জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আরেকটি অনিবার্য বিপ্লবের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। এই বিপ্লব কোনো দলকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য নয়, কোনো গোষ্ঠী এবং পরিবারকে তোষামোদ করার জন্য নয়, কোনো আধিপত্যবাদের কাছে মাথানত করার জন্য নয়। বরঞ্চ দুনিয়ার বুকে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসাবে সম্মান এবং ইজ্জত, শক্তি, সাহস নিয়ে মাথা তুলে দাঁড়াবার জন্যই হবে আগামী বিপ্লব। সেই অনিবার্য বিপ্লবের জন্য সকলকে প্রস্তুত থাকতে হবে। তিনি গতকাল শনিবার বিকালে খুলনার সার্কিট হাউজ ময়দানে ‘ গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ লাঘব ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।
তিনি বিএনপিকে উদ্দেশে বলেন, বিএনপি জাতির সঙ্গে দেওয়া কথা রাখে নাই। আমরা বিএনপিকে বলছি, দেশ এবং জাতির স্বার্থে আপনারা ভুল করছেন। আপনারা ভুল সংশোধন করে জনগণের কাতারে আসুন। জগনণকে সম্মান করুন। জনগণকে সম্মান না করার পরিণতি কী হতে পারে-দফায় দফায় দেখার পরও যদি শিক্ষা না হয়, জীবনেও আপনাদের শিক্ষা হবে না।
তিনি খুলনাবাসীর উদ্দেশে বলেন, আমরা আপনাদের কথা দিতে এসেছি। আপনারা যে রায় দিয়েছেন, আমরা সেই রায়টাই আপনাদের কাছে চেয়েছিলাম। আর আমরা বলেছিলাম, এ রায় বাস্তবায়ন করা হবে সংসদে গিয়ে, আমাদের দায়িত্ব। চুরি, ডাকাতি, ইঞ্জিনিয়ারিং করে ভোট কেড়ে নেওয়া হয়েছে, নেওয়া হোক। আমরা সংসদে যারা আছি, সংসদে আমরা সিংহের মতো লড়াই করে যাবো ইনশাল্লাহ।
তিনি বলেন, আমরা জানি সহজে কানে পানি ঢুকবে না। সিরিঞ্জ দিয়ে যদি ঢোকাতে হয়, সে পানি আমরা ঢোকাবো। যদি ফয়সালা সংসদে না হয়, তাহলে যেখানে কথা কলতে মাননীয় স্পিকার বলতে হয় না, যেখানে কথা বলতে স্পিকারের অনুমোদন লাগে না-সেই খুলনার মাঠ, বরিশালের মাঠ, চট্টগ্রামের মাঠ, কুমিল্লার মাঠ, সিলেটের মাঠ, ময়মনসিংহের মাঠ, রংপুরের মাঠ, রাজশাহীর মাছ বগুড়ার মাঠ- সব জায়গা থেকে আগ্নেয়গিরি তৈরি হবে। এই আগ্নেয়গিরির দাবানলে সমস্ত আবর্জনা পুড়ে ছারখার হয়ে যাবে। আমরা চাই না দেশে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হোক। এ দেশকে আমরা ভালোবাসি। সকল যন্ত্রণা বুকে নিয়ে আমরা নির্বাচনের ফলাফলকে মেনে নিয়েছি। কিন্তু এ কথা মনে করবেন না কেউ, নির্বাচনের ফলাফল দেশে একটা গৃহযুদ্ধ শুরু না হোক- সেই জন্যই আমরা মেনে নিয়েছিলাম।
জামায়াত আমীর বলেন, আমরা কারো বাপ-দাদার চোখ রাঙানিকে আমরা পরোয়া করব না। অন্যায়ের কাছে আমরা মাথা নত করব না। আমাদের নেতৃবৃন্দ হাঁটতে হাঁটতে ফাসির দ-ে দাঁড়িয়ে মুচকি হাসি দিয়ে আমাদেরকে শিখিয়ে দিয়েছেন, জাতির জন্য প্রয়োজনে তোমাদেরকে ঐ মুচকি হাসি দেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। খানজাহান আলী ও শাহ পরানের বাংলাদেশে জনগণ সেই মুচকি হাসি দেওয়ার জন্য প্রস্তুত।
সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা কোনো আধিপত্যবাদের কাছে মাথানত করব না। সরকারকে স্পষ্ট বলে দিচ্ছি, যদি এই দেশবাসী এবং আমরা দেখতে পাই আপনারা আধিপত্যবাদীর কাছে আপনারা মাথানত করছেন, তাহলে আমরা আপনাদেরকেও ছেড়ে কথা বলব না।
