(১৯৭১—২০২৬)
যুগ যুগ ধরে পৃথিবীর বড় দেশগুলো প্রতিবেশী ছোট দেশগুলোর উপর আধিপত্য বিস্তার করে আসছে। স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব বজায় রেখে যে দেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে পৃথিবীর অন্যান্য দেশ তাদেরকে সমীহ করে চলে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে প্রতিবেশী দেশ ভারত বাংলাদেশকে অঙ্গরাজ্য মনে করতে থাকে। বাংলাদেশকে স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারত প্রত্যক্ষভাবে সাহায্য করেছিল ঠিকই যার ফলে আমরা দ্রুত স্বাধীনতা অর্জন করতে পেরেছিলাম। ভারত সাহায্য না করলে আমাদের স্বাধীনতা অর্জন দেরিতে হলেও হত। ভারত সব সময় মনে করে বাংলাদেশ সরকার তাদের মনঃপুত সরকার হবে। তাদের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকার দেশ পরিচালনা করবে । ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধ ভারতের জন্য স্বস্তিকর ছিল না। দুদিকে পাকিস্তান সুতরাং ভারতের একটা বড় স্বার্থ ছিল চির শত্রু পাকিস্তানকে দ্বীখন্ডিত করে দুটি দেশ তৈরি করতে সাহায্য করা। যাতে পাকিস্তান ভৌগোলিকভাবে ছোট হয়ে দুর্বল হয়ে পড়ে।

দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) যে আত্মসমর্পণের কুট কৌশলের আশ্রয় গ্রহণ করে ভারতীয় সেনাবাহিনী প্রধানের নিকট পাকিস্তানকে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করা হয়েছিল তা আমাদের অর্জনকে ম্লান করে দিয়েছিল। সেখানে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম এ জি ওসমানী সাহেবকে রাখা হয়নি। বাঙালি জাতির জন্য যা ছিল অপমানের, যন্ত্রণা ও বেদনাদায়ক। যা বাঙালি জাতি শতাব্দী হতে শতাব্দী বছর পর্যন্ত এ যন্ত্রণা বহন করে বেড়াবে।
যুদ্ধ শেষ। ভারত সরকার বড় বড় লরি ট্রাক ভর্তি করে বাংলাদেশ থেকে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ সরঞ্জামাদি বেনাপোল বর্ডার দিয়ে নিয়ে গেছে। স্বাধীনতা যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী চেয়েছিলেন বাংলাদেশে ভারতীয় সেনাবাহিনী কিছুদিন অবস্থান করে দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার কাজ করবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেটা চাননি। তিনি ওআইসি সম্মেলনে ১৯৭৪ সালে পাকিস্তানে গিয়েছিলেন সেটাও ভারত সরকার ভালোভাবে গ্রহণ করতে পারেননি । এক কথায় ভারত সরকার দেশ স্বাধীনের জন্য সাহায্য করে যা পেতে চেয়েছিলেন তা অনেক ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছেন । তবে ভারতের প্রতি শেখ মুজিবুর রহমানের দরদ ,ভালবাসার কোন কমতি ছিল না।
