ঢাকা ১২:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
উত্তরখানে লাগামহীন বিদ্যুতের তার চুরি তালায় গৃহবধূকে সঙ্ঘবদ্ধ ধর্ষন : নারী সহ ৩জনের বিরুদ্ধে মামলা নিজের দেওয়া ভোটের একটি অংশ মেনে অন্য অংশ অস্বীকার করা যায় না- মিয়া গোলাম পরওয়ার মিথ্যা মামলায় পুরুষের নির্যাতন: আইনের অপব্যবহার বন্ধ হোক-অনি ঠাকুরগাঁও এল জি ই ডির দুর্নীতি ঢাকতে নারী টিকটকার ব্যবহার রূপগঞ্জে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট নরসিংদী সরকারি কলেজের ছাত্র মুয়াজ ‘হাসিনার রাজনীতিতে ফেরার ইচ্ছা মামার বাড়ির আবদার’: রিজভী বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকটের জন্য সরকারের দুর্নীতি ও দলীয়করণ দায়ী: গোলাম পরওয়ার সচিবালয়ের মতো জায়গায় রাজনৈতিক দলের বৈঠকের ইতিহাস জানা নেই: আযাদ রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় মনোনয়ন পেলেন মির্জা ফখরুল, এরপর কী?

মিথ্যা মামলায় পুরুষের নির্যাতন: আইনের অপব্যবহার বন্ধ হোক-অনি

ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের মতো গুরুতর অভিযোগ নিঃসন্দেহে সমাজের ভয়াবহ বাস্তবতা। প্রকৃত ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব। একই সঙ্গে কোনো নিরপরাধ পুরুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ বা সাজানো মামলা করা হলে তার বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। কারণ একটি মিথ্যা মামলা একজন মানুষের সম্মান, পরিবার, চাকরি, সামাজিক অবস্থান এবং মানসিক শান্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

বাংলাদেশে ধর্ষণের অভিযোগের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি পরিসংখ্যান রয়েছে। ২০২৫ সালে পুলিশ সদর দপ্তরের হিসাবে সারা দেশে ৭,০৬৮টি ধর্ষণ মামলা নথিভুক্ত হয়েছিল। (Constitution Watchdog⁠) তবে এসব মামলার কত শতাংশ শেষ পর্যন্ত মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে—এমন নির্ভরযোগ্য জাতীয় হিসাব পাওয়া যায় না।

সম্প্রতি পিবিআইয়ের ২০১৬–২০২৩ সালের ১১ হাজারের বেশি ধর্ষণ মামলা তদন্তের তথ্য নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, ৪,২৪৮টি মামলা তদন্তে প্রমাণিত হয়নি। কিন্তু পিবিআই স্পষ্ট করেছে, প্রমাণিত না হওয়া মানেই মামলা মিথ্যা নয়। প্রমাণের অভাব, তদন্তের সীমাবদ্ধতা, মেডিকেল বা ফরেনসিক প্রমাণ না পাওয়া এবং অন্যান্য কারণেও কোনো অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত নাও হতে পারে। (Prothom Alo⁠)

আবার পুলিশের একটি পুরোনো গবেষণায় ২০১০–২০১৮ সালের ১৫টি থানার ৪০,৮৭৩টি তদন্ত-সমাপ্ত মামলার মধ্যে ৬২২টি, অর্থাৎ প্রায় ১.৫২ শতাংশ অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছিল। এই তথ্য অবশ্য শুধু ওই গবেষণার আওতাভুক্ত মামলাগুলোর; এটিকে বাংলাদেশের সব নারী নির্যাতন বা ধর্ষণ মামলার জাতীয় হার বলা যাবে না। (Prothom Alo⁠)

এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—‘মামলা প্রমাণিত হয়নি’ এবং ‘মামলা মিথ্যা’—এই দুটি বিষয় এক নয়। একটি অভিযোগ সত্য হলেও পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে আসামি খালাস পেতে পারেন। আবার কোনো অভিযোগ তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হলে সেটি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। (Prothom Alo⁠)

তাই নারীকে হেয় করা বা সব ধর্ষণ অভিযোগকে সন্দেহের চোখে দেখা যেমন অন্যায়, তেমনি কোনো নিরপরাধ পুরুষকে মিথ্যা অভিযোগে হয়রানি করাও ভয়াবহ অন্যায়। আইনের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত—প্রকৃত অপরাধীর শাস্তি এবং নিরপরাধ ব্যক্তির সুরক্ষা—দুটিই নিশ্চিত করা।

