দেশের অন্যতম শিল্পাঞ্চল গাজীপুরে একের পর এক পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত এক সপ্তাহে অন্তত ১৩টি তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় হাজার হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। এতে শুধু শ্রমিকরাই নয়, তাদের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলোও চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
শিল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রয়াদেশ কমে যাওয়া, আর্থিক সংকট, ব্যাংক ঋণ পরিশোধে জটিলতা এবং শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধে অক্ষমতার মতো নানা কারণে একের পর এক কারখানা উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকদের ছাঁটাই করা হয়েছে, আবার কিছু কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে।
শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, কারখানা বন্ধের আগে অনেক ক্ষেত্রেই তাদের যথাসময়ে বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হয়নি। হঠাৎ করে কর্মসংস্থান হারিয়ে তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। অনেকেই বাড়িভাড়া, সন্তানের পড়াশোনা এবং দৈনন্দিন খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন।
শ্রমিক নেতাদের মতে, গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে এভাবে ধারাবাহিকভাবে কারখানা বন্ধ হতে থাকলে দেশের রপ্তানি খাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। কারণ তৈরি পোশাক শিল্প বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান উৎস। শিল্পখাতের এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে বেকারত্ব বাড়বে এবং সামাজিক অস্থিরতার আশঙ্কাও তৈরি হতে পারে।
অর্থনীতিবিদদের ভাষ্য, বিশ্ববাজারের প্রতিযোগিতা, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানি সংকট এবং অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা শিল্পখাতকে কঠিন অবস্থায় ফেলেছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার, মালিকপক্ষ এবং শ্রমিক প্রতিনিধিদের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে টিকিয়ে রাখতে প্রণোদনা, সহজ শর্তে ঋণ এবং নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
এদিকে শিল্পাঞ্চলে কারখানা বন্ধের খবরে শ্রমিকদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বেড়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আরও বহু কারখানা বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যা দেশের কর্মসংস্থান ও অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
শিল্প সংশ্লিষ্টরা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, শিল্পকারখানা সচল রাখা, শ্রমিকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে জরুরি ভিত্তিতে উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায় দেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি খাত আরও বড় সংকটে পড়তে পারে এবং এর প্রভাব জাতীয় অর্থনীতিতেও পড়বে।
স্টাফ রিপোর্টার 























