ঢাকা ০৮:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
আনন্দবাজার পত্রিকায় শিরোনামঃ রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের ইস্তফায় ‘জলঘোলা’ হচ্ছে বাংলাদেশে তালার খলিলনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রনব ঘোষ স্বপদে বহাল সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ নির্দেশনা লাইসেন্স ফিরে পেল আদ্‌-দ্বীন হাসপাতাল খুলনায় রেলস্টেশনের সামনে গুলিবিদ্ধ যুবকের লাশ উদ্ধার সাংবাদিক সুরুজ আলীর মামলা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবি রাজশাহী প্রেসক্লাবের খুলনায় ৯ সন্ত্রাসী গ্রুপের দৌরাত্ম্য: ১৫ দিনে গ্রেপ্তার ১৮৪, তবু অধরা শীর্ষ গডফাদাররা রাজশাহী ‘ম্যাঙ্গো লাভার’ ই-কমার্স কার্যালয়ে তরুণীকে ধর্ষণচেষ্টার মামলায় যুবক আটক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাজশাহী প্রেসক্লাব সভাপতি সাইদুর রহমানের সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল খুলনায় বাসের টিকিট কালেক্টরের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

খুলনায় সোলার পার্ক সচলের দাবিতে ৬ দফা সুপারিশ

  • খুলনা অফিস
  • আপলোড সময় ১০:৩৩:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
  • 26

দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে অলস পড়ে আছে খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা সোলার পার্ক। অথচ মাত্র ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা খরচ করে সামান্য সংস্কার করলেই ২০ কিলোওয়াট ক্ষমতার এই পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎকেন্দ্রটি আবার সচল করা সম্ভব। এই সোলার পার্কটি বাস্তবায়নে ৬ দফা সুপারিশ করেছে পরিবেশবাদী সংগঠন প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম (ফেড)। গতকাল বুধবার খুলনা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ সুপারিশ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত ৬টি সুপারিশের মধ্যে রয়েছে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে সোনাডাঙ্গা সোলার পার্কটি চালু করার উদ্যোগ গ্রহণ, সোলার পার্কের স্থাপনার ছাদের বাকি জায়গা ও পুকুরের অংশবিশেষ এলাকায় সোলার প্যানেল বসিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা, নগর ভবন ও নগরীর বড় বড় ভবনগুলোয় সোলার বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে ভবন-মালিকদের উদ্বুদ্ধ ও প্রণোদনা দেয়া, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুকরণে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় ও বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাদে সোলার বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা, বিল্ডিং কোড অনুযায়ী নতুন ভবনে সোলার প্যানেল স্থাপনের ধারাটি কার্যকর করে কেডিএর যথাযথ ভূমিকা পালন এবং খুলনাকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ, নবায়নযোগ্য জ্বালানিবান্ধব নগরী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে সার্বিক পরিকল্পনা গ্রহণ।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তৃতায় সংগঠনের আহ্বায়ক অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির বলেন, বৈশ্বিক যুদ্ধবিগ্রহ ও ভূরাজনীতির কারণে তেলের বাজার অস্থির হয়ে ওঠায় দেশে বিদ্যুৎ ও দ্রব্যের মূল্য বেড়েছে। এই সংকট আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে বিদ্যুৎ খাতে স্বয়ম্ভরতা ও আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির কোনো বিকল্প নেই। অথচ কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় ২০০৮ সালে ৪.৩৩ একর জমির ওপর নির্মিত দেশের অন্যতম এই সোলার পার্কটি কারিগরি ত্রুটি ও তার চুরির কারণে ২০১২ সাল থেকে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে সোলার পার্কটির টেকসই আধুনিকায়নের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট কারিগরি ও আর্থিক পরিকল্পনা পেশ করা হয়।
আনোয়ারুল কাদির বলেন, পার্কের অব্যবহৃত ছাদ এবং পুকুরের ৩০ শতাংশ জায়গা ব্যবহার করে মোট ৩৩৫ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। এরমধ্যে ছাদে ৪৫ কিলোওয়াট এবং পুকুরে ২৯০ কিলোওয়াট ভাসমান সৌর প্যানেল স্থাপন করা যেতে পারে।
লিখিত বক্তৃতায় আরও বলা হয়, নতুন প্যানেল ও সংস্কার বাবদ প্রায় ১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করলে বছরে প্রায় ৪৬ লাখ টাকার বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে। ওপেক্স মডেলে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এটি পরিচালনা করলে মাত্র ৫ বছরেই খুলনা সিটি করপোরেশনের পুরো বিনিয়োগ উসুল হবে এবং বাকি ১৫ বছর বিনামূল্যে বিদ্যুৎ মিলবে। এছাড়া বন্ধ থাকা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি সরকারি বিভিন্ন অধিদপ্তরের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে চালু করে দক্ষ জনবল তৈরি ও কেসিসির আয় বাড়ানো সম্ভব।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সোলার সিস্টেম চালু করে সফলতার উদাহরণ তৈরি করেছে উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে কেসিসি প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। একই সঙ্গে নতুন ভবনে সোলার প্যানেল স্থাপনে কেডিএ-কে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়। খুলনাকে একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিবান্ধব মহানগরী হিসেবে গড়ে তুলতে অবিলম্বে সোনাডাঙ্গা সোলার পার্কটি সচল করাসহ ৬ দফা দাবি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

