ঢাকা ০৫:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
খুলনায় তাঁতি দল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা খুলনায় দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে যুব/ক নিহত খুলনা অফিস সমাজকর্মী নাহিদ হাসান তালা উপজেলার শ্রেষ্ঠ সংগঠক নির্বাচিত রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামো পরিবর্তন না হলে সার্বিক বিপর্যয়ের শঙ্কা রয়েছে — শায়েখ চরমোনাই বাঘারপাড়া ডিগ্রি কলেজ আঙিনায় ১৬ মেহগনি গাছের বড় ডাল কেঁটে সাবাড়, শিক্ষার্থী মানববন্ধন খুলনায় অস্ত্র ও গুলিসহ সন্ত্রাসী আশিক বাহিনীর শুটার গ্রেফতার সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে বিরোধ, গোদাগাড়ীর ইউএনওর কার্যালয়ে বিশৃঙ্খলা: সরকারি কাজে বাধা ও হুমকির অভিযোগে মামলা গেজেটে প্রকাশিত হলো ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা ফয়সল আমিনের নাম তালায় নারীর প্রতি সহিংসতা ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সংলাপ সভা এইচএসসি ও সমমানে ঠাকুরগাঁওয়ের ৯ কলেজে পাস করেনি কোনো শিক্ষার্থী

খুলনার ডাক্তারপাড়া হেফজখানায় শিশু শিক্ষার্থীকে অমানবিক নির্যাতন

  • খুলনা অফিস
  • আপলোড সময় ০৬:২৯:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
  • 54

খুলনা মহানগরীর ডাক্তারপাড়া এলাকায় অবস্থিত ‘নুরুল কুরআন তাহফিজ একাডেমি’ নামের একটি হেফ্জখানায় আট বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে অমানবিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আব্দুর রহমান সাতক্ষীরা থেকে খুলনায় এসে নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার ডাক্তারপাড়ায় বাড়ি করেন। নিচতলায় তিনি পরিবারসহ বসবাস করেন ও দোতলায় নুরুল কুরআন তাহফিজ একাডেমি নামে হেফজখানা খুলে শিশুদের আরবি শিক্ষা দেন। এরমধ্যে হেফজখানায় থেকে ২০জন শিশু লেখাপড়া করে। গত সোমবার রাত ৮টার দিকে ইসমাইল নামের ঐ শিশুকে হেফজখানার শিক্ষক আব্দুর রহমান শারীরিকভাবে অমানবিক নির্যাতন করেন। শিশুটির অভিভাবকরা ঘটনাটি জানতে পেরে মাদ্রাসায় গিয়ে তার চোখসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। পরে শিশুটির বাবা মাদ্রাসা থেকে সন্তানের ব্যাগ ও কাপড়চোপড় নিয়ে বের হয়ে যান। স্থানীয়দের ধারণা, সন্তানের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তিনি ঐ মাদ্রাসা থেকে তার সন্তানকে সরিয়ে নিয়েছেন। তবে ঘটনার পর শিশুটির বাবার অবস্থান নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নির্যাতনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো অভিযোগ করতে রাজি হননি। তার দাবি, স্থানীয়ভাবে বিষয়টির মীমাংসা করা হয়েছে।

এদিকে, কারা বা কোন প্রভাবশালী মহল বিষয়টি মিটমাট করেছে সে বিষয়ে তিনি কোনো তথ্য দিতে চাচ্ছেন না। এমনকি শিশুটির সঙ্গে সাংবাদিকদের দেখা করার ক্ষেত্রেও আপত্তি জানানো হয়েছে।

এলাকাবাসী বলেন, মাত্র আট বছর বয়সী একটি শিশুর ওপর নির্যাতনের মতো গুরুতর অভিযোগ স্থানীয়ভাবে মীমাংসার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া উচিত নয়। তারা মনে করেন, ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঘটনার পেছনে কোনো প্রভাবশালী চক্র সক্রিয় থাকতে পারে। বিষয়টি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়রা শিশুটির ওপর নির্যাতনের সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পুরো ঘটনার পেছনের কারণ উদঘাটনে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সঙ্গে অভিভাবক কেন অভিযোগ করতে অনাগ্রহী বা কোনো চাপের মুখে রয়েছেন কি না- সেটিও তদন্তের দাবি জানান তারা।

