ঢাকা ০৫:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গাছে বেঁধে তরুণকে নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল, সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি “পুলিশের চাকরি এক ধরনের ব্যবসা”— ওসির বক্তব্য ঘিরে ব্যাপক আলোচনা অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে চুয়াডাঙ্গার বাড়াদী সীমান্তে নারী শিশু সহ আটক ১০ কিশোরগঞ্জে পরকীয়ার জেরে হত্যা: ১২ ঘণ্টার মধ্যে আসামি গ্রেপ্তার,পুলিশের বড় সাফল্য উচ্চাভিলাষী নয়, স্বস্তির বাজেট চাইলেন অর্থনীতিবিদরা তালার জেএনএ পল্লী মঙ্গল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এসএসসি ৯৮ ব্যাচের রি-ইউনিয়ন অনুষ্ঠিত তালায় মৎস্য ঘেরে বিষ প্রয়োগে ৩ লক্ষ টাকার মাছ মরে সাবাড় তালায় জমি দখল করে ঘর নির্মান চেষ্টা : পুলিশের হস্তক্ষেপে রক্ষা জুলাই বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশে কাঙ্খিত পরিবর্তন হয়নি : এ্যাডঃ ইয়ারুল ইসলাম ঈদে বিদ্যুৎ বিপর্যয়: তালায় ক্ষতিপূরণ ও বিচার দাবি

কিশোরগঞ্জে পরকীয়ার জেরে হত্যা: ১২ ঘণ্টার মধ্যে আসামি গ্রেপ্তার,পুলিশের বড় সাফল্য

কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া থানার একটি হত্যা মামলার প্রধান আসামি মোঃ রানা (৩৮)-কে ঘটনার মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

​প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, মোঃ রানা দীর্ঘ ১৮ বছর আগে জেসমিন আক্তারকে বিয়ে করেন। তাদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। পারিবারিক সূত্রে রানা ও তার মামাতো ভাই জোবায়েদ (২৬)-এর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে জোবায়েদের সঙ্গে রানার স্ত্রীর পরকীয়ার সম্পর্ক তৈরি হয় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

​প্রায় দুই মাস আগে বিষয়টি জানতে পেরে রানা তাঁর স্ত্রী ও জোবায়েদকে এ সম্পর্ক থেকে বিরত থাকার জন্য বলেন। কিন্তু তাঁরা সম্পর্ক চালিয়ে যেতে থাকেন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে জেসমিন আক্তার মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান।

​ঈদুল আজহার দুই দিন আগে রানা জানতে পারেন যে, তাঁর স্ত্রী জোবায়েদের বাড়িতে অবস্থান করছেন। সেখানে গিয়ে তিনি তাঁদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান বলে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেন। এরপর ক্ষোভ ও প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে তিনি জোবায়েদকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

​পরিকল্পনা অনুযায়ী ঈদুল আজহার পরদিন রানা একটি ধারালো দা সংগ্রহ করেন এবং কৌশলে জোবায়েদকে পাকুন্দিয়া থানার শৈলজানী এলাকার পুরপুরা ব্রিজ সংলগ্ন স্থানে ডেকে নেন। সেখানে পৌঁছালে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

​খবর পেয়ে পাকুন্দিয়া থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুরুতর আহত জোবায়েদকে পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
​কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশের পুলিশ সুপারের দিকনির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কটিয়াদী সার্কেল)-এর নেতৃত্বে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে হোসেনপুর থানার শাহেদল ইউনিয়নের রহিমপুর গ্রামের একটি বাড়ি থেকে প্রধান আসামি মোঃ রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

​এ ঘটনায় পাকুন্দিয়া থানায় ৩০ মে ২০২৬ তারিখে ৩০২/৩৪ পেনাল কোড, ১৮৬০ ধারা অনুযায়ী মামলা রুজু করা হয়েছে (মামলা নং-২২)।
​ঘটনাস্থল ও আসামির নিকট থেকে রক্তমাখা পোশাকসহ মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত জব্দ করা হয়েছে। নিহতের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে মরদেহ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।

​এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, অপরাধ দমনে পুলিশ প্রশাসন পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও দ্রুততার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সর্বোচ্চ সচেষ্ট রয়েছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

গাছে বেঁধে তরুণকে নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল, সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি

কিশোরগঞ্জে পরকীয়ার জেরে হত্যা: ১২ ঘণ্টার মধ্যে আসামি গ্রেপ্তার,পুলিশের বড় সাফল্য

আপডেট সময় ০২:১৬:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া থানার একটি হত্যা মামলার প্রধান আসামি মোঃ রানা (৩৮)-কে ঘটনার মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

​প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, মোঃ রানা দীর্ঘ ১৮ বছর আগে জেসমিন আক্তারকে বিয়ে করেন। তাদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। পারিবারিক সূত্রে রানা ও তার মামাতো ভাই জোবায়েদ (২৬)-এর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে জোবায়েদের সঙ্গে রানার স্ত্রীর পরকীয়ার সম্পর্ক তৈরি হয় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

​প্রায় দুই মাস আগে বিষয়টি জানতে পেরে রানা তাঁর স্ত্রী ও জোবায়েদকে এ সম্পর্ক থেকে বিরত থাকার জন্য বলেন। কিন্তু তাঁরা সম্পর্ক চালিয়ে যেতে থাকেন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে জেসমিন আক্তার মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান।

​ঈদুল আজহার দুই দিন আগে রানা জানতে পারেন যে, তাঁর স্ত্রী জোবায়েদের বাড়িতে অবস্থান করছেন। সেখানে গিয়ে তিনি তাঁদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান বলে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেন। এরপর ক্ষোভ ও প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে তিনি জোবায়েদকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

​পরিকল্পনা অনুযায়ী ঈদুল আজহার পরদিন রানা একটি ধারালো দা সংগ্রহ করেন এবং কৌশলে জোবায়েদকে পাকুন্দিয়া থানার শৈলজানী এলাকার পুরপুরা ব্রিজ সংলগ্ন স্থানে ডেকে নেন। সেখানে পৌঁছালে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

​খবর পেয়ে পাকুন্দিয়া থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুরুতর আহত জোবায়েদকে পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
​কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশের পুলিশ সুপারের দিকনির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কটিয়াদী সার্কেল)-এর নেতৃত্বে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে হোসেনপুর থানার শাহেদল ইউনিয়নের রহিমপুর গ্রামের একটি বাড়ি থেকে প্রধান আসামি মোঃ রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

​এ ঘটনায় পাকুন্দিয়া থানায় ৩০ মে ২০২৬ তারিখে ৩০২/৩৪ পেনাল কোড, ১৮৬০ ধারা অনুযায়ী মামলা রুজু করা হয়েছে (মামলা নং-২২)।
​ঘটনাস্থল ও আসামির নিকট থেকে রক্তমাখা পোশাকসহ মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত জব্দ করা হয়েছে। নিহতের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে মরদেহ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।

​এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, অপরাধ দমনে পুলিশ প্রশাসন পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও দ্রুততার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সর্বোচ্চ সচেষ্ট রয়েছে।