ঢাকা ১২:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
সামেক হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ কুদরত-ই-খুদার পিএস পরিচয়ে কে এই ভণ্ড প্রতারক মাসুদ রাসেল? কক্সবাজারের উখিয়া পালংখালী সীমান্তে বিজিবির বিশেষ অভিযানে ২ লাখ পিস ইয়াবা জব্দ অনলাইনে অবাধে বিক্রি হচ্ছে হেরোইন তৈরির কাঁচামাল: ডিএনসির অভিযান, গ্রেপ্তার ১ বাংলাদেশ : ভারত-চীন-মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিরক্ষা সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলে পরিণত হচ্ছে –অধ্যাপক এম এ বার্ণিক ডাকসু ভিপির সঙ্গে মার্কিন কূটনীতিকদের বৈঠক: শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক কূটনীতির নতুন সম্ভাবনা তালায় একই দিনে পৃথক সড়ক দূর্ঘট্নায় নিহত- ২ সাতক্ষীরায় যৌতুক মামলায় জামিন নামঞ্জুর, এসিল্যান্ড কারাগারে  কক্সবাজারের রামুতে ট্রাকের চেচিসে লুকানো ১ লাখ ৩৮ হাজার পিস ইয়াবাসহ ১ জনকে আটক করেছে বিজিবি পাঁচ বছর পর হত্যা মামলার পলাতক আসামি সিআইডির হাতে গ্রেপ্তার রূপগঞ্জে ৭৬ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ৩

অনলাইনে অবাধে বিক্রি হচ্ছে হেরোইন তৈরির কাঁচামাল: ডিএনসির অভিযান, গ্রেপ্তার ১

অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অবৈধ পণ্য পরিবহন সহজ হওয়ার সুযোগে সাধারণ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মতোই অবাধে বিক্রি করা হচ্ছে মারাত্মক মাদক মরফিন ও হেরোইন তৈরির মূল কাঁচামাল বা ‘প্রিকারসর কেমিক্যাল’।

সম্প্রতি ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে এমনই এক অননুমোদিত কারবারের সন্ধান পেয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) সাইবার টিম। ‘ই-কেম’ (e-Chem) নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর পরিচালিত ছদ্মবেশী ও যৌথ অভিযানে মারাত্মক রাসায়নিক জব্দসহ প্রতিষ্ঠানটির আইটি ম্যানেজারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অনলাইন প্ল্যাটফর্মকে নিরাপদ ও মাদকমুক্ত রাখতে ডিএনসির বিশেষ সাইবার টিম নিয়মিত সাইবার পেট্রোলিং পরিচালনা করে থাকে। এই নজরদারির সময় দেখা যায়—‘ই-কেম’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান অনলাইনে কোনো ধরনের বৈধ লাইসেন্স বা অনুমতিপত্র ছাড়াই অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং সরকারিভাবে নিয়ন্ত্রিত রাসায়নিক পদার্থের বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রকাশ্যে অর্ডার গ্রহণ করছে।

ঘটনার সত্যতা যাচাই ও অপরাধ চক্রকে শনাক্ত করতে ডিএনসির ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা দল এক অভিনব ছদ্মবেশী পরিকল্পনা গ্রহণ করে। ছদ্মবেশ ধারণ করে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ই-কেম-এর প্ল্যাটফর্মে ৫০০ মিলিলিটার ‘এসিটিক এ্যানহাইড্রাইড’ অর্ডার করেন। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, অর্ডার গ্রহণের সময় ক্রেতার নাম-পরিচয়, বৈধ লাইসেন্স বা এই মারাত্মক কেমিক্যাল ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট কারণ সংক্রান্ত কোনো অনুমোদনপত্রই দাবি করেনি প্রতিষ্ঠানটি।

