ঢাকা ০৪:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
আনন্দবাজার পত্রিকায় শিরোনামঃ রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের ইস্তফায় ‘জলঘোলা’ হচ্ছে বাংলাদেশে তালার খলিলনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রনব ঘোষ স্বপদে বহাল সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ নির্দেশনা লাইসেন্স ফিরে পেল আদ্‌-দ্বীন হাসপাতাল খুলনায় রেলস্টেশনের সামনে গুলিবিদ্ধ যুবকের লাশ উদ্ধার সাংবাদিক সুরুজ আলীর মামলা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবি রাজশাহী প্রেসক্লাবের খুলনায় ৯ সন্ত্রাসী গ্রুপের দৌরাত্ম্য: ১৫ দিনে গ্রেপ্তার ১৮৪, তবু অধরা শীর্ষ গডফাদাররা রাজশাহী ‘ম্যাঙ্গো লাভার’ ই-কমার্স কার্যালয়ে তরুণীকে ধর্ষণচেষ্টার মামলায় যুবক আটক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাজশাহী প্রেসক্লাব সভাপতি সাইদুর রহমানের সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল খুলনায় বাসের টিকিট কালেক্টরের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

খুলনার কয়রায় জুলাই শহীদ দিবসের অনুষ্ঠানে ছাত্রদলকে আমন্ত্রণ না দেওয়ার ইউএনওকে প্রশ্ন করে অনুষ্ঠান বর্জন

  • খুলনা ব্যুরো
  • আপলোড সময় ০৮:২৩:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
  • 62

খুলনার কয়রায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে জুলাই শহীদ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা ও বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠানে উপজেলা ছাত্রদলের নেতাদের আমন্ত্রণ না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে অনুষ্ঠান চলাকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল বাকীকে প্রকাশ্যে প্রশ্ন করেন কয়রা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আরিফ বিল্লাহ সবুজ। পরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠান বর্জন করেন।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

কয়রা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আরিফ বিল্লাহ সবুজ অভিযোগ করে বলেন, “জুলাই আন্দোলনে ছাত্রদল প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত ছিল। উপজেলা থেকে জেলা পর্যায় পর্যন্ত প্রতিটি কর্মসূচিতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা নেতৃত্ব দিয়েছেন। আমাদের কাছে আন্দোলনের ছবি, ভিডিওসহ বিভিন্ন প্রমাণ রয়েছে। ৫ আগস্টের আন্দোলনেও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সামনের সারিতে ছিলেন। ওই আন্দোলনে পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হন, যার মধ্যে দুজন ছিলেন ছাত্রদলের কর্মী।”

তিনি বলেন, “যারা জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন, তাদের বাদ দিয়ে সরকারি উদ্যোগে জুলাই শহীদ দিবসের অনুষ্ঠান আয়োজনের কোনো যৌক্তিকতা নেই। বিএনপি ও জামায়াতের নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হলেও ছাত্রদলের কাউকে দাওয়াত দেওয়া হয়নি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।”

আরিফ বিল্লাহ সবুজ আরও বলেন, “আমরা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতা জুলাই আন্দোলনের চেতনার ওপর প্রতিষ্ঠিত। সেই আন্দোলনের অন্যতম অংশীদার ছাত্রদলকে বাদ দিয়ে জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়।”

এ সময় তিনি ইউএনওর কাছে জানতে চান, জুলাই আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়া ছাত্রদলকে বাদ দিয়ে কীভাবে জুলাই শহীদ দিবসের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হলো। অভিযোগ অনুযায়ী, এ প্রশ্নের তাৎক্ষণিক কোনো স্পষ্ট জবাব ইউএনও দিতে পারেননি।

কয়রা উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মাহমুদ হাসান বলেন, “প্রকৃত জুলাই যোদ্ধাদের বাদ দিয়ে কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল বাকী যে জুলাই শহীদ দিবসের অনুষ্ঠান আয়োজন করেছেন, তাতে আমরা চরমভাবে অপমানিত বোধ করেছি। পুরো জুলাই আন্দোলনে উপজেলা ছাত্রদলের প্রতিটি নেতাকর্মী রাজপথে ছিল। তারা জেল, জুলুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। আন্দোলনে তাদের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে উপজেলা প্রশাসনের কাছ থেকে ন্যূনতম সম্মান প্রত্যাশা করেছিলাম। কিন্তু আমাদের সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এ কারণে আমরা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে অনুষ্ঠানে গিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছি এবং অনুষ্ঠান প্রত্যাখ্যান করে চলে এসেছি।”

