ঢাকা ০৩:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
আইজিপির মন্তব্যের প্রতিবাদে তেজগাঁও প্রেসক্লাবের ক্ষোভ যশোর জেলা পুলিশের সাত কর্মকর্তা বদলি যাত্রাবাড়ীতে দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকের মুঠোফোন নেওয়ার অভিযোগ, সুষ্ঠু তদন্তের দাবি ধামরাই চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার তোড়জোড়, আবদুল আলিমকে ঘিরে পুরোনো অভিযোগ: জবাবদিহির মুখে বিএনপি নেতা? পরকীয়া ও নৈতিক স্খলনের অভিযোগ ‎তালা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ও ১নারী কর্মীর স্ট্যান্ড রিলিজ : আদেশ বাতিল করতে টাকার ব্যাগ নিয়ে দৌড়ঝাপ নওগাঁয় শালিকাকে বিয়ের ঘটনায় আইনজীবী সহকারী মাসুদ রানাকে সেরেস্তা থেকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা সাতক্ষীরায় যৌতুকের  দাবিতে স্ত্রী ও শিশু কন্যাকে হত্যার দায়ে আব্দুর রউফকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত শেরে বাংলার নামে পদ্মা সেতু নামকরণের দাবি পদ্মা এক্সক্লুসিভের চাঁদপুর অংশ দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রতিবাদ করায় পরিচালকের গাড়ি বন্ধের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা ক্র্যাবে সংবাদ সম্মেলন চাঁদের পৃষ্ঠে পৃথিবীর মানচিত্র দেখার দাবি পঞ্চগড়ের রফিকুল ইসলামের

বহুল আলোচিত আশুলিয়ায় ট্রিপল মার্ডারের রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার-০১, আলামত উদ্ধার

গত ০৫/০৯/২০২৬ খ্রি. ঢাকার আশুলিয়া থানা এলাকায় তালাবদ্ধ একটি বাসার ভেতর থেকে হত্যাকান্ডের তিন দিন পর অর্ধগলিত ০৩টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃতদেহগুলোর মধ্যে রয়েছে আলমগীর (৪৫) এর ঝুলন্ত মরদেহ, খাটের উপর পড়ে থাকা তার স্ত্রী নাজমা বেগম (৩৫) এবং আঘাতের ফলে ভূমিষ্ট নবজাতকের মরদেহ। এ ঘটনায় ভিকটিম নাজমার বড় বোন মোসা: শাপলা বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানার মামলা নং-৩০, তারিখ-০৬/০৯/২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ধারা-৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড দায়ের করে। ঘটনার পর থেকেই পিবিআই ঢাকা জেলা ছায়া তদন্ত অব্যাহত রাখে।

ছায়া তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) আনিসুর রহমান এবং পিবিআই ঢাকা জেলার টীম তথ্য-প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অদ্য ০৮/০৯/২০২৬ খ্রিস্টাব্দ রাতে আশুলিয়া থানার নরসিংহপুর এলাকা থেকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দিগ্ধ আসামি মনিরুজ্জামান @ হৃদয় (৪৪) কে গ্রেফতার করে।

পিবিআই এর সিডিউলভুক্ত মামলা হওয়ায় পিবিআই ঢাকা জেলা ০৮/০৯/২০২৬ খ্রিস্টাব্দ তারিখে স্ব-উদ্যোগে মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে। বর্তমানে এসআই (নিঃ) আনিসুর রহমান মামলাটি তদন্ত করছেন।

পিবিআই এর জিজ্ঞাসাবাদে আসামি মনিরুজ্জামান @ হৃদয় (৪৪) ঘটনার সাথে জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকার করে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ও দেখানো মতে আসামীর ভাড়া বাসা থেকে ভিকটিম নাজমার ব্যবহৃত এন্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, সিম, অফিসের পরিচয়পত্র এবং তার ব্যবহৃত পার্সবউদ্ধার করা হয়। আসামি হৃদয় বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।

পিবিআই এর তদন্তে জানা যায়, আসামি মোঃ মনিরুজ্জামান @ হৃদয় ভিকটিম আলমগীরের পূর্বপরিচিত। আলমগীর বেকার ছিল। আসামী হৃদয় তরকারীর ব্যবসা করত। তাদের উভয়ের বাসার দূরত্ব ১০ মিনিটের হাটার রাস্তা। বিয়ের পূর্ব থেকেই ভিকটিম আলমগীরের স্ত্রী ভিকটিম নাজমা বেগমের সাথে আসামী হৃদয়ের প্রেম ও শারীরিক সম্পর্ক ছিল। আসামিও বিবাহিত। এ ঘটনা নিয়ে নাজমার স্বামী ভিকটিম আলমগীরের সঙ্গে হৃদয়ের বিরোধের সৃষ্টি হয় এবং আলমগীর কয়েক বার আসামী হৃদয়কে শাসায়।

ঘটনার দিন ২/৯/২০২৬ নাজমা ও আলমগীর বেড়ানোর কথা বলে আসামি হৃদয়কে তার বাসায় গিয়ে তাকে তাদের বাসায় নিয়ে আসে। পথিমধ্যে তারা দোকানে চা-সিগারেট খায়। ভিকটিমের বাসায় আসার পর পূর্বের সম্পর্কের বিষয়কে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও ঝগড়াঝাটি শুরু হয়। তারা আসামীকে উচিত শিক্ষা দেওয়ার জন্য মারপিট শুরু করে। একপর্যায়ে আলমগীর হৃদয়ের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি করে এবং তাকে মারধর করতে থাকে। এ সময় নাজমাও হৃদয়কে ঝাঁটা দিয়ে আঘাত করে। হৃদয় তার পেটে লাথি মারলে ভিকটিম নাজমা খাটের উপর পড়ে যায় এবং আঘাতের ফলে তার পেটের বাচ্চা বের হয়ে যায়। এতে নাজমার পেটে আঘাত লাগে এবং নাজমা ও তার গর্ভের সন্তান মারা যায়। পরবর্তীতে আলমগীর খুন্তি ও পাইপ দিয়ে হৃদয়কে আঘাত করলে হৃদয় আলমগীরের গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করে ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রাখে। তারপর আসামী হৃদয় ভিকটিম নাজমার ব্যবহৃত এন্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, সিম, অফিসের পরিচয়পত্র এবং তার ব্যবহৃত পার্টস নিয়ে গিয়ে নিজ বাসায় রাখে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী অপরাধী ২০২২ সালের আশুলিয়া থানার একটি গণধর্ষণসহ হত্যা মামলার তদন্তেপ্রাপ্ত আসামি এবং ফরিদপুর জেলার ২০১৪ সালের হত্যা মামলার জেল খাটা আসামি।
আশুলিয়ায় ২০২২ সালে এই মামলার আসামি ও তার ২জন সহযোগী মিলে পরিচিত এক নারী দোকানদারকে বাগানে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এই ঘটনা বলে দেওয়ার হুমকি দিলে তারা নারীকে হত্যা করে। আশুলিয়া থানা পুলিশ তদন্ত শেষে অত্র মামলার আসামিসহ ২০২৩ সালে ৩ জনের বিরুদ্ধে গণধর্ষণসহ হত্যার অপরাধে চার্জশিট দাখিল করে। ৭ মাস জেল খেটে সে বর্তমানে উচ্চ আদালতের আদেশে জামিনে আছে।

তথ্য নিয়ে আরো জানা যায়, এই মামলার আসামি মনিরুজ্জামান তার গ্রামের বাড়ি ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা থানার একটি হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামি হিসাবে জেল খেটেছিল ( নগরকান্দা থানার মামলা ন-২২ তাং- ২৬/৭/২০১৪ ধারা-৩০২)

ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

Tag :
About Author Information

Nirvik Sangbad

জনপ্রিয় সংবাদ

আইজিপির মন্তব্যের প্রতিবাদে তেজগাঁও প্রেসক্লাবের ক্ষোভ

বহুল আলোচিত আশুলিয়ায় ট্রিপল মার্ডারের রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার-০১, আলামত উদ্ধার

আপলোড সময় ১০:০৬:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গত ০৫/০৯/২০২৬ খ্রি. ঢাকার আশুলিয়া থানা এলাকায় তালাবদ্ধ একটি বাসার ভেতর থেকে হত্যাকান্ডের তিন দিন পর অর্ধগলিত ০৩টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃতদেহগুলোর মধ্যে রয়েছে আলমগীর (৪৫) এর ঝুলন্ত মরদেহ, খাটের উপর পড়ে থাকা তার স্ত্রী নাজমা বেগম (৩৫) এবং আঘাতের ফলে ভূমিষ্ট নবজাতকের মরদেহ। এ ঘটনায় ভিকটিম নাজমার বড় বোন মোসা: শাপলা বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানার মামলা নং-৩০, তারিখ-০৬/০৯/২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ধারা-৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড দায়ের করে। ঘটনার পর থেকেই পিবিআই ঢাকা জেলা ছায়া তদন্ত অব্যাহত রাখে।

ছায়া তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) আনিসুর রহমান এবং পিবিআই ঢাকা জেলার টীম তথ্য-প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অদ্য ০৮/০৯/২০২৬ খ্রিস্টাব্দ রাতে আশুলিয়া থানার নরসিংহপুর এলাকা থেকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দিগ্ধ আসামি মনিরুজ্জামান @ হৃদয় (৪৪) কে গ্রেফতার করে।

