ঢাকা ০১:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
একীভূত হচ্ছে যশোরের ১৬ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় খুলনায় অপহরণ করে হত্যার অভিযোগে মামলার দেড়মাস পর ঢাকা থেকে সেই গৃহবধূকে জীবিত উদ্ধার করল পিবিআই কালিগঞ্জে মাদক সিন্ডিকেটের কবল থেকে সাংবাদিকের ফোন উদ্ধার এএসআই এরশাদের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ যদি হয় তাবলীগ! রূপগঞ্জে পরিত্যক্ত ভবনে ৫ পাইপগান ও ৪ কেজি ৭০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার তালার হরিহরনগরে ব্যবসায়ীর উপর মাদকসেবীর হামলা! তালায় সরকারি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান’র সাথে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত তালায় সমাজসেবা অধিদপ্তরের পেশাভিত্তিক উন্নয়নে সফটস্কিলস প্রশিক্ষন উদ্বোধন খুলনায় বিদেশি পিস্তল, ম্যাগজিন ও তাজা গুলিসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক কর্মকর্তা গ্রেফতার সামেক হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ কুদরত-ই-খুদার পিএস পরিচয়ে কে এই ভণ্ড প্রতারক মাসুদ রাসেল?

খুলনায় অপহরণ করে হত্যার অভিযোগে মামলার দেড়মাস পর ঢাকা থেকে সেই গৃহবধূকে জীবিত উদ্ধার করল পিবিআই

  • খুলনা অফিস
  • আপলোড সময় ১০:৪৬:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
  • 20

খুলনার কয়রা থেকে এক গৃহবধূকে অপহরণ করার পর হত্যা করা হয়েছে দাবি করে মামলা করেন তার মা। তবে দেড় মাস পর ঐ নারীকে ঢাকা থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে ঐ গৃহবধূ তার পরিবারের জিম্মায় রয়েছে।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সূত্র জানায়, গত গত ১১ জুলাই খুলনা জেলার কয়রা থানার নাকশা সাকিনের আয়েশা খাতুনকে (৩৬) তার স্বামী ইসলাম সরদারসহ তিনজন অপহরণের পর হত্যা করে লাশ গুম করেছে বলে ভুক্তভোগীর মা আমেনা খাতুন (৪৯) খুলনা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে গত ৩ আগস্ট বাদী হয়ে মামলা করেন।

মামলায় বাদী উল্লেখ করেন, ভিকটিমের স্বামী ইসলাম সরদারসহ অন্য আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে ১১ জুলাই ভুক্তভোগীকে কয়রা থানার মসজিদকুড় ব্রিজের ওপর থেকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। এরপর পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। টাকা না পেয়ে আসামিরা ভুক্তভোগীকে হত্যা করে লাশ গুম করেছে বলে আশঙ্কা করে মা আমেনা খাতুন বাদী হয়ে গত ৩ আগস্ট মামলাটি করেন। পরে আদালত সিআর মামলাটি পিবিআই, খুলনা জেলাকে তদন্তের নির্দেশ প্রদান করেন। পিবিআই খুলনা জেলার ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন মামলাটির তদন্তভার এসআই (নিরস্ত্র) এস এম রাজীব রায়হানকে দেন।

পিবিআই তথ্য-প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আয়েশা খাতুনের অবস্থান শনাক্ত করে এবং জানতে পারে তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন। পরে তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ পিবিআয়ের একটি দল গত বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় ভুক্তভোগীকে ঢাকা থেকে উদ্ধার করে। এরপর তাকে খুলনায় এনে আদালতে হাজির করার পর ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করে। পরে আদালত তাকে তার পরিবারের জিম্মায় দেওয়ার নির্দেশ দেন।

পিবিআইয়ের তদন্ত ও ভুক্তভোগীর জবানবন্দি থেকে জানা যায়, আয়েশা খাতুনের সঙ্গে ইসলাম সরদারের ১২ বছর আগে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই আসামি ইসলাম সরদারের সঙ্গে ভুক্তভোগীর সাংসারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়। ফলে স্বামীর সঙ্গে সংসার করবেন না বলে পরিবারকে জানায়। কিন্তু বাবা-মা তাকে আবার বুঝিয়ে জোর করে স্বামীর বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। এ কারণে প্রায় দেড় মাস আগে পরিবারের কাউকে না জানিয়ে ভুক্তভোগী স্বেচ্ছায় ঢাকায় গিয়ে আত্মগোপন করেন। এই সময় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে আদালতে এই সিআর মামলা করেন। পরে তদন্তকারী সংস্থা ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে।