দেশে দুর্ভিক্ষ, উচছশৃঙ্খলতা, স্বজনপ্রীতি, সেনাবাহিনীতে অসন্তোষ, ত্যাগী নেতাদের দূরে রাখা, সর্বোপরি আন্তর্জাতিক চক্রান্তের কারণে শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নিহত হন। সেনাবাহিনীর কিছু অফিসার এ অভ্যুত্থান সংঘটিত করেন। ঐদিন বাংলাদেশে নিযুক্ত আমেরিকার রাষ্ট্রদূত ডেভিস ইউজিন বোস্টার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে (বর্তমানে শেরাটন হোটেল) বসে সবকিছু পর্যবেক্ষণ করছিলেন । শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার পর তিনি হোটেল ত্যাগ করেন।তিনি ১৯৭৪ থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা’ র’ প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীকে বিষয়টি পূর্ব থেকে বারবার অবহিত করলেও তাতে তিনি কোন কর্ণপাত করেননি। উল্লেখ্য ওই সময় ভারতের দিল্লিতে জেনারেল এরশাদ এনডিসি কোর্স করছিলেন এবং জেনারেল মঞ্জুর দিল্লির এম্বাসেডরের মিলিটারি এডভাইজার ছিলেন। শেখ মুজিবুর রহমান হত্যার পর জেনারেল এরশাদ ও জেনারেল মঞ্জুর মোস্তাক সরকারের প্রতি আনুগত্য পোষণ করে বঙ্গভবনে এসেছিলেন। তখন সেনাবাহিনী প্রধান জিয়াউর রহমান তাদেরকে দেখে বলেছিলেন, তোমরা এখানে কেন? কে তোমাদের আসতে বলেছে? ভারতে চলে যাও। এখন প্রশ্ন হল তাদেরকে কে ছুটি দিল এবং কার অনুমতি নিয়ে তারা দুজন বাংলাদেশে এসেছিলেন।
শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর ভারতের চক্রান্ত থেমে থাকেনি। সেনা অফিসার খালেদ মোশাররফ বিদ্রোহ করেন এবং জেনারেল জিয়াউর রহমানকে বন্দী করেন। জিয়াউর রহমানের সেনাবাহিনীতে একটা জনপ্রিয়তা ছিল। সিপাহী জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে জিয়াউর রহমানকে ৭ ই নভেম্বর বন্দি থেকে মুক্ত করা হয়। বিভিন্ন ঘাত প্রতিঘাত চড়াই উৎরাই পেরিয়ে ১৯৭৭ সালে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ গণতান্ত্রিক সরকার স্বাধীনতার মহান ঘোষক বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা জিয়াউর রহমান দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি একজন ভালো মানুষ ও অত্যন্ত সৎ ছিলেন। দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে, মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে নিরলস ভাবে কাজ করে গেছেন। তার শাসনামল ছিল খুবই প্রশংসিত ।ও আই সি সহ গুরুত্বপূর্ণ পদ এবং চীন সহ মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশের সাথে তার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। তিনি অসম্ভব ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন ।তার নেতৃত্বের গুণাবলী ছিল প্রখর ।তার গ্রহণযোগ্যতা ছিল আকাশচুম্বী যা ভারত সরকারের কাছে বেদনাদায়ক ছিল।
ভারতের সাথে বাংলাদেশ সরকারের তিক্ততা প্রকাশ্যে আসে দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপ নিয়ে। ১৯৭০ সালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের পর হাড়িয়াভাঙ্গা নদীর মোহনায় বঙ্গোপসাগরে একটি নতুন চর জেগে ওঠে। বাংলাদেশ এটাকে দক্ষিণ তালপট্টি এবং ভারত পূর্বাশা নামে অভিহিত করে। এই দ্বীপটি বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমার সংবেদনশীল এলাকায় হওয়ায় উভয় দেশই এই দ্বীপটি মালিকানা দাবি করে। বাংলাদেশের যুক্তি হল নদীর প্রবাহ ছিল বাংলাদেশের অনুকূলে। ১৯৮১ সালে ১১ই মে ভারতীয় সরকার সেখানে নৌজাহান পাঠিয়ে উপস্থিতি জোরদার করে। এর প্রতিবাদ হিসেবে বাংলাদেশ সরকার দুটি নৌবাহিন জাহাজ মোতায়েন করে । দুটি দেশের যুদ্ধজাহাজ মুখোমুখি অবস্থান করে। ওই সময় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের একটি ভাষণ রেডিওতে প্রচার হয় । ভারত সরকার এই চ্যালেঞ্জ কে ভালোভাবে গ্রহণ করতে পারেনি।
শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হওয়ার পর সেনাবাহিনীতে চেন অব কমান্ড নষ্ট হয়। পরবর্তীতে কর্নেল ফারুক ও রশিদের কর্মকান্ডে জিয়াউর রহমান সাহেব সন্তুষ্ট ছিলেন না। জেনারেল মঞ্জুর এবং এরশাদের সম্পর্ক ছিল সেই ভারতে থাকাকালীন সময় থেকে । জিয়া হত্যার পূর্বে জেনারেল এরশাদ সাহেব আকস্মিকভাবে ‘র’এর ফর্মুলায় ভারতে গিয়েছিলেন এবং তার পৈত্রিক বাড়ি কোচবিহারে আত্মীয়-স্বজনের সাথে সাক্ষাৎ করতে গিয়েছিলেন। শেখ হাসিনা ভারত থেকে বাংলাদেশে আসেন ১৯৮১ সালের ১৭ই মে। জিয়া হত্যাকাণ্ডের পূর্বে সেনাপ্রধান এরশাদের সাথে কতিপয় সেনাবাহিনী অফিসারের গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তারা চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আসেন।এরশাদের সাথে মঞ্জুরের যোগসাজশে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হলেও পরবর্তীতে এরশাদ সাহেব ভোল পাল্টে ফেলে। বিদ্রোহীদের আত্মসমর্পণ করার জন্য তার ভাষণ বার বার রেডিওতে প্রচারিত হতে থাকে । রাজ সাক্ষী না রেখে কৌশলে জেনারেল মঞ্জুকে হত্যা করা হয়। যা ছিল সবই ভারতীয় ‘র’ এর নীল নকশা। শেখ হাসিনা কালো বোরখা পরে আখাউড়া সীমান্ত দিয়ে পালনের সময় ধরা পড়েন। ঘরের ভেতর কে রে ?আমি কলা খাইনি। ভারতের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক চক্রান্তে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ রাষ্ট্রপতি চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে ১৯৮১ সালের ৩০ মে শহীদ হন। শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়ে বাংলাদেশের জনগন । স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল গোটা জাতি। শেষ হয় এক মহাকাব্যের অবসান।
এরশাদ সাহেবের প্রতি ভারত সরকার খুশি ছিল দুটি হত্যাকাণ্ডে ভারতের সাথে এরশাদ সাহেব জড়িত ছিলেন । পরবর্তীতে বিএনপি সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার পর দেশের অবিসংবাদিত নেত্রী মাদার অফ ডেমোক্রেসি বেগম খালেদা জিয়ার স্পষ্ট বার্তা ছিল বহির্বিশ্বে আমাদের বন্ধু থাকবে কিন্তু প্রভু নয়। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সাহেবের উত্তরসূরি হিসেবে বেগম খালেদা জিয়া শিক্ষা এবং দেশের উন্নয়নে জনগণের মনের মনিকোঠায় স্থান করে নিয়েছিলেন। কিন্তু আবার সেই ভারতীয় চক্রান্ত। গঠন করা হলো ওয়ান ইলেভেনের সরকার। ভারতীয় প্রেসক্রিপশনে জেনারেল মাসুদ উদ্দিন জেনারেল মইন ইউ আহমেদ সহ কিছু আর্মি অফিসার যারা ছিল সরাসরি ‘ র’ এর এজেন্ট । তারা বিএনপি পরিবারের উপর নারকীয় অত্যাচার চালান। বেগম খালেদা জিয়াকে জেলখানায় বন্দী করে পয়জনিং, তার ভাই এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক জিয়ার উপরে অত্যাচারের স্টিম রোলার চালানো হয়। যা মধ্যযুগীয় বর্বরতা কে হার মানায়।
ফখরুদ্দিন মইন ইউ আহমেদ সরকার -2 ফর্মুলা নিয়ে দুই নেত্রীকে আটক করলেও অকৃতজ্ঞ জেনারেল মইন ইউ আহমেদ ভারত সফর শেষে বাংলাদেশে আসলে দৃশ্যপট আস্তে আস্তে পাল্টাতে থাকে। খালেদা জিয়া কে মাইনাস করে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় আনার সব নীল নকশা ‘ র’ এর মাধ্যমে করা হয়। একটা উদাহরণ দেই, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন স্বনামধন্য আওয়ামী শিক্ষক তাকে সেনাবাহিনী আটক করতে গেলে তিনি কিছুদিন আত্মগোপনে ছিলেন। শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে উক্ত শিক্ষক সেনাপ্রধান কে বলেন আপনি তো আমাকেও অ্যারেস্ট করতে সেনাবাহিনী পাঠিয়েছিলেন। উত্তরে মইন ইউ আহমেদ বলেন, ‘দেখলেন তো শেষটা কিভাবে করলাম’ ।
এই অকৃতজ্ঞ মইন ইউ আহমেদের অদূরদর্শিতায় পিলখানা ট্রাজেডি সংগঠিত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সামনে বিডিআর এর তিন নম্বর গেট দিয়ে নাম্বার বিহীন মাইক্রোবাসে মাথায় হেলমেট পরে কালো কাপড় দিয়ে মুখ ঢেকে হত্যা যজ্ঞ সংঘটিত করে তারপর তারা বিনা বাধায় নিরাপত্তা নিয়ে বিমানবন্দর দিয়ে ভারতে চলে যায়। বাহ: হাসিনা সরকারের কি সাফল্য। ৫৭ জন আর্মি অফিসার যারা সীমান্তে অতন্দ্র প্রহরী ছিল। তারা দেশপ্রেমে উজ্জীবিত ছিল। সেদিন দরবার হলে তারা ছিল নিরস্ত্র। তাদেরকে এক জায়গায় করে শহীদ করা হলো। নিভে গেল তাদের প্রাণ । পিতৃহারা ও স্বজনহারা হলেন তাদের পরিবার । ভারত সহ শেখ হাসিনা সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা এই হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল। একটা স্বাধীন দেশে সেনাবাহিনী পুলিশ গোয়েন্দা বিভাগ থাকতে এত বড় হত্যাকান্ড সংগঠিত হলো । শেখ হাসিনা সরকার এর দায় এড়াতে পারবে ?কখনো নয়। সেনানিবাসে মইনু ইউ আহমেদকে প্রশ্ন করা হলে উত্তরে তিনি বলেছিলেন আমি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে আটকা ছিলাম । এই কুলাঙ্গার অথর্ব সেনাবাহিনী প্রধান কে দ্রুত বিচারের আওতায় আনা উচিত। অথচ অভিনেত্রী শেখ হাসিনা কেঁদে কেঁদে ঠিকই উত্তর দিয়েছিলেন। সেদিন সেনানিবাস সতীর্থদের কান্নায় বাতাস ভারী হয়ে উঠেছিল কেউ নিরবে কেউ জোরে কেঁদেছিল তাদের সহকর্মীদের হারিয়ে। যারা চিৎকার করে কেঁদেছিল, প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন বানে জর্জরিত করেছিল, তাদেরকে পরবর্তীতে চাকরি হারাতে হয়েছিল। সীমান্ত ফাঁকা করার জন্য শেখ হাসিনার সরকার ভারতকে সন্তুষ্ট করার জন্য সেদিন দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ ৫৭ জন অফিসার কে হত্যা করে দেশদ্রোহী কাজটি করেছিলেন। যার বিচার বাংলাদেশের জনগণ দেখতে চাই।
