বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনকে রক্ষা করা দেশের ১৮ কোটি মানুষের নৈতিক দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় পরিবেশবিদ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও বনজীবীরা। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, সুন্দরবন শুধু একটি বন নয়, এটি দেশের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য, অর্থনীতি এবং উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার অন্যতম ভিত্তি।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে উপকূলীয় অঞ্চলকে সুরক্ষা দিতে সুন্দরবনের ভূমিকা অপরিসীম। বনটি দেশের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি হাজারো জেলে, মৌয়াল, বাওয়ালি ও বননির্ভর মানুষের জীবিকার উৎস হিসেবে কাজ করছে।
বক্তারা আরও বলেন, বন উজাড়, নদী দখল, দূষণ, অবৈধ শিকার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সুন্দরবনের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার, স্থানীয় জনগণ এবং পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।
সভায় অংশগ্রহণকারীরা সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, বনজ সম্পদের টেকসই ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তুলতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোর ভূমিকা বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়।
বক্তারা বলেন, সুন্দরবন রক্ষা করা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়; দেশের প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব ও কর্তব্য। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এই অনন্য প্রাকৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
আলোচনা শেষে সুন্দরবন সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং বনবিরোধী যেকোনো কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
নিজস্ব প্রতিবেদক 
























