ঢাকা ০৯:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
খুলনায় দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে যুব/ক নিহত খুলনা অফিস সমাজকর্মী নাহিদ হাসান তালা উপজেলার শ্রেষ্ঠ সংগঠক নির্বাচিত রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামো পরিবর্তন না হলে সার্বিক বিপর্যয়ের শঙ্কা রয়েছে — শায়েখ চরমোনাই বাঘারপাড়া ডিগ্রি কলেজ আঙিনায় ১৬ মেহগনি গাছের বড় ডাল কেঁটে সাবাড়, শিক্ষার্থী মানববন্ধন খুলনায় অস্ত্র ও গুলিসহ সন্ত্রাসী আশিক বাহিনীর শুটার গ্রেফতার সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে বিরোধ, গোদাগাড়ীর ইউএনওর কার্যালয়ে বিশৃঙ্খলা: সরকারি কাজে বাধা ও হুমকির অভিযোগে মামলা গেজেটে প্রকাশিত হলো ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা ফয়সল আমিনের নাম তালায় নারীর প্রতি সহিংসতা ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সংলাপ সভা এইচএসসি ও সমমানে ঠাকুরগাঁওয়ের ৯ কলেজে পাস করেনি কোনো শিক্ষার্থী ঠাকুরগাঁয়ে ভোটের মাঠে শিক্ষকের প্রচার, বিভাগীয় মামলা করতে ইসির নির্দেশ

সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে বিরোধ, গোদাগাড়ীর ইউএনওর কার্যালয়ে বিশৃঙ্খলা: সরকারি কাজে বাধা ও হুমকির অভিযোগে মামলা

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহানকে কেন্দ্র করে সার ডিলার নিয়োগসংক্রান্ত বিরোধ নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করে সার ডিলার নিয়োগের প্রক্রিয়া পরিচালনার পর একটি পক্ষের অসন্তোষ থেকে তাঁর কার্যালয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা, বেআইনি সমাবেশ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকির অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, সার ডিলারশিপ না পাওয়ার ক্ষোভ থেকেই ইউএনওকে ব্যক্তিগতভাবে দায়ী করে তাঁকে হয়রানির চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনার প্রকৃত কারণ নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
মামলার এজাহারে যেসব অভিযোগ
গোদাগাড়ী মডেল থানায় দায়ের করা এজাহার অনুযায়ী, গত ১২ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে ইউএনও কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। ইউএনও কার্যালয়ের উপ-সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. মোকতার হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
এজাহারে দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩৪১, ১৮৬, ৩৫৩ ও ৫০৬ ধারায় বেআইনি সমাবেশ, পথরোধ, সরকারি কাজে বাধা, সরকারি কর্মচারীর ওপর বলপ্রয়োগ এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার এজাহারনামীয় আসামিরা হলেন আতিকুর রহমান, মো. মাহফুজ, জিয়াউর রহমান, মো. ইলিয়াস উদ্দীন, মোফাজ্জল হোসেন, মো. আব্দুল হামিদ বাবলু ও মো. হেলাল উদ্দীন। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এ মামলায় অভিযুক্ত কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। বর্তমানে তাঁরা জামিনে রয়েছেন।
সার ডিলার নিয়োগ ঘিরেই বিরোধের সূত্রপাত?
নির্ভীক সংবাদের অনুসন্ধান এবং স্থানীয় একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সার ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করে আবেদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ প্রক্রিয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কয়েকজন নেতা ও তাঁদের অনুসারী ডিলারশিপের জন্য আবেদন করেছিলেন বলে জানা গেছে। তবে যোগ্যতা ও নির্ধারিত শর্ত পূরণের বিষয় বিবেচনায় তাঁরা প্রত্যাশিত ডিলারশিপ পাননি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
এরপর থেকেই ইউএনওর ওপর অসন্তোষ তৈরি হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, ডিলারশিপ না পাওয়ার ক্ষোভ থেকে ইউএনওকে লক্ষ্য করে চাপ সৃষ্টি ও তাঁর কার্যালয়ে বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটে।
তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীদের বক্তব্য এবং ডিলার নিয়োগের পূর্ণাঙ্গ নথি স্বাধীনভাবে যাচাই করা জরুরি। অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্যও পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।
ইউএনওর বক্তব্য
এ বিষয়ে নির্ভীক সংবাদকে ইউএনও ইসরাত জাহান বলেন, “আমি সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক ওই কাজ করেছি। কাজ না পেলেই যে একজনকে দোষী করতে হবে, এমনটি ঠিক নয়। সরকারি নির্দেশনা মেনেই আমি কাজ করছি। এনসিপি যদি মানববন্ধন করে বা হৈচৈ করে, সেটি অনৈতিক।”
তিনি আরও বলেন, সরকারি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বিধিবিধান ও নির্দেশনা অনুসরণ করাই তাঁর কাজ।
সচেতন মহলের উদ্বেগ
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনো কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত কারও পছন্দ না হলে নিয়মতান্ত্রিকভাবে আপত্তি জানানোর সুযোগ রয়েছে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ কিংবা আইনি প্রতিকার চাওয়া যেতে পারে। কিন্তু কোনো কর্মকর্তাকে ব্যক্তিগতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা, কার্যালয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি কিংবা সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।
তাঁদের মতে, একজন সরকারি কর্মকর্তা যেন রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত চাপের ঊর্ধ্বে থেকে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সে পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব।
নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
গোদাগাড়ীর এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, আবেদনকারীদের যোগ্যতা যাচাই এবং ইউএনও কার্যালয়ে সংঘটিত ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার বিষয়টিও সামনে এসেছে।
সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরপেক্ষ তদন্ত করবে। এতে যেমন অভিযোগের সত্যতা বেরিয়ে আসবে, তেমনি নির্দোষ কেউ হয়রানির শিকার হবেন না। সরকারি কাজে বাধা কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের।

Tag :
About Author Information

Nirvik Sangbad

খুলনায় দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে যুব/ক নিহত খুলনা অফিস

সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে বিরোধ, গোদাগাড়ীর ইউএনওর কার্যালয়ে বিশৃঙ্খলা: সরকারি কাজে বাধা ও হুমকির অভিযোগে মামলা

আপলোড সময় ০৭:০৮:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহানকে কেন্দ্র করে সার ডিলার নিয়োগসংক্রান্ত বিরোধ নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করে সার ডিলার নিয়োগের প্রক্রিয়া পরিচালনার পর একটি পক্ষের অসন্তোষ থেকে তাঁর কার্যালয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা, বেআইনি সমাবেশ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকির অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, সার ডিলারশিপ না পাওয়ার ক্ষোভ থেকেই ইউএনওকে ব্যক্তিগতভাবে দায়ী করে তাঁকে হয়রানির চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনার প্রকৃত কারণ নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
মামলার এজাহারে যেসব অভিযোগ
গোদাগাড়ী মডেল থানায় দায়ের করা এজাহার অনুযায়ী, গত ১২ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে ইউএনও কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। ইউএনও কার্যালয়ের উপ-সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. মোকতার হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
এজাহারে দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩৪১, ১৮৬, ৩৫৩ ও ৫০৬ ধারায় বেআইনি সমাবেশ, পথরোধ, সরকারি কাজে বাধা, সরকারি কর্মচারীর ওপর বলপ্রয়োগ এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার এজাহারনামীয় আসামিরা হলেন আতিকুর রহমান, মো. মাহফুজ, জিয়াউর রহমান, মো. ইলিয়াস উদ্দীন, মোফাজ্জল হোসেন, মো. আব্দুল হামিদ বাবলু ও মো. হেলাল উদ্দীন। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এ মামলায় অভিযুক্ত কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। বর্তমানে তাঁরা জামিনে রয়েছেন।
সার ডিলার নিয়োগ ঘিরেই বিরোধের সূত্রপাত?
নির্ভীক সংবাদের অনুসন্ধান এবং স্থানীয় একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সার ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করে আবেদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ প্রক্রিয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কয়েকজন নেতা ও তাঁদের অনুসারী ডিলারশিপের জন্য আবেদন করেছিলেন বলে জানা গেছে। তবে যোগ্যতা ও নির্ধারিত শর্ত পূরণের বিষয় বিবেচনায় তাঁরা প্রত্যাশিত ডিলারশিপ পাননি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
এরপর থেকেই ইউএনওর ওপর অসন্তোষ তৈরি হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, ডিলারশিপ না পাওয়ার ক্ষোভ থেকে ইউএনওকে লক্ষ্য করে চাপ সৃষ্টি ও তাঁর কার্যালয়ে বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটে।
তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীদের বক্তব্য এবং ডিলার নিয়োগের পূর্ণাঙ্গ নথি স্বাধীনভাবে যাচাই করা জরুরি। অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্যও পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।
ইউএনওর বক্তব্য
এ বিষয়ে নির্ভীক সংবাদকে ইউএনও ইসরাত জাহান বলেন, “আমি সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক ওই কাজ করেছি। কাজ না পেলেই যে একজনকে দোষী করতে হবে, এমনটি ঠিক নয়। সরকারি নির্দেশনা মেনেই আমি কাজ করছি। এনসিপি যদি মানববন্ধন করে বা হৈচৈ করে, সেটি অনৈতিক।”
তিনি আরও বলেন, সরকারি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বিধিবিধান ও নির্দেশনা অনুসরণ করাই তাঁর কাজ।
সচেতন মহলের উদ্বেগ
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনো কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত কারও পছন্দ না হলে নিয়মতান্ত্রিকভাবে আপত্তি জানানোর সুযোগ রয়েছে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ কিংবা আইনি প্রতিকার চাওয়া যেতে পারে। কিন্তু কোনো কর্মকর্তাকে ব্যক্তিগতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা, কার্যালয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি কিংবা সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।
তাঁদের মতে, একজন সরকারি কর্মকর্তা যেন রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত চাপের ঊর্ধ্বে থেকে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সে পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব।
নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
গোদাগাড়ীর এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, আবেদনকারীদের যোগ্যতা যাচাই এবং ইউএনও কার্যালয়ে সংঘটিত ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার বিষয়টিও সামনে এসেছে।
সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরপেক্ষ তদন্ত করবে। এতে যেমন অভিযোগের সত্যতা বেরিয়ে আসবে, তেমনি নির্দোষ কেউ হয়রানির শিকার হবেন না। সরকারি কাজে বাধা কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের।