ঢাকা ০৫:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
সুন্দরবনের জলদস্যু সম্রাট বাহিনীর কবল থেকে ৪ জেলে উদ্ধার সুন্দরবনের জলদস্যু আলিফ বাহিনীর লুকিয়ে রাখা আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, ওয়াকিটকি ও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট উদ্ধার বহিরাগত দিয়ে সংবাদ সম্মেলন মানেই নিজেকে দোষী প্রমাণ করা: DRU-তে প্রশ্ন করায় সাংবাদিককে হেনস্থা কন্যাশিশু দিবসে পীরগঞ্জ প্রশাসনের ‘দায়সারা আনুষ্ঠানিকতা’: জনমনে ক্ষোভ যশোর রেলগেটে মাদক সম্রাজ্ঞী লাইলীর নেতৃত্বে শত জনের রমরমা মাদক সিন্ডিকেট ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প নিয়ে আসছে মানব কণ্ঠের অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও সাহিত্যিক মোস্তাকিম নিবিড়ের ‘পূর্ণতা’ পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে ছবি প্রোফাইলে দিয়ে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ ইজিবাইক নেতা আবু বক্করের বিরুদ্ধে আমেরিকা প্রবাসী হারুনুর রশিদের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি রূপগঞ্জে নারীকে ধর্ষণের পর হত্যা, আদালতে আসামির স্বীকারোক্তি তালা রিপোর্টার্স ক্লাবের সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান শিমু’র ২২তম মৃত্যু বার্ষিকী পালিত

খুলনায় অপহরণ করে হত্যার অভিযোগে মামলার দেড়মাস পর ঢাকা থেকে সেই গৃহবধূকে জীবিত উদ্ধার করল পিবিআই

  • খুলনা অফিস
  • আপলোড সময় ১০:৪৬:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
  • 73

খুলনার কয়রা থেকে এক গৃহবধূকে অপহরণ করার পর হত্যা করা হয়েছে দাবি করে মামলা করেন তার মা। তবে দেড় মাস পর ঐ নারীকে ঢাকা থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে ঐ গৃহবধূ তার পরিবারের জিম্মায় রয়েছে।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সূত্র জানায়, গত গত ১১ জুলাই খুলনা জেলার কয়রা থানার নাকশা সাকিনের আয়েশা খাতুনকে (৩৬) তার স্বামী ইসলাম সরদারসহ তিনজন অপহরণের পর হত্যা করে লাশ গুম করেছে বলে ভুক্তভোগীর মা আমেনা খাতুন (৪৯) খুলনা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে গত ৩ আগস্ট বাদী হয়ে মামলা করেন।

মামলায় বাদী উল্লেখ করেন, ভিকটিমের স্বামী ইসলাম সরদারসহ অন্য আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে ১১ জুলাই ভুক্তভোগীকে কয়রা থানার মসজিদকুড় ব্রিজের ওপর থেকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। এরপর পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। টাকা না পেয়ে আসামিরা ভুক্তভোগীকে হত্যা করে লাশ গুম করেছে বলে আশঙ্কা করে মা আমেনা খাতুন বাদী হয়ে গত ৩ আগস্ট মামলাটি করেন। পরে আদালত সিআর মামলাটি পিবিআই, খুলনা জেলাকে তদন্তের নির্দেশ প্রদান করেন। পিবিআই খুলনা জেলার ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন মামলাটির তদন্তভার এসআই (নিরস্ত্র) এস এম রাজীব রায়হানকে দেন।

পিবিআই তথ্য-প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আয়েশা খাতুনের অবস্থান শনাক্ত করে এবং জানতে পারে তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন। পরে তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ পিবিআয়ের একটি দল গত বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় ভুক্তভোগীকে ঢাকা থেকে উদ্ধার করে। এরপর তাকে খুলনায় এনে আদালতে হাজির করার পর ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করে। পরে আদালত তাকে তার পরিবারের জিম্মায় দেওয়ার নির্দেশ দেন।

পিবিআইয়ের তদন্ত ও ভুক্তভোগীর জবানবন্দি থেকে জানা যায়, আয়েশা খাতুনের সঙ্গে ইসলাম সরদারের ১২ বছর আগে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই আসামি ইসলাম সরদারের সঙ্গে ভুক্তভোগীর সাংসারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়। ফলে স্বামীর সঙ্গে সংসার করবেন না বলে পরিবারকে জানায়। কিন্তু বাবা-মা তাকে আবার বুঝিয়ে জোর করে স্বামীর বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। এ কারণে প্রায় দেড় মাস আগে পরিবারের কাউকে না জানিয়ে ভুক্তভোগী স্বেচ্ছায় ঢাকায় গিয়ে আত্মগোপন করেন। এই সময় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে আদালতে এই সিআর মামলা করেন। পরে তদন্তকারী সংস্থা ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে।

