ঢাকা ০৯:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
খুলনায় যৌথ অভিযানের মধ্যেই বিএনপি কর্মীকে গুলি করে হত্যা ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরের ঘোষিত জাতীয় বাজেটকে ব্যবসাবান্ধব ও উন্নয়নমুখী দাবি খুলনা চেম্বারের তালায় জলবায়ু অভিযোজন নেটওয়ার্কের অর্ধবার্ষিক সভা মশার পেছনে কোটি টাকা: বিদেশ সফরে ব্যয়, সেই অর্থে কত ওষুধ ও স্প্রে মেশিন কেনা যেত? কুয়েটে ৪০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা: বিচার নাকি হয়রানি? শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ ঠাকুরগাঁও জেলার মোটরসাইকেল চুরির হোতা আ.লীগ নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম আটক জাল সনদের ৪৭১ জন ১০ বছর ধরে বেতন নিচ্ছেন! সরকারের ক্ষতি কত কোটি টাকা, কবে হবে অর্থ উদ্ধার—প্রশ্ন জনমনে খুলনার কয়রায় ৩০ হাজার টাকা ঘুষ না দেওয়ায় ঘর ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ ইউএনওর বিরুদ্ধে খুলনায় সোলার পার্ক সচলের দাবিতে ৬ দফা সুপারিশ অবশেষে খালাস পেলেন নাসির-তামিমা দম্পতি

স্বরাষ্ট্র সচিব ও ভুয়া সাংবাদিক পরিচয়ে উপকূলজুড়ে প্রতারণার জাল আশাশুনিতে তোলপাড়

সাতক্ষীরা ও খুলনা জেলার বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকায় সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী এবং এমনকি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব পরিচয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে শিহাবুজ্জামান নামের এক প্রতারকের বিরুদ্ধে। সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার মাড়িয়াল (পশ্চিম পাড়া) গ্রামের বাসিন্দা এই যুবকের প্রতারণার জালে পড়ে নিঃস্ব হয়েছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে খোদ পেশাদার সাংবাদিকও।

অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযুক্ত শিহাবুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরে সাতক্ষীরার উপকূলীয় অঞ্চল শ্যামনগর ও আশাশুনিসহ বিভিন্ন এলাকায় নিজেকে আশাশুনি প্রেস ক্লাবের সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছিলেন। তবে সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে এই দাবির সত্যতা মেলেনি। এই বিষয়ে আশাশুনি প্রেস ক্লাবের ক্যাশিয়ার মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানান—
“আমাদের প্রেস ক্লাবে এই নামে কোনো সদস্য নেই এবং আমরা তাকে চিনিও না। প্রেস ক্লাবের নাম ব্যবহার করে সে সম্পূর্ণ অবৈধ ও ভুয়া পরিচয় দিয়ে বেড়াচ্ছে।”
শুধু ভুয়া সাংবাদিক পরিচয়ই নয়, কয়রা ও আশাশুনির প্রত্যন্ত অঞ্চলে অসহায় মানুষকে সরকারি ঘর পাইয়ে দেওয়া এবং চাকরি দেওয়ার নামে সে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে ভুক্তভোগী স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
শিহাবুজ্জামানের প্রতারণার হাত থেকে রেহাই পাননি পেশাদার সাংবাদিকরাও। জানা গেছে, কলারোয়া উপজেলায় কর্মরত জাতীয় দৈনিক একুশে নিউজ পত্রিকার -এর স্টাফ রিপোর্টার আবু রায়হান এই প্রতারক চক্রের সরাসরি শিকার হয়েছেন।
সাংবাদিক আবু রায়হানকে প্রেস কাউন্সিলের সদস্যপদ ও আইডি কার্ড (পরিচয়পত্র) পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৭ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় শিহাবুজ্জামান। একজন গণমাধ্যমকর্মী হয়েও এমন অভিনব প্রতারণার শিকার হওয়ায় স্থানীয় সংবাদকর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীদের প্রশ্ন— “একজন পেশাদার সাংবাদিক যদি এভাবে প্রতারণার শিকার হন, তবে সাধারণ অসহায় মানুষ এই ভুয়া চক্রের হাত থেকে কীভাবে বাঁচবে?”
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, সাতক্ষীরার পাশাপাশি খুলনা জেলার কয়রা উপজেলাতে ও শিহাবুজ্জামান তার প্রতারণা নেটওয়ার্ক বিস্তার করেছে। কয়রার দেয়াড়া গ্রামে এক কথিত ভুয়া নারী সাংবাদিকের বাড়িতে তার নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ওই নারীর সাথে শিহাবুজ্জামান দুই জন মিলে প্রতারণা করেন এবং তারা দুজনে মিলে এলাকায় একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে।

বর্তমানে ওই প্রতারকের এহেন কর্মকাণ্ডে উপকূলীয় এলাকার সাধারণ মানুষ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে স্থানীয় সচেতন মহল এবং সাংবাদিক সমাজ জানিয়েছেন, এই চিহ্নিত ও ভুয়া পরিচয়ধারী প্রতারককে যেখানেই দেখা যাবে, তাকে অবরুদ্ধ করে অবিলম্বে পুলিশের হাতে সোপর্দ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই বিষয়ে আশাশুনি ও কয়রা থানার পুলিশের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ গণ।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

খুলনায় যৌথ অভিযানের মধ্যেই বিএনপি কর্মীকে গুলি করে হত্যা

স্বরাষ্ট্র সচিব ও ভুয়া সাংবাদিক পরিচয়ে উপকূলজুড়ে প্রতারণার জাল আশাশুনিতে তোলপাড়

আপডেট সময় ১০:০৫:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

সাতক্ষীরা ও খুলনা জেলার বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকায় সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী এবং এমনকি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব পরিচয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে শিহাবুজ্জামান নামের এক প্রতারকের বিরুদ্ধে। সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার মাড়িয়াল (পশ্চিম পাড়া) গ্রামের বাসিন্দা এই যুবকের প্রতারণার জালে পড়ে নিঃস্ব হয়েছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে খোদ পেশাদার সাংবাদিকও।

অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযুক্ত শিহাবুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরে সাতক্ষীরার উপকূলীয় অঞ্চল শ্যামনগর ও আশাশুনিসহ বিভিন্ন এলাকায় নিজেকে আশাশুনি প্রেস ক্লাবের সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছিলেন। তবে সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে এই দাবির সত্যতা মেলেনি। এই বিষয়ে আশাশুনি প্রেস ক্লাবের ক্যাশিয়ার মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানান—
“আমাদের প্রেস ক্লাবে এই নামে কোনো সদস্য নেই এবং আমরা তাকে চিনিও না। প্রেস ক্লাবের নাম ব্যবহার করে সে সম্পূর্ণ অবৈধ ও ভুয়া পরিচয় দিয়ে বেড়াচ্ছে।”
শুধু ভুয়া সাংবাদিক পরিচয়ই নয়, কয়রা ও আশাশুনির প্রত্যন্ত অঞ্চলে অসহায় মানুষকে সরকারি ঘর পাইয়ে দেওয়া এবং চাকরি দেওয়ার নামে সে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে ভুক্তভোগী স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
শিহাবুজ্জামানের প্রতারণার হাত থেকে রেহাই পাননি পেশাদার সাংবাদিকরাও। জানা গেছে, কলারোয়া উপজেলায় কর্মরত জাতীয় দৈনিক একুশে নিউজ পত্রিকার -এর স্টাফ রিপোর্টার আবু রায়হান এই প্রতারক চক্রের সরাসরি শিকার হয়েছেন।
সাংবাদিক আবু রায়হানকে প্রেস কাউন্সিলের সদস্যপদ ও আইডি কার্ড (পরিচয়পত্র) পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৭ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় শিহাবুজ্জামান। একজন গণমাধ্যমকর্মী হয়েও এমন অভিনব প্রতারণার শিকার হওয়ায় স্থানীয় সংবাদকর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীদের প্রশ্ন— “একজন পেশাদার সাংবাদিক যদি এভাবে প্রতারণার শিকার হন, তবে সাধারণ অসহায় মানুষ এই ভুয়া চক্রের হাত থেকে কীভাবে বাঁচবে?”
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, সাতক্ষীরার পাশাপাশি খুলনা জেলার কয়রা উপজেলাতে ও শিহাবুজ্জামান তার প্রতারণা নেটওয়ার্ক বিস্তার করেছে। কয়রার দেয়াড়া গ্রামে এক কথিত ভুয়া নারী সাংবাদিকের বাড়িতে তার নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ওই নারীর সাথে শিহাবুজ্জামান দুই জন মিলে প্রতারণা করেন এবং তারা দুজনে মিলে এলাকায় একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে।

বর্তমানে ওই প্রতারকের এহেন কর্মকাণ্ডে উপকূলীয় এলাকার সাধারণ মানুষ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে স্থানীয় সচেতন মহল এবং সাংবাদিক সমাজ জানিয়েছেন, এই চিহ্নিত ও ভুয়া পরিচয়ধারী প্রতারককে যেখানেই দেখা যাবে, তাকে অবরুদ্ধ করে অবিলম্বে পুলিশের হাতে সোপর্দ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই বিষয়ে আশাশুনি ও কয়রা থানার পুলিশের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ গণ।