বিদ্যুৎ খাতের চলমান সংকট ও গ্রাহকদের অভিযোগ নিয়ে ৫ মে বিদ্যুৎ মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজারদের (জিএম) সঙ্গে মতবিনিময় করেন। বৈঠকে বিদ্যুৎ সরবরাহ, বিতরণ ব্যবস্থার সমস্যা, গ্রাহক ভোগান্তি ও পল্লী অঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হলেও মাঠপর্যায়ে কাঙ্ক্ষিত সমাধান আসেনি বলে অভিযোগ করছেন সাধারণ গ্রাহকরা।
গ্রাহকদের অভিযোগ, বৈঠক ও আশ্বাসের পরও বিদ্যুৎ খাতের সমস্যাগুলো পুরোপুরি কাটছে না। কোথাও কোথাও লোডশেডিং, ভোল্টেজ ওঠানামা, অতিরিক্ত বিল ও বিদ্যুৎ ব্যয়ের চাপ নিয়ে মানুষ এখনও ভোগান্তিতে রয়েছে। এর মধ্যে বিদ্যুতের দাম ও সংশ্লিষ্ট খরচ বাড়তে থাকায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় নতুন চাপ তৈরি হয়েছে।
নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ বলছেন, আয় বাড়ছে না, কিন্তু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম, পরিবহন খরচ, বাসাবাড়ির খরচ এবং বিদ্যুৎ বিল—সবকিছু মিলিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে। অনেক পরিবারকে প্রয়োজনীয় খরচ কমিয়ে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর আগে উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার দক্ষতা বাড়ানো, অপচয় কমানো এবং খাতের অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ জরুরি। শুধু দাম বাড়িয়ে সংকট মোকাবিলা করলে এর চাপ শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তার ওপরই পড়ে।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরছেন। তাদের মতে, চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিতরণ লাইনের আধুনিকায়ন না হলে গ্রাহক ভোগান্তি পুরোপুরি কমবে না।
অন্যদিকে, সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—যদি একাধিক বৈঠক ও সিদ্ধান্তের পরও পরিস্থিতির উন্নতি না হয়, তাহলে মাঠপর্যায়ে বাস্তব পরিবর্তন আসবে কবে? বিদ্যুৎ খাতের সমস্যা সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও কার্যকর বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছেন তারা।
বিদ্যুৎ এখন শুধু একটি সেবা নয়, বরং মানুষের দৈনন্দিন জীবন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। তাই বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি ও সেবার মান নিয়ে জনমনে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংবাদ শিরোনাম ::
বিদ্যুৎ খাতের সংকট: মন্ত্রী-জিএম বৈঠকের পরও কমেনি ভোগান্তি, বাড়ছে ব্যয়ের চাপ
-
নিজস্ব প্রতিবেদক - আপডেট সময় ১২:৪৬:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
- ১৫ বার পড়া হয়েছে
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ



