এ বিষয়ে পিবিআই, খুলনার পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন বলেন, অপহরণসহ খুনের মামলার ভুক্তভোগীকে দ্রুততার সঙ্গে জীবিত উদ্ধার করে আদালতে হাজির করা হয়েছে। এতে পিবিআইয়ের প্রতি মানুষের আস্থা বৃদ্ধি পেয়েছে। ভুক্তভোগী বর্তমানে তার পরিবারের (মা) জিম্মায় আছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

Tag :
About Author Information

Nirvik Sangbad

জনপ্রিয় সংবাদ

সুন্দরবনের জলদস্যু সম্রাট বাহিনীর কবল থেকে ৪ জেলে উদ্ধার

খুলনায় অপহরণ করে হত্যার অভিযোগে মামলার দেড়মাস পর ঢাকা থেকে সেই গৃহবধূকে জীবিত উদ্ধার করল পিবিআই

আপলোড সময় ১০:৪৬:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

খুলনার কয়রা থেকে এক গৃহবধূকে অপহরণ করার পর হত্যা করা হয়েছে দাবি করে মামলা করেন তার মা। তবে দেড় মাস পর ঐ নারীকে ঢাকা থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে ঐ গৃহবধূ তার পরিবারের জিম্মায় রয়েছে।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সূত্র জানায়, গত গত ১১ জুলাই খুলনা জেলার কয়রা থানার নাকশা সাকিনের আয়েশা খাতুনকে (৩৬) তার স্বামী ইসলাম সরদারসহ তিনজন অপহরণের পর হত্যা করে লাশ গুম করেছে বলে ভুক্তভোগীর মা আমেনা খাতুন (৪৯) খুলনা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে গত ৩ আগস্ট বাদী হয়ে মামলা করেন।

মামলায় বাদী উল্লেখ করেন, ভিকটিমের স্বামী ইসলাম সরদারসহ অন্য আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে ১১ জুলাই ভুক্তভোগীকে কয়রা থানার মসজিদকুড় ব্রিজের ওপর থেকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। এরপর পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। টাকা না পেয়ে আসামিরা ভুক্তভোগীকে হত্যা করে লাশ গুম করেছে বলে আশঙ্কা করে মা আমেনা খাতুন বাদী হয়ে গত ৩ আগস্ট মামলাটি করেন। পরে আদালত সিআর মামলাটি পিবিআই, খুলনা জেলাকে তদন্তের নির্দেশ প্রদান করেন। পিবিআই খুলনা জেলার ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন মামলাটির তদন্তভার এসআই (নিরস্ত্র) এস এম রাজীব রায়হানকে দেন।

পিবিআই তথ্য-প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আয়েশা খাতুনের অবস্থান শনাক্ত করে এবং জানতে পারে তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন। পরে তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ পিবিআয়ের একটি দল গত বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় ভুক্তভোগীকে ঢাকা থেকে উদ্ধার করে। এরপর তাকে খুলনায় এনে আদালতে হাজির করার পর ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করে। পরে আদালত তাকে তার পরিবারের জিম্মায় দেওয়ার নির্দেশ দেন।

পিবিআইয়ের তদন্ত ও ভুক্তভোগীর জবানবন্দি থেকে জানা যায়, আয়েশা খাতুনের সঙ্গে ইসলাম সরদারের ১২ বছর আগে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই আসামি ইসলাম সরদারের সঙ্গে ভুক্তভোগীর সাংসারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়। ফলে স্বামীর সঙ্গে সংসার করবেন না বলে পরিবারকে জানায়। কিন্তু বাবা-মা তাকে আবার বুঝিয়ে জোর করে স্বামীর বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। এ কারণে প্রায় দেড় মাস আগে পরিবারের কাউকে না জানিয়ে ভুক্তভোগী স্বেচ্ছায় ঢাকায় গিয়ে আত্মগোপন করেন। এই সময় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে আদালতে এই সিআর মামলা করেন। পরে তদন্তকারী সংস্থা ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে।

এ বিষয়ে পিবিআই, খুলনার পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন বলেন, অপহরণসহ খুনের মামলার ভুক্তভোগীকে দ্রুততার সঙ্গে জীবিত উদ্ধার করে আদালতে হাজির করা হয়েছে। এতে পিবিআইয়ের প্রতি মানুষের আস্থা বৃদ্ধি পেয়েছে। ভুক্তভোগী বর্তমানে তার পরিবারের (মা) জিম্মায় আছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।