এ বিষয়ে পিবিআই, খুলনার পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন বলেন, অপহরণসহ খুনের মামলার ভুক্তভোগীকে দ্রুততার সঙ্গে জীবিত উদ্ধার করে আদালতে হাজির করা হয়েছে। এতে পিবিআইয়ের প্রতি মানুষের আস্থা বৃদ্ধি পেয়েছে। ভুক্তভোগী বর্তমানে তার পরিবারের (মা) জিম্মায় আছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

Tag :
About Author Information

Nirvik Sangbad

জনপ্রিয় সংবাদ

একীভূত হচ্ছে যশোরের ১৬ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

খুলনায় অপহরণ করে হত্যার অভিযোগে মামলার দেড়মাস পর ঢাকা থেকে সেই গৃহবধূকে জীবিত উদ্ধার করল পিবিআই

আপলোড সময় ১০:৪৬:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

খুলনার কয়রা থেকে এক গৃহবধূকে অপহরণ করার পর হত্যা করা হয়েছে দাবি করে মামলা করেন তার মা। তবে দেড় মাস পর ঐ নারীকে ঢাকা থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে ঐ গৃহবধূ তার পরিবারের জিম্মায় রয়েছে।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সূত্র জানায়, গত গত ১১ জুলাই খুলনা জেলার কয়রা থানার নাকশা সাকিনের আয়েশা খাতুনকে (৩৬) তার স্বামী ইসলাম সরদারসহ তিনজন অপহরণের পর হত্যা করে লাশ গুম করেছে বলে ভুক্তভোগীর মা আমেনা খাতুন (৪৯) খুলনা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে গত ৩ আগস্ট বাদী হয়ে মামলা করেন।

মামলায় বাদী উল্লেখ করেন, ভিকটিমের স্বামী ইসলাম সরদারসহ অন্য আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে ১১ জুলাই ভুক্তভোগীকে কয়রা থানার মসজিদকুড় ব্রিজের ওপর থেকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। এরপর পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। টাকা না পেয়ে আসামিরা ভুক্তভোগীকে হত্যা করে লাশ গুম করেছে বলে আশঙ্কা করে মা আমেনা খাতুন বাদী হয়ে গত ৩ আগস্ট মামলাটি করেন। পরে আদালত সিআর মামলাটি পিবিআই, খুলনা জেলাকে তদন্তের নির্দেশ প্রদান করেন। পিবিআই খুলনা জেলার ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন মামলাটির তদন্তভার এসআই (নিরস্ত্র) এস এম রাজীব রায়হানকে দেন।

পিবিআই তথ্য-প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আয়েশা খাতুনের অবস্থান শনাক্ত করে এবং জানতে পারে তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন। পরে তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ পিবিআয়ের একটি দল গত বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় ভুক্তভোগীকে ঢাকা থেকে উদ্ধার করে। এরপর তাকে খুলনায় এনে আদালতে হাজির করার পর ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করে। পরে আদালত তাকে তার পরিবারের জিম্মায় দেওয়ার নির্দেশ দেন।

পিবিআইয়ের তদন্ত ও ভুক্তভোগীর জবানবন্দি থেকে জানা যায়, আয়েশা খাতুনের সঙ্গে ইসলাম সরদারের ১২ বছর আগে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই আসামি ইসলাম সরদারের সঙ্গে ভুক্তভোগীর সাংসারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়। ফলে স্বামীর সঙ্গে সংসার করবেন না বলে পরিবারকে জানায়। কিন্তু বাবা-মা তাকে আবার বুঝিয়ে জোর করে স্বামীর বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। এ কারণে প্রায় দেড় মাস আগে পরিবারের কাউকে না জানিয়ে ভুক্তভোগী স্বেচ্ছায় ঢাকায় গিয়ে আত্মগোপন করেন। এই সময় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে আদালতে এই সিআর মামলা করেন। পরে তদন্তকারী সংস্থা ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে।

এ বিষয়ে পিবিআই, খুলনার পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন বলেন, অপহরণসহ খুনের মামলার ভুক্তভোগীকে দ্রুততার সঙ্গে জীবিত উদ্ধার করে আদালতে হাজির করা হয়েছে। এতে পিবিআইয়ের প্রতি মানুষের আস্থা বৃদ্ধি পেয়েছে। ভুক্তভোগী বর্তমানে তার পরিবারের (মা) জিম্মায় আছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।