ঢাকা ০১:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
খুলনাবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে গল্লামারী ব্রিজ: সফল খুলনাবাসী খুলনা খাদ্য অধিদপ্তরে ওজনে কারসাজি ও বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ: সরকারি চাল যাচ্ছে কোথায়? সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নিশ্চিতের দাবি সাংবাদিক জাহাঙ্গীর হোসেনের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে কটুক্তি-ব্যঙ্গচিত্র,২৭ মামলার আসামি কামাল প্রধান এখনো প্রকাশ্যে খুলনা ডিবি পুলিশের হাতে বি কোম্পানির সক্রিয় ৫ সন্ত্রাসী গ্রেফতার পাবনার ভাঙ্গুড়ায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৩৫ টি ঘর বিক্রি, পরিত্যক্ত ঘরে জুয়া-মাদক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ক্ষমতার পালাবদলে নাম বদলে গেছে সিলেট চন্ডীপুল গোলচত্বর সহ অন্যান্য স্থাপনার বিয়ের সাজ না খুলতেই মৃত্যুর ডাক: নববধূকে রেখে চিরবিদায়ে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল রানা খুলনায় আন্তর্জাতিকমানের আধুনিক খাদ্য সংরক্ষণাগার (গমের স্টিল সাইলো) নির্মাণ সম্পন্ন খুলনার বটিয়াঘাটার খেয়া ঘাটে দ্বিগুণ ভাড়া আদায়: কর্তৃপক্ষ নিরব

খুলনার ডাক্তারপাড়া হেফজখানায় শিশু শিক্ষার্থীকে অমানবিক নির্যাতন

  • খুলনা অফিস
  • আপডেট সময় ০৬:২৯:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

খুলনা মহানগরীর ডাক্তারপাড়া এলাকায় অবস্থিত ‘নুরুল কুরআন তাহফিজ একাডেমি’ নামের একটি হেফ্জখানায় আট বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে অমানবিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আব্দুর রহমান সাতক্ষীরা থেকে খুলনায় এসে নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার ডাক্তারপাড়ায় বাড়ি করেন। নিচতলায় তিনি পরিবারসহ বসবাস করেন ও দোতলায় নুরুল কুরআন তাহফিজ একাডেমি নামে হেফজখানা খুলে শিশুদের আরবি শিক্ষা দেন। এরমধ্যে হেফজখানায় থেকে ২০জন শিশু লেখাপড়া করে। গত সোমবার রাত ৮টার দিকে ইসমাইল নামের ঐ শিশুকে হেফজখানার শিক্ষক আব্দুর রহমান শারীরিকভাবে অমানবিক নির্যাতন করেন। শিশুটির অভিভাবকরা ঘটনাটি জানতে পেরে মাদ্রাসায় গিয়ে তার চোখসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। পরে শিশুটির বাবা মাদ্রাসা থেকে সন্তানের ব্যাগ ও কাপড়চোপড় নিয়ে বের হয়ে যান। স্থানীয়দের ধারণা, সন্তানের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তিনি ঐ মাদ্রাসা থেকে তার সন্তানকে সরিয়ে নিয়েছেন। তবে ঘটনার পর শিশুটির বাবার অবস্থান নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নির্যাতনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো অভিযোগ করতে রাজি হননি। তার দাবি, স্থানীয়ভাবে বিষয়টির মীমাংসা করা হয়েছে।

এদিকে, কারা বা কোন প্রভাবশালী মহল বিষয়টি মিটমাট করেছে সে বিষয়ে তিনি কোনো তথ্য দিতে চাচ্ছেন না। এমনকি শিশুটির সঙ্গে সাংবাদিকদের দেখা করার ক্ষেত্রেও আপত্তি জানানো হয়েছে।

এলাকাবাসী বলেন, মাত্র আট বছর বয়সী একটি শিশুর ওপর নির্যাতনের মতো গুরুতর অভিযোগ স্থানীয়ভাবে মীমাংসার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া উচিত নয়। তারা মনে করেন, ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঘটনার পেছনে কোনো প্রভাবশালী চক্র সক্রিয় থাকতে পারে। বিষয়টি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়রা শিশুটির ওপর নির্যাতনের সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পুরো ঘটনার পেছনের কারণ উদঘাটনে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সঙ্গে অভিভাবক কেন অভিযোগ করতে অনাগ্রহী বা কোনো চাপের মুখে রয়েছেন কি না- সেটিও তদন্তের দাবি জানান তারা।

