ঢাকা ১১:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
তালার হরিহরনগরে ব্যবসায়ীর উপর মাদকসেবীর হামলা! তালায় সরকারি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান’র সাথে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত তালায় সমাজসেবা অধিদপ্তরের পেশাভিত্তিক উন্নয়নে সফটস্কিলস প্রশিক্ষন উদ্বোধন খুলনায় বিদেশি পিস্তল, ম্যাগজিন ও তাজা গুলিসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক কর্মকর্তা গ্রেফতার সামেক হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ কুদরত-ই-খুদার পিএস পরিচয়ে কে এই ভণ্ড প্রতারক মাসুদ রাসেল? কক্সবাজারের উখিয়া পালংখালী সীমান্তে বিজিবির বিশেষ অভিযানে ২ লাখ পিস ইয়াবা জব্দ অনলাইনে অবাধে বিক্রি হচ্ছে হেরোইন তৈরির কাঁচামাল: ডিএনসির অভিযান, গ্রেপ্তার ১ বাংলাদেশ : ভারত-চীন-মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিরক্ষা সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলে পরিণত হচ্ছে –অধ্যাপক এম এ বার্ণিক ডাকসু ভিপির সঙ্গে মার্কিন কূটনীতিকদের বৈঠক: শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক কূটনীতির নতুন সম্ভাবনা তালায় একই দিনে পৃথক সড়ক দূর্ঘট্নায় নিহত- ২

খুলনায় বিদেশি পিস্তল, ম্যাগজিন ও তাজা গুলিসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক কর্মকর্তা গ্রেফতার

  • খুলনা অফিস
  • আপলোড সময় ০৯:১৩:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
  • 20

খুলনায় পুলিশ মো. মাসুদ শেখ নামে একজনকে গুলিবিদ্ধ করার ঘটনায় তদন্তে নেমে একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে তিনটি বিদেশি পিস্তল, বিভিন্ন মডেলের ৬টি ম্যাগজিন, একটি ইলেকট্রিক শক স্টেনগান, বিভিন্ন মডেলের ৮টি তাজা গুলি, দুইটি চাইনিজ কুড়াল, একটি চাপাতি, একটি রামদা, একটি পিতলের তৈরি রড ও আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অডিট অফিসার হিসাবে চাকরিকালীন আইডি কার্ডসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে। গত বুধবার নগরীর টুটপাড়া পুলিশ ফাঁড়ি এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার চারজন হলেন, খান কুব্বাত আলী, তার স্ত্রী মোছা. শামসুন্নাহার, ছেলে কেএম আবির হাসান ও রফিকুল ইসলাম টুকু। এদের মধ্যে খান কুব্বাত আলী ২০১৯ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তিন বছর অডিট অফিসার হিসাবে কর্মরত ছিলেন।

