খুলনায় তরকারি পুড়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে গৃহকর্মীকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে পুলিশ দম্পত্তির বিরুদ্ধে। আজ বুধবার সকালে নগরীর সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার সোলার পার্কের পাশে জব্বার প্লেসে নগরীর সোনাডাঙ্গা মডেল থানার উপসহকারী পরিদর্শক (এএসআই) সঞ্জয় মিত্র ও তার স্ত্রী পপি মিত্রের ভাড়া বাসায় এই নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের শিকার পিতৃ-মাতৃহীন কিশোরী মিলন দাস (২২) গৃহকর্মী হিসাবে ছোটবেলা থেকেই পুলিশ দম্পত্তি সঞ্জয় মিত্র ও পপি মিত্রের বাসায় ছিল। মিলন দাসের বাড়ি নেত্রকোণায়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, বুধবার বেলা ১২টার দিকে নগরীর সোনাডাঙ্গায় একটি চারতলা বাড়ির বারান্দায় একজন কিশোরীকে একাধিকবার কানধরে উঠবস করানো হচ্ছে। উঠবসে দেরি হলে তাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করা হচ্ছে। এ সময় তাকে গরম কড়াই দিয়ে ছ্যাকা দিতেও দেখা যায়। এই দৃশ্য দেখে একজন সংবাদকর্মী ও তিনজন সামাজিক সংগঠনের নেত্রী দ্রুত ঐ বাড়ির ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলে তাদের বাধা দেওয়া হয়। পরে তারা ৯৯৯ কল দিয়ে পুলিশ নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে নির্যাতনের শিকার গৃহপরিচারিকাকে উদ্ধার করেন। তার চোখসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় মারধরসহ গরম খুন্তি ও কড়াই দিয়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
নারী নেত্রী সুতপা বেদজ্ঞ বলেন, ঘটনাটি উজ্জ্বল নামে একজন ফটো সাংবাদিক দেখতে পান। আমরা ঐ সময় বাড়িটির পাশে সোলার পার্কে সিটি মেয়রের একটি অনুষ্ঠানে ছিলাম। খবরটি পেয়ে আমিসহ আরো তিনজন নারী নেত্রী ও দুইজন সাংবাদিক বাড়িটিতে যাই। কিন্তু দীর্ঘ দেড়ঘন্টা ধরে বাড়ির গেট খোলা হয়নি। পরে ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিলে সোনাডাঙ্গা থানা থেকে কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও গৃহকর্তা এএসআই সঞ্জয় মিত্র বাসায় আসলে ঘরের দরজা খোলা হয়। এ সময় মেয়েটির শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন ও গরম কড়াইয়ের ছেক দেওয়ার চিহ্ন দেখা যায়। এরপর পুলিশ মেয়েটিকে উদ্ধার করে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে নিয়ে যায়।
সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি খুবই দু:খজনক। মেয়েটি একটু ভারসাম্যহীন। তাকে উদ্ধার করে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টপারে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সংবাদ শিরোনাম ::
খুলনায় পুলিশ দম্পত্তির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগ
-
খুলনা অফিস - আপডেট সময় ০৬:৪৯:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
- ৯ বার পড়া হয়েছে
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ






















