ঢাকা ০৫:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
দিনাজপুর ফুলবাড়ী সীমান্তে ৫৫৮ বোতল যৌন উত্তেজক সিরাপ জব্দ হিলি এলএসডি গোডাউন থেকে সরকারি ধান বিক্রির অভিযোগ উঠেছে গুদাম কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উপমহাদেশে আবার বিতর্কিত জাতপাত প্রথার পদধ্বনি, শঙ্কিত মানুষ পুরানা ঢাকার ৮/১ কোর্ট হাউজ স্ট্রিটের আসল রহস্য ফাঁস: প্রবীণ সাংবাদিকদের ভাতা দ্রুত কার্যকরের দাবি জাতীয় প্রেস ক্লাব আঙ্গিনায় পথসভা ও র‌্যালি “ভিউ বাণিজ্য : সামাজিক পুঁজি” ঝিনাইদহ জেলা কারাগারে ধারণক্ষমতার চেয়ে প্রায় চারগুণ বন্দি খুলনার সোনাডাঙ্গায় শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ক্লাস ফাঁকি ও অনৈতিক আচরণের অভিযোগ, গোপালগঞ্জে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা, ২৪ ঘণ্টা সাইবার নজরদারি গোপালগঞ্জে নির্মাণাধীন কারখানা থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার

মিথ্যা মামলায় পুরুষের নির্যাতন: আইনের অপব্যবহার বন্ধ হোক-অনি

ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের মতো গুরুতর অভিযোগ নিঃসন্দেহে সমাজের ভয়াবহ বাস্তবতা। প্রকৃত ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব। একই সঙ্গে কোনো নিরপরাধ পুরুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ বা সাজানো মামলা করা হলে তার বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। কারণ একটি মিথ্যা মামলা একজন মানুষের সম্মান, পরিবার, চাকরি, সামাজিক অবস্থান এবং মানসিক শান্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

বাংলাদেশে ধর্ষণের অভিযোগের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি পরিসংখ্যান রয়েছে। ২০২৫ সালে পুলিশ সদর দপ্তরের হিসাবে সারা দেশে ৭,০৬৮টি ধর্ষণ মামলা নথিভুক্ত হয়েছিল। (Constitution Watchdog⁠) তবে এসব মামলার কত শতাংশ শেষ পর্যন্ত মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে—এমন নির্ভরযোগ্য জাতীয় হিসাব পাওয়া যায় না।

সম্প্রতি পিবিআইয়ের ২০১৬–২০২৩ সালের ১১ হাজারের বেশি ধর্ষণ মামলা তদন্তের তথ্য নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, ৪,২৪৮টি মামলা তদন্তে প্রমাণিত হয়নি। কিন্তু পিবিআই স্পষ্ট করেছে, প্রমাণিত না হওয়া মানেই মামলা মিথ্যা নয়। প্রমাণের অভাব, তদন্তের সীমাবদ্ধতা, মেডিকেল বা ফরেনসিক প্রমাণ না পাওয়া এবং অন্যান্য কারণেও কোনো অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত নাও হতে পারে। (Prothom Alo⁠)

আবার পুলিশের একটি পুরোনো গবেষণায় ২০১০–২০১৮ সালের ১৫টি থানার ৪০,৮৭৩টি তদন্ত-সমাপ্ত মামলার মধ্যে ৬২২টি, অর্থাৎ প্রায় ১.৫২ শতাংশ অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছিল। এই তথ্য অবশ্য শুধু ওই গবেষণার আওতাভুক্ত মামলাগুলোর; এটিকে বাংলাদেশের সব নারী নির্যাতন বা ধর্ষণ মামলার জাতীয় হার বলা যাবে না। (Prothom Alo⁠)

এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—‘মামলা প্রমাণিত হয়নি’ এবং ‘মামলা মিথ্যা’—এই দুটি বিষয় এক নয়। একটি অভিযোগ সত্য হলেও পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে আসামি খালাস পেতে পারেন। আবার কোনো অভিযোগ তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হলে সেটি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। (Prothom Alo⁠)

তাই নারীকে হেয় করা বা সব ধর্ষণ অভিযোগকে সন্দেহের চোখে দেখা যেমন অন্যায়, তেমনি কোনো নিরপরাধ পুরুষকে মিথ্যা অভিযোগে হয়রানি করাও ভয়াবহ অন্যায়। আইনের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত—প্রকৃত অপরাধীর শাস্তি এবং নিরপরাধ ব্যক্তির সুরক্ষা—দুটিই নিশ্চিত করা।