এ ব্যাপারে নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার ওসি তদন্ত অনিমেষ ম-ল বলেন, ঘটনাটি জানতে পেরে ঐ দিন রাত ৮টার দিকে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। তবে পুলিশ যাওয়ার আগেই অভিযুক্ত হেফজখানার শিক্ষক আব্দুর রহমান পালিয়ে যান। বর্তমানে তিনি পলাতক রয়েছেন।

নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক) ভাইরাল হয়েছে। আমরা ঘটনাটি জানতে পেরে নির্যাতিত শিশুটির পিতার সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি অভিযোগ দিতে চাচ্ছেন না। অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

খুলনাবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে গল্লামারী ব্রিজ: সফল খুলনাবাসী

খুলনার ডাক্তারপাড়া হেফজখানায় শিশু শিক্ষার্থীকে অমানবিক নির্যাতন

আপডেট সময় ০৬:২৯:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

খুলনা মহানগরীর ডাক্তারপাড়া এলাকায় অবস্থিত ‘নুরুল কুরআন তাহফিজ একাডেমি’ নামের একটি হেফ্জখানায় আট বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে অমানবিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আব্দুর রহমান সাতক্ষীরা থেকে খুলনায় এসে নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার ডাক্তারপাড়ায় বাড়ি করেন। নিচতলায় তিনি পরিবারসহ বসবাস করেন ও দোতলায় নুরুল কুরআন তাহফিজ একাডেমি নামে হেফজখানা খুলে শিশুদের আরবি শিক্ষা দেন। এরমধ্যে হেফজখানায় থেকে ২০জন শিশু লেখাপড়া করে। গত সোমবার রাত ৮টার দিকে ইসমাইল নামের ঐ শিশুকে হেফজখানার শিক্ষক আব্দুর রহমান শারীরিকভাবে অমানবিক নির্যাতন করেন। শিশুটির অভিভাবকরা ঘটনাটি জানতে পেরে মাদ্রাসায় গিয়ে তার চোখসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। পরে শিশুটির বাবা মাদ্রাসা থেকে সন্তানের ব্যাগ ও কাপড়চোপড় নিয়ে বের হয়ে যান। স্থানীয়দের ধারণা, সন্তানের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তিনি ঐ মাদ্রাসা থেকে তার সন্তানকে সরিয়ে নিয়েছেন। তবে ঘটনার পর শিশুটির বাবার অবস্থান নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নির্যাতনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো অভিযোগ করতে রাজি হননি। তার দাবি, স্থানীয়ভাবে বিষয়টির মীমাংসা করা হয়েছে।

এদিকে, কারা বা কোন প্রভাবশালী মহল বিষয়টি মিটমাট করেছে সে বিষয়ে তিনি কোনো তথ্য দিতে চাচ্ছেন না। এমনকি শিশুটির সঙ্গে সাংবাদিকদের দেখা করার ক্ষেত্রেও আপত্তি জানানো হয়েছে।

এলাকাবাসী বলেন, মাত্র আট বছর বয়সী একটি শিশুর ওপর নির্যাতনের মতো গুরুতর অভিযোগ স্থানীয়ভাবে মীমাংসার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া উচিত নয়। তারা মনে করেন, ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঘটনার পেছনে কোনো প্রভাবশালী চক্র সক্রিয় থাকতে পারে। বিষয়টি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়রা শিশুটির ওপর নির্যাতনের সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পুরো ঘটনার পেছনের কারণ উদঘাটনে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সঙ্গে অভিভাবক কেন অভিযোগ করতে অনাগ্রহী বা কোনো চাপের মুখে রয়েছেন কি না- সেটিও তদন্তের দাবি জানান তারা।

এ ব্যাপারে নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার ওসি তদন্ত অনিমেষ ম-ল বলেন, ঘটনাটি জানতে পেরে ঐ দিন রাত ৮টার দিকে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। তবে পুলিশ যাওয়ার আগেই অভিযুক্ত হেফজখানার শিক্ষক আব্দুর রহমান পালিয়ে যান। বর্তমানে তিনি পলাতক রয়েছেন।

নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক) ভাইরাল হয়েছে। আমরা ঘটনাটি জানতে পেরে নির্যাতিত শিশুটির পিতার সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি অভিযোগ দিতে চাচ্ছেন না। অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।