ঢাকা ০৭:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
আনন্দবাজার পত্রিকায় শিরোনামঃ রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের ইস্তফায় ‘জলঘোলা’ হচ্ছে বাংলাদেশে তালার খলিলনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রনব ঘোষ স্বপদে বহাল সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ নির্দেশনা লাইসেন্স ফিরে পেল আদ্‌-দ্বীন হাসপাতাল খুলনায় রেলস্টেশনের সামনে গুলিবিদ্ধ যুবকের লাশ উদ্ধার সাংবাদিক সুরুজ আলীর মামলা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবি রাজশাহী প্রেসক্লাবের খুলনায় ৯ সন্ত্রাসী গ্রুপের দৌরাত্ম্য: ১৫ দিনে গ্রেপ্তার ১৮৪, তবু অধরা শীর্ষ গডফাদাররা রাজশাহী ‘ম্যাঙ্গো লাভার’ ই-কমার্স কার্যালয়ে তরুণীকে ধর্ষণচেষ্টার মামলায় যুবক আটক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাজশাহী প্রেসক্লাব সভাপতি সাইদুর রহমানের সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল খুলনায় বাসের টিকিট কালেক্টরের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

টিসিবি কার্ড প্রস্তুত, তবু বঞ্চিত হাজারো পরিবার: খুলনা মহানগরীর ১০ নম্বর ওয়ার্ডে অপেক্ষায় ১,১১৭ উপকারভোগী

সরকারের স্বল্পমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিতরণ কার্যক্রমের আওতায় খুলনা মহানগরীর ১০ নম্বর ওয়ার্ডে টিসিবির (ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ) স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড প্রস্তুত হলেও নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও বহু উপকারভোগীর হাতে কার্ড পৌঁছেনি। ফলে তারা সরকারের ভর্তুকি মূল্যের পণ্য কেনার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করেও কার্ড না পাওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন অনেক নিম্নআয়ের মানুষ।

ওয়ার্ডভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, ১০ নম্বর ওয়ার্ডে মোট ৫ হাজার ২৭৫ জন উপকারভোগীর জন্য টিসিবি কার্ড প্রস্তুত করা হয়। এর মধ্যে ২০২৬ সালের ১০ মার্চ পর্যন্ত ৪ হাজার ১৫৮ জনের হাতে কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। কিন্তু অবশিষ্ট ১ হাজার ১১৭ জন এখনো কার্ড পাননি। ফলে তাদের নাম তালিকায় থাকলেও তারা টিসিবির পণ্য সংগ্রহ করতে পারছেন না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েক মাস ধরে বারবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করেও তারা কোনো সুনির্দিষ্ট উত্তর পাচ্ছেন না। অনেককে অপেক্ষা করতে বলা হলেও কবে কার্ড দেওয়া হবে, সে বিষয়ে পরিষ্কার কোনো সময়সূচি জানানো হয়নি। এতে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

উপকারভোগীদের ভাষ্য, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ক্রমাগত বাড়তে থাকায় টিসিবির স্বল্পমূল্যের পণ্যই ছিল তাদের অন্যতম ভরসা। কিন্তু কার্ড না থাকায় তারা সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অনেকেই অভিযোগ করেন, একই এলাকার অন্যরা নিয়মিত টিসিবির পণ্য পেলেও তারা শুধু কার্ড না থাকার কারণে খালি হাতে ফিরে আসছেন।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, কার্ড প্রস্তুত হওয়ার পরও দীর্ঘ সময় বিতরণ সম্পন্ন না হওয়া প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতার পরিচয় বহন করে। সরকারের সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচির সুফল নিশ্চিত করতে হলে দ্রুত অবশিষ্ট উপকারভোগীদের হাতে কার্ড পৌঁছে দেওয়া জরুরি। অন্যথায় প্রকৃত সুবিধাভোগীরা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এ কর্মসূচির বাইরে থেকে যাবেন।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দাবি, অবশিষ্ট কার্ড দ্রুত বিতরণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এদিকে ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে বাকি ১ হাজার ১১৭টি কার্ড বিতরণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, কার্ড প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে বিতরণ না হওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সরকারের উদ্দেশ্য সফল করতে এবং নিম্নআয়ের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত এই জটিলতার অবসান হওয়া প্রয়োজন।

