ঢাকা ০৮:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
খুলনায় যৌথ অভিযানের মধ্যেই বিএনপি কর্মীকে গুলি করে হত্যা ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরের ঘোষিত জাতীয় বাজেটকে ব্যবসাবান্ধব ও উন্নয়নমুখী দাবি খুলনা চেম্বারের তালায় জলবায়ু অভিযোজন নেটওয়ার্কের অর্ধবার্ষিক সভা মশার পেছনে কোটি টাকা: বিদেশ সফরে ব্যয়, সেই অর্থে কত ওষুধ ও স্প্রে মেশিন কেনা যেত? কুয়েটে ৪০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা: বিচার নাকি হয়রানি? শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ ঠাকুরগাঁও জেলার মোটরসাইকেল চুরির হোতা আ.লীগ নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম আটক জাল সনদের ৪৭১ জন ১০ বছর ধরে বেতন নিচ্ছেন! সরকারের ক্ষতি কত কোটি টাকা, কবে হবে অর্থ উদ্ধার—প্রশ্ন জনমনে খুলনার কয়রায় ৩০ হাজার টাকা ঘুষ না দেওয়ায় ঘর ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ ইউএনওর বিরুদ্ধে খুলনায় সোলার পার্ক সচলের দাবিতে ৬ দফা সুপারিশ অবশেষে খালাস পেলেন নাসির-তামিমা দম্পতি

খুলনায় সোলার পার্ক সচলের দাবিতে ৬ দফা সুপারিশ

  • খুলনা অফিস
  • আপডেট সময় ১০:৩৩:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে অলস পড়ে আছে খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা সোলার পার্ক। অথচ মাত্র ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা খরচ করে সামান্য সংস্কার করলেই ২০ কিলোওয়াট ক্ষমতার এই পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎকেন্দ্রটি আবার সচল করা সম্ভব। এই সোলার পার্কটি বাস্তবায়নে ৬ দফা সুপারিশ করেছে পরিবেশবাদী সংগঠন প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম (ফেড)। গতকাল বুধবার খুলনা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ সুপারিশ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত ৬টি সুপারিশের মধ্যে রয়েছে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে সোনাডাঙ্গা সোলার পার্কটি চালু করার উদ্যোগ গ্রহণ, সোলার পার্কের স্থাপনার ছাদের বাকি জায়গা ও পুকুরের অংশবিশেষ এলাকায় সোলার প্যানেল বসিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা, নগর ভবন ও নগরীর বড় বড় ভবনগুলোয় সোলার বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে ভবন-মালিকদের উদ্বুদ্ধ ও প্রণোদনা দেয়া, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুকরণে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় ও বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাদে সোলার বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা, বিল্ডিং কোড অনুযায়ী নতুন ভবনে সোলার প্যানেল স্থাপনের ধারাটি কার্যকর করে কেডিএর যথাযথ ভূমিকা পালন এবং খুলনাকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ, নবায়নযোগ্য জ্বালানিবান্ধব নগরী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে সার্বিক পরিকল্পনা গ্রহণ।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তৃতায় সংগঠনের আহ্বায়ক অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির বলেন, বৈশ্বিক যুদ্ধবিগ্রহ ও ভূরাজনীতির কারণে তেলের বাজার অস্থির হয়ে ওঠায় দেশে বিদ্যুৎ ও দ্রব্যের মূল্য বেড়েছে। এই সংকট আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে বিদ্যুৎ খাতে স্বয়ম্ভরতা ও আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির কোনো বিকল্প নেই। অথচ কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় ২০০৮ সালে ৪.৩৩ একর জমির ওপর নির্মিত দেশের অন্যতম এই সোলার পার্কটি কারিগরি ত্রুটি ও তার চুরির কারণে ২০১২ সাল থেকে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে সোলার পার্কটির টেকসই আধুনিকায়নের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট কারিগরি ও আর্থিক পরিকল্পনা পেশ করা হয়।
আনোয়ারুল কাদির বলেন, পার্কের অব্যবহৃত ছাদ এবং পুকুরের ৩০ শতাংশ জায়গা ব্যবহার করে মোট ৩৩৫ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। এরমধ্যে ছাদে ৪৫ কিলোওয়াট এবং পুকুরে ২৯০ কিলোওয়াট ভাসমান সৌর প্যানেল স্থাপন করা যেতে পারে।
লিখিত বক্তৃতায় আরও বলা হয়, নতুন প্যানেল ও সংস্কার বাবদ প্রায় ১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করলে বছরে প্রায় ৪৬ লাখ টাকার বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে। ওপেক্স মডেলে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এটি পরিচালনা করলে মাত্র ৫ বছরেই খুলনা সিটি করপোরেশনের পুরো বিনিয়োগ উসুল হবে এবং বাকি ১৫ বছর বিনামূল্যে বিদ্যুৎ মিলবে। এছাড়া বন্ধ থাকা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি সরকারি বিভিন্ন অধিদপ্তরের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে চালু করে দক্ষ জনবল তৈরি ও কেসিসির আয় বাড়ানো সম্ভব।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সোলার সিস্টেম চালু করে সফলতার উদাহরণ তৈরি করেছে উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে কেসিসি প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। একই সঙ্গে নতুন ভবনে সোলার প্যানেল স্থাপনে কেডিএ-কে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়। খুলনাকে একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিবান্ধব মহানগরী হিসেবে গড়ে তুলতে অবিলম্বে সোনাডাঙ্গা সোলার পার্কটি সচল করাসহ ৬ দফা দাবি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