কোনো নারী যদি ব্যক্তিগত শত্রুতা, প্রতিশোধ, অর্থনৈতিক বিরোধ বা অন্য কোনো কারণে জেনে-শুনে মিথ্যা ধর্ষণ মামলা করেন, তদন্তে তা প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইনে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একইভাবে কোনো পুরুষের বিরুদ্ধে সত্যিকারের ধর্ষণের অভিযোগ থাকলে যথাযথ তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতে তারও বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

ন্যায়বিচার কখনো নারী বা পুরুষের পক্ষ নেবে না; ন্যায়বিচার সত্যের পক্ষ নেবে।

Tag :
About Author Information

Nirvik Sangbad

জনপ্রিয় সংবাদ

উত্তরখানে লাগামহীন বিদ্যুতের তার চুরি

মিথ্যা মামলায় পুরুষের নির্যাতন: আইনের অপব্যবহার বন্ধ হোক-অনি

আপলোড সময় ১১:৪৪:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের মতো গুরুতর অভিযোগ নিঃসন্দেহে সমাজের ভয়াবহ বাস্তবতা। প্রকৃত ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব। একই সঙ্গে কোনো নিরপরাধ পুরুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ বা সাজানো মামলা করা হলে তার বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। কারণ একটি মিথ্যা মামলা একজন মানুষের সম্মান, পরিবার, চাকরি, সামাজিক অবস্থান এবং মানসিক শান্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

বাংলাদেশে ধর্ষণের অভিযোগের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি পরিসংখ্যান রয়েছে। ২০২৫ সালে পুলিশ সদর দপ্তরের হিসাবে সারা দেশে ৭,০৬৮টি ধর্ষণ মামলা নথিভুক্ত হয়েছিল। (Constitution Watchdog⁠) তবে এসব মামলার কত শতাংশ শেষ পর্যন্ত মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে—এমন নির্ভরযোগ্য জাতীয় হিসাব পাওয়া যায় না।

সম্প্রতি পিবিআইয়ের ২০১৬–২০২৩ সালের ১১ হাজারের বেশি ধর্ষণ মামলা তদন্তের তথ্য নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, ৪,২৪৮টি মামলা তদন্তে প্রমাণিত হয়নি। কিন্তু পিবিআই স্পষ্ট করেছে, প্রমাণিত না হওয়া মানেই মামলা মিথ্যা নয়। প্রমাণের অভাব, তদন্তের সীমাবদ্ধতা, মেডিকেল বা ফরেনসিক প্রমাণ না পাওয়া এবং অন্যান্য কারণেও কোনো অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত নাও হতে পারে। (Prothom Alo⁠)

আবার পুলিশের একটি পুরোনো গবেষণায় ২০১০–২০১৮ সালের ১৫টি থানার ৪০,৮৭৩টি তদন্ত-সমাপ্ত মামলার মধ্যে ৬২২টি, অর্থাৎ প্রায় ১.৫২ শতাংশ অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছিল। এই তথ্য অবশ্য শুধু ওই গবেষণার আওতাভুক্ত মামলাগুলোর; এটিকে বাংলাদেশের সব নারী নির্যাতন বা ধর্ষণ মামলার জাতীয় হার বলা যাবে না। (Prothom Alo⁠)

এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—‘মামলা প্রমাণিত হয়নি’ এবং ‘মামলা মিথ্যা’—এই দুটি বিষয় এক নয়। একটি অভিযোগ সত্য হলেও পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে আসামি খালাস পেতে পারেন। আবার কোনো অভিযোগ তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হলে সেটি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। (Prothom Alo⁠)

তাই নারীকে হেয় করা বা সব ধর্ষণ অভিযোগকে সন্দেহের চোখে দেখা যেমন অন্যায়, তেমনি কোনো নিরপরাধ পুরুষকে মিথ্যা অভিযোগে হয়রানি করাও ভয়াবহ অন্যায়। আইনের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত—প্রকৃত অপরাধীর শাস্তি এবং নিরপরাধ ব্যক্তির সুরক্ষা—দুটিই নিশ্চিত করা।

কোনো নারী যদি ব্যক্তিগত শত্রুতা, প্রতিশোধ, অর্থনৈতিক বিরোধ বা অন্য কোনো কারণে জেনে-শুনে মিথ্যা ধর্ষণ মামলা করেন, তদন্তে তা প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইনে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একইভাবে কোনো পুরুষের বিরুদ্ধে সত্যিকারের ধর্ষণের অভিযোগ থাকলে যথাযথ তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতে তারও বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

ন্যায়বিচার কখনো নারী বা পুরুষের পক্ষ নেবে না; ন্যায়বিচার সত্যের পক্ষ নেবে।