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল বাকীর সঙ্গে “একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Tag :
About Author Information

Nirvik Sangbad

জনপ্রিয় সংবাদ

আনন্দবাজার পত্রিকায় শিরোনামঃ রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের ইস্তফায় ‘জলঘোলা’ হচ্ছে বাংলাদেশে

খুলনার কয়রায় জুলাই শহীদ দিবসের অনুষ্ঠানে ছাত্রদলকে আমন্ত্রণ না দেওয়ার ইউএনওকে প্রশ্ন করে অনুষ্ঠান বর্জন

আপলোড সময় ০৮:২৩:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

খুলনার কয়রায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে জুলাই শহীদ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা ও বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠানে উপজেলা ছাত্রদলের নেতাদের আমন্ত্রণ না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে অনুষ্ঠান চলাকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল বাকীকে প্রকাশ্যে প্রশ্ন করেন কয়রা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আরিফ বিল্লাহ সবুজ। পরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠান বর্জন করেন।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

কয়রা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আরিফ বিল্লাহ সবুজ অভিযোগ করে বলেন, “জুলাই আন্দোলনে ছাত্রদল প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত ছিল। উপজেলা থেকে জেলা পর্যায় পর্যন্ত প্রতিটি কর্মসূচিতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা নেতৃত্ব দিয়েছেন। আমাদের কাছে আন্দোলনের ছবি, ভিডিওসহ বিভিন্ন প্রমাণ রয়েছে। ৫ আগস্টের আন্দোলনেও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সামনের সারিতে ছিলেন। ওই আন্দোলনে পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হন, যার মধ্যে দুজন ছিলেন ছাত্রদলের কর্মী।”

তিনি বলেন, “যারা জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন, তাদের বাদ দিয়ে সরকারি উদ্যোগে জুলাই শহীদ দিবসের অনুষ্ঠান আয়োজনের কোনো যৌক্তিকতা নেই। বিএনপি ও জামায়াতের নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হলেও ছাত্রদলের কাউকে দাওয়াত দেওয়া হয়নি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।”

আরিফ বিল্লাহ সবুজ আরও বলেন, “আমরা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতা জুলাই আন্দোলনের চেতনার ওপর প্রতিষ্ঠিত। সেই আন্দোলনের অন্যতম অংশীদার ছাত্রদলকে বাদ দিয়ে জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়।”

এ সময় তিনি ইউএনওর কাছে জানতে চান, জুলাই আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়া ছাত্রদলকে বাদ দিয়ে কীভাবে জুলাই শহীদ দিবসের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হলো। অভিযোগ অনুযায়ী, এ প্রশ্নের তাৎক্ষণিক কোনো স্পষ্ট জবাব ইউএনও দিতে পারেননি।

কয়রা উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মাহমুদ হাসান বলেন, “প্রকৃত জুলাই যোদ্ধাদের বাদ দিয়ে কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল বাকী যে জুলাই শহীদ দিবসের অনুষ্ঠান আয়োজন করেছেন, তাতে আমরা চরমভাবে অপমানিত বোধ করেছি। পুরো জুলাই আন্দোলনে উপজেলা ছাত্রদলের প্রতিটি নেতাকর্মী রাজপথে ছিল। তারা জেল, জুলুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। আন্দোলনে তাদের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে উপজেলা প্রশাসনের কাছ থেকে ন্যূনতম সম্মান প্রত্যাশা করেছিলাম। কিন্তু আমাদের সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এ কারণে আমরা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে অনুষ্ঠানে গিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছি এবং অনুষ্ঠান প্রত্যাখ্যান করে চলে এসেছি।”

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল বাকীর সঙ্গে “একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।