তিনি পতিত স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার নাম উচ্চারণ না করে বলেন, ২৪ সালে আমাদের তরুণ আমাদের ছাত্র সমাজ তাদের ন্যায্য অধিকারের দাবিতে আন্দোলন গড়ে তুলেছিল। সাড়ে ১৫ বছর ফ্যাসিবাদী কায়দায় ছাত্র-য্বু সমাজের আন্দোলনকে দমানোর চেষ্টা করা হলো। রাষ্ট্রের সকল বাহিনীকে লেলিয়ে দেওয়া হলো। নির্বিচারে মানুষ খুন করা হলো, পঙ্গু করা হলো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জন¯্রােতের মুখে যারা এক সময় দম্ভ করে বলতেন হাসিনা পালায় না, হাসিনা পালাতে জানে না, আপনি পালিয়েছেন, আপনি অপমাণজনকভাবে পালিয়েছেন। এমনকি বড় আশা করেছিলেন, দুপুরের ভাত খাবেন, আল্লাহ সেটাও রিজিকে রাখেননি। সেই রিজিক আপনি ভোগ করতে পারেননি। সেই ভাত ফেলে আপনাকে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যেতে হয়েছে। কোথায় গিয়েছেন, সাড়ে ১৫ বছর আপনি যাদের সেবাদাসী হিসেবে কাজ করেছিলেন, তাদের কোলে গিয়ে আপনি আশ্রয় নিয়েছেন। আপনার কোনো অনুশোচনা নেই, আপনি মানুষ খুন করলেন, আয়না ঘরে মানুষদের মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য করলেন। অসংখ্য মানুষকে পঙ্গু করলেন, রাষ্ট্রের সকল প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করলেন। ব্যাংক, বীমা শেয়ার মার্কেট লুট করলেন। অর্থ বিদেশে পাচার করলেন। আপনি বেহায়া, আপনি নির্লজ্জ। উল্টা আপনি ওপার থেকে সুড়সুড়ি দেন, এই আমি এসে গেলাম। এতো সুড়সুড়ির দরকার কি। একবার এসে দ্যাখেন না। আসাটা কাকে বলে।
বিরোধী দলীয় নেতা প্রতিবেশী রাষ্ট্রকে উদ্দেশ করে বলেন, সাবধান, ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত আজ প্রস্তুত, সীমান্তে সুড়সুড়ি দিয়া হচ্ছে। পুশিংয়ের নামে একটা দেশ তাদের নাগরিকদেরকে অবৈধভাবে আমাদের দেশে ঠেলে দিতে চাচ্ছে। আমাদের মুষ্টিমেয় বিজিবি সদস্য সীমান্তে যখন দাঁড়িয়ে গেছে, জনগণ তখন তাদের ডান হাতে পরিণত হয়েছে। এই ডান হাত সারা বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষ। অতএব আমরা চাই না, আমাদেরে কোনো প্রতিবেশীর ঘুম এবং শান্তি কেড়ে নিতে। আমাদের দিকে তাদের কালো হাত বাড়াক-এটাও আমরা চাই না। যদি কেউ আমাদের দিকে কালো হাত বাড়ায়, মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করে বলছি, সেই কালো হাত ভেঙ্গে দিতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেন, ১১ দলীয় ঐক্যের রাজনৈতিক জোটের লক্ষ্য বৈষম্য, দারিদ্র্য, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিমুক্ত একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা। কিন্তু নানা রাজনৈতিক কৌশল ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশার সরকার প্রতিষ্ঠা বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, যারা ইসলামী মূল্যবোধ, নীতি-নৈতিকতা ও সুশাসনের কথা বলে- তাদেরকে উদ্দেশপ্রণোদিতভাবে উগ্রবাদী বা মৌলবাদী হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে, যা দেশের জন্য ক্ষতিকর।
তিনি দাবি করেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় নৈতিকতা, জবাবদিহি ও জনকল্যাণমূলক রাজনীতির পরিবর্তে দলীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বেকারত্ব বৃদ্ধি এবং
রিতা হক 

























