ঢাকা ১২:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ভাঙ্গুড়ায় মাদকসেবনের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারা ও অর্থদন্ড আবারও খুলনায় স্কুলছাত্রীকে লক্ষ্য করে গুলি, হাসপাতালে ভর্তি ইরান সফরে গালিবাফের সঙ্গে সাক্ষাৎ, খামেনি হত্যার হুমকির নিন্দা স্পিকারের টিসিবির পণ্য বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ: কার্ড বাণিজ্য, ওজনে কারচুপি, সময়ক্ষেপণ ও হয়রানিতে ক্ষুব্ধ উপকারভোগীরা ঘরহারা মা’কে নিজ ভিটায় পুনর্বাসন.মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন পুঠিয়ার এসিল্যান্ড  গাজীপুরে একের পর এক নিভছে শিল্পের বাতি: এক সপ্তাহে বন্ধ ১৩ পোশাক কারখানা, অনিশ্চয়তায় হাজারো শ্রমিক খুলনায় প্রতিপক্ষের হামলায় কৃষক নিহত গাজীপুরের শ্রীপুরে অবহেলিত সড়কের উন্নয়নে শুরু হলো নির্মাণকাজ “এআই এবং সৃজনশীল শিল্পকলা” জাল সনদে চাকরি: খুলনায় নৈশ প্রহরীর বিরুদ্ধে বন বিভাগের মামলা, ৪৭ লাখ টাকা ফেরতের দাবি

খুলনা বন বিভাগে অনিয়মের অভিযোগ: কাঠ পাচার, ঘুষ ও মামলা বাণিজ্যের দাবি

  • খুলনা ব্যুরো
  • আপডেট সময় ০৮:৪৪:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় ‘ম্যানেজ’ করে কাঠ বের হওয়ার অভিযোগ, জেলে ও বনজীবীদের হয়রানির দাবি সুন্দরবন সংলগ্ন খুলনা বন বিভাগের কার্যক্রম নিয়ে স্থানীয় জনগণ ও ভুক্তভোগীদের মধ্যে নানা অভিযোগ উঠেছে। বনজ সম্পদ সংরক্ষণে দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি এ প্রতিষ্ঠানের কিছু কার্যক্রমে অনিয়ম, কাঠ পাচার, ঘুষ গ্রহণ এবং মামলা ব্যবস্থাপনায় দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন সচেতন মহল।

অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবন ও আশপাশের এলাকায় বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে অনিয়মের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত।

অবৈধ কাঠ পাচারের অভিযোগ

স্থানীয়দের অভিযোগ, বৈধ অনুমোদন ছাড়া সুন্দরী ও গরানসহ বিভিন্ন প্রজাতির কাঠ বিভিন্ন মাধ্যমে বাইরে চলে যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, বন বিভাগের কিছু চেকপোস্টে ‘ম্যানেজ’ করে এসব কাঠ পার হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।

এছাড়া বনায়ন ও বন সংরক্ষণের নামে কার্যক্রম পরিচালিত হলেও মাঠ পর্যায়ে কোথাও কোথাও গাছ কাটার অভিযোগ রয়েছে বলে জানান এলাকাবাসী। তারা বন বিভাগের নজরদারি আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।

ফাইল নিষ্পত্তিতে ঘুষের অভিযোগ

বন বিভাগের বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে ঘুষের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী। তাদের দাবি, জমি সংক্রান্ত তথ্য, গাছ কাটার অনুমতি বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের কাজ দ্রুত করতে ৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, “টাকা ছাড়া অনেক সময় ফাইল এগোয় না। দিনের পর দিন ঘুরতে হয়।”

মামলা ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে বন আইনের মামলা নিয়ে। স্থানীয় জেলে ও বনজীবীদের অভিযোগ, অনেক সময় তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয়।

এক জেলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “বনে মাছ ধরতে গেলে অনেক সময় মামলার ভয় দেখানো হয়। টাকা দিলে সমস্যা কমে, না দিলে হয়রানির মধ্যে পড়তে হয়।”

তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

এ বিষয়ে খুলনা বিভাগীয় বন কর্মকর্তার বক্তব্য নেওয়ার জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।

তদন্তের দাবি

স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহল এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

তাদের দাবি, একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ভাঙ্গুড়ায় মাদকসেবনের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারা ও অর্থদন্ড

খুলনা বন বিভাগে অনিয়মের অভিযোগ: কাঠ পাচার, ঘুষ ও মামলা বাণিজ্যের দাবি

আপডেট সময় ০৮:৪৪:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় ‘ম্যানেজ’ করে কাঠ বের হওয়ার অভিযোগ, জেলে ও বনজীবীদের হয়রানির দাবি সুন্দরবন সংলগ্ন খুলনা বন বিভাগের কার্যক্রম নিয়ে স্থানীয় জনগণ ও ভুক্তভোগীদের মধ্যে নানা অভিযোগ উঠেছে। বনজ সম্পদ সংরক্ষণে দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি এ প্রতিষ্ঠানের কিছু কার্যক্রমে অনিয়ম, কাঠ পাচার, ঘুষ গ্রহণ এবং মামলা ব্যবস্থাপনায় দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন সচেতন মহল।

অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবন ও আশপাশের এলাকায় বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে অনিয়মের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত।

অবৈধ কাঠ পাচারের অভিযোগ

স্থানীয়দের অভিযোগ, বৈধ অনুমোদন ছাড়া সুন্দরী ও গরানসহ বিভিন্ন প্রজাতির কাঠ বিভিন্ন মাধ্যমে বাইরে চলে যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, বন বিভাগের কিছু চেকপোস্টে ‘ম্যানেজ’ করে এসব কাঠ পার হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।

এছাড়া বনায়ন ও বন সংরক্ষণের নামে কার্যক্রম পরিচালিত হলেও মাঠ পর্যায়ে কোথাও কোথাও গাছ কাটার অভিযোগ রয়েছে বলে জানান এলাকাবাসী। তারা বন বিভাগের নজরদারি আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।

ফাইল নিষ্পত্তিতে ঘুষের অভিযোগ

বন বিভাগের বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে ঘুষের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী। তাদের দাবি, জমি সংক্রান্ত তথ্য, গাছ কাটার অনুমতি বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের কাজ দ্রুত করতে ৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, “টাকা ছাড়া অনেক সময় ফাইল এগোয় না। দিনের পর দিন ঘুরতে হয়।”

মামলা ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে বন আইনের মামলা নিয়ে। স্থানীয় জেলে ও বনজীবীদের অভিযোগ, অনেক সময় তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয়।

এক জেলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “বনে মাছ ধরতে গেলে অনেক সময় মামলার ভয় দেখানো হয়। টাকা দিলে সমস্যা কমে, না দিলে হয়রানির মধ্যে পড়তে হয়।”

তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

এ বিষয়ে খুলনা বিভাগীয় বন কর্মকর্তার বক্তব্য নেওয়ার জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।

তদন্তের দাবি

স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহল এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

তাদের দাবি, একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।