ঢাকা ০৩:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
আনন্দবাজার পত্রিকায় শিরোনামঃ রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের ইস্তফায় ‘জলঘোলা’ হচ্ছে বাংলাদেশে তালার খলিলনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রনব ঘোষ স্বপদে বহাল সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ নির্দেশনা লাইসেন্স ফিরে পেল আদ্‌-দ্বীন হাসপাতাল খুলনায় রেলস্টেশনের সামনে গুলিবিদ্ধ যুবকের লাশ উদ্ধার সাংবাদিক সুরুজ আলীর মামলা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবি রাজশাহী প্রেসক্লাবের খুলনায় ৯ সন্ত্রাসী গ্রুপের দৌরাত্ম্য: ১৫ দিনে গ্রেপ্তার ১৮৪, তবু অধরা শীর্ষ গডফাদাররা রাজশাহী ‘ম্যাঙ্গো লাভার’ ই-কমার্স কার্যালয়ে তরুণীকে ধর্ষণচেষ্টার মামলায় যুবক আটক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাজশাহী প্রেসক্লাব সভাপতি সাইদুর রহমানের সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল খুলনায় বাসের টিকিট কালেক্টরের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার
বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিএনপির ১২ নেতাকে নিয়োগ

আওয়ামী লীগও যা করার সাহস করেনি, তা-ই করে দেখাল বর্তমান সরকার! 

সরকারি দপ্তরে দলীয়করণ বা অনুগত আমলা বসানোর গল্প আমাদের চেনা। কিন্তু এবার যা ঘটল, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে সম্পূর্ণ নজিরবিহীন।

কোনো আমলাতান্ত্রিক খোলস ছাড়াই সরাসরি একটি রাজনৈতিক দলের সক্রিয় ও পদধারী ১২ জন শীর্ষ নেতাকে একযোগে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ১২টি সরকারি সংস্থা, বোর্ড ও কর্পোরেশনের শীর্ষ নির্বাহী পদে (চেয়ারম্যান/এমডি) বসানো হয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখার পৃথক ১২টি প্রজ্ঞাপনে এই নজিরবিহীন চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের আদেশ জারি করা হয়।

আসুন সুনির্দিষ্ট ফরম্যাটে দেখে নেওয়া যাক নিয়োগপ্রাপ্তদের তালিকা ও তাঁদের রাজনৈতিক পরিচয়:

১. বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার একান্ত সচিব মো. সামসুল আলম।

নিয়োগ পেয়েছেন: অতিরিক্ত সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়।

২. জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় কার্যকরী সভাপতি মো. সালাহ্উদ্দিন সরকার।

নিয়োগ পেয়েছেন: মহাপরিচালক, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন।

৩. বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ রাশেদুল হক।

নিয়োগ পেয়েছেন: ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল)।

৪. বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক (রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র) মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল।

নিয়োগ পেয়েছেন: চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশন।

৫. বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক এ টি এম আবদুল বারী ড্যানী।

নিয়োগ পেয়েছেন: চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি)।

৬. জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মো. কামরুজ্জামান (কামরুজ্জামান দুলাল)।

নিয়োগ পেয়েছেন: নির্বাহী সচিব, বাংলাদেশ জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদ।

৭. বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল খালেক।

নিয়োগ পেয়েছেন: চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশন (বিএসইসি)।

৮. বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শামসুজ্জামান (সুরূজ)।

নিয়োগ পেয়েছেন: চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন (বিএসএফআইসি)।

৯. বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক কাজী রওনাকুল ইসলাম (টিপু)।

নিয়োগ পেয়েছেন: ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট।

১০. জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মো. জাকির হোসেন সিদ্দিকী।

নিয়োগ পেয়েছেন: চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড।

১১. বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বেনজীর আহমেদ (বেনজীর আহমেদ টিটো)।

নিয়োগ পেয়েছেন: চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)।

১২. বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মামুন হাসান。

নিয়োগ পেয়েছেন: চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ জুট করপোরেশন।

আগের আমল বনাম বর্তমানের  বড় পার্থক্যটি কোথায়? 

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রশাসনে চরম দলীয়করণের অভিযোগ থাকলেও তারা সাধারণত সরাসরি রাজপথের পদধারী নেতাদের সরকারি কর্পোরেশন বা অধিদপ্তরের প্রধান বানাত না।

তাদের কৌশল ছিল নিজেদের অনুগত ও বিশ্বস্ত সাবেক আমলাদের (সচিব/অতিরিক্ত সচিব) অবসরের পর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে এসব চেয়ারে বসানো।

কিন্তু এবার কোনো আড়াল না রেখে, সরাসরি রাজনৈতিক নেতাদের এনে প্রশাসনের শীর্ষ নির্বাহী বা নীতিনির্ধারণী পদে বসিয়ে দেয়া হলো।

তাহলে রাষ্ট্র সংস্কারের  প্রতিশ্রুতির কী হবে? 

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বড় দাবি ছিল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ মুক্ত করে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও পেশাদার করা।

সেখানে সরাসরি একটি রাজনৈতিক দলের নেতাদের এভাবে পদায়ন করা আমলাতন্ত্রের নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বকে কতটুকু ঝুঁকির মুখে ফেলবে—তা নিয়ে সুশীল সমাজ ও সচেতন মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।

অবশ্য সমর্থকদের যুক্তি, বিগত ১৬ বছর ধরে এই নেতারা চরম দমন-পীড়ন ও বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। তাঁদের রাজপথের ত্যাগ ও যোগ্যতার মূল্যায়ন হিসেবেই আগামী ১ বছরের জন্য এই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত কি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে নতুন কোনো রাজনৈতিক অপসংস্কৃতির জন্ম দেবে?