অনলাইন অর্ডারের সূত্র ধরে গত ২৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখে রাজধানী ঢাকার গুলশান থানাধীন নিকেতন এলাকায় পার্সেল সরবরাহের সময় ওঁৎ পেতে থাকা ডিএনসির গোয়েন্দা দল পরিচালনা করে প্রথম অভিযান । সরবরাহকৃত পার্সেল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে ৫০০ মিলিলিটার ‘এসিটিক এ্যানহাইড্রাইড’ ও ১ লিটার ‘এসিটোন’ জব্দ করা হয়।

পরবর্তীতে আটক ডেলিভারিম্যানের দেওয়া গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কুড়িল প্রগতি সরণিতে অবস্থিত ই-কেমের প্রধান কার্যালয়ে দ্বিতীয় দফায় ঝটিকা অভিযান চালায় ডিএনসি। সেখান থেকে প্রতিষ্ঠানটির আইটি ম্যানেজার মোঃ আব্দুল মোমিন পাটোয়ারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সাথে কার্যালয়ে তল্লাশি চালিয়ে আরও বিপুল পরিমাণ অনিয়ন্ত্রিত রাসায়নিক পদার্থ এবং অবৈধ বিক্রয়ের বিপুল নথিপত্র ও ডিজিটাল প্রমাণ জব্দ করা হয়।

এ ঘটনায় ই-কেমের মালিকসহ একাধিক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ডিএনসি কর্মকর্তারা জানান, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি এবং বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বিশেষজ্ঞ ও আইন অনুযায়ী, এসিটিক এ্যানহাইড্রাইড ও এসিটোনের মতো ‘প্রিকারসর কেমিক্যাল’ সাধারণ শিল্প বা গবেষণাগারে ব্যবহৃত হলেও এগুলো মূলত ক ও খ শ্রেণির মারাত্মক মাদক (যেমন—মরফিন, হেরোইন ও কোকেন) তৈরির প্রধান ও অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ধারা ২(১৯) ও তফসিল অনুযায়ী এসব রাসায়নিকের ব্যবহার ও বিক্রি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত। আন্তর্জাতিক প্রটোকল অনুযায়ী জাতিসংঘ (UNODC) এবং আন্তর্জাতিক নারকোটিক্স কন্ট্রোল বোর্ড (INCB)-ও এসব উপাদানের বাণিজ্যে কড়া নজরদারি বজায় রাখে।

ডিএনসি স্পষ্ট জানিয়েছে, অনলাইনের সুযোগ নিয়ে কেউ যাতে দেশকে মাদকের কারখানায় পরিণত করতে না পারে, সেজন্য সাইবার ওয়াচ ও অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

Tag :
About Author Information

Nirvik Sangbad

জনপ্রিয় সংবাদ

সামেক হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ কুদরত-ই-খুদার পিএস পরিচয়ে কে এই ভণ্ড প্রতারক মাসুদ রাসেল?

অনলাইনে অবাধে বিক্রি হচ্ছে হেরোইন তৈরির কাঁচামাল: ডিএনসির অভিযান, গ্রেপ্তার ১

আপলোড সময় ০৫:৪৯:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অবৈধ পণ্য পরিবহন সহজ হওয়ার সুযোগে সাধারণ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মতোই অবাধে বিক্রি করা হচ্ছে মারাত্মক মাদক মরফিন ও হেরোইন তৈরির মূল কাঁচামাল বা ‘প্রিকারসর কেমিক্যাল’।

সম্প্রতি ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে এমনই এক অননুমোদিত কারবারের সন্ধান পেয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) সাইবার টিম। ‘ই-কেম’ (e-Chem) নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর পরিচালিত ছদ্মবেশী ও যৌথ অভিযানে মারাত্মক রাসায়নিক জব্দসহ প্রতিষ্ঠানটির আইটি ম্যানেজারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অনলাইন প্ল্যাটফর্মকে নিরাপদ ও মাদকমুক্ত রাখতে ডিএনসির বিশেষ সাইবার টিম নিয়মিত সাইবার পেট্রোলিং পরিচালনা করে থাকে। এই নজরদারির সময় দেখা যায়—‘ই-কেম’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান অনলাইনে কোনো ধরনের বৈধ লাইসেন্স বা অনুমতিপত্র ছাড়াই অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং সরকারিভাবে নিয়ন্ত্রিত রাসায়নিক পদার্থের বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রকাশ্যে অর্ডার গ্রহণ করছে।