এ ব্যাপারে নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার ওসি তদন্ত অনিমেষ ম-ল বলেন, ঘটনাটি জানতে পেরে ঐ দিন রাত ৮টার দিকে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। তবে পুলিশ যাওয়ার আগেই অভিযুক্ত হেফজখানার শিক্ষক আব্দুর রহমান পালিয়ে যান। বর্তমানে তিনি পলাতক রয়েছেন।

নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক) ভাইরাল হয়েছে। আমরা ঘটনাটি জানতে পেরে নির্যাতিত শিশুটির পিতার সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি অভিযোগ দিতে চাচ্ছেন না। অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :
About Author Information

Nirvik Sangbad

খুলনায় তাঁতি দল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

খুলনার ডাক্তারপাড়া হেফজখানায় শিশু শিক্ষার্থীকে অমানবিক নির্যাতন

আপলোড সময় ০৬:২৯:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

খুলনা মহানগরীর ডাক্তারপাড়া এলাকায় অবস্থিত ‘নুরুল কুরআন তাহফিজ একাডেমি’ নামের একটি হেফ্জখানায় আট বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে অমানবিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আব্দুর রহমান সাতক্ষীরা থেকে খুলনায় এসে নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার ডাক্তারপাড়ায় বাড়ি করেন। নিচতলায় তিনি পরিবারসহ বসবাস করেন ও দোতলায় নুরুল কুরআন তাহফিজ একাডেমি নামে হেফজখানা খুলে শিশুদের আরবি শিক্ষা দেন। এরমধ্যে হেফজখানায় থেকে ২০জন শিশু লেখাপড়া করে। গত সোমবার রাত ৮টার দিকে ইসমাইল নামের ঐ শিশুকে হেফজখানার শিক্ষক আব্দুর রহমান শারীরিকভাবে অমানবিক নির্যাতন করেন। শিশুটির অভিভাবকরা ঘটনাটি জানতে পেরে মাদ্রাসায় গিয়ে তার চোখসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। পরে শিশুটির বাবা মাদ্রাসা থেকে সন্তানের ব্যাগ ও কাপড়চোপড় নিয়ে বের হয়ে যান। স্থানীয়দের ধারণা, সন্তানের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তিনি ঐ মাদ্রাসা থেকে তার সন্তানকে সরিয়ে নিয়েছেন। তবে ঘটনার পর শিশুটির বাবার অবস্থান নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নির্যাতনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো অভিযোগ করতে রাজি হননি। তার দাবি, স্থানীয়ভাবে বিষয়টির মীমাংসা করা হয়েছে।

এদিকে, কারা বা কোন প্রভাবশালী মহল বিষয়টি মিটমাট করেছে সে বিষয়ে তিনি কোনো তথ্য দিতে চাচ্ছেন না। এমনকি শিশুটির সঙ্গে সাংবাদিকদের দেখা করার ক্ষেত্রেও আপত্তি জানানো হয়েছে।

এলাকাবাসী বলেন, মাত্র আট বছর বয়সী একটি শিশুর ওপর নির্যাতনের মতো গুরুতর অভিযোগ স্থানীয়ভাবে মীমাংসার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া উচিত নয়। তারা মনে করেন, ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঘটনার পেছনে কোনো প্রভাবশালী চক্র সক্রিয় থাকতে পারে। বিষয়টি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়রা শিশুটির ওপর নির্যাতনের সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পুরো ঘটনার পেছনের কারণ উদঘাটনে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সঙ্গে অভিভাবক কেন অভিযোগ করতে অনাগ্রহী বা কোনো চাপের মুখে রয়েছেন কি না- সেটিও তদন্তের দাবি জানান তারা।

এ ব্যাপারে নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার ওসি তদন্ত অনিমেষ ম-ল বলেন, ঘটনাটি জানতে পেরে ঐ দিন রাত ৮টার দিকে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। তবে পুলিশ যাওয়ার আগেই অভিযুক্ত হেফজখানার শিক্ষক আব্দুর রহমান পালিয়ে যান। বর্তমানে তিনি পলাতক রয়েছেন।

নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক) ভাইরাল হয়েছে। আমরা ঘটনাটি জানতে পেরে নির্যাতিত শিশুটির পিতার সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি অভিযোগ দিতে চাচ্ছেন না। অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।