ঢাকা ০৫:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
অপপ্রচার ও মানহানী করায় ৪ জনকে আসামী করে সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা করলো মানব কল্যাণ পরিষদ চেয়ারম্যান মান্নান ভূঁইয়া প্রকাশিত খবরের প্রতিবাদ সান্তাহারে প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে পুলিশের এএসআই ক্লোজ সিলেট বিভাগ গণদাবি পরিষদ যুক্তরাজ্য শাখার পূর্ণাঙ্গ কার্যনির্বাহী কমিটি গঠিত রাষ্ট্রপতির সফরকে ঘিরে মঙ্গলবার নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা থাকবে সিলেট কপোতাক্ষের ভাঙনে তালার ৪ গ্রামে আতঙ্ক তিন দিন ধরে বাঁধ আগলে আছে মানুষ, প্রশাসনের দেখা নেই! সাতক্ষীরা পৌর ভূমি অফিসে সুমির বিরুদ্ধে বেপরোয়া ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ ! কোলকাতায় অবস্থানরত আওয়ামী লীগের নেতাদের মাঝে গ্রুপিংয়ের নোংরামি চূড়ান্ত পর্যায়ে! সাতক্ষীরার বহুরুপী চৈতালি মুখার্জি, কখনো আওয়ামী লীগ, কখনো বিএনপি! হাইব্রিড নেত্রী  সাতক্ষীরা এলজিইডির মুকুট হীন রাজা হাওলাদারের দুর্নীতির শিকড় কত গভীরে?

মশার পেছনে কোটি টাকা: বিদেশ সফরে ব্যয়, সেই অর্থে কত ওষুধ ও স্প্রে মেশিন কেনা যেত?

দেশে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ বাড়লেও মশা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে। বিশেষ করে মশক নিধন কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা অর্জনের নামে বিদেশ সফরে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ের অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও সচেতন নাগরিকদের প্রশ্ন—বিদেশ সফরে ব্যয় করা অর্থ সরাসরি মশা নিধন সরঞ্জাম ও ওষুধ কেনায় ব্যয় হলে কতটা উপকার হতো?
প্রাপ্ত তথ্যমতে, বিভিন্ন সময়ে মশা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা পরিদর্শন ও প্রশিক্ষণের জন্য বিদেশ সফরে কয়েক কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে যদি ১ কোটি টাকা বিদেশ সফরে ব্যয় হয়ে থাকে, তাহলে সেই অর্থ দিয়ে বিপুল পরিমাণ মশক নিধন সামগ্রী কেনা সম্ভব ছিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষজ্ঞদের হিসাবে, একটি উন্নতমানের ফগার বা স্প্রে মেশিনের দাম গড়ে ৪০ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকা। সে হিসেবে ১ কোটি টাকা দিয়ে প্রায় ১৬০ থেকে ২৫০টি স্প্রে মেশিন কেনা সম্ভব। অন্যদিকে, মশা নিধনের জন্য ব্যবহৃত লার্ভিসাইড ও অ্যাডাল্টিসাইড ওষুধের বাজারমূল্য অনুযায়ী একই অর্থে কয়েক হাজার লিটার ওষুধ কেনা যেত, যা দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন এলাকায় ব্যবহার করা সম্ভব হতো।
জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশ সফর থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, তবে সেই অভিজ্ঞতার বাস্তব প্রয়োগ না থাকলে জনগণের করের টাকা ব্যয়ের যৌক্তিকতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। তাদের দাবি, বিদেশ সফরের পরিবর্তে মাঠপর্যায়ে কার্যকর কর্মসূচি, নিয়মিত স্প্রে, ড্রেন পরিষ্কার এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে বরাদ্দ বাড়ানো প্রয়োজন।
নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে বিদেশ সফরের খরচের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব জনগণের সামনে প্রকাশ করা জরুরি। একই সঙ্গে সফর থেকে কী ফলাফল এসেছে এবং তা বাস্তবে কতটুকু কাজে লাগানো হয়েছে, সেটিও জানানো উচিত।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, মশা নিয়ন্ত্রণে কেবল সফর বা সেমিনার নয়, প্রয়োজন ধারাবাহিক ও বৈজ্ঞানিক কার্যক্রম। নিয়মিত নজরদারি, আধুনিক স্প্রে মেশিন, কার্যকর ওষুধ এবং স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।
সংশ্লিষ্ট মহলের অভিমত, “মশা মারতে বিদেশ সফর” শিরোনামের ব্যয়বহুল উদ্যোগের চেয়ে মাঠপর্যায়ে বাস্তব বিনিয়োগই জনগণকে বেশি সুরক্ষা দিতে পারে। তাই ভবিষ্যতে বরাদ্দের অগ্রাধিকার নির্ধারণে জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

