ত হবেন। তাই বিষয়টি নিয়ে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

চাকুরী জীবনে যেখানে চাকুরী করেছেন, সেখান থেকে সম্মান নিয়ে ফিরতে পারেন নি। বরং সেখানে থেকে শাস্তিমূুলক বদলি এবং অপমানিত হয়ে ফিরেছে।

বলছিলাম খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা প্রকল্পের বর্তমান প্রকল্প পরিচালক মো. কামরুজ্জামানের কথা। তিনি মূলত আছেন কুষ্টিয়া প্রকল্পের পরিচালকের দায়িত্ত আর চলতি দায়িত্ব পালন করছেনকেবিএস প্রকল্পের পরিচালক হিসাবে চলতি দায়িত্বে।

কেবিএস প্রকল্পের দায়িত্ব থেকে তিনি বিভিন্ন সময়ে ভুয়া বিল ভাউচারে কোটি কোটি টাকা উত্তলোন করে লুট পাট করেছেন। নামে বেনামে তৈরি করেছেন অঢেল সম্পদ। যাহা অনুসন্ধান করলে বেরিয়ে আসবে।

ইতিমধ্যে ঠিকাদারী প্রতিষ্টান আমির মুসুর গ্রুপ তাদের কাছে ১৫ লক্ষ টাকা দাবী করেছে বলে প্রধান প্রকৌশলীর কাছে অভিযোগ দিয়েছেন। সেটও তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।

অন্যদিকে কেবিএস প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। প্রকল্পের আওতায় কর্মরত আউটসোর্সিংভিত্তিক প্রায় ৬৫ জন কর্মচারী চাকরি হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন বলে জানা গেছে। তাদের অনেকেই বলছেন, প্রকল্প হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে তারা বেকার হয়ে পড়বেন। চাকরি হারানোর ভয়ে অনেকে প্রকাশ্যে কথা বলতেও অনিচ্ছুক।

প্রকল্প এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ বিরাজ করছে। তাদের অভিযোগ, প্রকল্পের আওতায় যেসব উন্নয়ন কাজের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার সবগুলো এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা সমস্যা আগের মতোই রয়ে গেছে। কোথাও কোথাও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নও অসম্পূর্ণ। ফলে প্রকল্পের কাজ শেষ না করেই সমাপ্তি ঘোষণা করা হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে।

সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, কেবিএস প্রকল্পে বাস্তবে কতগুলো কাজ সম্পন্ন হয়েছে, কতগুলো অসমাপ্ত রয়েছে এবং প্রকল্পের অর্থ কীভাবে ব্যয় হয়েছে—এসব তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করা উচিত। একই সঙ্গে প্রকল্প পরিচালকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নজরদারির দাবিও উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।

তাদের মতে, জনগণের অর্থে পরিচালিত প্রকল্পে কোনো ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক মো. কামরুজ্জামানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুযায়ী, তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।

বর্তমানে কেবিএস প্রকল্প নিয়ে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে জনমনে। প্রকল্পের বাস্তব অবস্থা কী, অভিযোগগুলোর ভিত্তি কতটুকু, সম্পদের উৎস বৈধ কি না এবং অসমাপ্ত কাজের ভবিষ্যৎ কী—এসব প্রশ্নের উত্তর এখন খুঁজছেন সংশ্লিষ্টরা। তাই প্রকল্প নিয়ে সকল বিতর্কের অবসান ঘটাতে একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য তদন্তই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর সমাধান।