পুলিশ জানায়, গত বুধবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে নগরীর টুটপাড়া পুলিশ ফাঁড়ি এলাকায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা মো. মাসুদ শেখ (৪৫) নামে একজনকে গুলি করে। তিনি তেরখাদা উপজেলার দুলু শেখের ছেলে। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর পরই ঘটনাটির তদন্তে নামে খুলনা সদর থানা পুলিশ। এ সময় গুলিবর্ষণের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে টুটপাড়া এলাকায় তথ্য সংগ্রহসহ সাড়াশি অভিযান শুরু করা হয। একপর্যায়ে সন্ধ্যার আগে পুলিশ জানতে পারে, টুটপাড়া এলাকার দারোগাপাড়া মহিউদ্দিন লেনের কেএম ইমতিয়াজ আলীর বাড়ির দোতলার একটি ফ্ল্যাটে গুলির ঘটনা ঘটেছে এবং সেখানেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অবস্থান করছে। পরে ঐ তথ্যের ভিত্তিতে বাড়িটিতে অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানকালে ফ্ল্যাটের ডাইনিং রুমের একটি চেয়ারের ওপর থেকে প্রথমে একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। পরে ঘরের বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়ে আরো দুটি বিদেশি পিস্তল, ৬ রাউন্ড ম্যাগজিন ও ৮ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবি, সন্ধ্যার দিকে ঐ ঘরে আরো অভিযান চালিয়ে একটি ইলেকট্রিক শক স্টেনগান, দুটি চাইনিজ কুড়াল, দুটি চাপাতি, একটি পিতলের তৈরি রড এবং দেশি তৈরি আরো কয়েকটি অস্ত্র এবং বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি আইডি কার্ড উদ্ধার করা হয়। এ সময় গুলিবর্ষণের ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে খান কুব্বাত আলীকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া একই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তার স্ত্রী মোছা. শামসুন্নাহার, ছেলে কেএম আবির হাসান এবং রফিকুল ইসলাম টুকুকেও গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার চারজনের মধ্যে খান কুব্বাত আলী, তার স্ত্রী শামসুন্নাহার ও ছেলে আবির হাসান ঐ বাড়ির দোতলার ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন। তাদের গ্রামের বাড়ি তেরখাদা উপজেলার সাচিয়াদহ ইউনিয়নের নাচুনিয়া গ্রামে।
গ্রেফতার খান কুব্বাত আলীর ভাষ্যমতে, তিনি রাজশাহী রেলওয়েতে অডিট অফিসার, ২০১৬ থেকে ১৮ পর্যন্ত আইন মন্ত্রণালয়ে অডিট অফিসার, ২০১৯ থেকে ২২ এর শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ডেপুটি চিফ একাউন্টস অ্যান্ড ফাইন্যান্স অফিসার এবং সর্বশেষ খুলনার ডিসি অফিসের ডেপুটি ডিভিশনাল কন্ট্রোলার অব অ্যাকাউন্টেন্ট হিসেবে চাকরি শেষে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে অবসরে যান।
এদিকে খান কুব্বাত আলীর এলাকার লোক সূত্রে জানা যায়, কুব্বাত আলী এক সময় রেলওয়েতে চাকরি করতেন এলাকায় তিনি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের একজন কর্মকর্তা হিসাবে পরিচয় দিতেন। পারিবারিক সূত্রে তার পরিবার আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তবে এলাকাবাসীর কাছে তিনি প্রতারক হিসাবে চিহ্নিত।
খুলনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, গ্রেফতার খান কুব্বাত আলী ২০১৯ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তিন বছর অডিট অফিসার হিসাবে কর্মরত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চাকরিকালীন তার পরিচয়পত্রও (আইডি কার্ড) জব্দ করা হয়েছে। অস্ত্র উদ্ধারের পর তাদের থানায় নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। গ্রেফতার খান কুব্বাত আলী সমাজে ভদ্রবেশী মুখোশের আড়ালে সন্ত্রাসী। এ ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টা পর্যন্ত তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়নি। তবে মামলা হয়েছে বলে ওসি জানান।

Tag :
About Author Information

Nirvik Sangbad

জনপ্রিয় সংবাদ

তালার হরিহরনগরে ব্যবসায়ীর উপর মাদকসেবীর হামলা!

খুলনায় বিদেশি পিস্তল, ম্যাগজিন ও তাজা গুলিসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক কর্মকর্তা গ্রেফতার

আপলোড সময় ০৯:১৩:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

খুলনায় পুলিশ মো. মাসুদ শেখ নামে একজনকে গুলিবিদ্ধ করার ঘটনায় তদন্তে নেমে একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে তিনটি বিদেশি পিস্তল, বিভিন্ন মডেলের ৬টি ম্যাগজিন, একটি ইলেকট্রিক শক স্টেনগান, বিভিন্ন মডেলের ৮টি তাজা গুলি, দুইটি চাইনিজ কুড়াল, একটি চাপাতি, একটি রামদা, একটি পিতলের তৈরি রড ও আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অডিট অফিসার হিসাবে চাকরিকালীন আইডি কার্ডসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে। গত বুধবার নগরীর টুটপাড়া পুলিশ ফাঁড়ি এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার চারজন হলেন, খান কুব্বাত আলী, তার স্ত্রী মোছা. শামসুন্নাহার, ছেলে কেএম আবির হাসান ও রফিকুল ইসলাম টুকু। এদের মধ্যে খান কুব্বাত আলী ২০১৯ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তিন বছর অডিট অফিসার হিসাবে কর্মরত ছিলেন।

পুলিশ জানায়, গত বুধবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে নগরীর টুটপাড়া পুলিশ ফাঁড়ি এলাকায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা মো. মাসুদ শেখ (৪৫) নামে একজনকে গুলি করে। তিনি তেরখাদা উপজেলার দুলু শেখের ছেলে। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর পরই ঘটনাটির তদন্তে নামে খুলনা সদর থানা পুলিশ। এ সময় গুলিবর্ষণের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে টুটপাড়া এলাকায় তথ্য সংগ্রহসহ সাড়াশি অভিযান শুরু করা হয। একপর্যায়ে সন্ধ্যার আগে পুলিশ জানতে পারে, টুটপাড়া এলাকার দারোগাপাড়া মহিউদ্দিন লেনের কেএম ইমতিয়াজ আলীর বাড়ির দোতলার একটি ফ্ল্যাটে গুলির ঘটনা ঘটেছে এবং সেখানেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অবস্থান করছে। পরে ঐ তথ্যের ভিত্তিতে বাড়িটিতে অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানকালে ফ্ল্যাটের ডাইনিং রুমের একটি চেয়ারের ওপর থেকে প্রথমে একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। পরে ঘরের বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়ে আরো দুটি বিদেশি পিস্তল, ৬ রাউন্ড ম্যাগজিন ও ৮ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবি, সন্ধ্যার দিকে ঐ ঘরে আরো অভিযান চালিয়ে একটি ইলেকট্রিক শক স্টেনগান, দুটি চাইনিজ কুড়াল, দুটি চাপাতি, একটি পিতলের তৈরি রড এবং দেশি তৈরি আরো কয়েকটি অস্ত্র এবং বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি আইডি কার্ড উদ্ধার করা হয়। এ সময় গুলিবর্ষণের ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে খান কুব্বাত আলীকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া একই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তার স্ত্রী মোছা. শামসুন্নাহার, ছেলে কেএম আবির হাসান এবং রফিকুল ইসলাম টুকুকেও গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার চারজনের মধ্যে খান কুব্বাত আলী, তার স্ত্রী শামসুন্নাহার ও ছেলে আবির হাসান ঐ বাড়ির দোতলার ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন। তাদের গ্রামের বাড়ি তেরখাদা উপজেলার সাচিয়াদহ ইউনিয়নের নাচুনিয়া গ্রামে।
গ্রেফতার খান কুব্বাত আলীর ভাষ্যমতে, তিনি রাজশাহী রেলওয়েতে অডিট অফিসার, ২০১৬ থেকে ১৮ পর্যন্ত আইন মন্ত্রণালয়ে অডিট অফিসার, ২০১৯ থেকে ২২ এর শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ডেপুটি চিফ একাউন্টস অ্যান্ড ফাইন্যান্স অফিসার এবং সর্বশেষ খুলনার ডিসি অফিসের ডেপুটি ডিভিশনাল কন্ট্রোলার অব অ্যাকাউন্টেন্ট হিসেবে চাকরি শেষে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে অবসরে যান।
এদিকে খান কুব্বাত আলীর এলাকার লোক সূত্রে জানা যায়, কুব্বাত আলী এক সময় রেলওয়েতে চাকরি করতেন এলাকায় তিনি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের একজন কর্মকর্তা হিসাবে পরিচয় দিতেন। পারিবারিক সূত্রে তার পরিবার আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তবে এলাকাবাসীর কাছে তিনি প্রতারক হিসাবে চিহ্নিত।
খুলনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, গ্রেফতার খান কুব্বাত আলী ২০১৯ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তিন বছর অডিট অফিসার হিসাবে কর্মরত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চাকরিকালীন তার পরিচয়পত্রও (আইডি কার্ড) জব্দ করা হয়েছে। অস্ত্র উদ্ধারের পর তাদের থানায় নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। গ্রেফতার খান কুব্বাত আলী সমাজে ভদ্রবেশী মুখোশের আড়ালে সন্ত্রাসী। এ ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টা পর্যন্ত তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়নি। তবে মামলা হয়েছে বলে ওসি জানান।