Tag :
About Author Information

Nirvik Sangbad

জনপ্রিয় সংবাদ

আনন্দবাজার পত্রিকায় শিরোনামঃ রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের ইস্তফায় ‘জলঘোলা’ হচ্ছে বাংলাদেশে

খুলনায় সোলার পার্ক সচলের দাবিতে ৬ দফা সুপারিশ

আপলোড সময় ১০:৩৩:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে অলস পড়ে আছে খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা সোলার পার্ক। অথচ মাত্র ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা খরচ করে সামান্য সংস্কার করলেই ২০ কিলোওয়াট ক্ষমতার এই পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎকেন্দ্রটি আবার সচল করা সম্ভব। এই সোলার পার্কটি বাস্তবায়নে ৬ দফা সুপারিশ করেছে পরিবেশবাদী সংগঠন প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম (ফেড)। গতকাল বুধবার খুলনা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ সুপারিশ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত ৬টি সুপারিশের মধ্যে রয়েছে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে সোনাডাঙ্গা সোলার পার্কটি চালু করার উদ্যোগ গ্রহণ, সোলার পার্কের স্থাপনার ছাদের বাকি জায়গা ও পুকুরের অংশবিশেষ এলাকায় সোলার প্যানেল বসিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা, নগর ভবন ও নগরীর বড় বড় ভবনগুলোয় সোলার বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে ভবন-মালিকদের উদ্বুদ্ধ ও প্রণোদনা দেয়া, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুকরণে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় ও বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাদে সোলার বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা, বিল্ডিং কোড অনুযায়ী নতুন ভবনে সোলার প্যানেল স্থাপনের ধারাটি কার্যকর করে কেডিএর যথাযথ ভূমিকা পালন এবং খুলনাকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ, নবায়নযোগ্য জ্বালানিবান্ধব নগরী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে সার্বিক পরিকল্পনা গ্রহণ।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তৃতায় সংগঠনের আহ্বায়ক অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির বলেন, বৈশ্বিক যুদ্ধবিগ্রহ ও ভূরাজনীতির কারণে তেলের বাজার অস্থির হয়ে ওঠায় দেশে বিদ্যুৎ ও দ্রব্যের মূল্য বেড়েছে। এই সংকট আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে বিদ্যুৎ খাতে স্বয়ম্ভরতা ও আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির কোনো বিকল্প নেই। অথচ কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় ২০০৮ সালে ৪.৩৩ একর জমির ওপর নির্মিত দেশের অন্যতম এই সোলার পার্কটি কারিগরি ত্রুটি ও তার চুরির কারণে ২০১২ সাল থেকে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে সোলার পার্কটির টেকসই আধুনিকায়নের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট কারিগরি ও আর্থিক পরিকল্পনা পেশ করা হয়।
আনোয়ারুল কাদির বলেন, পার্কের অব্যবহৃত ছাদ এবং পুকুরের ৩০ শতাংশ জায়গা ব্যবহার করে মোট ৩৩৫ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। এরমধ্যে ছাদে ৪৫ কিলোওয়াট এবং পুকুরে ২৯০ কিলোওয়াট ভাসমান সৌর প্যানেল স্থাপন করা যেতে পারে।
লিখিত বক্তৃতায় আরও বলা হয়, নতুন প্যানেল ও সংস্কার বাবদ প্রায় ১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করলে বছরে প্রায় ৪৬ লাখ টাকার বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে। ওপেক্স মডেলে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এটি পরিচালনা করলে মাত্র ৫ বছরেই খুলনা সিটি করপোরেশনের পুরো বিনিয়োগ উসুল হবে এবং বাকি ১৫ বছর বিনামূল্যে বিদ্যুৎ মিলবে। এছাড়া বন্ধ থাকা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি সরকারি বিভিন্ন অধিদপ্তরের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে চালু করে দক্ষ জনবল তৈরি ও কেসিসির আয় বাড়ানো সম্ভব।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সোলার সিস্টেম চালু করে সফলতার উদাহরণ তৈরি করেছে উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে কেসিসি প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। একই সঙ্গে নতুন ভবনে সোলার প্যানেল স্থাপনে কেডিএ-কে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়। খুলনাকে একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিবান্ধব মহানগরী হিসেবে গড়ে তুলতে অবিলম্বে সোনাডাঙ্গা সোলার পার্কটি সচল করাসহ ৬ দফা দাবি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।