ঢাকা ০৪:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
আনন্দবাজার পত্রিকায় শিরোনামঃ রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের ইস্তফায় ‘জলঘোলা’ হচ্ছে বাংলাদেশে তালার খলিলনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রনব ঘোষ স্বপদে বহাল সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ নির্দেশনা লাইসেন্স ফিরে পেল আদ্‌-দ্বীন হাসপাতাল খুলনায় রেলস্টেশনের সামনে গুলিবিদ্ধ যুবকের লাশ উদ্ধার সাংবাদিক সুরুজ আলীর মামলা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবি রাজশাহী প্রেসক্লাবের খুলনায় ৯ সন্ত্রাসী গ্রুপের দৌরাত্ম্য: ১৫ দিনে গ্রেপ্তার ১৮৪, তবু অধরা শীর্ষ গডফাদাররা রাজশাহী ‘ম্যাঙ্গো লাভার’ ই-কমার্স কার্যালয়ে তরুণীকে ধর্ষণচেষ্টার মামলায় যুবক আটক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাজশাহী প্রেসক্লাব সভাপতি সাইদুর রহমানের সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল খুলনায় বাসের টিকিট কালেক্টরের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

উচ্চাভিলাষী নয়, স্বস্তির বাজেট চাইলেন অর্থনীতিবিদরা

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের (এফওয়াই২৭) জাতীয় বাজেটকে উচ্চাভিলাষী না করে জনগণ ও ব্যবসায়ীদের জন্য স্বস্তিমূলক বা ‘রিলিফ বাজেট’ করার আহ্বান জানিয়েছেন দেশের অর্থনীতিবিদরা।
তাদের মতে, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় নতুন বড় বড় প্রকল্প বা অতিরিক্ত রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য নির্ধারণের পরিবর্তে ব্যবসা-বাণিজ্য পুনরুদ্ধার, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং জনগণের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে অর্থনৈতিক আস্থার ঘাটতি তৈরি হয়েছে। বিনিয়োগ ও ভোগব্যয় উভয় ক্ষেত্রেই এর প্রভাব পড়ছে। ফলে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে আস্থা ফিরিয়ে আনার কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে চারটি বড় চ্যালেঞ্জ সামনে রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ব্যবসায়িক আস্থার সংকট, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা, জ্বালানি খাতের অস্থিরতা এবং বাজেট বাস্তবায়নে দীর্ঘদিনের দুর্বলতা।
তারা উল্লেখ করেন, ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি ও তারল্য সংকট বিনিয়োগ পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্য ওঠানামা এবং সরবরাহ অনিশ্চয়তা উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে। পাশাপাশি প্রতি বছর বাজেট ঘোষণার পর বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নানা সীমাবদ্ধতা দেখা যাওয়ায় কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় না।
অর্থনীতিবিদদের পরামর্শ, বাজেটে কর ও ভ্যাট কাঠামো সহজ করা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য প্রণোদনা বৃদ্ধি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতের সংস্কার ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।
তাদের মতে, বাস্তবমুখী ও জনগণবান্ধব বাজেট অর্থনীতিতে নতুন গতি আনতে পারে এবং ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাই এফওয়াই২৭ বাজেটে উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রার পরিবর্তে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

Tag :
About Author Information

Nirvik Sangbad

জনপ্রিয় সংবাদ

আনন্দবাজার পত্রিকায় শিরোনামঃ রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের ইস্তফায় ‘জলঘোলা’ হচ্ছে বাংলাদেশে

উচ্চাভিলাষী নয়, স্বস্তির বাজেট চাইলেন অর্থনীতিবিদরা

আপলোড সময় ১১:০৯:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের (এফওয়াই২৭) জাতীয় বাজেটকে উচ্চাভিলাষী না করে জনগণ ও ব্যবসায়ীদের জন্য স্বস্তিমূলক বা ‘রিলিফ বাজেট’ করার আহ্বান জানিয়েছেন দেশের অর্থনীতিবিদরা।
তাদের মতে, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় নতুন বড় বড় প্রকল্প বা অতিরিক্ত রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য নির্ধারণের পরিবর্তে ব্যবসা-বাণিজ্য পুনরুদ্ধার, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং জনগণের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে অর্থনৈতিক আস্থার ঘাটতি তৈরি হয়েছে। বিনিয়োগ ও ভোগব্যয় উভয় ক্ষেত্রেই এর প্রভাব পড়ছে। ফলে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে আস্থা ফিরিয়ে আনার কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে চারটি বড় চ্যালেঞ্জ সামনে রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ব্যবসায়িক আস্থার সংকট, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা, জ্বালানি খাতের অস্থিরতা এবং বাজেট বাস্তবায়নে দীর্ঘদিনের দুর্বলতা।
তারা উল্লেখ করেন, ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি ও তারল্য সংকট বিনিয়োগ পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্য ওঠানামা এবং সরবরাহ অনিশ্চয়তা উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে। পাশাপাশি প্রতি বছর বাজেট ঘোষণার পর বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নানা সীমাবদ্ধতা দেখা যাওয়ায় কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় না।
অর্থনীতিবিদদের পরামর্শ, বাজেটে কর ও ভ্যাট কাঠামো সহজ করা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য প্রণোদনা বৃদ্ধি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতের সংস্কার ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।
তাদের মতে, বাস্তবমুখী ও জনগণবান্ধব বাজেট অর্থনীতিতে নতুন গতি আনতে পারে এবং ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাই এফওয়াই২৭ বাজেটে উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রার পরিবর্তে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।