খুলনায় যৌথ অভিযানের মধ্যেই বিএনপি কর্মীকে গুলি করে হত্যা

খুলনায় সোলার পার্ক সচলের দাবিতে ৬ দফা সুপারিশ

আপডেট সময় ১০:৩৩:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে অলস পড়ে আছে খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা সোলার পার্ক। অথচ মাত্র ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা খরচ করে সামান্য সংস্কার করলেই ২০ কিলোওয়াট ক্ষমতার এই পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎকেন্দ্রটি আবার সচল করা সম্ভব। এই সোলার পার্কটি বাস্তবায়নে ৬ দফা সুপারিশ করেছে পরিবেশবাদী সংগঠন প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম (ফেড)। গতকাল বুধবার খুলনা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ সুপারিশ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত ৬টি সুপারিশের মধ্যে রয়েছে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে সোনাডাঙ্গা সোলার পার্কটি চালু করার উদ্যোগ গ্রহণ, সোলার পার্কের স্থাপনার ছাদের বাকি জায়গা ও পুকুরের অংশবিশেষ এলাকায় সোলার প্যানেল বসিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা, নগর ভবন ও নগরীর বড় বড় ভবনগুলোয় সোলার বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে ভবন-মালিকদের উদ্বুদ্ধ ও প্রণোদনা দেয়া, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুকরণে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় ও বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাদে সোলার বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা, বিল্ডিং কোড অনুযায়ী নতুন ভবনে সোলার প্যানেল স্থাপনের ধারাটি কার্যকর করে কেডিএর যথাযথ ভূমিকা পালন এবং খুলনাকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ, নবায়নযোগ্য জ্বালানিবান্ধব নগরী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে সার্বিক পরিকল্পনা গ্রহণ।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তৃতায় সংগঠনের আহ্বায়ক অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির বলেন, বৈশ্বিক যুদ্ধবিগ্রহ ও ভূরাজনীতির কারণে তেলের বাজার অস্থির হয়ে ওঠায় দেশে বিদ্যুৎ ও দ্রব্যের মূল্য বেড়েছে। এই সংকট আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে বিদ্যুৎ খাতে স্বয়ম্ভরতা ও আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির কোনো বিকল্প নেই। অথচ কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় ২০০৮ সালে ৪.৩৩ একর জমির ওপর নির্মিত দেশের অন্যতম এই সোলার পার্কটি কারিগরি ত্রুটি ও তার চুরির কারণে ২০১২ সাল থেকে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে সোলার পার্কটির টেকসই আধুনিকায়নের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট কারিগরি ও আর্থিক পরিকল্পনা পেশ করা হয়।
আনোয়ারুল কাদির বলেন, পার্কের অব্যবহৃত ছাদ এবং পুকুরের ৩০ শতাংশ জায়গা ব্যবহার করে মোট ৩৩৫ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। এরমধ্যে ছাদে ৪৫ কিলোওয়াট এবং পুকুরে ২৯০ কিলোওয়াট ভাসমান সৌর প্যানেল স্থাপন করা যেতে পারে।
লিখিত বক্তৃতায় আরও বলা হয়, নতুন প্যানেল ও সংস্কার বাবদ প্রায় ১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করলে বছরে প্রায় ৪৬ লাখ টাকার বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে। ওপেক্স মডেলে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এটি পরিচালনা করলে মাত্র ৫ বছরেই খুলনা সিটি করপোরেশনের পুরো বিনিয়োগ উসুল হবে এবং বাকি ১৫ বছর বিনামূল্যে বিদ্যুৎ মিলবে। এছাড়া বন্ধ থাকা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি সরকারি বিভিন্ন অধিদপ্তরের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে চালু করে দক্ষ জনবল তৈরি ও কেসিসির আয় বাড়ানো সম্ভব।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সোলার সিস্টেম চালু করে সফলতার উদাহরণ তৈরি করেছে উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে কেসিসি প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। একই সঙ্গে নতুন ভবনে সোলার প্যানেল স্থাপনে কেডিএ-কে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়। খুলনাকে একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিবান্ধব মহানগরী হিসেবে গড়ে তুলতে অবিলম্বে সোনাডাঙ্গা সোলার পার্কটি সচল করাসহ ৬ দফা দাবি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।