কোনো নারী যদি ব্যক্তিগত শত্রুতা, প্রতিশোধ, অর্থনৈতিক বিরোধ বা অন্য কোনো কারণে জেনে-শুনে মিথ্যা ধর্ষণ মামলা করেন, তদন্তে তা প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইনে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একইভাবে কোনো পুরুষের বিরুদ্ধে সত্যিকারের ধর্ষণের অভিযোগ থাকলে যথাযথ তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতে তারও বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

ন্যায়বিচার কখনো নারী বা পুরুষের পক্ষ নেবে না; ন্যায়বিচার সত্যের পক্ষ নেবে।

Tag :
About Author Information

Nirvik Sangbad

দিনাজপুর ফুলবাড়ী সীমান্তে ৫৫৮ বোতল যৌন উত্তেজক সিরাপ জব্দ

মিথ্যা মামলায় পুরুষের নির্যাতন: আইনের অপব্যবহার বন্ধ হোক-অনি

আপলোড সময় ১১:৪৪:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের মতো গুরুতর অভিযোগ নিঃসন্দেহে সমাজের ভয়াবহ বাস্তবতা। প্রকৃত ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব। একই সঙ্গে কোনো নিরপরাধ পুরুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ বা সাজানো মামলা করা হলে তার বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। কারণ একটি মিথ্যা মামলা একজন মানুষের সম্মান, পরিবার, চাকরি, সামাজিক অবস্থান এবং মানসিক শান্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

বাংলাদেশে ধর্ষণের অভিযোগের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি পরিসংখ্যান রয়েছে। ২০২৫ সালে পুলিশ সদর দপ্তরের হিসাবে সারা দেশে ৭,০৬৮টি ধর্ষণ মামলা নথিভুক্ত হয়েছিল। (Constitution Watchdog⁠) তবে এসব মামলার কত শতাংশ শেষ পর্যন্ত মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে—এমন নির্ভরযোগ্য জাতীয় হিসাব পাওয়া যায় না।

সম্প্রতি পিবিআইয়ের ২০১৬–২০২৩ সালের ১১ হাজারের বেশি ধর্ষণ মামলা তদন্তের তথ্য নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, ৪,২৪৮টি মামলা তদন্তে প্রমাণিত হয়নি। কিন্তু পিবিআই স্পষ্ট করেছে, প্রমাণিত না হওয়া মানেই মামলা মিথ্যা নয়। প্রমাণের অভাব, তদন্তের সীমাবদ্ধতা, মেডিকেল বা ফরেনসিক প্রমাণ না পাওয়া এবং অন্যান্য কারণেও কোনো অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত নাও হতে পারে। (Prothom Alo⁠)

আবার পুলিশের একটি পুরোনো গবেষণায় ২০১০–২০১৮ সালের ১৫টি থানার ৪০,৮৭৩টি তদন্ত-সমাপ্ত মামলার মধ্যে ৬২২টি, অর্থাৎ প্রায় ১.৫২ শতাংশ অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছিল। এই তথ্য অবশ্য শুধু ওই গবেষণার আওতাভুক্ত মামলাগুলোর; এটিকে বাংলাদেশের সব নারী নির্যাতন বা ধর্ষণ মামলার জাতীয় হার বলা যাবে না। (Prothom Alo⁠)

এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—‘মামলা প্রমাণিত হয়নি’ এবং ‘মামলা মিথ্যা’—এই দুটি বিষয় এক নয়। একটি অভিযোগ সত্য হলেও পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে আসামি খালাস পেতে পারেন। আবার কোনো অভিযোগ তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হলে সেটি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। (Prothom Alo⁠)

তাই নারীকে হেয় করা বা সব ধর্ষণ অভিযোগকে সন্দেহের চোখে দেখা যেমন অন্যায়, তেমনি কোনো নিরপরাধ পুরুষকে মিথ্যা অভিযোগে হয়রানি করাও ভয়াবহ অন্যায়। আইনের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত—প্রকৃত অপরাধীর শাস্তি এবং নিরপরাধ ব্যক্তির সুরক্ষা—দুটিই নিশ্চিত করা।

কোনো নারী যদি ব্যক্তিগত শত্রুতা, প্রতিশোধ, অর্থনৈতিক বিরোধ বা অন্য কোনো কারণে জেনে-শুনে মিথ্যা ধর্ষণ মামলা করেন, তদন্তে তা প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইনে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একইভাবে কোনো পুরুষের বিরুদ্ধে সত্যিকারের ধর্ষণের অভিযোগ থাকলে যথাযথ তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতে তারও বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

ন্যায়বিচার কখনো নারী বা পুরুষের পক্ষ নেবে না; ন্যায়বিচার সত্যের পক্ষ নেবে।