Tag :
About Author Information

Nirvik Sangbad

জনপ্রিয় সংবাদ

অপপ্রচার ও মানহানী করায় ৪ জনকে আসামী করে সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা করলো মানব কল্যাণ পরিষদ চেয়ারম্যান মান্নান ভূঁইয়া

মশার পেছনে কোটি টাকা: বিদেশ সফরে ব্যয়, সেই অর্থে কত ওষুধ ও স্প্রে মেশিন কেনা যেত?

আপলোড সময় ১১:৩৮:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

দেশে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ বাড়লেও মশা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে। বিশেষ করে মশক নিধন কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা অর্জনের নামে বিদেশ সফরে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ের অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও সচেতন নাগরিকদের প্রশ্ন—বিদেশ সফরে ব্যয় করা অর্থ সরাসরি মশা নিধন সরঞ্জাম ও ওষুধ কেনায় ব্যয় হলে কতটা উপকার হতো?
প্রাপ্ত তথ্যমতে, বিভিন্ন সময়ে মশা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা পরিদর্শন ও প্রশিক্ষণের জন্য বিদেশ সফরে কয়েক কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে যদি ১ কোটি টাকা বিদেশ সফরে ব্যয় হয়ে থাকে, তাহলে সেই অর্থ দিয়ে বিপুল পরিমাণ মশক নিধন সামগ্রী কেনা সম্ভব ছিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষজ্ঞদের হিসাবে, একটি উন্নতমানের ফগার বা স্প্রে মেশিনের দাম গড়ে ৪০ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকা। সে হিসেবে ১ কোটি টাকা দিয়ে প্রায় ১৬০ থেকে ২৫০টি স্প্রে মেশিন কেনা সম্ভব। অন্যদিকে, মশা নিধনের জন্য ব্যবহৃত লার্ভিসাইড ও অ্যাডাল্টিসাইড ওষুধের বাজারমূল্য অনুযায়ী একই অর্থে কয়েক হাজার লিটার ওষুধ কেনা যেত, যা দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন এলাকায় ব্যবহার করা সম্ভব হতো।
জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশ সফর থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, তবে সেই অভিজ্ঞতার বাস্তব প্রয়োগ না থাকলে জনগণের করের টাকা ব্যয়ের যৌক্তিকতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। তাদের দাবি, বিদেশ সফরের পরিবর্তে মাঠপর্যায়ে কার্যকর কর্মসূচি, নিয়মিত স্প্রে, ড্রেন পরিষ্কার এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে বরাদ্দ বাড়ানো প্রয়োজন।
নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে বিদেশ সফরের খরচের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব জনগণের সামনে প্রকাশ করা জরুরি। একই সঙ্গে সফর থেকে কী ফলাফল এসেছে এবং তা বাস্তবে কতটুকু কাজে লাগানো হয়েছে, সেটিও জানানো উচিত।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, মশা নিয়ন্ত্রণে কেবল সফর বা সেমিনার নয়, প্রয়োজন ধারাবাহিক ও বৈজ্ঞানিক কার্যক্রম। নিয়মিত নজরদারি, আধুনিক স্প্রে মেশিন, কার্যকর ওষুধ এবং স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।
সংশ্লিষ্ট মহলের অভিমত, “মশা মারতে বিদেশ সফর” শিরোনামের ব্যয়বহুল উদ্যোগের চেয়ে মাঠপর্যায়ে বাস্তব বিনিয়োগই জনগণকে বেশি সুরক্ষা দিতে পারে। তাই ভবিষ্যতে বরাদ্দের অগ্রাধিকার নির্ধারণে জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।