খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে একসঙ্গে ৪১ জন চিকিৎসকের অনুপস্থিতির অভিযোগে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই সরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসকদের অনুপস্থিতির কারণে সাধারণ রোগীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে দূর-দূরান্ত থেকে আসা গরিব ও অসহায় রোগীদের চিকিৎসা নিতে গিয়ে দীর্ঘ অপেক্ষা, ভোগান্তি ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে হচ্ছে।
রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা সাধারণ মানুষের অন্যতম ভরসার জায়গা। এখানে দায়িত্ব পালনকারী চিকিৎসকরা রাষ্ট্রের কাছ থেকে সম্মানজনক বেতন-ভাতা, সুযোগ-সুবিধা ও সামাজিক মর্যাদা পেয়ে থাকেন। এরপরও যদি দায়িত্বে অবহেলা করে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন, তাহলে তা সাধারণ মানুষের অধিকার ও চিকিৎসা সেবার মৌলিক ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
সচেতন মহল বলছে, চিকিৎসকরা দেশের গুরুত্বপূর্ণ মানবিক পেশার সঙ্গে যুক্ত। তাদের প্রতি মানুষের আস্থা অনেক বেশি। তাই কোনো চিকিৎসকের অবহেলা বা দায়িত্বহীনতার কারণে পুরো চিকিৎসক সমাজের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সরকারি হাসপাতালে দায়িত্ব পালন না করে রোগীদের ভোগান্তির মুখে ঠেলে দেওয়া হলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন।
অভিযোগ রয়েছে, কিছু চিকিৎসকের অনিয়মিত উপস্থিতি, দায়িত্বে গাফিলতি এবং প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় চলা কোনো ধরনের সিন্ডিকেট থাকলে তা চিহ্নিত করা জরুরি। তবে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তদন্তে যদি কারও বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা, সরকারি নিয়ম ভঙ্গ বা রোগীদের অধিকার ক্ষুণ্ন করার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
রোগীদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা নিতে আসা মানুষের বড় অংশই নিম্ন ও মধ্য আয়ের। তারা বেসরকারি হাসপাতালে ব্যয়বহুল চিকিৎসা নিতে পারেন না। তাই সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা সচল রাখা এবং চিকিৎসকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
সাধারণ মানুষের দাবি, শুধু অনুপস্থিতির তালিকা তৈরি করলেই হবে না; কেন চিকিৎসকরা কর্মস্থলে ছিলেন না, এর পেছনে কোনো প্রশাসনিক দুর্বলতা, ব্যবস্থাপনার সমস্যা বা ব্যক্তিগত অনিয়ম রয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখতে হবে। পাশাপাশি হাসপাতাল প্রশাসনকে আরও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, চিকিৎসকদের সম্মান ও মর্যাদা যেমন রক্ষা করা প্রয়োজন, তেমনি রোগীদের চিকিৎসা পাওয়ার অধিকারও নিশ্চিত করতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কারণে যদি সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হয়, তাহলে তা জনগণের আস্থা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
খুমেক হাসপাতালের ঘটনায় দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী রোগী, স্বজন ও সচেতন নাগরিকরা। তাদের প্রত্যাশা—সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কঠোর নজরদারির মাধ্যমে সরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনবে এবং সাধারণ মানুষের চিকিৎসা অধিকার নিশ্চিত করবে।
মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, ব্যুরো চীফ, খুলনা 
























