খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) সম্পত্তি শাখার এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ করেছে খুলনা ওয়াসার এক মাস্টাররোল কর্মচারীর (সহকারী পাম্প অপারেটর) স্ত্রী। গতকাল শনিবার খুলনা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ওয়াসার মাস্টার রোল কর্মচারী মো. দুলাল উদ্দিন খানের স্ত্রী ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, তারা নগরীর ১০ নম্বর ওয়ার্ডের স্থায়ী বাসিন্দা। তার স্বামী মো. দুলাল উদ্দিন খান দীর্ঘদিন ধরে খুলনা ওয়াসার একজন মাস্টাররোল কর্মচারী (সহকারী পাম্প অপারেটর) হিসেবে সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছে। কিন্তু গত ১২ জুলাই আনুমানিক বেলা পৌঁনে ১২টার দিকে কেসিসির সম্পত্তি শাখার কর্মকর্তা গাজী সালাউদ্দিন হঠাৎ করে খালিশপুরস্থ আমাদের বসতি ও সংরক্ষিত পাম্প হাউজে জোরপূর্বক প্রবেশ করে। সে কোনো প্রকার নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে আমার স্বামীর ওপর চড়াও হয় ও গালিগালাজ শুরু করে। পাম্প হাউজটি জনস্বার্থে পানি সরবরাহের জন্য ব্যবহৃত হয় এবং খুলনা ওয়াসা কর্তৃক আমার স্বামীকে সেখানে বসবাসের অনুমতি ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের অনাপত্তি প্রদান করা আছে। ওয়াসা কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী পাম্পটি সচল ও রক্ষাবেক্ষণের উদ্দেশ্যে আমার স্বামী নিজ খরচে সংস্কার কাজ করালে, কেসিসি’র কর্মকর্তা গাজী সালাউদ্দিন ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করে। আমার স্বামী ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানালে এবং কেসিসি’র কোনো অনুমতিপত্র আছে কি না দেখতে চাইলে- অভিযুক্ত গাজী সালাউদ্দিন প্রচন্ড ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। তিনি গালিগালাজের একপর্যায়ে আমার স্বামীর ওপর চড়াও হয়। আমি তাকে থামাতে সামনে এগিয়ে গেলে সে আমাকে সজোরে ধাক্কা মেরে ফেলে দেয়। শুধু তাই নয়, তিনি আমার প্রতিবন্ধী ছেলেকেও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে।
সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, এই ঘটনার বিষয়ে আমি ইতিমধ্যে খালিশপুর থানায় লিখিত অভিযোগ (জিডি) করেছি। কেসিসির প্রশাসকের বরাবরে অভিযুক্ত গাজী সালাউদ্দিনের দুর্নীতি, অসদাচরণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছি। এছাড়া খুলনা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবরে লিখিত আবেদন জানিয়েছি।
এদিকে ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি অস্বীকার করে কেসিসির সম্পত্তি শাখার কর্মকর্তা গাজী সালাউদ্দিন বলেন, ঐ এলাকায় সিটি করপোরেশনের ০.১৮২৫ একর জমির উপর অকেজো পাম্প রয়েছে। ঐ জায়গা দীর্ঘদিন দখল করে ওয়াসার ঐ কর্মচারী দখল করে ঘর নির্মাণ করে বসবাস করছেন। এছাড়া একটি কোচিং সেন্টার কে বা কারা চালাচ্ছেন। জায়গাটি সিটি করপোরেশনের হওয়ায় এলাকাবাসী ঐ জায়গায় মিটি পার্ক স্থাপনের জন্য আবেদন করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে করপোরেশন ঐ জায়গার উপর বৃক্ষ রোপণের উদ্যোগ নেয়। ফলে ঐদিন আমিসহ করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সরেজমিনে পরিদর্শনে গেলে দখলদাররা অসৌজন্যমূলক আচরণ করে ও আমাদের ওপর চড়াও হয়। এখন উল্টো মিথ্যা ঘুষের দাবি ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ করছে। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
তিনি আরো বলেন, গত ২১ জুলাই ঐ জায়গা ছেড়ে দেওয়ার জন্য দখলদারদের নোটিশ পাঠিয়েছে কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।
সংবাদ শিরোনাম
কেসিসির কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির অভিযোগ ওয়াসা কর্মচারীর স্ত্রীর
-
খুলনা অফিস - আপলোড সময় ০৯:১০:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
- 14
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ






