পিবিআই এর সিডিউলভুক্ত মামলা হওয়ায় পিবিআই ঢাকা জেলা ০৮/০৯/২০২৬ খ্রিস্টাব্দ তারিখে স্ব-উদ্যোগে মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে। বর্তমানে এসআই (নিঃ) আনিসুর রহমান মামলাটি তদন্ত করছেন।

পিবিআই এর জিজ্ঞাসাবাদে আসামি মনিরুজ্জামান @ হৃদয় (৪৪) ঘটনার সাথে জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকার করে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ও দেখানো মতে আসামীর ভাড়া বাসা থেকে ভিকটিম নাজমার ব্যবহৃত এন্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, সিম, অফিসের পরিচয়পত্র এবং তার ব্যবহৃত পার্সবউদ্ধার করা হয়। আসামি হৃদয় বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।

পিবিআই এর তদন্তে জানা যায়, আসামি মোঃ মনিরুজ্জামান @ হৃদয় ভিকটিম আলমগীরের পূর্বপরিচিত। আলমগীর বেকার ছিল। আসামী হৃদয় তরকারীর ব্যবসা করত। তাদের উভয়ের বাসার দূরত্ব ১০ মিনিটের হাটার রাস্তা। বিয়ের পূর্ব থেকেই ভিকটিম আলমগীরের স্ত্রী ভিকটিম নাজমা বেগমের সাথে আসামী হৃদয়ের প্রেম ও শারীরিক সম্পর্ক ছিল। আসামিও বিবাহিত। এ ঘটনা নিয়ে নাজমার স্বামী ভিকটিম আলমগীরের সঙ্গে হৃদয়ের বিরোধের সৃষ্টি হয় এবং আলমগীর কয়েক বার আসামী হৃদয়কে শাসায়।

ঘটনার দিন ২/৯/২০২৬ নাজমা ও আলমগীর বেড়ানোর কথা বলে আসামি হৃদয়কে তার বাসায় গিয়ে তাকে তাদের বাসায় নিয়ে আসে। পথিমধ্যে তারা দোকানে চা-সিগারেট খায়। ভিকটিমের বাসায় আসার পর পূর্বের সম্পর্কের বিষয়কে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও ঝগড়াঝাটি শুরু হয়। তারা আসামীকে উচিত শিক্ষা দেওয়ার জন্য মারপিট শুরু করে। একপর্যায়ে আলমগীর হৃদয়ের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি করে এবং তাকে মারধর করতে থাকে। এ সময় নাজমাও হৃদয়কে ঝাঁটা দিয়ে আঘাত করে। হৃদয় তার পেটে লাথি মারলে ভিকটিম নাজমা খাটের উপর পড়ে যায় এবং আঘাতের ফলে তার পেটের বাচ্চা বের হয়ে যায়। এতে নাজমার পেটে আঘাত লাগে এবং নাজমা ও তার গর্ভের সন্তান মারা যায়। পরবর্তীতে আলমগীর খুন্তি ও পাইপ দিয়ে হৃদয়কে আঘাত করলে হৃদয় আলমগীরের গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করে ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রাখে। তারপর আসামী হৃদয় ভিকটিম নাজমার ব্যবহৃত এন্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, সিম, অফিসের পরিচয়পত্র এবং তার ব্যবহৃত পার্টস নিয়ে গিয়ে নিজ বাসায় রাখে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী অপরাধী ২০২২ সালের আশুলিয়া থানার একটি গণধর্ষণসহ হত্যা মামলার তদন্তেপ্রাপ্ত আসামি এবং ফরিদপুর জেলার ২০১৪ সালের হত্যা মামলার জেল খাটা আসামি।
আশুলিয়ায় ২০২২ সালে এই মামলার আসামি ও তার ২জন সহযোগী মিলে পরিচিত এক নারী দোকানদারকে বাগানে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এই ঘটনা বলে দেওয়ার হুমকি দিলে তারা নারীকে হত্যা করে। আশুলিয়া থানা পুলিশ তদন্ত শেষে অত্র মামলার আসামিসহ ২০২৩ সালে ৩ জনের বিরুদ্ধে গণধর্ষণসহ হত্যার অপরাধে চার্জশিট দাখিল করে। ৭ মাস জেল খেটে সে বর্তমানে উচ্চ আদালতের আদেশে জামিনে আছে।

তথ্য নিয়ে আরো জানা যায়, এই মামলার আসামি মনিরুজ্জামান তার গ্রামের বাড়ি ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা থানার একটি হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামি হিসাবে জেল খেটেছিল ( নগরকান্দা থানার মামলা ন-২২ তাং- ২৬/৭/২০১৪ ধারা-৩০২)

ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।