লেখক; হেলাল উদ্দিন, সাংবাদিক কলামিস্ট। লেখকের ফেসবুক আইডি থেকে সংগৃহীত।

Tag :
About Author Information

Nirvik Sangbad

জনপ্রিয় সংবাদ

আনন্দবাজার পত্রিকায় শিরোনামঃ রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের ইস্তফায় ‘জলঘোলা’ হচ্ছে বাংলাদেশে

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিএনপির ১২ নেতাকে নিয়োগ

আওয়ামী লীগও যা করার সাহস করেনি, তা-ই করে দেখাল বর্তমান সরকার! 

আপলোড সময় ০৪:৪১:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

সরকারি দপ্তরে দলীয়করণ বা অনুগত আমলা বসানোর গল্প আমাদের চেনা। কিন্তু এবার যা ঘটল, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে সম্পূর্ণ নজিরবিহীন।

কোনো আমলাতান্ত্রিক খোলস ছাড়াই সরাসরি একটি রাজনৈতিক দলের সক্রিয় ও পদধারী ১২ জন শীর্ষ নেতাকে একযোগে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ১২টি সরকারি সংস্থা, বোর্ড ও কর্পোরেশনের শীর্ষ নির্বাহী পদে (চেয়ারম্যান/এমডি) বসানো হয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখার পৃথক ১২টি প্রজ্ঞাপনে এই নজিরবিহীন চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের আদেশ জারি করা হয়।

আসুন সুনির্দিষ্ট ফরম্যাটে দেখে নেওয়া যাক নিয়োগপ্রাপ্তদের তালিকা ও তাঁদের রাজনৈতিক পরিচয়:

১. বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার একান্ত সচিব মো. সামসুল আলম।

নিয়োগ পেয়েছেন: অতিরিক্ত সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়।

২. জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় কার্যকরী সভাপতি মো. সালাহ্উদ্দিন সরকার।

নিয়োগ পেয়েছেন: মহাপরিচালক, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন।

৩. বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ রাশেদুল হক।

নিয়োগ পেয়েছেন: ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল)।

৪. বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক (রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র) মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল।

নিয়োগ পেয়েছেন: চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশন।

৫. বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক এ টি এম আবদুল বারী ড্যানী।

নিয়োগ পেয়েছেন: চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি)।

৬. জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মো. কামরুজ্জামান (কামরুজ্জামান দুলাল)।

নিয়োগ পেয়েছেন: নির্বাহী সচিব, বাংলাদেশ জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদ।

৭. বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল খালেক।

নিয়োগ পেয়েছেন: চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশন (বিএসইসি)।

৮. বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শামসুজ্জামান (সুরূজ)।

নিয়োগ পেয়েছেন: চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন (বিএসএফআইসি)।

৯. বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক কাজী রওনাকুল ইসলাম (টিপু)।

নিয়োগ পেয়েছেন: ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট।

১০. জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মো. জাকির হোসেন সিদ্দিকী।

নিয়োগ পেয়েছেন: চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড।

১১. বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বেনজীর আহমেদ (বেনজীর আহমেদ টিটো)।

নিয়োগ পেয়েছেন: চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)।

১২. বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মামুন হাসান。

নিয়োগ পেয়েছেন: চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ জুট করপোরেশন।

আগের আমল বনাম বর্তমানের  বড় পার্থক্যটি কোথায়? 

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রশাসনে চরম দলীয়করণের অভিযোগ থাকলেও তারা সাধারণত সরাসরি রাজপথের পদধারী নেতাদের সরকারি কর্পোরেশন বা অধিদপ্তরের প্রধান বানাত না।

তাদের কৌশল ছিল নিজেদের অনুগত ও বিশ্বস্ত সাবেক আমলাদের (সচিব/অতিরিক্ত সচিব) অবসরের পর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে এসব চেয়ারে বসানো।

কিন্তু এবার কোনো আড়াল না রেখে, সরাসরি রাজনৈতিক নেতাদের এনে প্রশাসনের শীর্ষ নির্বাহী বা নীতিনির্ধারণী পদে বসিয়ে দেয়া হলো।

তাহলে রাষ্ট্র সংস্কারের  প্রতিশ্রুতির কী হবে? 

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বড় দাবি ছিল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ মুক্ত করে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও পেশাদার করা।

সেখানে সরাসরি একটি রাজনৈতিক দলের নেতাদের এভাবে পদায়ন করা আমলাতন্ত্রের নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বকে কতটুকু ঝুঁকির মুখে ফেলবে—তা নিয়ে সুশীল সমাজ ও সচেতন মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।

অবশ্য সমর্থকদের যুক্তি, বিগত ১৬ বছর ধরে এই নেতারা চরম দমন-পীড়ন ও বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। তাঁদের রাজপথের ত্যাগ ও যোগ্যতার মূল্যায়ন হিসেবেই আগামী ১ বছরের জন্য এই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত কি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে নতুন কোনো রাজনৈতিক অপসংস্কৃতির জন্ম দেবে?

লেখক; হেলাল উদ্দিন, সাংবাদিক কলামিস্ট। লেখকের ফেসবুক আইডি থেকে সংগৃহীত।