মায়ের মরদেহ ফেরত পাওয়ার জন্য এক ছেলেকে কান ধরে ওঠবস করানোর অভিযোগে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, চিকিৎসকের সঙ্গে বিরোধের পর মৃত রোগীর স্বজনের ওপর এমন অপমানজনক আচরণ করা হয়। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগে ভর্তি নূর নাহার বেগম নামে এক রোগীর মৃত্যু হয়। এরপর মরদেহ হস্তান্তরকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়। অভিযোগ রয়েছে, রোগীর ছেলে রিফাত হোসেনকে হাসপাতালের একটি কক্ষে কান ধরে ওঠবস করানো হয় এবং পরে মরদেহ পরিবারের কাছে দেওয়া হয়।
ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে—কোনো অভিযোগ বা ভুল বোঝাবুঝি থাকলেও একজন শোকাহত স্বজনকে এভাবে অপমান করার অধিকার কারও নেই। চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান মানুষের আস্থা ও মানবিকতার জায়গা; সেখানে মরদেহ হস্তান্তরের মতো সংবেদনশীল সময়ে এমন আচরণ স্বাস্থ্যসেবার ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে বলে মত দিয়েছেন অনেকে।
এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে যারা দায়িত্বের অপব্যবহার করেছেন বা মানবিক আচরণের সীমা লঙ্ঘন করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছেও প্রশ্ন উঠেছে—মরদেহ হস্তান্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কেন পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গেল এবং রোগীর স্বজনের সঙ্গে কেন অপমানজনক আচরণের অভিযোগ উঠল। স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে রোগী ও স্বজনদের সম্মান, নিরাপত্তা ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চিকিৎসক-স্বজন দ্বন্দ্বের কোনো ঘটনা থাকলে তা নিয়মতান্ত্রিকভাবে সমাধান করতে হবে। কিন্তু শাস্তি বা অপমানের নামে কোনো ব্যক্তিকে জনসম্মুখে হেয় করা গ্রহণযোগ্য নয়।
রংপুরের এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের শনাক্তকরণ এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
নিজস্ব প্রতিবেদক 
