২০০৯–২০২৪, দীর্ঘ ১৫ বছর। ভারত সরকারের একচ্ছত্র আধিপত্য ও ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা র” এর নির্দেশনার বাইরে যেতে পারেননি শেখ হাসিনা সরকার। শেখ হাসিনা দেশের প্রধানমন্ত্রী থাকলেও দেশ পরিচালনা করেছে ভারত সরকার। যত হত্যা খুন-গুম সংঘটিত হয়েছে তাও ‘র’এর প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী হয়েছে, সাথে ছিল জিয়াউল আহসান সহ কিছু দুষ্কৃতকারী সেনা অফিসার। এসব অফিসার একদিনেই খুনি হন নাই। তাদেরকে খুনি বানানো হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেছিলেন ভারতকে আমি যা দিয়েছি ভারত সরকার তা আজীবন মনে রাখবে। সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেছিলেন আপনি কি পেয়েছেন উত্তরে তিনি বলেছিলেন আমি কিছুই পাইনি। খালি হাতে এসেছি। যেমন চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করে ভারত সরকার হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। রেল পথ তৈরি হয়েছে ভারতের স্বার্থে। মংলা বন্দরও ভারত ব্যবহার করে থাকে। বাংলাদেশ ছিল ভারতের একটা বাণিজ্যিক বাজার।
২০১৩ সালের ৫ই মে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের বিক্ষোভ কর্মসূচি ছিল। ঐদিন লক্ষ লক্ষ লোক জমায়েত হয়েছিল। শান্তিপূর্ণভাবে তাদের কর্মসূচি চলছিল। শান্তিপূর্ণ এ কর্মসূচিকে নস্যাৎ করার জন্য এবং হাসিনা সরকারকে ক্ষমতায় রাখার জন্য ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এবং পুলিশ প্রধান বেনজির আহমেদ সহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা রাত বারোটার পরে ওই স্থান সহ আশেপাশের সমস্ত বিদ্যুৎ বন্ধ করে রক্তের হোলি খেলায় মেতে উঠে গণহত্যা সংঘটিত করে। কেড়ে নেয় হাজার হাজার মানুষের নিষ্পাপ প্রাণ। ৬ই মে সকালে নারায়ণগঞ্জ এবং বাগেরহাটে কয়েক ডজন বিক্ষোভকারী ও নিহত হয়। এ প্রসঙ্গে সাবেক মন্ত্রী ড আব্দুর রাজ্জাক দাম্ভিকতার সাথে বলেন, ‘ভোর না হতেই শাপলা চত্বর খালি হয়ে গেছে’ ।
দেশে দৃশ্যমান কিছু উন্নয়ন হলেও অতিরিক্ত পুকুর চুরি, টাকা পাচার, আত্মসাৎ, ব্যাপক দুর্নীতি, লুটপাট ,অতি কথন, তুচ্ছ তাচ্ছিল্য ,বিরোধীদলীয় লোকদের উপর নারকীয় অত্যাচার, আয়না ঘর, গুম, খুন সর্বোপরি আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস হারিয়ে ফেলা যা তাকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করে। (প্রধানমন্ত্রীর পিয়ন ৪০০ কোটি টাকার মালিক)। শেখ হাসিনা যদি জিয়া পরিবারের উপর প্রতিহিংসা পরায়ণ না হতেন তাহলে তার এই করুণ পরিণতি ভোগ করতে হতো না। সর্বোপরি মহান আল্লাহ ছাড় দেয় কিন্তু ছেড়ে দেন না। আল্লাহ আমাদের সবাইকে পাপ মুক্ত সুন্দর জীবন দান করুক।
এরপরেও ভারত হাল ছাড়েনি। অন্তবর্তী সরকার গঠনের ক্ষেত্রে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা, কিছু আর্মি অফিসার এবং আসিফ নজরুল সাহেবের নেতৃত্বে দফায় দফায় ক্যান্টনমেন্টে রুদ্ধ দ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ৩রা আগস্ট থেকে ৫ ই আগস্ট সকাল ৯ টা পর্যন্ত এই বৈঠক অব্যাহত থাকে। অবশেষে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় শেখ হাসিনাকে চলে যেতে হবে। অবশেষে ভারতের প্রেসক্রিপশন ব্যর্থ করে ডঃ মুহাম্মদ ইউনুস কে অন্তবর্তী সরকারের প্রধান করা হয়।
সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশ সরকারকে বিচলিত ও পেরেশানিতে রাখার জন্য ভারত থেকে প্রায় দুইশত লোক বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে পুশ ইন করার চেষ্টা করছে। এত বড় ভূখন্ডে দুইশত লোকের জায়গা হয় না। এক্ষেত্রে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ সম্পূর্ণ পেশাদারিত্ব বজায় রেখে জনগণকে সাথে নিয়ে দায়িত্ব পালন করে চলেছে।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডাঃ জাহেদুর রহমান আই, ও, আর, এ সম্মেলনে যোগ দেয়ার জন্য ভারত সফরে গিয়েছিলেন। যথাযথ নিয়ম মেনেই দুদিন আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছিলো। উপদেষ্টার পাসপোর্টে সার্ক-স্টিকার লাগানো ছিল। কূটনৈতিক প্রক্রিয়া চলমান থাকার পরও তিনি অবশেষে শ্রীলঙ্কা হয়ে দেশে ফিরে আসেন। বন্ধু-প্রতিম দেশ হিসেবে সম্পর্কটা হবে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও ভালোবাসার। যেটা ভারত দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে।
সম্প্রতি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অন্যতম খুনি বেইমান বিশ্বাসঘাতক মোজাফফর ধরা পড়েছে। আমি যদি প্রশ্ন করি মোজাফফর সাহেব আপনাকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কি ক্ষতি করেছিলেন? এ সময় তার ভারতে থাকার কথা। কেন বাংলাদেশে তার অবস্থান, কাদের সাথে যোগাযোগ রয়েছে, কোন কিলিং মিশনের পরিকল্পনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা আছে কিনা, সেটা জিজ্ঞাসাবাদ এর মাধ্যমে জানা দরকার। কঠিন থেকে কঠিনতম শাস্তি প্রয়োগের আগে তার কাছ থেকে তথ্যগুলো শুধু সরকার নয় দেশপ্রেমিক জনগণ যারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়া রহমানকে এবং মাদার অফ ডেমোক্রেসি বেগম খালেদা জিয়াকে মননে চিন্তায় চেতনায় ধারণ করে ভালোবাসে তারা জানতে চাই।
সবার কাছে আমার একটি প্রশ্ন। ভারত কেন অপরাধীদের আশ্রয় দেয়। সেখানে কেন অপরাধীদের অভয়ারণ্য। মোজাফফর আহমেদ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যা করে ভারতে পালিয়েছে। জেনারেল মাসুদ উদ্দিন আহমেদ ওয়ান ইলেভেনের কুশিলব। এর পৃষ্ঠপোষক কে? ভারত। ৫ ই আগস্ট এর পর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কোথায় পালিয়েছে? ভারতে, হাদির হত্যাকারী কোথায় পালিয়েছে? ভারতে। বাংলাদেশ থেকে অপরাধ সংগঠিত করে যদি ভারত তাদেরকে জামাই আদরে রাখে তাহলে বাংলাদেশের সাথে ভারতের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক কিভাবে সম্ভব? ভারত কখনো বাংলাদেশের মঙ্গল চায় না। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া এবং চীন সফর ভারতের গাত্রদাহ শুরু হয়েছে। ভারত ভ্রমণ কখনো প্রধানমন্ত্রী জন্য সুখকর নয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা, খাওয়া দাওয়া, সর্বক্ষেত্রে অধিকতর সচেতনতার সাথে গ্রহণ করা উচিত বলে বিজ্ঞজনেরা মনে করেন।
লেখক গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক।
অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান। সমাজকর্ম বিভাগ মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় কলেজ ঢাকা।
প্রফেসর আব্দুর রাজ্জাক 