ঘটনার সত্যতা যাচাই ও অপরাধ চক্রকে শনাক্ত করতে ডিএনসির ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা দল এক অভিনব ছদ্মবেশী পরিকল্পনা গ্রহণ করে। ছদ্মবেশ ধারণ করে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ই-কেম-এর প্ল্যাটফর্মে ৫০০ মিলিলিটার ‘এসিটিক এ্যানহাইড্রাইড’ অর্ডার করেন। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, অর্ডার গ্রহণের সময় ক্রেতার নাম-পরিচয়, বৈধ লাইসেন্স বা এই মারাত্মক কেমিক্যাল ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট কারণ সংক্রান্ত কোনো অনুমোদনপত্রই দাবি করেনি প্রতিষ্ঠানটি।

অনলাইন অর্ডারের সূত্র ধরে গত ২৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখে রাজধানী ঢাকার গুলশান থানাধীন নিকেতন এলাকায় পার্সেল সরবরাহের সময় ওঁৎ পেতে থাকা ডিএনসির গোয়েন্দা দল পরিচালনা করে প্রথম অভিযান । সরবরাহকৃত পার্সেল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে ৫০০ মিলিলিটার ‘এসিটিক এ্যানহাইড্রাইড’ ও ১ লিটার ‘এসিটোন’ জব্দ করা হয়।

পরবর্তীতে আটক ডেলিভারিম্যানের দেওয়া গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কুড়িল প্রগতি সরণিতে অবস্থিত ই-কেমের প্রধান কার্যালয়ে দ্বিতীয় দফায় ঝটিকা অভিযান চালায় ডিএনসি। সেখান থেকে প্রতিষ্ঠানটির আইটি ম্যানেজার মোঃ আব্দুল মোমিন পাটোয়ারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সাথে কার্যালয়ে তল্লাশি চালিয়ে আরও বিপুল পরিমাণ অনিয়ন্ত্রিত রাসায়নিক পদার্থ এবং অবৈধ বিক্রয়ের বিপুল নথিপত্র ও ডিজিটাল প্রমাণ জব্দ করা হয়।

এ ঘটনায় ই-কেমের মালিকসহ একাধিক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ডিএনসি কর্মকর্তারা জানান, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি এবং বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বিশেষজ্ঞ ও আইন অনুযায়ী, এসিটিক এ্যানহাইড্রাইড ও এসিটোনের মতো ‘প্রিকারসর কেমিক্যাল’ সাধারণ শিল্প বা গবেষণাগারে ব্যবহৃত হলেও এগুলো মূলত ক ও খ শ্রেণির মারাত্মক মাদক (যেমন—মরফিন, হেরোইন ও কোকেন) তৈরির প্রধান ও অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ধারা ২(১৯) ও তফসিল অনুযায়ী এসব রাসায়নিকের ব্যবহার ও বিক্রি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত। আন্তর্জাতিক প্রটোকল অনুযায়ী জাতিসংঘ (UNODC) এবং আন্তর্জাতিক নারকোটিক্স কন্ট্রোল বোর্ড (INCB)-ও এসব উপাদানের বাণিজ্যে কড়া নজরদারি বজায় রাখে।

ডিএনসি স্পষ্ট জানিয়েছে, অনলাইনের সুযোগ নিয়ে কেউ যাতে দেশকে মাদকের কারখানায় পরিণত করতে না পারে, সেজন্য সাইবার ওয়াচ ও অভিযান আরও জোরদার করা হবে।