স্থানীয়দের আশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে, যাতে ১০ নম্বর ওয়ার্ডের প্রতিটি তালিকাভুক্ত পরিবার সমানভাবে টিসিবির সুবিধা ভোগ করতে পারে এবং দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটে।

Tag :
About Author Information

Nirvik Sangbad

জনপ্রিয় সংবাদ

আনন্দবাজার পত্রিকায় শিরোনামঃ রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের ইস্তফায় ‘জলঘোলা’ হচ্ছে বাংলাদেশে

টিসিবি কার্ড প্রস্তুত, তবু বঞ্চিত হাজারো পরিবার: খুলনা মহানগরীর ১০ নম্বর ওয়ার্ডে অপেক্ষায় ১,১১৭ উপকারভোগী

আপলোড সময় ১২:৫৩:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

সরকারের স্বল্পমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিতরণ কার্যক্রমের আওতায় খুলনা মহানগরীর ১০ নম্বর ওয়ার্ডে টিসিবির (ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ) স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড প্রস্তুত হলেও নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও বহু উপকারভোগীর হাতে কার্ড পৌঁছেনি। ফলে তারা সরকারের ভর্তুকি মূল্যের পণ্য কেনার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করেও কার্ড না পাওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন অনেক নিম্নআয়ের মানুষ।

ওয়ার্ডভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, ১০ নম্বর ওয়ার্ডে মোট ৫ হাজার ২৭৫ জন উপকারভোগীর জন্য টিসিবি কার্ড প্রস্তুত করা হয়। এর মধ্যে ২০২৬ সালের ১০ মার্চ পর্যন্ত ৪ হাজার ১৫৮ জনের হাতে কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। কিন্তু অবশিষ্ট ১ হাজার ১১৭ জন এখনো কার্ড পাননি। ফলে তাদের নাম তালিকায় থাকলেও তারা টিসিবির পণ্য সংগ্রহ করতে পারছেন না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েক মাস ধরে বারবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করেও তারা কোনো সুনির্দিষ্ট উত্তর পাচ্ছেন না। অনেককে অপেক্ষা করতে বলা হলেও কবে কার্ড দেওয়া হবে, সে বিষয়ে পরিষ্কার কোনো সময়সূচি জানানো হয়নি। এতে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

উপকারভোগীদের ভাষ্য, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ক্রমাগত বাড়তে থাকায় টিসিবির স্বল্পমূল্যের পণ্যই ছিল তাদের অন্যতম ভরসা। কিন্তু কার্ড না থাকায় তারা সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অনেকেই অভিযোগ করেন, একই এলাকার অন্যরা নিয়মিত টিসিবির পণ্য পেলেও তারা শুধু কার্ড না থাকার কারণে খালি হাতে ফিরে আসছেন।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, কার্ড প্রস্তুত হওয়ার পরও দীর্ঘ সময় বিতরণ সম্পন্ন না হওয়া প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতার পরিচয় বহন করে। সরকারের সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচির সুফল নিশ্চিত করতে হলে দ্রুত অবশিষ্ট উপকারভোগীদের হাতে কার্ড পৌঁছে দেওয়া জরুরি। অন্যথায় প্রকৃত সুবিধাভোগীরা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এ কর্মসূচির বাইরে থেকে যাবেন।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দাবি, অবশিষ্ট কার্ড দ্রুত বিতরণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এদিকে ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে বাকি ১ হাজার ১১৭টি কার্ড বিতরণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, কার্ড প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে বিতরণ না হওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সরকারের উদ্দেশ্য সফল করতে এবং নিম্নআয়ের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত এই জটিলতার অবসান হওয়া প্রয়োজন।

স্থানীয়দের আশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে, যাতে ১০ নম্বর ওয়ার্ডের প্রতিটি তালিকাভুক্ত পরিবার সমানভাবে টিসিবির সুবিধা ভোগ করতে পারে এবং দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটে।